প্রিয় ক্যাম্পাস

নির্দোষ প্রমাণিত হলেও জাবির ২ শিক্ষার্থীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে নির্দোষ প্রমাণিত ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও দুই শিক্ষার্থীকে ৮০ হাজার টাকার আর্থিক জরিমানা করার নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এমন খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতায় সামাজিক হেনস্তা, মানসিক বিপর্যয় এবং তীব্র অ্যাকাডেমিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিব ও মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম।

জানা যায়, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ৫৫ ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আকিব ও সিয়ামসহ ৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে পরবর্তীকালে গঠিত তদন্ত কমিটিতে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি সংশোধিত অফিস আদেশের মাধ্যমে তাদের নাম অভিযোগ থেকে বাদ দেয়।

কিন্তু পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট মিটিং শেষে গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে পূর্বের তদন্তের বিষয়টি এড়িয়ে ভুলবশত আবারও ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যদিও পরবর্তীতে প্রশাসনের ভুল বুঝতে পেরে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি সংশোধিত অফিস আদেশ জারি করে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া নোটিশের কারণে চরম মানহানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে প্রথমে আমাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়, যার ফলে পরীক্ষায় বসতেও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছিল। পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে আমরা পরীক্ষায় বসার অনুমতি পাই। মিথ্যা এই অভিযোগে আমাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সবার মাঝে আমাদের ইমেজ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন সংশোধিত নোটিশ দিলেও আমাদের যে সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে, সেটা আর কোনোদিনই ফেরত আসবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে যে ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নাম সেখানে যুক্ত করেছিল। এই হয়রানি ও মানহানির জন্য খুব দ্রুতই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তিও করা হয়। তবে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের জরিমানা করার সময় প্রক্টর অফিস থেকে ভুলবশত পূর্বের নামগুলোই তালিকায় চলে আসায় এই বিভ্রান্তি ঘটে। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আজ পুনরায় সংশোধিত অফিস আদেশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ অবগত নই জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. জাকির হোসেন বলেন, সম্ভবত পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতে ভুলবশত ভুক্তভোগীদের নাম চলে এসেছে এবং এই ধরনের ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ