Home কর্মসংস্থান ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৪৪’র ভাইভার পরে নেওয়ার দাবি

৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৪৪’র ভাইভার পরে নেওয়ার দাবি

৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৪৪’র ভাইভার পরে নেওয়ার দাবি

৪৪তম বিসিএসের ভাইভা শেষে এবং ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা। দাবি আদায়ে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিএসসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীরা।

সোমবার (০৭ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান চাকরিপ্রত্যাশীরা।

এর আগে রোববার প্রার্থীরা বিসিএসের জট নিরসন ও ৪৪ থেকে ৪৭তম বিসিএসের বিষয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের দাবিতে পিএসসি সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম বলেন, “আমরা প্রতিনিধিরা ভেতরে গিয়ে কমিশন সভায় উপস্থিত হলে, তাঁরা আমাদের দাবি জানতে চান। আমরা আমাদের দাবির মূলভাব ব্যক্ত করি ও স্মারকলিপি প্রদান করি। আমরা একই সাথে ৪৪,৪৫,৪৬,৪৭তম বিসিএসের বাস্তবতা তুলে ধরি। জট নিরসনে আমাদের সংস্কার দাবি জোরালোভাবে ব্যক্ত করি। এরপর সদস্য স্যারেরা আমাদের নানান যুক্তি দিয়ে আটকে দিতে থাকেন। তাঁরা বলেন যে, ‘আপনরা আজকে না আসলেও আমাদের একটা রোডম্যাপ ছিল, হয়ত দ্রুত এর বহিঃপ্রকাশও পেতে।

তখন আমাদের জানানো হয় যে, ৪৪ এর ভাইভা কার্যক্রম অবিলম্বে রুটিন প্রকাশ করে শুরু করা হবে এবং মে মাসে তারা ৪৪ শেষ করতে না পারলেও জুনে অবশ্যই শেষ করবেন এবং ৮ মে থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে এবং একই সাথে লিখিত ও ভাইভা চলবে বলে আমাদের জানান এবং এই পরিকল্পনা তাঁদের পূর্ব-স্থিরকৃত। আমরা সেখানে সমস্বরে বিনীত অনুরোধ জানাই যে, ‘স্যার এটা কোনভাবেই সম্ভব না এবং স্যার আপনারা জানেন যে বিসিএস-এ সাধারণত একই প্রার্থী একাধিক বিসিএসে অংশগ্রহণ করে থাকে। একই সাথে ভাইভা এবং লিখিত হলে প্রার্থীরা মারাত্মক অসুবিধায় পড়বেন। তাদের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটবে ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বেন’।

তখন তাঁরা আমাদের বলেন যে, ‘পড়া সবই এক, প্রিলি-রিটেন-ভাইভা একই পড়া’। আমরা বিরোধিতা করলেও তাঁরা আমলে নিচ্ছিলেন না। আমরা এও বলি যে স্যার এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩টা বিসিএসের আয়োজন নিঃসন্দেহে আমাদের উপর চরম মানসিক চাপ ও নানান বাস্তবতার ব্যাপার। আমরা এখন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থিটি নই। আমরা এখন বাস্তবতার কষাঘাতে নিমজ্জিত জীবন অতিবাহিত করছি। তাই, সুপরিকল্পনা ব্যতীত কোন সিদ্ধান্ত আমাদের মানা অসম্ভব এবং আমাদের জন্য সেটা অমানবিকও বটে।”

তিনি আরো বলেন, পিএসসি এখন একটা প্রিলি-রিটেন প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এভাবে তাঁরা বিসিএসকে একটা জটলার ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। আমরা পিএসসিকে জানিয়ে দিতে চাই আপনারা ভুলবেন না এই পিএসসি জুলাইয়ের তাজা রক্তের উপর ভেসে আছে। আমরা এটাও স্মরণ করাতে চাই জুলাই অভ্যুত্থান যারা শুরু করেছিলেন তাঁরা প্রায় সবাই ছিলেন চাকরি প্রার্থী মূলত বিসিএস-প্রার্থী, যাদের অধিকাংশ এখন দেশসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

পিএসসির কর্মকাণ্ড ‘জুলাই চেতনার সাথে অসমঞ্জস্য’ মন্তব্য করে সিয়াম আরও বলেন, “পিএসসির এই অমানবিক সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৪৬তম লিখিত পরীক্ষা হুট করে নেওয়া যাবে না।

এসময় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে পিএসসি সচিবালয়ের সামনে দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম।

পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের মূল দাবি হল বিসিএসের যে জট লেগে গেছে ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭তম মধ্যে; বিসিএসের কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে চলুক। একটা শেষ করে আরেকটা অগ্রগতি হোক। একটার মাঝে যাতে আরেকটা ওভার ল্যাপিং না করে।

“আমরা চাচ্ছি যে, ৪৪তম বিসিএসের প্রায় ৬ হাজার প্রার্থীর ভাইভা বাকি আছে। তাদের ভাইভা শেষ করতে পিএসসির (৪৬তম লিখিত পরীক্ষা শুরুর) নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বড়জোড় অতিরিক্ত এক মাস বেশি সময় লাগবে। ৪৪তমর ৭০ শতাংশের বেশি প্রার্থী ৪৬তম লিখিত পরীক্ষাও দেবেন। তাদের ৪৪ এর মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ৪৬ এর লিখিততে বসার সুযোগ করে দেওয়া হোক। যাতে সে দুটো পরীক্ষা কম্ফোর্টেবলি দিতে পারেন। একমাসের ব্যবধানে তারা যদি দুইটা পরীক্ষা কম্ফোর্টেবলি দিতে পারে, আর এক মাস এক মাস করে যদি তাহলে আমাদের কোন পরীক্ষা জটও লাগলো না, প্রার্থীরা দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায়ও নামলো না।”

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। ২০২১ সালে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা এই বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা এক দফায় শুরু হলেও গত ১৮ নভেম্বর তা বাতিল ঘোষণা করে পিএসসি। পরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ফের পরীক্ষাটি শুরু হয়।

প্রথম দফায় মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ মে। মাঝে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে তা প্রথম দফায় এবং সরকার পতনের পর ওই বছর ২৫ অগাস্ট দ্বিতীয় দফায় তা স্থগিত করা হয়।

আগে ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে মোট ১১ হাজার ৭৩২ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ‘ন্যায্যতা বজায় রাখতে প্রার্থীদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে’ এ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৩ সালের ১৯ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছরের ৬ জুন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৭৮৯ জন লিখিত পরীক্ষায় বসেন গত বছরের বছর ২৩ জানুয়ারি, যা শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি। লিখিত পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। পিএসসি গত নভেম্বরে জানিয়েছে, কমিশন সব উত্তরপত্র তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ মে থেকে শুরুর ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছে কমিশন। দুই দফায় প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করার পর উত্তীর্ণ ২১ হাজার ৩৯৭ জন প্রার্থী এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি, যার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল। প্রিলিমিনারিতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছর ৯ মে প্রিলিমিনারি প্রকাশিত ফলে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৩৮ জন।

গত বছরের ২৮ অগাস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পরির্তনের পর অস্থির সময়ের কারণে ২৫ অগাস্ট তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

‘বৈষম্য দূরীকরণে’ প্রথম দফায় প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের সঙ্গে আরও সমসংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ফের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে গত ১৮ নভেম্বর ঘোষণা দেয় পিএসসি।

পরে গত ২৭ নভেম্বর আগে উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৩৮ জনের সঙ্গে আরও ১০ হাজার ৭৫৯ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ফের প্রকাশ করেছে পিএসসি।

৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ২৭ জুন (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি। ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার এবং ২০১টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিতে গত ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পিএসসি।

গত ১০ ডিসেম্বর সকালে ১০টা থেকে অনলাইনে এ বিসিএসের আবেদনগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৯ ডিসেম্বর তা স্থগিত করে পিএসসি।

পরে গত ২৬ ডিসেম্বর ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে আবেদন ফি ও মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর কমানো হয়। এ বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছে। ফলে মোট নম্বর ১১০০ থেকে পরিবর্তন করে ১০০০ করা হয়েছে। এ বিসিএসে প্রথমবারের মতো আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এ বিসিএসের আবেদন, চলে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here