Category: ভ্রমণ

  • এই বর্ষায় ‍ঘুরে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর

    এই বর্ষায় ‍ঘুরে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর

    এই বর্ষায় টইটম্বুর হাওরের জলে ভেসে বেড়িয়ে নৌকার চালে বৃষ্টির মৃদু ছন্দ শুনতে ঘুরে আসতে পারেন টাঙ্গুয়ার হাওর। এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। কয়েক বছর আগেও এই হাওরে ভ্রমণ, থাকা সবকিছুই ছিল বেশ কষ্টকর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ও চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে হাওর ভ্রমণের জন্য এখন মিলছে নানা সুযোগ-সুবিধা, যা ভ্রমণকে করেছে সহজ ও আরামদায়ক।

    বর্ষাকাল এই হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। মেঘালয়ের ঢলে নেমে আসা পানিতে তখন হাওর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। এই জলরাশির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে হিজল ও করচগাছের বন। তখন হাওরের গ্রামগুলোকে মনে হয় যেন পানির ওপর ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কিছু দ্বীপ। দূরে মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়, ঝর্ণা থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ পানি, মৃদুমন্দ ঢেউ, অগণিত পাখির কলতান পর্যটকদের মন ভুলিয়ে দেয়।

    টাঙ্গুয়ার হাওরে কখন যাবেন
    বর্ষাকাল টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাওর ভ্রমণ করা ভালো। বছরের অন্য সময় সাধারণত পানি অনেক কম থাকে। তবে ভিন্ন এক পরিবেশের টাঙ্গুয়ার হাওর এবং সেই সঙ্গে অতিথি পাখি দেখতে চাইলে শীতকালেই যেতে হবে আপনাকে। হাওর ভ্রমণে কী কী দেখবেন টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শুধু হাওর দেখা নয়, সঙ্গে আরও কিছু স্পট সাধারণত সবাই ঘুরে দেখে থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ প্যাকেজের সঙ্গে ছোট ছোট সোয়াম্প ফরেস্ট, ওয়াচ টাওয়ার, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক), শিমুল বাগান, বারিক টিলা, যাদুকাটা নদী, লাউড়ের গড়সহ আরও বেশকিছু স্পট ঘুরে দেখা যায়।

    টাঙ্গুয়ার হাওর যাওয়ার উপায়
    দেশের প্রায় সব জেলা থেকে সুনামগঞ্জে বাসে আসা যায়। সুনামগঞ্জ হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমেই সুনামগঞ্জ জেলা শহরে আসতে হবে।

    • ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ : প্রতিদিন সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় এনা পরিবহনের বাস। সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।
    • সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ : সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার লোকাল ও সিটিং বাস আছে। যেতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। অথবা শাহজালাল মাজারের সামনে থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার লাইট গাড়িতে করে যাওয়া যায়।
    • সুনামগঞ্জ থেকে টাঙ্গুয়া : সুনামগঞ্জ থেকে লেগুনা/সিএনজি/বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুরে নৌকা ঘাট থেকে সাইজ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করে বেড়িয়ে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে। তবে শীতকালে পানি কমে যায় বলে লেগুনা/সিএনজি/বাইকযোগে যেতে হবে সোলেমানপুর। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে নিতে পারবেন।

    হাউসবোট ও নৌকা ভাড়া
    বর্তমানে নানা ধরনের নানা মানের হাউসবোট, সেমি হাউসবোট কিংবা গতানুগতিক নৌকা পাওয়া যায় টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখার জন্য এবং প্রয়োজনে রাতে থাকার জন্য। প্যাকেজ অনুযায়ী বিভিন্ন মানের হাউসবোটের ভাড়া একেক রকম। সাধারণত এক রাত থাকা, সব বেলার খাবার ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের সব স্পট ঘুরে দেখার প্যাকেজ প্রিমিয়াম বোটগুলোর ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৬,০০০-১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মোটামুটি মানের সেমি হাউসবোটগুলোর প্যাকেজ ৪,৫০০-৬,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া পুরো হাউসবোট রিজার্ভ করলে মান ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ৪০,০০০-৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত হাউসবোটগুলোর প্যাকেজে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তার পরও বুকিং বা ভাড়া করার আগে তাদের প্যাকেজ দেখে নিন, প্রয়োজনে দরদাম করে নিন। শুধু ডে ট্রিপ হলে খরচ কিছুটা কম হবে।

    এছাড়া খরচ কমানোর জন্য লোকাল বডির নৌকা ভাড়া করতে পারেন। তবে ভাড়া করতে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখুন। যেমন নৌকায় বাথরুম আছে কি না, বিদ্যুৎ, লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা ব্যবস্থা আছে কি না। নৌকা ভাড়া করতে দরদাম করে নিন। নৌকা ভাড়া মূলত ৩টি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। নৌকায় ধারণক্ষমতা, নৌকার সুযোগ-সুবিধা, কী কী ঘুরে দেখবেন, রাতে থাকবেন নাকি ড্রে ট্রিপ এবং সিজনের ওপর।

    সাধারণত ছোট নৌকা ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা, মাঝারি নৌকা ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা এবং বড় নৌকা ৫০০০ থেকে ১০,০০০ টাকায় সারা দিনের জন্য ভাড়া করা যায়। এক রাত নৌকায় থাকতে চাইলে টাকার পরিমাণ বাড়বে। রান্নার জন্য নৌকার মাঝিকে খরচের টাকা দিলে সে বাবুর্চি নিয়ে যাবে কিংবা নিজেই রান্নার ব্যবস্থা করে ফেলবে। কী করবেন তা অবশ্যই মাঝির সঙ্গে আগে আলোচনা করে দরদাম ঠিক করে নেবেন।

    কোথায় থাকবেন
    পর্যটকরা সাধারণত হাউসবোটেই রাত যাপন করে থাকেন। এ ছাড়া আপনি চাইলে টেকেরঘাট বাজারে রাতে থাকতে পারবেন। চাইলে সুনামগঞ্জ এসে সেখানের কোনো হোটেলে রাত যাপন করতে পারবেন। তবে টাঙ্গুয়ার হাওর বেড়াতে গেলে হাওরের নৌকায় অন্তত এক রাত থাকা উচিত। এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে।

    খাবার ব্যবস্থা
    হাউসবোট প্যাকেজ খাবারসহ হয়ে থাকে। নতুবা নিজেদের খাবার নিজেরা ব্যবস্থা করে নিতে হবে। দিনে দিনে ঘুরে চলে এলে তাহিরপুরে খাবার হোটেল থেকে রওনা হওয়ার আগে সকালের ও ফিরে আসার পর দুপুরের খাবার হাওরের প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছের মধ্যে নিজের পছন্দের মাছ দিয়ে আহারপর্ব সেরে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া খেতে পারবেন টেকেরঘাটেও। যদি রাতে থাকার পরিকল্পনা থাকে এবং নিজেরা রান্না করে খেতে চান, তবে তাহিরপুর থেকে নৌকায় ওঠার আগে যে কয়দিন অবস্থান করবেন, সেই কয়দিনের বাজার করে নিতে পারেন। তাজা মাছ কেনার জন্য হাওরের মাঝখানের ছোট বাজারগুলোয় যেতে পারেন। এ ছাড়া সঙ্গে নিতে পারেন দেশি হাঁস কিংবা দারুণ সব শুঁটকি।

    টাঙ্গুয়া ভ্রমণের সতর্কতা ও কিছু পরামর্শ
    হাওর ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিন। যেকোনো কিছুর জন্য দামাদামি করে নেবেন। একসঙ্গে গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে। ৪-৫ জন বা ৮-১০ জনের গ্রুপ হলে ভালো। হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছইয়ের নিচে অবস্থান করুন। খাবারের অতিরিক্ত অংশ/উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট ইত্যাদি হাওরের পানিতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করুন। রাতে অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো উৎপন্ন করবেন না। টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছ, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি ধরা বা এদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। টাঙ্গুয়ার জলাবনের কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

    ভ্রমণে সঙ্গে নিন
    টর্চ ব্যাকআপ ব্যাটারিসহ পাওয়ার ব্যাংক, ক্যাম্পিং মগ, চাদর, রেইনকোট বা ছাতা, নিয়মিত সেবনীয় ওষুধ, টয়লেট পেপার, ব্যাগ ঢেকে ফেলার মতো বড় পলিথিন, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল (চামড়ার স্যান্ডেল পরিহার করা ভালো হবে), সানগ্লাস, ক্যাপ বা হ্যাট, গামছা (যা সহজে শুকাবে), খাবার পানি, হাফ প্যান্ট এবং সহজে শুকায় এমন জামাকাপড়।

  • বিশ্বরেকর্ড গড়ে এভারেস্ট জয় করলেন বাংলাদেশী শাকিল

    বিশ্বরেকর্ড গড়ে এভারেস্ট জয় করলেন বাংলাদেশী শাকিল

    পদযাত্রা করে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ইকরামুল হাসান শাকিল। সপ্তম বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন তিনি।

    ‘সি টু সামিট’ শীর্ষক এবারের অভিযানে তিনি দ্রুততম সময়ে সমুদ্র থেকে পায়ে হেঁটে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই শিখর আরোহণ করেন।

    ইকরামুল হাসানের নেপালি ট্রাভেল অ্যাজেন্সি ‘এইটকে এক্সপেডিশনস’ জানিয়েছে, সোমবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টায় শাকিল সহ মোট ১৫ জন পর্বতারোহী এভারেস্টের চুড়ায় আরোহণ করে। তারা সুস্থ আছে এবং আজ তাদের ক্যাম্প-২ এ নেমে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই অভিযানের সমন্বয়ক বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সদস্য সাদিয়া সুলতানা শম্পা জানান, শাকিল বিশ্বরেকর্ড করে এভারেস্ট আরোহণ করে ক্যাম্প ৪-এ ফিরেছেন। উনি দ্রুততম সময়ে সমুদ্র থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করে ১৩শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই শিখর আরোহণ করেন।

    তিনি আরো জানান, আশা করা যায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো সব আপনাদের জানানো হবে। তবে তার চেয়েও জরুরি শাকিলের সম্পূর্ণ নিরাপদে বেসক্যাম্পে ফিরে আসা। আমাদের এখনো ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।

    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানি সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু হয় শাকিলের পদযাত্রা। ৯০ দিনের মধ্যে ‘সি টু সামিট’ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেন তিনি। যাত্রাপথে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ৮৪তম দিনে এভারেস্টের ২৯ হাজার ৩১ ফুট উঁচু শিখরে আরোহণ করলেন শাকিল।

    বাংলাদেশের স্বপ্নবাজ এ তরুণের আগে ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে ৯৬ দিনে প্রায় ১২শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পদচিহ্ন রাখেন। শাকিল তার যে সপ্তাহখানেক কম সময়ে পাড়ি দিয়েছেন আরো একশ কিলোমিটার বেশি।

  • থাইল্যান্ডে পর্যটন ভিসা পেতে দেখাতে হবে আর্থিক সক্ষমতা

    থাইল্যান্ডে পর্যটন ভিসা পেতে দেখাতে হবে আর্থিক সক্ষমতা

    থাইল্যান্ডে পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য আর্থিক প্রমাণ দাখিল করার বাধ্যবাধকতা আবার কার্যকর করা হয়েছে। চলতি মে মাস থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ সহজ করার জন্য ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই নিয়মটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে নিজেদের ভরণপোষণের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

    থাইল্যান্ডের সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের বরাত দিয়ে ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের এখন কমপক্ষে ২০ হাজার থাই বাত (প্রায় ৫৫০ মার্কিন ডলার) আর্থিক প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে। গ্রহণযোগ্য নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে সর্বশেষ তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা যদি অন্য কেউ ভ্রমণের খরচ বহন করে থাকে তাহলে তার স্পনসরশিপের চিঠি। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং নরওয়েসহ বিশ্বব্যাপী থাই দূতাবাসগুলো এই নিয়ম কার্যকর করছে।

    আর্থিক নথিপত্রের পাশাপাশি, পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত কাগজপত্রও জমা দিতে হবে: কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি, বাসস্থানের প্রমাণ, যেমন ইউটিলিটি বিল বা ভাড়া চুক্তি, যাওয়া-আসার টিকিট যা প্রবেশের এবং প্রস্থানের তারিখ নিশ্চিত করে, আবাসনের বিবরণ, যেমন হোটেল বুকিং বা হোস্টের তথ্য, এই নথিগুলো একক-প্রবেশের পর্যটন ভিসার জন্য প্রয়োজনীয়। এ ধরনের ভিসায় সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

    বর্তমানে, ৯৩টি দেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ডে ৬০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারেন। তবে, এই নীতিটিও পর্যালোচনাধীন। ভিসা অপব্যবহারের উদ্বেগের কারণে থাই কর্তৃপক্ষ ভিসা-মুক্ত থাকার সময়সীমা কমিয়ে ৩০ দিন করার কথা বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে আগামী মাসগুলোতে এ বিষয়ে হালনাগাদ জানানো হতে পারে।

    আর্থিক প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন ভিসার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত। তবে অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণকারীদের সচেতন থাকতে হবে যে থাইল্যান্ডের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রবেশের সময় পর্যাপ্ত তহবিলের প্রমাণ চাইতেও পারেন। সব সময় এটি প্রয়োগ করা হয় না, তবে কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নথি চাওয়ার অধিকার রয়েছে। এছাড়া প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রবেশে বাধা দেওয়াও হতে পারে।

  • অপরূপ সৌন্দর্যের ‘নীলফক্কি’

    অপরূপ সৌন্দর্যের ‘নীলফক্কি’

    বার্ড ফটোগ্রাফির শুরুতে অনেক পাখির নাম শুনেছি। সব পাখিই যে এক জায়গায় দেখা যাবে তা নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। ফটোগ্রাফারদের নির্দিষ্ট পাখিটিকে খুঁজতে হলে সেই অঞ্চলগুলোতেই যেতে হয়। তাতে যেমন সময়ের প্রয়োজন, তেমনি ব্যয় হয় অর্থও। তবে যে পাখিটি এখনও চোখে লেগে আছে সেটি হলো ‘নীলপাখি’, যা নীলফক্কি বা হালতি নামেও পরিচিত। আবার ‘সবুজ-হৃদয় বনসুন্দরী’ বা ‘সবুজাভ সুমচা’ও ডাকা হয়। এটির ইংরেজি নাম ‘গ্রিন-ব্রেস্টেড পিটা’ বা ‘হুডেড পিটা’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘পিটা সোরডিডা’ (মুলার, ১৭৭৬)।

    পাখিটির নামকরণ করেছেন শ্রদ্ধেয় সাজাহান সরদার ও রেজা খান স্যার। বাংলাদেশের বাগেরহাট অঞ্চলে এদের নাম ‘ছোট হালতি’। নীলফক্কি বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি। গ্রীষ্মকালে খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে দেখা যায়। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, ভিয়েতনাম, চীন ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বিস্তৃতি রয়েছে।

    অপরূপ সৌন্দর্য ও রূপ নিয়ে বনে উড়ে বেড়ায়। যে কেউ প্রথম দেখায় পাখিটির মায়ায় পড়ে যাবেন। ফটোগ্রাফারদের প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকে। আমার প্রতিটি ছবিই একেকটি গল্প। অনেক বছর ধরেই পাখিটিকে খুঁজছিলাম। কিন্তু দেখা পাইনি। তবে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যখন বন্যপ্রাণী গবেষক ও আলোকচিত্রী আদনান আজাদ আসিফের সঙ্গে সাতছড়ি যাওয়ার সময় গাড়িতে বসে পাখিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, আদনানের কাছে পাখিটির চরিত্র ও বর্ণনা শোনার পর মুগ্ধ হয়েছিলাম। তারপর থেকে পাখিটির সন্ধানে ছিলাম। পাখিটির ছবি তোলার জন্য সেই বছরই ফের সাতছড়ি গেলাম।

    সেবার গহীন বনের ভেতর সারা দিন পাখিটিকে খোঁজার পর শূন্য হাতে ঢাকায় ফিরতে হলো। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে পাখিটি প্রথম দেখি। কিন্তু ছবি তুলতে পারিনি। পাখিটি দেখার পর থেকেই প্রেমে পড়ি। পরবর্তী বছরগুলোতেও পাখিটির ছবি তুলতে না পারায় ফিরে আসি। এরই মাঝে ২০২০ সালে করোনা মহামারি গোটা বিশ্বকে থমকে দেওয়ায় সে বছর আর যাওয়া হলো না। কিছুটা অপ্রাপ্তি ও আফসোস ছিল দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে। যারা পাখির ছবি তোলেন একমাত্র তারাই উপলব্ধি করতে পারেন এমন পরিস্থিতি কতটা কষ্টের।

    মজার বিষয় হচ্ছে, এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালেও পাখিটির অপেক্ষায় ছিলাম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সবকিছু ওলট-পালট করে দিলে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না। সবকিছু মিলে সে বছরও আশা ছেড়ে দিলাম। কারণ এরা গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী পাখি। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আমাদের দেশে দেখা যায়। জুন মাসজুড়ে অবস্থান করে। একমাত্র এই প্রজাতির পরিযায়ী পাখিরা বাংলাদেশে প্রজনন করে। ছানা বড় করে নিজ দেশে ছানাসহ উড়ে যায়।

    তবে স্থানীয় গাইড হারেস মামা ও রাসেল দেববর্মার একটা ফোন কল সব বদলে দেয়। ওদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। ওরা পর পর তিন দিন পাখিটির টেরিটরি ও গতিবিধি লক্ষ্য রাখে ও ছবি তোলে। ওদের শতভাগ সুবজ সংকেত পাওয়ার পর আমার ফুপাতো ভাই কিসমত খোন্দকারকে সঙ্গী করে চলে গেলাম পাখির সন্ধানে। মাত্র ৩০ মিনিট বনের ভেতর অবস্থান করে পাখিটির ছবি তুললাম। আরেকটা স্বপ্নপূরণ করে দুই ভাই মনের সুখে ঢাকায় ফিরলাম। এই পাখিটি যোগ হওয়ায় আমার পাখি সংগ্রহের সংখ্যা ৪৫০-এ দাঁড়াল।

    নীলফক্কির দৈর্ঘ্য ১৯ সেন্টিমিটার ও ওজন ৬৫ গ্রাম। ‘পিট্টিডি’ গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত পিটাগনের এক প্রজাতির ছোট বনচর পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির কালচে ডানা ও কাঁধ নীলপট্টির হয়। ডানার বাইরের কালচে অংশে সাদা পট্টি থাকে। বুক বগল ও পালক উজ্জ্বল সবুজ-নীল বর্ণের। লেজতল উজ্জ্বল লাল রঙের। মাথার চাঁদি তামা রঙের। মাথাসহ ঘাড়ের পেছনের অংশ কালো। চোখ কালচে-বাদামি। ঠোঁট কালো। পা ও পায়ের পাতা কালচে। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন।

    সবুজাভ সুমচা চিরসুবজ বন, আর্দ্র ঝরাপাতা বন ও ঘন ঝোপ-জঙ্গলে বিচরণ করে। সচরাচর একা বা জোড়ায় থাকে। পরিযায়নের সময় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝরাপাতা উল্টিয়ে এরা খাদ্য খুঁজে বেড়ায়। খাদ্য তালিকায় রয়েছে নানা জাতের কীট। খাবারের সন্ধানে এরা মাটিতে নামে। অন্য সময় গাছের ডালেই থাকে। এরা নীরবে গাছের ডালে বসে থাকে ও বনসুন্দরীর মতন এদের খাটো লেজ ঘন ঘন ওঠা-নামা করে। মেয়েপাখির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ছেলেপাখিদের ডাকের প্রতিযোগিতা হয়। আর সেই সময় পাখিটি সহজেই নজরে পড়ে।

    এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এদের প্রজননকাল। এই পাখির বাসা বানানোর পদ্ধতিটা বনসুন্দরীর মতন নয়। বনসুন্দরী শাল বা গজারি গাছের উঁচুতে কাঠি ও সরু ডাল দিয়ে বাসা বানায়। অথচ এরা ঝোপের নিচে বা বাঁশঝাড়ের গোড়ায় মাটিতে ঘাস ও পাতা দিয়ে আলগা বলের মতন বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়েপাখিটি ৪-৫টি ডিম পাড়ে। উভয়ে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। বাবা-মা দুজনেই সংসারের কাজ করে।

    লেখক : বন্যপ্রাণী-বিষয়ক আলোকচিত্রী

  • এক ভ্রমণে নয়নাভিরাম ৪ সমুদ্রসৈকত

    এক ভ্রমণে নয়নাভিরাম ৪ সমুদ্রসৈকত

    নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ঘেরা সমুদ্রসৈকত। যেখানে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। চোখ জুড়ানো আর দৃষ্টিনন্দন ওই সমুদ্রসৈকতের নাম জাহাজমারা, তুফানিয়া, সোনারচর ও চরহেয়ার। সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়ার দলবেঁধে ছোটাছুটি। ঢেউয়ের গর্জন। সবুজ বনাঞ্চল। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি।

    পর্যটনের অপার সম্ভাবনায় ঘেরা সৈকত চারটির ভৌগোলিক অবস্থান নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে। ৩০ কিলোমিটার দূরের সৈকত কুয়াকাটার চেয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রাঙ্গাবালীর পর্যটন স্পটগুলো এগিয়ে। কিন্তু যাতায়াতে সময় বেশি হওয়ায় পিছিয়ে ছিল এখানকার পর্যটন সম্ভাবনা। রাঙ্গাবালীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগমাধ্যম একমাত্র নৌপথ। তবুও অসংখ্য পর্যটক প্রাকৃতিক সান্নিধ্য পেতে এখানে ছুটে আসেন।

    সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটন স্পটের নিদর্শন : অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে জেগে থাকা ‘সোনারচরে’ সোনা নেই ঠিকই, কিন্তু আছে সোনালি আভা। সূর্যের রশ্মি যখন সৈকতের ওপর পড়ে, তখন দূর থেকে মনে হয়, সত্যিই সোনার আবির্ভাব হয়েছে এখানে। মনে হবে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে স্বর্ণের। সোনারচর উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে সাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত। বনবিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, সুন্দরবনের পরই আয়তনের দিক থেকে এটি বৃহত্তম বনাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুবিশাল সমুদ্রসৈকত।

    সৌন্দর্যের কমতি নেই ‘জাহাজমারা’ দ্বীপেও। দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান মৌডুবি ইউনিয়নে। জাহাজমারার কাছেই আরও দুটি দ্বীপ রয়েছে। একটির নাম ‘তুফানিয়া’ অন্যটির ‘চরহেয়ার’। যেখানে আছে নিবিড় সবুজের সমারোহ। সৈকতে অগণিত লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। আছে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। বনবিভাগের ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। জেলে নৌকার বহর।

    যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পর্যন্ত যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। গলাচিপা সদর থেকে সড়কপথে ১৫ থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে পানপট্টি কিংবা বোয়ালিয়া ঘাটে যাবেন। সেখান থেকে স্পিডবোট কিংবা লঞ্চে রাঙ্গাবালী যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা ও ৬০ টাকা। এ ছাড়াও ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৬টায় দোতলা লঞ্চ ছেড়ে আসে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশে। ভাড়া সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৩০০ ও ডাবল ২ হাজার ৫০০।

    যেখানে রাত্রিযাপন করবেন : খুব সকালে সৈকত ঘুরে দেখার জন্য বেরিয়ে পড়তে হবে। সৈকত দর্শন শেষে সোনারচর লাগোয়া চরমোন্তাজ ইউনিয়নে থাকার জন্য আবাসিক রেস্ট হাউস রয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা শহরে আবাসিক হোটেল এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় থাকা যাবে।

    অবকাঠামো উন্নয়ন : চার সমুদ্রসৈকতের একটিতেও নেই হোটেল-মোটেল। তবে সম্প্রতি বেসরকারিভাবে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকতে কটেজ নির্মাণাধীন রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সোনারচর, জাহাজমারা, তুফানিয়া ও চরহেয়ারে পন্টুন স্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেল ও রেস্ট হাউসসহ আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করলে পর্যটকদের এসব দ্বীপে আসার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে। প্রশাসনের তথ্য বলছে, রাঙ্গাবালীর চারটি পর্যটন স্পট নিয়ে ট্যুরিস্ট জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যা ইত্যেমধ্যে ঘুরে গিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সুন্দরবনে ইকো কটেজ

    সুন্দরবনে ইকো কটেজ

    ঘরে বসে সুন্দরবনের পাখপাখালির ডাক। পায়ে হেঁটে বনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ, নিরাপত্তার সঙ্গে নিশিযাপন। মানসম্মত খাবার গ্রহণ। স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ। এসব সুবিধা নিয়েই সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে রিসোর্ট। তেমন দুটি ইকো কটেজের তথ্য থাকছে আজ।

    বনলতা ইকো কটেজ : এই ইকো কটেজের মূল উদ্দেশ্য হলো সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আকর্ষণ এবং সুস্থ জীবনযাপনের সমন্বয়ে আদর্শ একটি আবাস স্থান সরবরাহ করা। ট্যুর গ্ৰুপ টিজিবির তত্ত্বাবধানে মোংলার ঢাংমারিতে অবস্থিত কটেজটি ইতোমধ্যে পর্যটকদের মাঝে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ডিসেম্বর জুড়ে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট চলছে এই কটেজে। সুন্দরবনের বিলাসবহুল ইকো রিসোর্টে কাটুক আপনার সুন্দরতম মুহূর্তগুলো। ডিসকাউন্টের পর রুম ভাড়া নন-এসি ২ হাজার ৮০০ টাকা, এসি রুম ৩ হাজার ৫০০, ইকো রুম ৩ হাজার ৬০০ ও ইকো স্পেশাল ৪ হাজার ২০০ টাকা। বিস্তারিত জানতে- ০১৯১১-৫২০৬২৫।

    এছাড়াও খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের ঢাংমারি গ্রামের সুন্দরী ইকো রিসোর্ট, কয়রার বানিয়াখালীতে নিশিকুরি রিসোর্ট, ইরাবতী ইকো রিসোর্টসহ সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় বেশকিছু কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে। করপোরেট, কাস্টমাইজড, ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, বাইকার সব ধরনের ট্যুরিস্টরা এখানে আসতে পারেন।

    সুন্দরবনের কূলে সম্পূর্ণ ইকো সিস্টেমে তৈরি কটেজ থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়া, ভয় ভয় অনুভূতি নিয়ে বনের ছোট খালে নৌকা ট্রিপ, ফিরে এসে কটেজের ফলগাছ থেকে বিভিন্ন জাতের দেশীয় ফল, পুকুরে অবাধ সাঁতার, বড়শি-জাল দিয়ে পুকুর অথবা ঘেরে মাছ ধরা, গ্রাম্য হাট, জেলেপল্লী ঘুরে সন্ধ্যায় কটেজের বিচ চেয়ারে বসে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায় বাদাবন ইকো কটেজে থেকে। রাতে খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে থেকে চাঁদ-তারার লুকোচুরির সঙ্গে বারবিকিউ পার্টি বেশ জমে যায়।

    বাদাবন ইকো কটেজ : সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামটির নাম দক্ষিণ চিলা। গ্রামের মানুষ সুন্দরবনকে বলে বাদাবন। লিটন জমাদ্দারও তার পরিবেশবান্ধব কটেজের নাম রেখেছেন ‘বাদাবন’। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে লিটনের বাদাবন ইকো কটেজ। শুরুতে দুই ঘরের কটেজে ৮-১০ জন থাকতে পারতেন। দিন দিন পর্যটক বাড়তে থাকে। লিটনও কটেজের সংখ্যা বাড়ান। বাদাবনে এখন ৩৫ থেকে ৪০ জন পর্যটক থাকতে পারেন।

    বাদাবন ইকো কটেজটি বাগেরহাট জেলার মোংলার দক্ষিণ চিলায়। ঢাকা থেকে মোংলার বাস আছে। বাস থেকে নেমে মোংলা নদী পার হতে হবে। তারপর ১০ কিলোমিটার পিচঢালাই পথ। বাদাবনের দুই দিন এক রাতের প্যাকেজ জনপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকা। প্যাকেজের মধ্যেই থাকা-খাওয়া, সুন্দরবনে বেড়ানো, স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন উপভোগের সুবিধা। বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন- ০১৯২৬৯৪৩৬০৮ নম্বরে।

  • সীতাপ জলপ্রপাত : পাহাড়-জলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

    সীতাপ জলপ্রপাত : পাহাড়-জলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

    ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে ইকো ট্যুর গাইড শ্যামল দেববর্মাসহ একদল রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটক ঢুকে পড়েন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। কুরমা বন বিটের গভীর অরণ্যে ভারতীয় সীমান্তে তারা খুঁজে পান হামহাম জলপ্রপাত। অসম্ভব সৌন্দর্যময় এ জলপ্রপাতটি এরপর দেশের ভ্রমণপিপাসুদের হৃদয়পটে স্থান করে নেয়।

    এর ঠিক এক বছর পর ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে একই বন বিটের গভীর অরণ্যে একটি জলপ্রপাতের সন্ধান পাওয়া যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একদল পর্যটকের খুঁজে পাওয়া এ জলপ্রপাতের নাম দেওয়া হয় ‘সীতাপ জলপ্রপাত’। যদিও হামহামের মতো এতটা আলোচনায় আসেনি এ জলপ্রপাত, পায়নি তেমন একট প্রচার-প্রচারণাও। তারপরও এটি দেখতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা লক্ষণীয়।

    হামহাম জলপ্রপাতের কাছেই অবস্থিত এ জলপ্রপাত উচ্চতার দিক থেকে হামহামের চেয়ে কম। তবে এটির সৌন্দর্য হামহামের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। বর্ষা মৌসুমে জলপ্রপাতটির ওপর থেকে প্রচণ্ড শব্দে গড়িয়ে পড়ে ঝরনাধারা। তখন গড়িয়ে পড়া পানির শব্দ শুনে মনে হয় পাহাড়ের কান্না চলছে। এটি মৌলভীবাজার জেলার চতুর্থ জলপ্রপাত। এর আগের তিনটি জলপ্রপাত হলো মাধবকুণ্ড, পরীকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত।

    সিলেট বন বিভাগের আওতাধীন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বন বিটের আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। এ বন বিট এলাকার পশ্চিম দিকে চাম্পারায় চা-বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। কুরমা বন বিটের পাশে শ্রমিকপল্লী কলাবনপাড়া পেরিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গহিন অরণ্যের অভ্যন্তরেই অবস্থান সীতাপ জলপ্রপাতের। এটি থেকে হামহাম জলপ্রপাতের দূরত্ব আরও চার কিলোমিটার।

    দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো যানবাহনে মৌলভীবাজার জেলা সদর বা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে এসে সহজেই যাওয়া যায় সীতাপ জলপ্রপাতে। তবে মৌলভীবাজার জেলা সদর না হয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে একটু হলেও সহজসাধ্য। শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ সড়কে চাম্পারায় চা বাগানগামী জিপ গাড়ি পাওয়া যায়। জিপ গাড়িতে করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ মুখে নুরজাহান চা বাগানের সাইনবোর্ড থেকে ডানে মোড় নিয়ে লেবু-আনারস-চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আঁকাবাঁকা পীচঢালা ও ইট সলিং পাহাড়ি রাস্তা ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাধবপুর চা বাগানের ভেতর দিয়ে পৌঁছতে হবে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান সড়কে। এ সড়ক ধরে পাত্রখোলা চা বাগানের বামের পাহাড়ি সড়ক ধরে ধলাই নদ পেরিয়ে পৌঁছতে হবে কুরমা ঘাটে।

    কুরমা ঘাট থেকেই শুরু মাটির রাস্তা। এ রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই পাওয়া যাবে চাম্পারায় চা বাগান। চাম্পারায় চা বাগানের চা তৈরির কারখানা ডানে রেখে সোজা রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে হবে। অল্পক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যাবেন কলাবন চা শ্রমিক পাড়ায়। সেখান থেকে আরেকটু সামনেই আদিবাসী ত্রিপুরাপাড়া ‘তৈইলং’। তৈইলং পাড়ায় পৌঁছে হামহাম অথবা সীতাপ যেখানেই যান না কেন হালকা পোশাক পরিধান বিশেষ করে হাফপ্যান্ট বা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরিধান করলে যাত্রা হবে কিছুটা সহজসাধ্য।

    তৈইলংপাড়া থেকে দুটো কাঠের তৈরি সেতু পার হয়ে জারুল ও বেতবাগান পেছনে ফেলে প্যাড নামক স্থানে গেলে পুকুরের মতো জলাশয়টি বামে রেখে ডানে মোড় নিতে হবে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছতে হবে দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যের সীতাপ জলপ্রপাতে। কলাবন চা শ্রমিকপাড়া থেকে সীতাপ জলপ্রপাত পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যন্ত পিচ্ছিল। সীতাপে যেতে কখনও পাহাড়ি পাথুরে ছড়া, কখনও বিশালাকার বাঁশবন, কাঁটাবন ইত্যাদি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাড়ি দিতে হবে। এ ছাড়া ঘন ঝোপঝাড় তো রয়েছেই।

    পানিতে ভেজা পাথরের পথ পাড়ি দিতে নিতে হবে কাঠ বা বাঁশের তৈরি লম্বা লাঠি। পিচ্ছিল পাথরের পথে হাঁটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ছড়ায় মাঝেমধ্যে কোমর সমান পানি পাবেন। তাই অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে। পাহাড়ের ভেতরে প্রবেশের পর সূর্যের দেখা মেলা অনেকটা দুরূহ। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও শীতল এ পথে সাবধানতা অবলম্বন না করলে নেমে আসতে পারে দুর্ভোগ। পড়তে পারেন কোনো দুর্ঘটনায়। এ ছাড়া পথ হারানোর ভয়তো সবসময়ই রয়েছে। যাতে করে রোমাঞ্চকর এ ভ্রমণ হতে পারে বিব্রতকর অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।

    তবে শত প্রতিকূলতা জয় করে সীতাপ জলপ্রপাতে পৌঁছতে পারলে আপনার দেহ-মনে প্রশান্তির ছোঁয়া লাগবেই। এ জলপ্রপাতের ওপর থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ পাহাড়ি জল অবশ্যই মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেবে। এখানকার নয়নাভিরাম ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ সবার মন কেড়ে নেয়। তবে হামহাম বা সীতাপ যে জলপ্রপাতেই যান না কেনÑ ট্যুর গাইডের সহায়তা নিলে ভ্রমণ হবে নিরাপদ। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কলাবনপাড়া চা শ্রমিকপল্লী অথবা তৈইলং ত্রিপুরাপল্লীতে ট্যুর গাইড পাওয়া যায়।

    সীতাপ জলপ্রপাত যেতে হলে জিপ গাড়ি বা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া যাবে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত। জিপ ভাড়া ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ১৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সেখান থেকে হাঁটা পথ। তবে এ জলপ্রপাতে যেতে হলে শ্রীমঙ্গল থেকে খুব ভোরে রওনা হলেই ভালো। নতুবা দিনের আলো থাকতে ফিরে আসা অত্যন্ত কষ্টকর হবে।

  • প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা–১ পর্বতের চূড়ায় বাবর আলী

    প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা–১ পর্বতের চূড়ায় বাবর আলী

    অন্নপূর্ণা-১ পর্বত জয় করেছেন বাংলাদেশের বাবর আলী। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত অন্নপূর্ণা-১ এর চূড়ায় পা রাখলেন তিনি।

    সোমবার (৭ এপ্রিল) ভোরে বাবর আলী পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেছেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান। এই অভিযানে বাবর আলীর সঙ্গে রয়েছেন গাইড ফূর্বা অংগেল শেরপা।

    ফরহান জামান বলেন, ‘অন্নপূর্ণা-১ শীর্ষে পৌঁছানোর মাধ্যমে বাবর আলী বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। ওর কঠোর পরিশ্রম এবং নিরলস অধ্যবসায়ের প্রতিফলন এই সাফল্য। আমরা আশা করি এই অর্জন বাংলাদেশের পর্বতারোহণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’

    ছবি: সংগৃহীত

    অন্নপূর্ণা-১ বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ উচ্চতার পর্বত। তবে পর্বতারোহীদের মৃত্যুর হার বিবেচনায় বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক এটি। দুর্গম এই পর্বত জয় করতেই গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ থেকে নেপালে যান বাবর আলী। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা হয়ে ২৮ মার্চ পৌঁছান অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্পে। সেখানে একদিন বিশ্রাম নেন। এরপর উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে ক্যাম্প ১-এ (৫২০০ মিটার) দুই রাত এবং ক্যাম্প ২-এ (৫৭০০ মিটার) এক রাত কাটিয়ে আবার ২ এপ্রিল নেমে আসেন বেজক্যাম্পে।

    পর্বতারোহী বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি চট্টগ্রামভিত্তিক পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক। গত বছর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একই অভিযানে বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ উচ্চতার লোৎসে পর্বত জয় করেন বাবর।

    এছাড়াও প্রথম বাঙালি হিসেবে ২০২২ সালে অন্যতম টেকনিক্যাল চূড়া আমা দাবলামের শীর্ষ স্পর্শের নজির গড়েন।