শনিবার, মে ২৩, ২০২৬
হোমপেজ প্রচ্ছদ

বাঁচানো গেল না কারিনা কায়সারকে

অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর।

কারিনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার বাবা কায়সার হামিদ বলেন, রাত ১ টার দিকে চেন্নাইয়ে মারা যায়। হঠাৎ করেই তার ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছে। পরে তাকে আর ফেরাতে পারেনি।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ শনিবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে কীভাবে দেশে আনা যায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিভার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়।

সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুরুতে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট বানিয়ে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ সময়ে এসে ওয়েব সিরিজ ও শর্ট ফিল্ম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। কারিনা ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’ সিরিজে অভিনয় করে প্রশংসা পান।

বিছানাকান্দিতে নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর মিলল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর লাশ

সিলেটের বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে পানিতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার এলাকায়।

শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিন বন্ধু মিলে গোসলে নামলে শান্ত বণিক পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে সিলেট থেকে তাদের বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় তাদের আপাতত না আসতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর মরদেহ ক্যাম্পাসে নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।

নাসার বাংলাদেশি বিজ্ঞানী রেজাউল হক আর নেই

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. এম রেজাউল আর নেই।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ড. রেজাউল হকের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবারুইপাড়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বসবাস করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে।

নাসায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি স্টেট ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে। পরে তিনি যোগ দেন নাসায় এবং কয়েক বছর আগে করেন অবসর গ্রহণ।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং রেখে গেছেন অসংখ্য গুণগ্রাহী। যুক্তরাষ্ট্রেই তার দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা ফহিম উদ্দিন বিশ্বাস ও মা আনোয়ারা খাতুন।

এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কেল্লাবারুইপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার গায়েবানা জানাজা।

‘সিলেবাস শেষ করবো কীভাবে’- এসএসসির সময় এগিয়ে আনায় শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই পেতেই মার্চ মাস, হঠাৎ কারিকুলামে পরিবর্তন, ছুটিসহ নানা কারণে শ্রেণি পাঠদানেও ব্যাপক ঘাটতি- এর মধ্যেই পরীক্ষার সূচি তিন মাস এগিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্ত এসেছে। খবর বিসিসি বাংলার। 

আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সমানে আসছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

শিক্ষক এবং অবিভাবকদের কেউ কেউ বলছেন, শ্রেণি পাঠদান এবং লেখাপড়ার সুযোগ না দিয়ে কেবল একতরফাভাবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না।

মার্চ-এপ্রিল সম্ভাব্য সময় ধরে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাজশাহীর ধোপাঘাটা আলহাজ কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনভিয়া সুলাতানা।

কিন্তু হঠাৎ তিন মাস এগিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করায় আতঙ্কিত এই শিক্ষার্থী। “এতদিন ভেবেছি পরীক্ষা মার্চের শেষে অথবা এপ্রিলে হতে পারে। কিন্তু এখন জানুয়ারির শুরুতেই, এটা কিছু হলো। কীভাবে সিলেবাস শেষ করবো-চিন্তা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান ঊষা বলছেন, “বই পেয়েছি মার্চ মাসে, ক্লাসও ঠিক মতো পাইনি- কোচিং করে, বাসায় পড়ে কোর্স এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

দেশের শিক্ষাঙ্গণে সেশনজট কমাতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা। কিন্তু এক্ষেত্রে একবারে তিন মাসের বাড়তি চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত হবে বলেই মত তাদের।

এছাড়া প্রথম বছরে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব যে-সব শিক্ষার্থীর ওপর পড়বে, তারা কতটা শ্রেণি শিক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে? ছুটি ছিল কয়দিন? বই পেয়েছে কখন? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আরও ভাবা দরকার ছিল বলে মনে করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলছেন, “অভিভাবকদের অনেকে আমাকে বলেছেন যে, জানুয়ারিতে বোর্ড পরীক্ষা হওয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে জুন মাসেই প্রি-টেস্ট পরীক্ষা নিতে চায়। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটু বেশি কঠিন হয়ে গেলো না?”

কতটা সময় পাচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা?

বাংলাদেশে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষা এবং এপ্রিল মাসে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

কিন্তু করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে শিক্ষা সূচি ওলটপালট হওয়ার পর থেকেই এই ধারায় পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শুরু হলেও ২০২৫-এ আবারও দেরিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে, ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শুরুতে আয়োজন করার সরকারি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের বেশ বিপাকে ফেলবে বলেই মনে করছেন শিক্ষক এবং অভিভাবকরা।

যার কারণ হিসেবে আগামী বছরের শিক্ষার্থীদের বই হাতে পাওয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচির বিষয়টি সামনে আনছেন শিক্ষকদের অনেকে।

তারা বলছেন, শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে কতটা সময় পাচ্ছে, এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি সরকার।

ঢাকার একটি মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলছেন, এই শিক্ষার্থীদের সব বই পেতে মার্চ মাস হয়েছিল, তারপরই শুরু হয় রোজার ছুটি, এখন এসএসসি পরীক্ষা চলছে, ক্লাস হচ্ছে না, এরপরই আবার ঈদের ছুটি শুরু হবে।

অর্থাৎ বছরের ছয় মাস সেভাবে ক্লাসই হয়নি, ঈদুল আজহার ছুটির পর ক্লাস খোলার দশ থেকে পনেরো দিন পরই অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় বসবে শিক্ষার্থীরা।

“শিক্ষকরা যে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি পরীক্ষার আগে বিশেষ কেয়ার নেবে, সেটাও কিন্তু সম্ভব হবে না। এই ঘাটতি আপনি কীভাবে পূরণ করবেন?” বলেন মি. ইসলাম।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলেই মনে করছেন সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জুয়েল রানা। তিনি বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের কোচিং নির্ভরতা বাড়বে।

“এই শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকের শুরুতে করোনা পেয়েছে, এরপর দেশের রাজনৈতিক ডামাডোল, একাধিকবার কারিকুলাম বদলেছে- এবার হঠাৎ করেই দশম শ্রেণিতে এসে বোর্ড পরীক্ষা তিন মাস এগিয়ে আনা হলো- এটা ভালো কিছু বয়ে আনবে না,” বলেন মি. রানা।

শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে আনছেন আরেক শিক্ষক মলয় কান্তি হালদার। তিনি বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিক, কিন্তু যেনতেনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেই শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষায় পাশ করছে, শিখছে না।

তিন মাস এগিয়ে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় উদ্‌বিগ্ন অভিভাবকরাও। তাদের কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় না রেখেই পরীক্ষার বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“সেশন জট কমাতে হবে এটি ঠিক, কিন্তু একটি ব্যাচের থেকে একাধারে তিন মাস কেড়ে নেওয়া, এটি আমি যুক্তিসংগত মনে করি না,” বলেন ঢাকার নারিন্দা এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদ।

যে যুক্তি দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে বৃহস্পতিবার ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি জানান, ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা সাতই জানুয়ারি এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা ছয়-ই জুন অনুষ্ঠিত হবে। এসব পরীক্ষার একটি প্রস্তাবিত রুটিনও দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের তুলনায় তিন মাসেরও বেশি সময় আগেই আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষার্থীদের।

এক্ষেত্রে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেশন জট নিরসন এবং পাঠ্যসূচি সময়মতো শেষ করে শিক্ষার্থীদের জনমিতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো : এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাই প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করা।

“আমাদের লক্ষ্য হলো ক্রমান্বয়ে গ্যাপ কমিয়ে আনা। ডিসেম্বরকে আমরা পরীক্ষার জন্য আদর্শ মাস হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।” বলেন তিনি।

মি. মিলন বলছেন, বর্তমানে সেশনজটের কারণে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে অনেক শিক্ষার্থীর ২০ বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে, যা জাতীয়ভাবে জনমিতির বড়ো ক্ষতি।

প্রাথমিকভাবে আগামী বছর থেকেই পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিকুলাম পরিবর্তন কিংবা পাঠ্যবই সংশোধনের নামে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন নতুন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে।

আর এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা নির্ভর সমন্বিত ও পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলে আসছেন শিক্ষাবিদ এবং গবেষকরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে পরিকল্পনা ও গবেষণা নির্ভর তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে, তাদের সঙ্গে তেমন আলোচনা হয়নি বলেই মনে করেন তিনি।

“যদিও ওনারা বলেছেন যে, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, কিন্তু অনলাইনে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে কি তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব?”

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছুটা সময় নেওয়া উচিত ছিল বলেই মনে করেন এই শিক্ষাবিদ।

“শিক্ষার্থীদের সেশন জটের কারণে ক্ষতি হয় এটা ঠিক, কিন্তু আমার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এই সিদ্ধান্তের ওপর এর প্রভাব কেমন সেটা কি আমি দেখেছি,” বলেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হবে বলেও মনে করেন মিজ চৌধুরী।

“পরীক্ষা নিয়ে যখন শঙ্কা তৈরি হয় তখনই অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিংয়ের দিকে ধাবিত হন। আমার জানা মতে অনেক অভিভাবক ইতোমধ্যেই কোচিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।” বলেন তিনি।

পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশীদ।

তিনি মনে করেন, লেখাপড়ার চাপ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা এই সময়ের মধ্যেই বোর্ড পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

রশীদ বলেন, “পরীক্ষার সময় পেছাতে পেছাতে আমরা আসলে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে অনেক সময় নষ্ট করছি। অনেক শিক্ষার্থী মোবাইলের পেছনেও অধিক সময় ব্যয় করছেন।”

তবে শিক্ষা খাতে পরিবর্তন আনতে সমস্যার মূলে হাত দিতে বলছেন এই গবেষক। শিক্ষা খাতকে জবাবদিহির মধ্যে আনার কথা বলছেন তিনি।

রশীদ বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে হবে, আবার শিক্ষার্থীদের শিখতেও হবে- এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, “স্কুলগুলো কী আসলেই পড়ায়? সরকারকে শিক্ষার্থীদের লার্নিং এনশিওর করতে হবে। শিক্ষকদের ওপরও চাপ তৈরি করতে হবে, তাদেরকে মোটিভেট করতে হবে, বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে- যাতে শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভাবে-গুরুত্ব দেয়।”

প্রাইম ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, নেই বয়সসীমা

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ‘ইমপ্লিমেন্টেশন ম্যানেজার’ পদে নিয়োগ দিবে। আবেদন চলবে ২০ মে পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : প্রাইম ব্যাংক পিএলসি

বিভাগের নাম : ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট

পদের নাম : ইমপ্লিমেন্টেশন ম্যানেজার

পদসংখ্যা : নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন : ফুল টাইম

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা : বিবিএ

অভিজ্ঞতা : ৫ বছর

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা : আলোচনা সাপেক্ষে

বয়সসীমা : নির্ধারিত নয়

আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ মে

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায়

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

কলেজ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

আবারও কলেজ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। নির্ধারিত প্রধান কর্মদক্ষতা সূচক (কেপিআই)-এর ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি অনার্স কলেজগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা কলেজ নির্বাচন করা হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (কলেজ মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন) মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে ৮টি সেরা কলেজ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০টি করে মোট ৮৮টি সেরা কলেজ নির্বাচন করা হবে। এ জন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র‍্যাঙ্কিং ২০২৫’ কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের কেপিআই সংক্রান্ত তথ্য আগামী ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে ‘কলেজ র‍্যাঙ্কিং তথ্য ছক’ পূরণ করে জমা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশক্রমে সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচিত র‍্যাঙ্কিংপ্রাপ্ত কলেজগুলোর তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করা হবে বলেও অফিস আদেশে বলা হয়।

এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বশেষ ২০১৮ সালের কলেজ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সিনেট হলে ওই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

সাড়ে ১০ হাজার স্কুলে মাঠ নেই, ডিভাইসেই বন্দি শিশুরা

দেশের ১০ হাজার ৭৪০টি স্কুলে খেলার মাঠ না থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঠের অভাবে তারা ক্রমেই মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে, ফলে কমছে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং বাড়ছে মানসিক ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে শিশুর নিরাপদ ও সুস্থ বিকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সংগঠনের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘শিশুর নিরাপদ জীবন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেনিন চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে লেনিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ শিশু। ধর্ষণ, পাচার, মানসিক নির্যাতন, অপুষ্টি ও শিশুশ্রমের মতো নানা সংকটে শিশুদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালে ৪০৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভয়ভীতি, পারিবারিক লজ্জা, বিয়ে না হওয়ার শঙ্কা, সালিসসহ নানা কারণে অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। বিশেষ করে ছেলেশিশু ধর্ষণের বেশির ভাগ ঘটনায় রিপোর্ট করা হয় না।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি শিশুই মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মা-বাবা মনে করেন, বকাঝকা, মারধর বা শারীরিক আঘাত না করলে শিশু পড়াশোনা করবে না। এ ছাড়া ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত এবং তাদের নিয়মিত শারীরিক আঘাতের শিকার হতে হয়। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৮ শতাংশ অপুষ্টিজনিত গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি শিশুই মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মা-বাবা মনে করেন, বকাঝকা, মারধর বা শারীরিক আঘাত না করলে শিশু পড়াশোনা করবে না। এ ছাড়া ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত এবং তাদের নিয়মিত শারীরিক আঘাতের শিকার হতে হয়। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৮ শতাংশ অপুষ্টিজনিত গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।

সেমিনারে হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন লেনিন চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবে সরকারি হিসাবে কয়েক শ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে অর্ধ লক্ষাধিক শিশু। শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের অপরিণামদর্শী, কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে এ রকম একটি মানবিক বিপর্যয় ঘটে গেল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘শিশুর সঠিক বিকাশ শুধু খাদ্য বা শারীরিক পুষ্টির ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য শিশুর শরীর গঠন করে। কিন্তু তার মনোজগৎকে সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন নীতিশিক্ষা এবং সৃজনশীল পরিবেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে শিশু জন্মগ্রহণ করে প্রথমে তার নিরাপদ স্থান হচ্ছে তার মা-বাবা। সে মা-বাবার কথা শোনে, (মা–বাবার) চিন্তা-চেতনা তাকে আকৃষ্ট করে। সে সময় মা-বাবার এমন কিছু বিষয় রাখা উচিত, যা শিশু বিকাশের জন্য সহায়ক হয়। যাতে এগুলো তাকে আকর্ষণ করতে পারে। কিন্তু আমরা সেগুলো দেখি না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা একটা ধর্মীয় গোঁড়ামি মুক্ত, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত, উগ্রতা মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় লালিত একটা বাংলাদেশ আমরা চাই। সেটা যেন আমরা আমাদের শিশুদের মধ্যে সঞ্চালিত করতে পারি।’ শিশুদের বর্তমান শিক্ষাক্রম বাস্তবতার সঙ্গে অনুপযোগী উল্লেখ করে তা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘এমন একটা শিক্ষাক্রম বানিয়েছি, যেই শিক্ষাক্রমে শিশুদের মানসিক কিংবা অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নের জায়গা রাখা হয়নি। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশিক্ষার জন্য কোনো একটা নীতির জায়গায় আমরা দর্শনগতভাবে একমত হতে পারিনি। বিচিত্র রকমের শিক্ষাদর্শনের মধ্য দিয়ে আমরা শিশুদের বড় করছি।’

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, সাদিয়া আরমান এবং শিশু প্রতিনিধি আদ্রিতা রায়।

মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং

সপ্তাহখানেক আগে এক মিনিট ৭ সেকেন্ডের টিজারে ঝলক দেখিয়েছিলেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম মারাকানায় মঞ্চস্থ হওয়া বিশ্বকাপের ‘অফিসিয়াল থিম সং’ এবার বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুক্তি পেলো। ‘দাই দাই’ গানে শাকিরার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান গায়ক বুর্না বয়ের।

শুক্রবার (১৫ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের থিম সং মুক্তির ঘোষণা দিয়ে ফিফা জানিয়েছে, এই গান থেকে পাওয়া রয়্যালটি তাদের গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে জমা হবে। টুর্নামেন্ট শেষে ১০ কোটি ডলার পাওয়ার লক্ষ্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার। এই অর্থ বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবলে সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ আর কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা যেন জড়িয়ে গেছে একে অপরের সঙ্গে। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০১৪ সালের ‘লা লা লা’ দিয়ে ভক্তদের মাতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। মাঝে দুই আসর বিরতির পর আবারও বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সংয়ে ফিরলেন এই কলম্বিয়ান পপ তারকা।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ফিফা জানিয়েছে, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের হাফ টাইমে ম্যাডোনা, শাকিরা ও কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ভক্ত-সমর্থকদের আনন্দে মাতাবেন। তার আগ পর্যন্ত তাদের হৃদয়ে ঢেউ তুলবে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ‘দাই দাই’।

শিক্ষামন্ত্রীর বাগড়ম্বর, জাঁতাকলে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষাব্যবস্থাকে পরীক্ষামূলক ল্যাবরেটরি বানানোর প্রয়াস থেমে নেই। এর সর্বশেষ প্রকাশ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা। এপ্রিলের পরীক্ষা জানুয়ারিতে এগিয়ে আনার এই ঘোষণা কোনো নীতিগত সংস্কার নয়, এটি ক্ষমতার ঔদ্ধত্য প্রদর্শন। শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, প্রস্তুতি, এমনকি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যে নির্মম অবজ্ঞা দেখানো হয়েছে, তা শুধু অদূরদর্শিতা নয়, এটি এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠুরতা। প্রশ্নটা তাই সরাসরি করতে হয়, কেন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত?

বছরের পর বছর ধরে যে শিক্ষাব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলে, যেমন ক্লাস, কোর্স, এবং পুনরাবৃত্তি শেষে এপ্রিলে পরীক্ষা। সেখানে হঠাৎ করে কোনো পূর্বঘোষণা, প্রস্তুতি বা কাঠামোগত সংস্কার ছাড়াই জানুয়ারিতে পরীক্ষা এগিয়ে আনা মানে পুরো ব্যবস্থাটাকে ইচ্ছেমতো টেনে-হিঁচড়ে ভেঙে ফেলা। এটাকে কোনো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বলা যায় না, বরং বলা যায় নীতিনির্ধারণের নামে খামখেয়ালির চর্চা।

পরীক্ষা এগিয়ে আনার পক্ষে সেশনজট কমানোর যুক্তি সামনে আনা হয়েছে। এটি শুনতে ভালো লাগে, বলতে আরও ভালো লাগে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমস্যার শিকড়ে হাত না দিয়ে তারিখ এগিয়ে আনা মানে সমস্যাকে গোপন করা, সমাধান নয়। বই সময়মতো দেওয়া হয় না, ক্লাস ঠিকমতো চলে না, শিক্ষক সংকট কাটে না—এই কাঠামোগত ব্যর্থতাগুলো অমীমাংসিত রেখে পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে এনে বলা হচ্ছে আমরা কাজ করছি। এটি এক ধরনের প্রশাসনিক প্রতারণা।

আর এতে সবচেয়ে বড় আঘাতটা পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। যারা ২০২৭ সালে পরীক্ষা দেবে, তারা ২০২৫ সালে বই পেয়েছে, তাও আবার এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। অর্থাৎ তাদের শিক্ষাবর্ষ শুরুই হয়েছে দেরিতে ও খুঁড়িয়ে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যদি বলা হয় তোমাদের পরীক্ষা তিন মাস এগিয়ে আনা হলো, তাহলে সেটি শিক্ষা নয়, সেটি একতরফা নির্দেশ। এটি এমন এক দৌড়, যেখানে শুরুর আগেই কিছু প্রতিযোগীর পা বেঁধে দিয়ে বলা হচ্ছে দৌড়াও!

শিক্ষার্থীরা কি যন্ত্র? তাদের কি মানসিক প্রস্তুতি বলে কিছু নেই? পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা, ধাপে ধাপে শেখা—এসব কি কেবল বইয়ের কথা? শিক্ষামন্ত্রী যেন ধরে নিয়েছেন ক্যালেন্ডারে তারিখ সরালেই বাস্তবতা বদলে যায়। কিন্তু শিক্ষা কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি সময়সাপেক্ষ, ধীর এবং গভীর বিকাশের প্রক্রিয়া। এখানে শর্টকাট মানে সরাসরি অঙ্গহানি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে ধাক্কা দেবে, তা নিয়ে কোনো ভাবনাই নেই। বিশ্বজুড়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আমাদের নীতিনির্ধারকরা উল্টো পথে হাঁটছেন। হঠাৎ করে পরীক্ষা এগিয়ে এনে লাখো শিক্ষার্থীকে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও চাপে ফেলে দেওয়া—এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম উদাহরণ।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বৈষম্যের প্রশ্ন। শহরের সচ্ছল পরিবার হয়তো অতিরিক্ত কোচিং কিংবা প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে কোনোভাবে এগিয়ে আনা সময়টা মানিয়ে নেবে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের বা নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীরা? তাদের জন্য এটি কার্যত একটি নীরব শাস্তি। অর্থাৎ একটি সিদ্ধান্ত সরাসরি সামাজিক অসাম্যকে আরও তীব্র করে তুলবে নিঃসন্দেহে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে ধাক্কা দেবে, তা নিয়ে কোনো ভাবনাই নেই। বিশ্বজুড়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আমাদের নীতিনির্ধারকরা উল্টো পথে হাঁটছেন। হঠাৎ করে পরীক্ষা এগিয়ে এনে লাখো শিক্ষার্থীকে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও চাপে ফেলে দেওয়া—এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম উদাহরণ।

আরেকটি অনিবার্য প্রশ্ন হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত কি কোনো গবেষণা, পরামর্শ বা অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে? উত্তর: না। এখানে যা দেখা যাচ্ছে তা হলো সিদ্ধান্ত আগে, যুক্তি পরে। এটি নীতিনির্ধারণ নয়, এটি এক ধরনের প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা। এই স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতাও নতুন নয়। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ‘হেলিকপ্টার মন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিতি, নকল ধরতে আকাশপথে অভিযান—এসব ছিল ক্যামেরাবান্ধব প্রদর্শনী। এখন পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে সেই একই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে নকল চলবে না বলে হুঙ্কার, জানালার ফাঁক দিয়ে পরীক্ষার্থীরা নকল করছে কি না তা দেখা, কখনো শিক্ষার্থীদের চুলের ছাঁট নিয়ে বক্তব্য—এসব নাটকীয়তা হয়তো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যার একটিরও সমাধান করে না। বরং এটি দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। যেখানে পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন সংস্কার—এসব অতিপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের জবাব নেই, সেখানে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে এনে মূল সংকট আড়াল করা হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়তে যাওয়ার জন্যও উৎসাহিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি সচেতন মহলে বিস্ময় নয়, ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কারণ বাস্তবতা হলো, শিক্ষার বহু মৌলিক সূচকে পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, নারী-পুরুষ সমতা, ধারাবাহিক পাঠক্রম, এমনকি শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র—সবখানেই বাংলাদেশের অগ্রগতি স্পষ্ট দৃশ্যমান। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তথাকথিত উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ হওয়ার দাবি তথ্যবিবর্জিত। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এটি কি অজ্ঞতা, নাকি ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি?

এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো, এতে আত্মমর্যাদাবোধের ঘাটতি স্পষ্ট। যে রাষ্ট্রকে আমরা রক্তের বিনিময়ে পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমাদের থেকে পিছিয়ে থাকা সেই রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে নিজের দেশের মানুষকে শিক্ষা দিতে চাওয়া কোনো সুস্থ তুলনা নয়। এটি আত্মপরিচয়ের সংকট। নিজের অর্জনকে খাটো করে অন্যের বন্দনা করা কূটনীতি নয়; এটি নীতিগত দেউলিয়াত্ব এবং মানসিক পরাজয়ের স্বীকারোক্তি। শিক্ষায়, অর্থনীতিতে, মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ যে এগিয়ে, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে অন্যের বন্দনা করা মানে নিজের অবস্থানকে নিজেই দুর্বল করে দেওয়া, নিজের ঘরের ভিত নড়বড়ে করে দেওয়া।

এসব ডামাডোলের মধ্যে হুট করে জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা একেবারেই অবাস্তব ও ক্ষতিকর। এটি কোনো সুপরিকল্পিত সংস্কার নয়, বরং এটি একটি অপরিণত লোক দেখানো সিদ্ধান্ত, যার ভেতরে গভীরতা নেই, আছে কেবল তাৎক্ষণিক চমক। বাস্তবতা হলো, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, ক্লাস কার্যক্রম বা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির কোনো সংযোগ নেই। অর্থাৎ একদিকে মন্ত্রী পাকিস্তানের শিক্ষার তথাকথিত উন্নয়নে মুগ্ধতার গল্প শোনাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজের দেশের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এমন একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন, যার পরিণতি হবে বিশৃঙ্খলা, চাপ এবং শিক্ষার মানের অবনতি। এটি স্পষ্ট করে দেয় এখানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা নেই, নেই কোনো সুসংগঠিত রোডম্যাপ, আছে কেবল তাৎক্ষণিক আলোচনায় থাকার প্রবণতা এবং নীতিনির্ধারণকে ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিপজ্জনক প্রবণতা।

মনে হচ্ছে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর আসল লক্ষ্য কাজ করা নয়, আলোচনায় থাকা। তিনি কৃতিত্ব দেখাতে চান, কিন্তু সেই কৃতিত্ব অর্জনের জন্য যে যোগ্যতা, প্রস্তুতি ও গভীরতা দরকার, তা আয়ত্ত করার চেষ্টা তাঁর মধ্যে দেখা যায় না। ফলে তাঁর সিদ্ধান্তগুলো হয় হঠকারী, আর বক্তব্যগুলো হয় বাস্তবতা বিবর্জিত। তিনি এখনও পুরোনো ছকবাঁধা সরলীকৃত চিন্তার বাইরে বের হতে পারেননি, যেখানে জটিল সমস্যার সহজ সমাধান খোঁজার ভান করা হয়। আর সেই কারণেই তাঁর প্রায় প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ বাস্তবতার সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং শেষ পর্যন্ত তা সমাধান নয়, নতুন সমস্যার জন্ম দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, সমাধান কী? প্রথমত, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, যদি সত্যিই সেশনজট কমানোর লক্ষ্য থাকে, তাহলে সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, পরবর্তী ব্যাচের জন্য আগাম ঘোষণা দিয়ে তাদের সেই অনুযায়ী প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত, বই বিতরণ, ক্লাস কার্যক্রম এবং পরীক্ষা সবকিছুকে একটি সমন্বিত ক্যালেন্ডারের মধ্যে আনতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে আনতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়া কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, শিক্ষা কোনো মঞ্চ নয়, যেখানে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য নাটকীয়তা দেখানো যায়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, যার ফলাফল নির্ভর করে স্থিরতা, পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীলতার ওপর। শিক্ষার্থীরা কোনো পরীক্ষাগারের ইঁদুর নয়, যাদের ওপর নীতি প্রয়োগ করে ফলাফল দেখা হবে। তারা একটি জাতির ভবিষ্যৎ এবং সেই ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন উদ্ভট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অধিকার কারও নেই।

লেখাটি বিডিনিউজ২৪ডটকম থেকে নেওয়া।

মাঠে পড়ে ছিল এসএসসির ৫০ খাতা

ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাঠ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৫০টি উত্তরপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠসংলগ্ন শহিদ মিনারের পাশ থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে মাঠের পশ্চিম পাশে হাঁটার সময় এক যুবকের চোখে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু খাতা। কাছে গিয়ে তিনি সন্দেহ করেন এগুলো এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র হতে পারে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানরা সারা বছর পরিশ্রম করে পরীক্ষা দেয়। সেই খাতা যদি রাস্তায় পড়ে থাকে, তাহলে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।”

পরীক্ষার্থীরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, “আমরা ভালো ফলাফলের আশায় কঠোর পরিশ্রম করি। কিন্তু খাতা যদি এভাবে বাইরে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আমাদের খাতা আদৌ নিরাপদ কি না, তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা হচ্ছে।”

তারা আরও দাবি জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। একই এলাকায় এর আগেও পরীক্ষার খাতা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।

ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা খাতাগুলো বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে। এখনো কোনো কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।