Tag: ছাত্রলীগ

  • গাজীপুরে এনসিপি নেতা পরিচয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরণ, সাড়ে ৫ লাখ টাকায় মুক্তি

    গাজীপুরে এনসিপি নেতা পরিচয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরণ, সাড়ে ৫ লাখ টাকায় মুক্তি

    গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা পরিচয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে তুলে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাবি করা টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ আদায়ের দুদিন পর মুক্তি পান ওই ছাত্রলীগ নেতা। অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযুক্তরা এনসিপির কেউ নয় বলে দাবি এনসিপির উপজেলা নেতাদের।

    এ ঘটনায় বুধবার (১১ জুন) দুপুরে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা আল রিয়াদ আদনান অন্তরের স্ত্রী ইসরাত হাজান আঁখি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল বারিক।

    গত ২৮ মে বুধবার রাত ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌর শহরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মালেক মাস্টার মার্কেটের সামন থেকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা আল রিয়াদ আদনান অন্তর (৩৫) শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। অভিযুক্তরা হলেন—মো. উজ্বল হোসাইন (২২), আলিফ মোড়ল (২০), কাইফাত মোড়ল (২৪) মারুফ খান (২২) ও মিঠুন (২০) ।

    অপহৃত ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ইসরাত হাজান আঁখি বলেন, ‘গত ২৮ মে স্থানীয় মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মালেক মাস্টার মার্কেট থেকে মেয়ের ওষুধ কিনে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন আমার স্বামী অন্তর। এসম হঠাৎ করে অভিযুক্তরা এসে নিজেদের এনসিপির নেতা পরিচয়ে অটোরিকশার সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপর তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করতে করতে স্থানীয় ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারের পেছনে নিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি সদ্য নির্মিত ঘরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।’

    ইসরাত হাজান আঁখি আরও বলেন, ‘ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। এসময় অভিযুক্ত আলিফ মোড়ল স্বামীকে ব্যাপক নির্যাতন করে আমাকে ফোন দেয়। এসময় অপর প্রান্ত থেকে স্বামী শুধু বলে আমাকে বাঁচাও। এসময় অভিযুক্তরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে ২৯ মে ভোররাত ৪টার দিকে এমসি বাজার এলাকায় মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা নিয়ে গেলে অভিযুক্ত আলিফ মোড়লসহ দুটি মোটরসাইকেলে এসে ২ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোনের বক্স ও কাগজপত্র নিয়ে যায়। এরপর ওরা স্বামীকে ছেড়ে দিলেও মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে আমার শ্বশুর আরও ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দিলে ২৯ মে রাত ১০টার দিকে এমসি বাজার এলাকায় একটি নির্জন স্থানে ফেলে অভিযুক্তরা আমাদের জানায়। যার কথোপকথন আমাদের মোবাইল ফোনে অডিও ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।’

    আখি বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় এনসিপির নেতা-কর্মীদের জানানোর পর এনসিপি শ্রীপুর উপজেলার একটি ফেসবুক পেজ থেকে অভিযুক্তরা তাদের কেউ নয় বলে জানায়। তারা অপরাধী, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।’

    এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত আলিফ মোড়ল তার নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি দুদফা ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিজের মোটরসাইকেল গিয়ে নিয়ে এসেছেন। ১০ হাজার টাকা ভাগ পাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন তার ফেসবুক পোস্টে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির শ্রীপুর উপজেলার আহ্বায়ক প্রার্থী আবু রায়হান মেজবাহ বলেন, ‘অভিযুক্তরা কেউ এনসিপির নেতা নয়। পুলিশে বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে। ইতিমধ্যে এনসিপি বিষয়টি পরিষ্কার করছে। ৫ তারিখের পর ওরা এসে যোগ দেয়। মিছিলের সামনে এসে ছবি তুলে পোস্ট করলেই নেতা হওয়া যায় না। তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে বাদী বা ভিকটিমের ফোন বন্ধ থাকায় এখনো তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

  • রাঙামাটিতে মারমা তরুণীকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    রাঙামাটিতে মারমা তরুণীকে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় মারমা তরুণীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মো. ফাহিমকে (২৫) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কদম রসূল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মো. ফাহিম উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের পোয়াপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এ মামলায় অপর আসামি রিমন চাকমাকে ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    এর আগে গত ১৭ এপ্রিল কাউখালী থানায় লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী তরুণী উল্লেখ করেন, পোয়াপাড়া গ্রামের আনোয়ারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। আসামি গত ১৭ এপ্রিল রাতে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাঁধা দেয়ায় ফাহিম তাকে মারধর করে। আহত হয়ে তিনি কাউখালী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় অভিযোগ দেন। এর আগেও আসামি মো. ফাহিম ওই তরুণীকে গত ২৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে।

    ঘটনার পরপরই আসামি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মো. ফাহিম ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অপর আসামি রিমন চাকমাও পালিয়ে যায়।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সোহাগ। ভিকটিম তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    অপরদিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, উক্ত ভিকটিম গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছিল এবং ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শনিবার সে হাসপাতাল ছেড়ে যায়। সূত্র জানায়, মেয়েটির শরীরে মারধরের আঘাতের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে।

  • ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদলের মারধর, গলায় জুতার মালা

    ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদলের মারধর, গলায় জুতার মালা

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী শাওন হোসেনকে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে দিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আটকৃত ছাত্রলীগ কর্মী শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের সক্রিয় কর্মী।তিনি পূর্বে ছাত্রদলের এক কর্মী মারধরের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে তাকে আটক করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    জানা যায়, শাওনকে আটকের পর অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে মারধর করে তাকে সেন্ট্রাল ফিল্ডে নিয়ে যান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে জিরো পয়েন্ট পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। পুরো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। পুলিশ বক্সে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করে।

    মারধরের শিকার ছাত্রলীগ কর্মী শাওন বলেন, জুলাইয়ে আমি শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলাম। ৯ তারিখের পরে আমি বাড়িতে চলে যাই। এরপর আন্দোলন নিয়ে কোনো পোস্ট করিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী শামিম বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে চবিতে ছাত্রদলের তেমন কোনো অবস্থান ছিল না। তবে ছাত্রদলের সঙ্গে আমার গোপন যোগাযোগ ছিল। এ বিষয়টি শাওন হোসেন জানতো। তাই সে আমাকে মারধর করে ও ক্যাম্পাসে আসাতেও বাঁধার সৃষ্টি করে। তাকে মারধর করা হয়নি। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ছাত্রলীগ করতো তা স্বীকার করে।

    বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ভুক্তভোগীর প্যানিক ডিসঅর্ডারের কারণে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থেকে আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রেফার করেছি।

    প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।