Tag: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • সব দাবি মানার আশ্বাসে জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

    সব দাবি মানার আশ্বাসে জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

    চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সব দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার পর জবি ঐক্য প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এসময় জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছি। তিনি দাবি আদায়ে সরকারকে টালবাহানা না করার আহ্বান জানান।

    শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানান অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন। তার ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থীকে সড়ক ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তখনও সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিদ বলেন, জবি ঐক্য থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমরা এখন চলে যাচ্ছি।

    এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজের উপস্থিতিতে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন বাজেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণে খুব দ্রুত এ কাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সারা দিন এটা নিয়ে কাজ করেছি। ইউজিসি একটি পরিবার হিসেবে সবাই মিলে সমাধান করতে পারব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি একসঙ্গে বসে সব সমাধান করব। আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

    এসময় ইউজিসি চেয়ারম্যান দাবি আদায়ের জন্য গণঅনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

    পরে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন বলেন, আমাদের চতুর্থ দাবি ছিল আমাদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। হামলার ঘটনায় পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার বিকাল ৩টায় গণঅনশনের বসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ওইদিন সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেন তারা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। ওইদিন রাতেই তিনি দাবি না মানলে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এদিকে তিনদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বর্তমান চার দফা দাবি ছিল-

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা,
    • জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন,
    • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন
    • ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • জবি শিক্ষার্থীদের তিনদফা দাবি মেনে নিল সরকার

    জবি শিক্ষার্থীদের তিনদফা দাবি মেনে নিল সরকার

    তিনদিন থেকে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধা সাড়ে ৭টায় কাকরাইলের অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে এই ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন বাজেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত অস্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

    পরে অনশনকারী শিক্ষার্থীদের পানি পান করানো হয়।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএম ফায়েজ আহমেদ ও অন্যরা।

    এদিকে রাত ৮টায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে জবির শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ব্রিফিং করবে বলে জানিয়েছে।

  • উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে তাকে আট করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় অভিভাবকের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

    বোতল ছুড়ে মারা ওই যুবকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    তবে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে কী তথ্য পাওয়া গেছে কিংবা শিক্ষার্থী কেন তথ্য উপদেষ্টার দিকে বোতল ছুড়ে মেরেছেন—সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    ডিএমপির মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “তথ্য উপদেষ্টার দিকে পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় একজনকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাকে তার অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

    উল্লেখ্য, গত ১৪ মে রাতে কাকরাইল মসজিদের সামনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ তার দিকে একটি প্লাস্টিকের পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দেয়। তবে এতে উপদেষ্টা গুরুতর আহত হননি।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বোতল নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে এক তরুণ ভিড়ের মধ্যে মিশে যান। তার মুখ আংশিক দৃশ্যমান ছিল। পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

  • গণঅনশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    গণঅনশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    তৃতীয় দিনের মতো চার দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখের কাকরাইল মোড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইঁয়া। তিনি বলেন, আমরা যখন ক্যাম্পাস থেকে এসেছি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে ফিরবো না। এই মুহূর্ত থেকে আমাদের গণঅনশন শুরু হলো।

    এর আগে বিকাল ৩টায় সমাবেশে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে গণঅনশনের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে আমাদের আর পেছনে ফেরার জায়গা নেই। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটায় অনশন কর্মসূচি শুরু করব। বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরছি না।

    এর আগে শুক্রবার সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    ‘ইউজিসির কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ ‘আমার ভাই আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’ ‘আমার বোন আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’, ‘১, ২, ৩, ৪ ক্যাম্পাস আমার অধিকার, ‘বৈষম্যের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ক্ষমতা না জনতা জনতা, জনতা জনতা’।

    এছাড়া ‘তুমি কে, আমি কে? জবিয়ান জবিয়ান’, সিন্ডিকেটের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, তবু মোদের হল দে’, ‘আইসা পড়ছি যমুনা, খালি হাতে যামু না’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। ওইদিন রাতেই তিনি দাবি না মানলে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এদিকে তিনদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বর্তমান চার দফা দাবি হলো-

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা,
    • জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন,
    • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।
    • ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল ছোঁড়া সেই জবি ছাত্র আটক, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ

    উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল ছোঁড়া সেই জবি ছাত্র আটক, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনের মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে উদ্দেশ্য করে ভরা পানির বোতল ছুড়ে মারা সেই যুবককে আটক করেছে ডিবি পু্লিশ। বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ তালিবুর রহমান।

    তিনি জানিয়েছেন, ‘এ ঘটনায় একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

    এর আগে বুধবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কিছু সময় পর হঠাৎই একটি ভরা পানির বোতল উড়ে এসে তার মাথায় পড়ে। এরপর কথা শেষ না করেই চলে যান মাহফুজ।

    জানা গেছে, বোতল ছুড়ে মারা ওই যুবকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    যদিও এ ঘটনায় ওই যুবকের দাবি, তিনি মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে বোতল ছুড়ে মারেননি। আন্দোলনের তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় বোতলটি তিনি উপরের দিকে মেরেছিলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে সেটি উপদেষ্টার মাথায় গিয়ে পড়ে।

  • সকালে জবিয়ান সমাবেশ, জুম্মার পর গণঅনশন

    সকালে জবিয়ান সমাবেশ, জুম্মার পর গণঅনশন

    শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আজ শুক্রবার জুম্মার নামজের পর থেকে গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাত ১২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন এ ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাকরাইল মোড়েই অবস্থান করবেন শিক্ষার্থীরা।

    অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের নিকট আমাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মেরেছে কিন্তু আমাদের অধিকারের বিষয়ে কোন কর্নপাত করেনি। এমনকি ৩৫ ঘন্টা পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন। সরকার থেকে কোন বার্তা আসেনি।

    তিনি বলেন, দাবি আদায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাল (আজ শুক্রবার) জুম্মার পরে গণঅনশন শুরু করবে। এতে সকল সাবেক ও বর্তমান জবিয়ানদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন স্থলে শুরু হবে জবিয়ান সমাবেশ শুরু হবে।

    একই সাথে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে পুলিশ কতৃক শিক্ষক শিক্ষার্থী, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

    তিনি বলেন, এই রাজ পথেই আমরা কাল জুম্মার নামাজ আদায় করবো। আমি সকল সাবেক বর্তমান জবিয়ানদের আহ্বান জানাই এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

    এর আগে গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে। ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    তিনি বলেন, আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা কারও বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি এবং কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরবো না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন চলবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা-পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরবো।

    শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।

  • জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণে রেজিস্ট্রারের জবাবদিহিতার দাবি জানান তারা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহিদ মিনারের পাদদেশ থেকে মিছিল নিয়ে কাঁঠালতলা ও সাইন্স ফ্যাকাল্টি ঘুরে ভিসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় ভিসি ভবনের সামনে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দীনের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্বিবদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিক্ষোভ মিছিলে ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো, রেজিস্ট্রারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে; ওয়ান টু থ্রি ফোর, রেজিস্ট্রার নো মোর; এক দুই তিন চার রেজিস্ট্রার তুই গদি ছাড়; কুয়েট থেকে শিক্ষা নে, রেজিস্ট্রার তুই গদি ছাইড়া দে; দফা এক দাবি এক, রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ- ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

    বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, আপনারা জানেন, ৫ আগস্ট হয়েছিল স্বৈরাচারী মনোভাব ও শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু এর পরেও ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্টের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমার মনে হয়, হাসিনা দিল্লি থেকে তাদের মদদ দিচ্ছে। তাদেরই একজন এই রেজিস্ট্রার গিয়াস, তার দপ্তরে গেলে তিনি বলেন, বের হয়ে যাও। বদমেজাজি এ ধরনের লোক আমরা প্রসাশনে চাই না।

    সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব বলেন, ক্যাম্পাসে একের পর এক চুরির ঘটনায় প্রসাশনের পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে রেজিস্ট্রারেরর কাছে দায়িত্বহীন বক্তব্য পাই। শিক্ষার্থীদের নিরপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নাকি তার নয়। রেজিস্টরের এই ঘৃণিত বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে হবে। তাকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা এর জবাবদিহিতা চাই।

    ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, অযোগ্য লোককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখায় দেশের উন্নতি হয় না। প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে, কেন একজন একাডেমিশিয়ানকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে? রেজিস্ট্রার, আপনি সাবধান হয়ে যান, ক্ষমতার হাতই যদি চূড়ান্ত হয় তবে শিক্ষার্থীরা আপনাকে রুখে দিবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি চাই, অন্যথায় কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনের। যে শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন, আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

  • জবির ৩ বিভাগে ভর্তির ব্যবহারিক পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

    জবির ৩ বিভাগে ভর্তির ব্যবহারিক পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে সংগীত, নাট্যকলা ও ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার ‌‌‘ফি’ জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    এই তিন বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ২০ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পরীক্ষার ‘ফি’ অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত পৃথক দুইটি বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়েছে।

    ‘বি’ ইউনিটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বি-ইউনিটের (কলা ও আইন অনুষদ) স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২০ থেকে ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে ফি জমা দিতে হবে। ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইট। ব্যবহারিক পরীক্ষায় নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের ফি ৪০০ টাকা।

    ‘ডি’ ইউনিটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সানজিদা ফারহানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ডি-ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ২০ থেকে ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে ফি জমা দিতে হবে। ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইট। এই বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ৪০০ টাকা।

    ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ‘বি’ ইউনিটের তিনটি পালায় মোট আসনসংখ্যা ৭৮৫টি। প্রথম পালায় মোট আসন ২৯৪টি। এতে মানবিকে ১৯৯, বাণিজ্যে ৩৫ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৬০টি আসন। দ্বিতীয় পালায় মোট আসন ২৯২টি। এর মধ্যে মানবিকে ১৯৯, বিজ্ঞানে ৫৮ এবং বাণিজ্য বিভাগের জন্য ৩৫টি আসন। তৃতীয় পালায় মোট আসন ১৯৯টি। এতে মানবিকে ১৩৬, বিজ্ঞানে ৩৯ এবং বাণিজ্য বিভাগের জন্য ২৪টি আসন।

    ‘ডি’ ইউনিটের দুইটি পালায় মোট আসনসংখ্যা ৫৯০টি। প্রথম পালায় মোট আসন ২৯৪টি। এর মধ্যে মানবিকে ১৯২, বাণিজ্যে ৩৩ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৬৯টি আসন। দ্বিতীয় পালায় মোট আসন ২৯৬টি। এর মধ্যে মানবিকে ১৯৩, বাণিজ্যে ৩২ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য থাকবে ৭১ আসন।

  • জকসুর খসড়া নীতিমালা অনুমোদনের ৩ মাস পরও চূড়ান্ত হয়নি

    জকসুর খসড়া নীতিমালা অনুমোদনের ৩ মাস পরও চূড়ান্ত হয়নি

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয় গত ২ জানুয়ারি। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করার কথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। কিন্তু নীতিমালা অনুমোদনের তিন মাস পর এখন বলা হচ্ছে, জকসু নীতিমালার খসড়াটি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।

    সিন্ডিকেটে খসড়া নীতিমালা গৃহীত হওয়ার তিন মাস পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না দেখে গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) ছাত্র প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎ শেষে ছাত্র প্রতিনিধিরা বলেন, জকসু নীতিমালার যে খসড়া, তা এখনো সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়নি। খসড়াটি প্রস্তুত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা ইউজিসির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া অধ্যাদেশে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এই শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ ’-এ ছাত্র সংসদের বিষয়টি যুক্ত ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ১৯ বছরেও ছাত্র সংসদ বিধান যুক্ত করা হয়নি। এ কারণে নির্বাচনও হয়নি। যদিও ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটি গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়ন করে জমা দিলেও সিন্ডিকেটে তা পাস হয়নি।

    গত ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জকসু নির্বাচনের জোরালো দাবি তোলেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রইস উদদীনকে আহ্বায়ক করে জকসুর নীতিমালা প্রণয়নে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি একটি খসড়া নীতিমালা জমা দেয়। পরে ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম সিন্ডিকেটে খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়।

    একই সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সাবিনা শরমীনকে আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে আছেন বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রইস উদদীন, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ বিলাল হোসাইন ও আইন কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দাস।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জকসু নীতিমালা ইংরেজিতে করায় একটু জটিলতা দেখা দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে এখন তা বাংলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তুতকৃত নীতিমালা জকসু নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা যাচাই-বাছাই করবেন। এরপর শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ক্রিয়াশীল সংগঠনের নেতৃত্বের পরামর্শক্রমে (সংযোজন-বিয়োজন) তা চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্ত নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে পাস হলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

    জকসু নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক সাবিনা শরমীন বলেন, নীতিমালাটি বাংলায় তৈরির কাজ চলছে। প্রথম ধাপে কিছু পরিমার্জন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপেও নতুন কিছু বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। এ সংশোধনী চলতি সপ্তাহে জমা দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, গত ২ জানুয়ারি সিন্ডিকেটের যে নীতিমালা পাস হয়েছিল, সেটি প্রাথমিক ছিল। সেখানে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যাতে কিছু বাদ না পড়ে। যেহেতু প্রথমবার নীতিমালা তৈরি হচ্ছে, তাই নীতিমালাটি শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আরও পরিমার্জন, সংশোধন হয়েছে। বলা যায়, চূড়ান্ত নীতিমালা সর্বশেষ পর্যায়ে আছে। চূড়ান্ত নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইন আকারে পাস হলে, নির্বাচনের বিষয়ে জানানো হবে।


    সূত্র : প্রথম আলো

  • জবি ভর্তিতে সাবজেক্ট চয়েস শুরু ৮ এপ্রিল

    জবি ভর্তিতে সাবজেক্ট চয়েস শুরু ৮ এপ্রিল

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য সাবজেক্ট চয়েস (বিষয় নির্বাচন) প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি।

    বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া জানান, ‘৮ এপ্রিল থেকে সাবজেক্ট চয়েস কার্যক্রম শুরু হবে এবং এটি চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।’

    কলা ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের পছন্দের বিষয় নির্বাচন করতে পারবে। এ সংক্রান্ত নোটিশ ইতোমধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।’

    সাবজেক্ট চয়েসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (https://admission.jnu.ac.bd) গিয়ে লগইন করতে হবে। পরে নিজের ভর্তি পরীক্ষার রোল ও পিন নম্বর দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পছন্দের বিষয়গুলো তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন করে সাবমিট করতে হবে।

    উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ (এ ইউনিট), কলা ও আইন অনুষদ (বি ইউনিট), বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ (সি ইউনিট) এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ (ডি ইউনিট) এর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।