Tag: ফিলিস্তিন

  • ‘মার্চ ফর গাজা’ ঘোষণাপত্রে কী আছে

    ‘মার্চ ফর গাজা’ ঘোষণাপত্রে কী আছে

    ঘোষণাপত্র পাঠ এবং মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মার্চ ফর গাজা’। ফিলিস্তানের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং গাজায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল নিয়ে এসে যোগ দেন লাখ লাখ জনতা। গণজমায়েতে সবার পক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট এই গণজমায়েতের আয়োজন করে।

    ঘোষণাপত্রে বলা হয়, আজ আমরা, বাংলাদেশের জনতা—যারা জুলুমের ইতিহাস জানি, প্রতিবাদের চেতনা ধারণ করি—সমবেত হয়েছি গাজার মৃত্যুভয়হীন জনগণের পাশে দাঁড়াতে। আজকের এই সমাবেশ কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি ইতিহাসের সামনে দেওয়া আমাদের জবাব, একটি অঙ্গীকার, একটি শপথ।


    এই পদযাত্রা ও গণজমায়েত থেকে আজ আমরা চারটি স্তরে আমাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করবো-

    আমাদের প্রথম দাবিগুলো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি। যেহেতু—জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব জাতির অধিকার রক্ষার, দখলদারত্ব ও গণহত্যা রোধের সংকল্প প্রকাশ করে এবং—আমরা দেখেছি, গজায় প্রতিদিন যে রক্তপাত, যে ধ্বংস চলছে, তা কোনও একক সরকারের ব্যর্থতা নয়—বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার ফল এবং এই ব্যর্থতা শুধু নীরবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং পশ্চিমা শক্তি বলয়ের অনেক রাষ্ট্র সরাসরি দখলদার ইসরায়েলকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে এই গণহত্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে এবং এই বিশ্বব্যবস্থা দখলদার ইসরায়েলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং রক্ষা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সেহেতু আমরা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো দাবি জানাচ্ছি-

    ১. জায়নবাদী ইসরায়েলের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিশ্চিত করতে হবে।

    ২. যুদ্ধবিরতি নয়, গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ৩. ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।

    ৪. পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ৫. ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।

    ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এই মুহূর্তে বিশ্বব্যবস্থা যে ন্যায়ের মুখোশ পরে আছে, গাজার ধ্বংসস্তূপে সেই মুখোশ খসে পড়েছে।

    এতে দ্বিতীয় দাবি করা হয় মুসলিম উম্মাহের নেতাদের প্রতি। বলা হয়, যেহেতু—আমরা বিশ্বাস করি, ফিলিস্তিন কেবল একটি ভূখণ্ড নয়—এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয়ের অংশ এবং গাজা এখন কেবল একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত শহর নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি এবং উম্মাহর প্রতিটি সদস্য, প্রতিটি রাষ্ট্র ও প্রতিটি নেতৃত্বের ওপর অর্পিত সেই আমানত—যা আল্লাহ প্রদত্ত ভ্রাতৃত্ব ও দায়িত্বের সূত্রে আবদ্ধ এবং ইসরায়েল একটি অবৈধ, দখলদার, গণহত্যাকারী রাষ্ট্র, যা মুসলিমদের প্রথম কিবলা ও একটি পুরো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদ আজ এই অঞ্চলে জায়নবাদী প্রকল্পের প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত দমন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতে সম্প্রতি ওয়াকফ সম্পত্তি আইনে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, যা উম্মাহর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সেহেতু, আমরা মুসলিম বিশ্বের সরকার ও ওআইসি’র মতো মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর কাছে দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই –

    ১. ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সব সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করতে হবে।

    ২. জায়নবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

    ৩. গাজার মজলুম জনগণের পাশে চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

    ৪. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে এক ঘরে করতে সক্রিয় কূটনৈতিক অভিযান শুরু করতে হবে।

    ৫. জায়নবাদের দোসর ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসনের অধীনে মুসলিমদের অধিকার হরণ, বিশেষ করে ওয়াকফ আইনে হস্তক্ষেপের মতো রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওআইসি ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে দৃঢ় প্রতিবাদ ও কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।

    নেতারা বলেন, গাজার রক্ত প্রবাহে আমরা লজ্জিত হওয়ার আগেই, গাজার পাশে দাঁড়ানোই উম্মাহর জন্য সম্মানের একমাত্র পথ। এবং যে নেতৃত্ব আজ নীরব, কাল ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

    এতে বলা হয়, আমাদের তৃতীয় দাবিগুলো বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। যেহেতু, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, যার স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তিতেই নিহিত রয়েছে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা। আমরা বিশ্বাস করি, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে বাংলাদেশ কেবল মানবতার নয়, ঈমানের পক্ষেও এক ঐতিহাসিক অবস্থানে আছে। এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের দায়িত্ব, জনগণের ঈমানি ও নৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা। বাংলাদেশের জনগণ গাজার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে, তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীরবতা এই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি অবজ্ঞার সামিল। সেহেতু, আমরা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই

    ১. বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘Except Israel’ শর্ত পুনর্বহাল করতে হবে এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে।

    ২. সরকারের ইসরায়েলি যত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছেম, তা বাতিল করতে হবে।

    ৩. রাষ্ট্রীয়ভাবে গাজায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৪. সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং আমদানি নীতিতে জায়নবাদী কোম্পানির পণ্য বর্জনের নির্দেশনা দিতে হবে।

    ৫. জায়নবাদের দোসর ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে, যেহেতু হিন্দুত্ববাদ আজ শুধু একটি স্থানীয় মতবাদ নয় বরং আন্তর্জাতিক জায়নিস্ট ব্লকের অন্যতম দোসর।

    ৬। পাঠ্যবই ও শিক্ষা নীতিতে আল-আকসা, ফিলিস্তিন এবং মুসলিমদের সংগ্রামী ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    যাতে ভবিষ্যৎ মুসলিম প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় নিয়ে গড়ে ওঠে। কারণ, রাষ্ট্র কেবল সীমানা নয়, রাষ্ট্র এক আমানত। আর এই আমানত রক্ষা করতে না পারলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে না।

    আমাদের সর্বশেষ দাবিগুলো নিজেদের প্রতি যা মূলত একটি অঙ্গীকারনামা

    যেহেতু, আমরা বিশ্বাস করি, আল-কুদস কেবল একটি শহর নয়, এটি ঈমানের অংশ এবং আমরা জানি বাইতুল মাকদিসের মুক্তি অন্য কারও হাতে নয়, আমাদেরই কোনও প্রজন্মের হাতে তা লেখা হবে। আমরা বুঝি, জায়নবাদের প্রতিষ্ঠা মূলত আমাদের নিজেদের আত্মবিস্মৃতির ফল এবং আজ যদি আমরা প্রস্তুত না হই, তাহলে আল্লাহ না করুন কাল আমাদের সন্তানেরা হয়তো এমন এক বাংলাদেশ পাবে যেখানে হিন্দুত্ববাদ ও জায়নবাদ একত্রে নতুন গাজা তৈরি করবে। গাজা আমাদের জন্য এক আয়না—যেখানে আমরা দেখতে পাই, কীভাবে বিশ্বাসী হওয়া মানে কেবল বেঁচে থাকা নয়, সংগ্রামে দৃঢ় থাকা। সেহেতু আমরা এই মাটির মানুষ, এই মুসলিম ভূখণ্ডের নাগরিক, এই কওমের সন্তান এবং সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর সদস্য-একটি অঙ্গীকার করছি:

    ১. আমরা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বয়কট করবো সেই পণ্য, কোম্পানি ও শক্তিকে যারা ইসরায়েলের দখলদারত্বকে টিকিয়ে রাখে।

    ২. আমরা আমাদের সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করবো, যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সব প্রতীক ও নিদর্শনকে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করবে, ইনশাআল্লাহ।

    ৩. আমরা আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলবো, যারা নিজেদের আদর্শ ও ভূখণ্ড রক্ষায় জান ও মালের সর্বোচ্চ ত্যাগে প্রস্তুত থাকবে।

    ৪. আমরা বিভাজিত হবো না। কারণ আমরা জানি, বিভক্ত জনগণকে দখল করতে দেরি হয় না।

  • মার্চ ফর গাজা : মিছিলে মিছিলে সোহরাওয়ার্দীতে আসছেন মানুষ

    মার্চ ফর গাজা : মিছিলে মিছিলে সোহরাওয়ার্দীতে আসছেন মানুষ

    ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধের দাবি এবং নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হবে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি।

    বিকেল ৩টায় এই গণজামায়াতে শুরু কথা থাকলেও সকাল থেকেই উদ্যানের চারদিকের প্রবেশপথ দিঢে ছোট-বড় মিছিলে মিছিলে আসতে শুরু করেছে মানুষ।

    বেলা পৌনে ১২টায় লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা। বিকেলে এই জনসমাগমের ভিড়ে উদ্যানে তিল ধারনের ঠাঁই মিলবে না বলে ধারণা অনেকের।

    সরেজমিনে দেখা, সমাবেশে আসা প্রায় প্রত্যেকের হাতে রয়েছে দেশের পতাকা ও ফিলিস্তিনের পতাকা। সবার লক্ষ্য  সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সেখানেই গাজার নিরস্ত্র জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ, বিশ্বজনমত গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার হওয়াই লক্ষ্য সবার।

    আয়োজকরা জানান, ফিলিস্তিনের পক্ষে ঢাকায় এটিই হবে সবচেয়ে বড় জমায়েত। তারা দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুহাম্মাদ আবদুল মালেক এই জমায়েতে সভাপতিত্ব করবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।

    প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্টের গণমাধ্যম সমন্বয়ক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, শনিবার দুপুর দুইটায় পাঁচটি পয়েন্ট থেকে মার্চ শুরু করে তিনটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণজমায়েত হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল মোড়, জিরো পয়েন্ট, বকশিবাজার মোড় ও নীলক্ষেত মোড় থেকে মিছিল উদ্যানে ঢুকবে।

    তবে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। শাহবাগ থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এই ‘মার্চ’ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুপুর তিনটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণজমায়েত করা হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে যাত্রা করা হবে না।

    এদিকে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, রাাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে ভিডিও বার্তা দিছেন। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, আপ বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ মহিউদ্দিন, ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম আবরার, দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম, বুয়েটের প্রভাষক ও জনপ্রিয় ইউটিউবার এনায়েত চৌধুরী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোক্তার আহমেদ, ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ইসলামি বক্তা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ঝালকাঠি নেছারাবাদ দরবার শরিফের পীর ছাহেব আল্লামা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, উপস্থাপক আরজে কিবরিয়া, উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান সোহাগ, অভিনেতা তামিম মৃধা, টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিকের ভিডিও বার্তাও দেখা গেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক কায়েম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ প্রমুখ।

  • স্বাধীনতা কনসার্ট স্থগিত

    স্বাধীনতা কনসার্ট স্থগিত

    ফিলিস্তিনে নির্যাতিত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় পূর্বনির্ধারিত ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’ সাময়িক স্থগিত করেছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’।

    মঙ্গলবার (৮এপ্রিল) সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক বিবৃতিতে কনসার্টটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানান।

    জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) সার্বজনীনভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ১১ রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পাশাপাশি একইদিনে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় আলাদা আলাদা ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি একদিন পিছিয়ে ১২ এপ্রিল নেওয়া হয়। অবশেষে সেই তারিখেও কনসার্টটি হচ্ছে না।

    এই আয়োজনে, ঢাকার কনসার্টে গাইবার কথা ছিলো যেসব শিল্পীরা তারা হচ্ছেন— জেমস্, ফিড ব্যাক, শিরোনামহীন, পাওয়ার সার্চ, অ্যাফিক, আফটার ম্যাথ, প্রিতম, জেফার, পড়শী, ফেরদৌস ওয়াহিদ, মিলা, আগুন, হায়দার হোসেন, অনিমেষ রায়, সোহান আলী, আবরার শাহরিয়ার, মাহতিম সাকিব, সেলিম চৌধুরী, আলেয়া বেগম ও মিফতা জামান।

    চট্টগ্রাম ভেন্যুতে— মাইলস, সোলস, আর্ক, লালন, অ্যাশেজ, সাবকন্সাস, বে অব বেঙ্গল, তীরন্দাজ, মেট্রিক্যাল, কিরণ দাস, নাটাই, এমরান, কোনাল, চিশতি বাউল, তাসনিম আনিকা, সালমা, রায়হান, শুভ্র, মৌসুমী, ইথুন বাবু এবং ঋতুরাজ।

    বগুড়ার কনসার্টে আর্টসেল, অ্যাভয়েড রাফা, ডিফরেন্ট টাচ, মিজান, এমএনবি, ভাইকিংস, বাগধারা, হৃদয় খান, বেবী নাজনীন, খুরশীদ আলম, কনকচাঁপা, আলম আরা মিনু, কমিয়া, ইয়ামিক, লুইপা, কেজেড রাব্বী, মুত্তাকী হাসিব, রাজীব ও মাহিন।

    খুলনা কনসার্টে— ওয়ারফেইজ, আর্বোভাইরাস, সোনার বাংলা সার্কাস, কার্নিভাল, বাংলা ফাইভ, কুঁড়ে ঘর, বিবর্তন, আসিফ আকবর, বালাম, তাহসান খান, মুনির খান, কণা, নাসির, জয় শাহরিয়ার, টুনটুন বাবুল, রুখসার রহমান, লিজা ও পলাশ।

    এর পাশাপাশি এসব কনসার্টে আঞ্চলিক গান, কবিতাপাঠ, কৌতুক পরিবেশনের পরিকল্পনাও ছিলো বলে জানান শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

  • ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

    ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

    গাজায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি জনগণের উপর অব্যাহত গণহত্যা পরিচালনা ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবনের সম্মুখস্থ চত্বরে সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অংশগ্রহণে কালো ব্যাজ ধারণ এবং শান্তিপূর্ণ মৌন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    কর্মসূচির নেতৃত্ব প্রদান করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

    এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত), রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন ।

  • গাজায় গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

    গাজায় গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

    অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত গণহত্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

    সোমবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মাসে একতরফা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

    এতে বলা হয়েছে, নতুন করে এই সহিংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি গুরুতর অবজ্ঞার প্রতিফলন।

    বাংলাদেশ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত নির্বিচার বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যা মানবিক দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং অসহায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব সামরিক অভিযান বন্ধ করার, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং গাজার অবরুদ্ধ জনগণের কাছে মানবিক সহায়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দিতে জরুরি ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

    ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ে এর নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের প্রতি তার অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত বরাবর একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

    বাংলাদেশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য আলোচনার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সহিংসতা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে কূটনীতি এবং সংলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানায়।

    আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের প্রস্তাব, শান্তি, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য ফিলিস্তিনিদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি সমস্যার দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের দিকে কাজ করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশ তার আহ্বানে অবিচল এবং দ্ব্যর্থহীন থাকবে।

  • ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক তাহমিনা বরখাস্ত

    ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক তাহমিনা বরখাস্ত

    সমালোচনার মুখে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সেই শিক্ষক তাহমিনা রহমানকে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ক্লাস বর্জন করলে শিক্ষার্থীদের ডাবল অ্যাবসেন্ট দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

    সোমবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র এবং এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাহমিনা রহমানকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে।

    তাহমিনা রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টির জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।

    সূত্র জানায়, ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলের চলমান নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং মজলুম ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    এ কর্মসূচি পালন করতে সোমবার ক্লাস না করার সিদ্ধান্ত নেন ড্যাফোডিলের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জানার পর প্রভাষক তাহমিনা শিক্ষার্থীদের গ্রুপে জানান, ক্লাসে না আসলে ডাবল অ্যাবসেন্ট দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত একটি কথপোকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    যদিও তাহমিনা রহমান রোববার দিনগত মধ্যরাতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করলো।

  • সারাদেশে চলছে ‘নো ওয়ার্ক নো ক্লাস’ কর্মসূচি

    সারাদেশে চলছে ‘নো ওয়ার্ক নো ক্লাস’ কর্মসূচি

    ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক নো ক্লাস’ কর্মসূচি চলছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

    পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে আজ সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে জড়ো হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    ঢাকায় বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর জায়গায় কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামনে কর্মসূচি পালন করছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাড্ডায় নো ওয়ার্ক-নো ক্লাস কর্মসূচি পালন করছে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    বক্তারা বলেন, দ্রুত ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করা হোক। আর যুদ্ধ বন্ধে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

    সিলেটে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

    ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে একই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

    এর আগে রোববার (৬ এপ্রিল) রাতেই ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নোটিশ গাজার পক্ষে দিয়ে সংহতি জানিয়েছে।

    ঢাকায় বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

    ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিশ্বব্যাপী ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষকরা নো ওয়ার্ক কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

    সংহতি প্রকাশ করে আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নো ওয়ার্ক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এর আগে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত গণহত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

  • গাজায় গণহত্যা বন্ধে সোমবার সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’

    গাজায় গণহত্যা বন্ধে সোমবার সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’

    ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনে চলমান নিষ্ঠুর হামলার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে এবং অবৈধভাবে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রনেতারা। তারা আগামীকাল সোমবার ফিলিস্তিনি যুবকের আয়োজিত ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি সফল করার জন্য অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি, সারা দেশে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একযোগে সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের ডাকও দেওয়া হয়েছে।

    রোববার দুপুরে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনের দুই সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এ বি জোবায়ের এ কর্মসূচি সফল করতে প্রতিটি বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান। পরে এ কর্মসূচি সফলের আহ্বান জানিয়ে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন ঢাবি ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম। পরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও এ কর্মসূচি সফলের আহ্বান জানানো হয়।

    কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘MARCH For Palestine’ এর আহ্বানে সংহতি এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

    ফেসবুক পোস্টে ছাত্রনেতা এবি জোবায়ের বলেন, আগামীকাল (সোমবার) বিশ্বব্যাপী হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছে আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা। গণহত্যা বন্ধ করার দাবিতে বিশ্বের সব দেশে একযোগে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, অফিস, আদালত সব বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আগামীকাল ৭ এপ্রিল সারাদিন বাংলাদেশেও জেনারেল স্ট্রাইক পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আগামীকাল আপনারা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ রাখুন। ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করুন। চলুন বৈশ্বিকভাবে একযোগে দাবি জানাই, ফ্রি ফ্রি ফিলিস্তিন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ইয়া গাযযাহ! তোমাদের শাহাদাত ও লড়াইয়ের প্রতি আমাদের সংহতি। বি-ইযনিল্লাহ, অচিরেই আমরা তোমাদের লড়াইয়ে শামিল হবো। গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হোন। আগামীকাল সোমবার, ৭ এপ্রিল ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’- এই কর্মসূচি সফল করুন।

    এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, ‘MARCH For Palestine’ এর আহ্বানে আগামীকাল ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে সংহতি সমাবেশ করার আহ্বান। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বিকাল ৪টায় সংহতি এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে আগামীকাল সারা বিশ্বব্যাপী হরতাল পালন করা হবে। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান রইল।