Tag: বিসিবি

  • বিসিবিতে দুদকের অভিযান, মিলল যেসব অনিয়ম

    বিসিবিতে দুদকের অভিযান, মিলল যেসব অনিয়ম

    বিপিএলের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) অভিযান চালিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই ঘটনার এক মাস পর আবারও বিসিবিতে গেলো দুদক।

    শনিবার (১৭ মে) দুপুর ১টার দিকে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে দুদক। এবারে বিসিবিতে চার সদস্যের দুদকের দল আসে। এবারের অভিযোগ ছিল নতুন গঠনতন্ত্র, তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের বাছাইপর্ব এবং আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তৃতীয় বিভাগ লিগের বাছাইয়ে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুদক।

    গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে প্রক্রিয়া মেনে বিসিবি চলার কথা সেখানেও অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক। তবে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাচ্ছে না দুদক। বিসিবির সকল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তদন্ত করা হবে জানিয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ।

    প্রাথমিক তদন্ত শেষে দুদক সহ-পরিচালক রাজু বলেন, ‘অভিযানের বিষয় ছিল তৃতীয় বিভাগের বাছাইপ্রক্রিয়া, নতুন গঠনতন্ত্র এবং অন্যান্য বিভিন্ন আর্থিক অভিযোগ নিয়ে আমরা এখানে আসছি। সেই অভিযোগের আলোকে আমরা নথিপত্র সংগ্রহ করে সকাল থেকে সেগুলো পর্যালোচনা করলাম। আমরা সবার সঙ্গে কথা বললাম। আমরা সব কাজ এখনও শেষ করতে পারিনি। কিছু কাজ এখনও বাকি আছে।’

    তদন্তের প্রাথমিক অবস্থায় কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের যে বাছাই প্রক্রিয়া সেটা একসময় ছিল বেশ সহজ প্রক্রিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২২ সালের পর কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, সেখানে ২-৩টার বেশি দল অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে এটা অনেক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে যাচ্ছে। তাতে আমাদের জাতীয় দলের জন্য ভালো খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইনটা খুবই সীমিত হয়ে যায়। এই বিষয়টাকেই আমরা ফোকাস করেছি।’

    তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের বাছাই নিয়ে দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেখেছি এখানে এমন কিছু শর্তাদি দেয়া হয় যেটা আমাদের দেশের ক্লাবগুলোর জন্য…..আমাদের দেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসে তাদেরকে সহযোগিতা করার যে পথ সেগুলো রুদ্ধ করা হয়েছে।’

    বিসিবির গঠনতন্ত্রে অনিয়ম প্রসঙ্গে দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিসিবি যে গঠিত হয়েছে, এটা একটা গঠনতন্ত্রের আলোকে পরিচালিত হয় সেই গঠনতন্ত্র কতটা বৈধ এবং সিদ্ধ সেটা আমরা পর্যালোচনা করেছি। আমাদের কাছে অভিযোগ আছে গঠনতন্ত্রে৷ কিছু অসঙ্গতি আছে। এখানে গঠনতন্ত্র নিয়ে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেখানে আদালতের একটা রায় ছিল। সেই রায় অনুযায়ী গঠনতন্ত্র সংশোধিত হয়ে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে। গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা শেষে আমরা একটা বিষয় খেয়াল করেছি, একটা অর্গানাইজড উপায়ে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল বিসিবি। কিন্তু এই জায়গাতে আমরা অসঙ্গতি পেয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সঠিক চাকরি বিধিমালা নেই। একটা প্রতিষ্ঠান যেভাবে সুগঠিত থাকার কথা সেটা এখানে নেই। এই বিষয়টা আমরা আরো পর্যালোচনা করতে চাই। এটা নিয়ে আদতে কোনো কাজ করা হয়েছে কিনা ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা কী, বিগত সময়ে কেন এটা ঠিক করা হয়নি সেই বিষয়গুলো আমরা খুঁজে বের করব। এগুলোর আলোকে আমরা একটা রিপোর্ট করব। সেই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

  • রেকর্ড গড়া জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

    রেকর্ড গড়া জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

    নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে রেকর্ড গড়া জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের লাহোরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭১ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

    টার্গেট তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ২৮ ওভার ৫ বলে ৯৩ রানেই অলআউট হয় থাইল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। ১৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।

    এর আগে আইরিশ নারীদের বিপক্ষে ১৫৪ রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের।

    আজ লাহোরের সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি। ইশমা তানজিম বিদায় নেন দুই অঙ্কে পা রাখার আগেই।

    তবে ফারজানা হকের সঙ্গে শারমিনের ১০৪ রানের জুটি সে ধাক্কাটা সামাল দেয় বাংলাদেশ। ৮২ বলে ৫৩ রান করে ফেরেন ফারজানা।

    বাংলাদেশ এরপর আর হোঁচট খায়নি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৮ বলে ১৫২ রান যোগ করেন নিগার সুলতানা ও শারমিন। তাতেই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

    ইনিংসের শেষ বলে আউট হন নিগার সুলতানা, তার ঠিক আগে ৮০ বলে ১৫টি চার আর এক ছক্কার সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৭৯ বলে সেঞ্চুরি করে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।

    নিগার সুলতানা জ্যোতির সেঞ্চুরির দিনে ১২৬ বলে ১১টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন শারমিন আক্তার।

    এর আগে বাংলাদেশের দলীয় সবচেয়ে বড় স্কোর ছিল ২৫২ রানের। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ।

    আজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২৮ ওভার বলে ৫ দলীয় ৯৩ রানে অলআউট হয় থাইল্যান্ডের নারী ক্রিকেটাররা। পাঁচটি করে উইকেট শিকার করেছেন ফাহিমা খাতুন ও জান্নাতুলি ফেরদৌস।