Tag: মাদরাসা

  • মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক-কর্মচারীদের যাতায়াতে কড়াকড়ি

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক-কর্মচারীদের যাতায়াতে কড়াকড়ি

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অযথা অধিদপ্তরে যাতায়াতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কাজের অজুহাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা অধিদপ্তরে নিয়মিত আসায় শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের আবেদন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে বা ডকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল মান্নানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীরা অধিদপ্তরে নিয়মিত আসছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্তকরণ, এমপিওভুক্ত মাদরাসায় বিশেষ বরাদ্দ, উচ্চতর স্কেল দেওয়া, পদোন্নতি, মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মনোনয়ন, এমপিও শিটে নাম, পদবি ও বিষয় সংশোধন, জন্ম তারিখ সংশোধন, বকেয়া দেওয়া, প্রশিক্ষণে মনোনয়ন, ইনডেক্স দেওয়া বা কর্তনসহ যেকোনো কাজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে অনলাইনে বা সরাসরি ডকেটে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই অন্য ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া, প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিদপ্তরে আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ছুটি বা অনুমতিপত্র সঙ্গে আনতে হবে। শাখা কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

    নির্দেশনায় বলা হয়, উল্লিখিত বিধি লঙ্ঘন করলে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১৮.১ (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • এমপিও জালিয়াতি : ৫ মাদরাসা প্রধানকে শোকজ, বন্ধ হতে পারে বেতন

    এমপিও জালিয়াতি : ৫ মাদরাসা প্রধানকে শোকজ, বন্ধ হতে পারে বেতন

    নতুন এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) আবেদন প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগে দেশের পাঁচটি মাদরাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অভিযোগে বলা হয়েছে, যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানরা একাধিকবার এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয়ও নিয়েছেন।

    সোমবার (২৭ মে) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. শরিফুল ইসলামের সই করা পৃথক নোটিশে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    নোটিশে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার চকশালাইপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত গোবিন্দ চন্দ্র সরকারের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর ও ২০২৫ সালের মে মাসে দুইবার নতুন এমপিও আবেদন করেছেন। অথচ নীতিমালার স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, অযোগ্য ব্যক্তির এমপিও আবেদন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    অন্যদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার আউলিয়ারহাট কাজী নিজামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদের পরীক্ষায় ডিজি প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নিয়োগের ফল ডিজির স্বাক্ষর জাল করে এমপিও আবেদন করেছেন। এতেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে মাদরাসা অধিদপ্তর।

    এছাড়া রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোফরান আলী ওয়াহেদীও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ছয়বার নতুন এমপিও আবেদন করেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়।

    একই ধরনের অনিয়ম করেছেন খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বেজপাড়া হায়াতুন্নেচ্ছা দাখিল মাদরাসার সুপার এ কে এম আজহারুল ইসলামও। তিনি সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে মো. নাহিদুজ্জামানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চারবার আবেদন করেন, যার প্রতিটিতেই নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘাটতি ছিল।

    এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’ অনুযায়ী ১৮.১ (গ) ও (ঙ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান অনুসারে তাদের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, মাদরাসা সভাপতি ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও এসব নোটিশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

  • মাদরাসার ছুটির তলিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করা হয়েছে

    মাদরাসার ছুটির তলিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করা হয়েছে

    ২০২৫ সালের মাদরাসার সংশোধিত ছুটির তলিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (৯ মে) ছুটির তলিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধনের কথা জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জারি করা দেশের ০৩টি সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি (স্বতন্ত্র, এবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল) মাদরাসার জন্য ২০২৫ সালের (১৪৩১-১৪৩২ বঙ্গাব্দ) ছুটির তালিকা ও শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জির আংশিক সংশোধন করা হলো।

    • অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ৩০ জুন ২০২৫। এ পরীক্ষা চলবে ১৭ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত। এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে এ বছরের ৩ আগস্ট।
    • নির্বাচনী পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর ২০২৫ শুরু হয়ে চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে।
    • এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ২০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে। পরীক্ষা শেষ হবে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫।
    • শিক্ষাপঞ্জির সংশোধিত তালিকা দেখুন এখানে…
  • মাদরাসা কমিটিতে সভাপতি হতে লাগবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি

    মাদরাসা কমিটিতে সভাপতি হতে লাগবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি

    বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি এবং গভর্নিং বডির সভাপতি হতে হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে আলিম ও সমমানের মাদরাসার ক্ষেত্রে সভাপতি পদপ্রার্থীকে অবশ্যই কামিল অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। অন্যদিকে, দাখিল ও সমমানের মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে প্রয়োজন হবে ফাজিল অথবা স্নাতক ডিগ্রি।

    কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডও এ বিষয়ে একটি ‘স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুযায়ী, অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সভাপতি মনোনয়নের সময় এই শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে। আলিম পর্যায়ের মাদরাসার জন্য কামিল বা স্নাতকোত্তর এবং দাখিল পর্যায়ের মাদরাসার জন্য ফাজিল বা স্নাতক ডিগ্রিধারীরাই কেবল সভাপতি পদের জন্য বিবেচিত হবেন। একইসঙ্গে এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড তাদের আওতাধীন সব মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ বেসরকারি মাদরাসাগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটিতে মানসম্মত নেতৃত্ব নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মহিলা মাদরাসায় নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা, উদ্বেগ এমজেএফের

    মহিলা মাদরাসায় নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা, উদ্বেগ এমজেএফের

    মহিলা মাদরাসায় ছাত্রীদের হোস্টেলে নাইট ভিশন (রাতের অন্ধকারে দেখা যায় এমন) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

    রোববার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমজেএফ জানায়, যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণে ফাতিমাতুজ্জোহরা কওমি মহিলা মাদরাসার ছাত্রাবাসে ১৬টি নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক অভিভাবক কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    এমজেএফ বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে শিশুদের মানবাধিকার হরণের মত গর্হিত কাজ করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নৈতিকতা এবং ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের প্রত্যাশায় পাঠিয়েছিলেন। অথচ ছাত্রীদের থাকার জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে অভিভাবকদের বিশ্বাস ও সম্মানবোধের মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটানো হয়েছে।

    এমজেএফের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-বরং দেশের অনেক মাদরাসা বা হোস্টেলে এরকম নজিরবিহীন নজরদারি ও অনিয়ম থাকতে পারে। তারা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সব আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। ভিডিওধারণের মাধ্যমে যৌন সহিংসতা ও সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে বাগেরহাটে এক নারী বিক্রয়কর্মীকে গণধর্ষণ করে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় এক গৃহবধূ্র শিশুসন্তানকে জিম্মি করে, সেই নারীকে প্রায় এক মাস ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তরা ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। গত ১১ এপ্রিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, আশিক দেওয়ান শান্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

    সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, এটি শুধু গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়-শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার চরম ক্ষতি করার মত গুরুতর অপরাধ। ছাত্রীদের থাকার ঘরে এমন নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন ভীতিকর ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

    এমজেএফের দাবি ও সুপারিশ-

    • যশোরের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভুক্তভোগীদের মানসিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
    • গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও শিশু আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু ও বিচার নিশ্চিত করা
    • দেশব্যাপী সব মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হোস্টেলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রণয়ণ
    • নারী ও কন্যাশিশুদের ডিজিটাল হয়রান, নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা
    • ডিজিটাল নিরাপত্তা, গোপনীয়তার অধিকার এবং আইনগত সহায়তার সুযোগ নিয়ে গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা

    এমজেএফ আহ্বান জানায়, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং মর্যাদার বিষয়ে ভয়ের সংস্কৃতি ও নীরবতা ভেঙে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকেই এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

  • কেনো ছাত্র খরায় ভুগছে মফস্বলের কওমি মাদরাসাগুলো?

    কেনো ছাত্র খরায় ভুগছে মফস্বলের কওমি মাদরাসাগুলো?

    দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলা সদরে অবস্থিত কওমি মাদরাসাটিতে সর্বোচ্চ জামাত শরহে বেকায়া। সেই জামাতে সর্বসাকুল্যে ভর্তি হয়েছেন তিনজন। ভর্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। আরও এক-দুজন ভর্তি হতে পারেন- এমন আশা করছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। অথচ এর আগের জামাত শরহে জামিতে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৯ জন। তিন ভাগের দুই ভাগ ছাত্রই এবার আর ভর্তি হয়নি। তাদের কেউ জেলা সদরে, আবার কেউ চলে গেছেন রাজধানী ঢাকায়।

    মফস্বলের একটি কওমি মাদরাসার চিত্রই এটি নয়। বেশির ভাগ মাদরাসা এ ধরনের ছাত্র খরায় ভুগছে। নিচের জামাতে ছাত্রসংখ্যা মোটামুটি থাকলেও উপরের ক্লাস যত বাড়তে থাকে তত ছাত্রসংখ্যা কমতে থাকে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জন্য খুবই বিব্রতকর। নিজেদের হাতেগড়া ছাত্রদের এভাবে চলে যাওয়ায় আক্ষেপের শেষ নেই তাদের।

    সিরাজগঞ্জের একটি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ফজলুর রহমান বলছিলেন, যেসব ছাত্রকে তারা অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে পড়াশোনা করান, প্রত্যাশা থাকে তাদের দ্বারা ভালো ফলাফল হবে, তারা প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করবে, তাদের বেশির ভাগকেই আর ধরে রাখা যায় না। ‘কেউ চলে গেলে আমরা কী করতে পারি’ অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলছিলেন তিনি।

    কিন্তু মফস্বলের কওমি মাদরাসাগুলোতে এভাবে দিন দিন ছাত্র খরা প্রকট হচ্ছে কেন? এর পেছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, মফস্বলের মাদরাসাগুলোর পড়াশোনার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। ছাত্ররা উপযুক্ত খোরাক না পেয়ে সেখানে আর থাকছে না। কিছু ব্যতিক্রম বাদে বেশির ভাগ মাদরাসা পুরো বছর ছাত্রদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে পড়াশোনার টেবিলে ধরে রাখতে পারে না। ভালো শিক্ষক থাকলেও তাদের অন্যান্য ব্যস্ততা থাকায় ছাত্র গড়ার প্রতি সেভাবে মনোযোগ দিতে পারেন না।

    তাছাড়া মফস্বলের মাদরাসাগুলোর একটি বড় অংশ ছাত্রদের পুরোপুরি আবাসিকের ব্যবস্থা করতে পারে না। অনেকে বাড়ি থেকে এসে পড়াশোনা করেন। কেউ কেউ লজিং থেকে পড়েন। এতে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ছাত্ররা পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

    মাওলানা আতিকুল্লাহ আগে মফস্বলের একটি মাদরাসায় কিছুদিন খেদমত করলেও এখন ঢাকার একটি প্রাইভেট মাদরাসায় পড়ান। তিনি মফস্বলের মাদরাসাগুলোর সমস্যার কথা তুলে ধরে বলছিলেন, সেখানে উস্তাদদের বেশির ভাগই বাইরে ব্যস্ত থাকেন। কেউ মসজিদে ইমামতি করেন, কেউ অন্য কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত। পুরো সময়টা মাদরাসায় থেকে ছাত্রদের পেছনে সময় দেওয়ার মতো উস্তাদের সংখ্যা কম। তাছাড়া যোগ্য উস্তাদেরও সংকট রয়েছে মাদরাসাগুলোতে। সবচেয়ে বড় হলো, ছাত্ররা ফাঁকিবাজি করে, সেটা ধরার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা মফস্বলের মাদরাসাগুলোতে নেই।

    তবে কেউ কেউ মনে করেন, এখনকার ছাত্রদের মধ্যে ঢাকা বা শহরমুখিতা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিটি ছাত্রই এক পর্যায়ে শহরমুখি হয়ে পড়ে। ফলে ভালো পড়াশোনা হলেও তাদের মন আর গ্রামে টিকে না। এই প্রবণতা বন্ধ না করলে মফস্বলের মাদরাসাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

    তবে কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতরা মনে করেন, মফস্বলের মাদরাসাগুলোর কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের আপডেট হতে হবে। তারা যদি ২০/৪০ বছর আগের ধারায় এখনও চলতে চায় তাহলে সংকটে পড়বে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এখনকার ছাত্ররা অনেক আপডেট। তাদের হাতে হাতে মোবাইল-ইন্টারনেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে গোটা দুনিয়াই তাদের সামনে থাকে। তারা গ্রামের মাদরাসাগুলোতে নিজেদের খোরাক না পেয়ে শহরমুখি হয়।

    বিশ্লেষকরা বলেন, মফস্বলের মাদরাসাগুলোকে পড়াশোনার মানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। ছাত্রদের সার্বক্ষণিক নেগরানির আওতায় এনে, মানসম্মত পড়াশোনা নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষায় কীভাবে ভালো করতে পারে সেই টিপসও তাদের দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কিছু টিপসের অভাবে মফস্বলের মাদরাসাগুলোতে অনেক ভালো পড়াশোনার পরও অনেক ছাত্র ভালো ফলাফল করতে পারে না।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত উপরের জামাত ছাত্ররা মফস্বলের মাদরাসায় পড়তে চায় না। এজন্য উপরের জামাত খোলা রাখলে সেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নামকাওয়াস্তে ক্লাস খুলে রাখলে চলবে না। প্রয়োজনে ছাত্র না পেলে ক্লাস কমিয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হলো, যথাযথ খোরাক দিতে না পারলে ছাত্র ধরে রাখা যাবে না।

    তবে অনেকে উদাহরণ দিয়ে বলছেন, ভালো পড়াশোনা হলে গ্রাম পর্যায়ের মাদরাসাতেও ছাত্রদের ভিড় লাগে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ কিংবা উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে অজপাড়া গাঁয়েও অনেক মাদরাসা এমন আছে, দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্রদের ভিড় লেগে যায়। এজন্য যেসব মাদরাসা মফস্বলে থেকেও ভালো করছে, তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যদেরও সেভাবেই মাদরাসা পরিচালনা করা উচিত।