শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের ভেতরে

কালবেলার প্রতিবেদন

উচ্চশিক্ষায় কমছে নারী শিক্ষার্থী, সঙ্গে শিক্ষকও

Advertisement

দেশের প্রাথমিক স্তরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা ৭ লাখ ৭ হাজার ২১৬ জন, আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ২ জন, যা মোট শিক্ষকের ৬১.৭৯ শতাংশ। আর নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৮৬ জন, অর্থাৎ ৫১.১৮ শতাংশ। প্রাথমিকের নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা ঠিকঠাক থাকলেও উচ্চশিক্ষায় গিয়ে তার ধস নেমেছে। সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৮৩১ জন, আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার ৬১৮ জন, অর্থাৎ ৩০.৪৮ শতাংশ। আর নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৬২ জন, অর্থাৎ ৩৯.৩৫ শতাংশ। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় আসা পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগজনক হারে কমে যায় নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে, নিরাপত্তাহীনতা, আবাসন সংকট ও পারিবারিক-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা। ফলে শিক্ষায় এগিয়ে থেকেও উচ্চশিক্ষা ও নেতৃত্বে সমান অবস্থান তৈরি করতে পারছেন না তারা। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ এ উঠে এসেছে এসব চিত্র। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এই প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, মাধ্যমিক স্তরের ২১ হাজার ৩১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪১৬ জন, আর শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন, অর্থাৎ ৫৪.৬৭ শতাংশ। আর শিক্ষকের সংখ্যা ৯৯ হাজার ১৬ জন, অর্থাৎ ৩২.৫০ শতাংশ।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৮ জন, আর শিক্ষকের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ৩৮ হাজার ১৯৬ জন, অর্থাৎ ২৮.৪১ শতাংশ। আর নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৮১ হাজার ১২৩ জন, অর্থাৎ ৫১.৯১ শতাংশ।

মাদ্রাসা শিক্ষায় এসে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ঠিকটাক থাকলেও উদ্বেগজনকভাবে কমছে নারী শিক্ষকের সংখ্যা। দাখিল থেকে শুরু করে কামিল পর্যন্ত ৯ হাজার ২৯৬টি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ লাখ ৪০ হাজার ৯৭ জন, আর শিক্ষকের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ৩১ হাজার ৫০ জন, যা মোট শিক্ষকের মাত্র ২২.৩৯ শতাংশ। আর নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১৪ লাখ ৮২ হাজার ৯৬২ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫২.২২ শতাংশ।

আর ভোকেশনালে এসে আরও কমেছে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ভোকেশনালের সব স্তরে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৫০ হাজার ৫৮৯ জন, আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৫৮ জন, অর্থাৎ ২৯.৭১ শতাংশ। আর নারী শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১৩ হাজার ২৪২ জন, অর্থাৎ ২৬.১৮ শতাংশ। কারিগরি ও পেশাগত ৯৭১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষক। এর মধ্যে নারী শিক্ষক ৭ হাজর ৯৮৯ জন, অর্থাৎ ৪৫.৬১ শতাংশ। আর ১৯২টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা ২ হাজার ৮৫২ জন। এর মধ্যে নারী ৮৪৫ জন, অর্থাৎ ২৯.৬৩ শতাংশ।

এর বাইরে ১৪৩টি ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬৯৭ জন, আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ৫ হাজার ৫১৬ জন, যা মোট শিক্ষকের ৭১.৬৬ শতাংশ। আর নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৫৪ জন, অর্থাৎ ৪৭.৩১ শতাংশ। এ ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৬ জন, অর্থাৎ ৪১.৭০ শতাংশ। আর ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৪.৯৬ শতাংশ।

শিক্ষা প্রশাসনেও কমছে নারীর নেতৃত্ব শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনিক পদগুলোতেও দিন দিন কমে আসছে নারীর নেতৃত্ব । দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬ হাজার ১০১ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে নারী প্রধান শিক্ষকের সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৭ জন। যা মোট শিক্ষকের মাত্র ৯.১৭ শতাংশ। আর ১৩ হাজার ১৭৬ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের মধ্যে নারীর সংখ্যা ২ হাজার ১০৮ জন, অর্থাৎ মাত্র ১৬.০০ শতাংশ। আর বিভিন্ন স্তরের কলেজে কর্মরত ৩ হাজার ১৪৯ জন অধ্যক্ষের মধ্যে নারী অধ্যক্ষের সংখ্যা মাত্র ২৮৫ জন, আর ৮৩৩ জন উপাধ্যক্ষের মধ্যে নারী উপাধক্ষের সংখ্যা ১২৩ জন। এর মধ্যে স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৮১ জন অধ্যক্ষের মধ্যে নারী ৬৮ জন, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে ১ হাজার ১৯৫ জনের মধ্যে নারী ১৩৫ জন, ডিগ্রি স্তরের ৫৮৪ জন অধ্যক্ষের মধ্যে নারী মাত্র ৩২ জন, ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে কলেজে কর্মরত ৪২০ জন অধ্যক্ষের মধ্যে নারী ২৯ জন, মাস্টার্স পর্যায়ের কলেজে কর্মরত ১৬৯ জন অধ্যক্ষের মধ্যে নারী মাত্র ২১ জন।

২০২৫ সালের বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যানের এ তথ্য বলছে, বিভিন্ন পর্যায়ের মাদ্রাসায় কর্মরত ২ হাজার ২৫৯ জন অধ্যক্ষের মধ্যে নারী মাত্র ৮ জন। আর ১ হাজার ৭২৬ জন উপাধ্যক্ষের মধ্যে নারী মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষক ৪ হাজার ৬১৮ জন, অর্থাৎ ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৯৭ জন, অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।

  • রয়েছে নানা সংকট

প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন মেয়েরা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণেও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছেন তারা। তবে উচ্চশিক্ষায় এসে এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে পারছেন না মেয়েরা। কলেজের গণ্ডি পেরোনোর পর কমতে থাকে তাদের অংশগ্রহণ। উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ছে ধীরগতিতে। শিক্ষাবিদদের মতে, দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ে উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে যৌনহয়রানি, নিরাপদ পরিবহনের অভাব এবং পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকা। এসব প্রতিবন্ধকতা উচ্চশিক্ষায় নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ কঠিন করে তুলছে।

এ ছাড়া উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে আবাসন সংকটের কথা বলছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয় পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেক নারী শিক্ষার্থীকে বাইরে বাসা বা মেসে থাকতে হয়। কিন্তু নিরাপত্তার উদ্বেগে অনেক শিক্ষার্থী মেসে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অভিভাবকরাও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাইরে থাকার অনুমতি দিতে চান না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশের অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ-মাদ্রাসা ছাড়া) অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ শতাংশের আবাসিক সুবিধা নেই। বাকি ৪০ শতাংশের এ সুবিধা আছে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নামমাত্র দু-একটি ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই নেই আবাসনের সুযোগ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন সিলেটের আফসানা মিম। তবে তার পরিবার তাকে সেখানে ভর্তি না করিয়ে সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি করেন। আফসানা বলেন, আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম ২০২৪ সালে। কিন্তু সেখানে আবাসিক হলে থাকার সুযোগ সীমিত থাকায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবার ভর্তি হতে দেয়নি।

  • যা বলেছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দা আতিকুন নাহার বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশও নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এখনো সমাজে নারীবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অভিভাবকরা যতটা উৎসাহ দেখান, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ততটা আগ্রহী হন না। এর সঙ্গে বাল্যবিয়ে, উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির সীমিত সুযোগ, আবাসিক হলের সংকট ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা নারীদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রেও এখনো নারীবান্ধব পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। চাকরিতে প্রবেশের পর অনেক নারী নিজেদের জন্য স্বস্তিদায়ক ও সহায়ক পরিবেশ পান না। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদারও যথাযথ সংযোগ নেই। ফলে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনার পর চাকরির নিশ্চয়তা নেই। এসব কারণে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

ইউজিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে ভালো শিক্ষক হতে হলে দীর্ঘ সময় গবেষণার পেছনে ব্যয় করতে হয়। কিন্তু আমাদের নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেও একটা পর্যায়ে তারা সাংসারিক কাজে জড়িয়ে পড়ায় গবেষণায় মন দিতে পারেন না। ফলে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় আগ্রহী হন না। আবার নানা সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, সাধারণভাবে নারীরা লেখাপড়া শেষ করলেও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে পুরুষদের মতো সমান সুযোগ পান না, কিংবা নানা কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন না। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি পেশাজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারীদের আগ্রহ ও প্রস্তুতি বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়। আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় পুরুষদের তুলনায় নারীদের পেশাজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা বাধা রয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা আরও বেশি আগ্রহী হন এবং সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং নারীদের নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ