শিরোনাম
Advertisement
শিক্ষা প্রশাসন

পরিবর্তন হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির ৩৮ লাখ বই

Advertisement

আগামী শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে ৩৮ লাখ বই ছাপানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে বই পাঠানো শুরু হয়েছে। তবে এমন অবস্থায় দেখা দিয়েছে বিপত্তি পরিবর্তন করতে হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ে। আর এ বিপত্তি দেখা দিয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা নিয়ে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ তাৎক্ষণিক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যেসব বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে তা ফেরত আনতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বইটি পুনরায় বিতরণ করা হবে।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব বই মাঠে চলে গেছে, সেগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জন করে আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা এবং মাঠে যাওয়া বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এই চারটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক। উপাত্তের স্তর বোঝাতে রয়েছে পাই চার্ট, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের প্রতীক, জ্ঞানের স্তরে মস্তিষ্কের ছবি এবং পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তরে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি। যেহেতু দাঁড়িপাল্লা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীক তাই এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে খরচের পরিমাণ বাড়বে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির ৩৮ লাখ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। এর বেশিরভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। নতুন করে কোনো বই ছাপাতে হলে সব ছাপানো বইয়ের ওই নির্দিষ্ট জায়গা বা অধ্যায়ে পরিবর্তন আনতে হবে।

  • বইয়ে যেভাবে এসেছে দাঁড়িপাল্লা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর দেখানো হয়েছে। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে। আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে পরিবর্তনের ধারাটি আরও স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিতে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো প্রতীকও প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সংশোধনের পর ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে কোন প্রতীক থাকবে, তা এখনো জানায়নি এনসিটিবি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ