Category: লাইফস্টাইল

  • ওজন কমাতে কখন হাঁটবেন?

    ওজন কমাতে কখন হাঁটবেন?

    নিজেকে সুস্থ-সবল রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটলে স্ট্যামিনা বাড়ে, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, মানসিক চাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে হাঁটা স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

    চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ধরে নিয়মিত হাঁটা সুস্বাস্থ্য ও ভালো ঘুমের জন্য উপকারী। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে এবং পেশির শক্তি বাড়াতেও কার্যকরী।

    ছবি সংগৃৃহীত

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকের আবার পায়ে সমস্যা থাকে। সে ক্ষেত্রে আবার একটানা হাঁটতে মানা করেন চিকিৎসকরা। সে ক্ষেত্রে যদি আপনি একেবারে ৩০ মিনিট হাঁটতে না পারেন তাহলে নিয়মিত ১০ মিনিটের ছোট ছোট ব্যায়ামও করতে পারেন, দিনে ৩ বার হাঁটুন। ধীরে ধীরে হাঁটার সময় বাড়াতে পারেন।

    যারা বেশি জোরে শারীরিক কার্যকলাপ বা ব্যায়াম করতে পারেন না, তারাও নিজেকে সুস্থ রাখতে হাঁটতে পারেন। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা, বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অথবা যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যায়াম করেননি তাদের জন্য ভালো বিকল্প এই হাঁটা।

    হাঁটার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি
    কেউ বলেন সকালে হাঁটা ভালো। আবার কেউ বলেন সন্ধ্যাবেলা হাঁটা বেশি উপযোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সময়ে হাঁটারই বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। দৈনন্দিন কাজের ওপর নির্ভর করে আপনার জন্য কখন হাঁটা ভালো।

    ছবি সংগৃহীত

    সকালের হাঁটার উপকারিতা
    সকালে খালি পেটে দ্রুত হাঁটা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ক্যালরি যেমন দ্রুত পোড়ে, তেমনই বিপাক হার বৃদ্ধি করে। হৃদরোগ ও অন্যান্য বিপাকীয় রোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমায়।

    সন্ধ্যায় হাঁটার সুবিধা
    সারাদিনের কাজের পর, সন্ধ্যায় হাঁটা আপনার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। হজমশক্তি উন্নত করে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। খাবার খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করলে আপনার শরীর বেশি শক্তি খরচ করে, যা আপনাকে আরো ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে। সেই সঙ্গে উন্নত হয় ঘুমের মানও।

    হাঁটার অভ্যাস না থাকলে ২০ মিনিট হাঁটার পর ধীরে ধীরে গতি বাড়ান। নিশ্চিত করুন যে আপনার পা গোড়ালি থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত মাটি ছুঁয়েছে। আরামদায়ক সুতির মোজা ও হালকা জুতা পরুন। হাঁটার আগে ও পরে পানি পান করুন।

    যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে প্রতিদিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখবেন হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ছোট দূরত্বের জন্য পরিবহন পরিবর্তে হেঁটে যাওয়া বেছে নিতে পারেন। উপকার আপনারই হবে।

       সূত্র : টিভি ৯ বাংলা

  • যেভাবে হিল জুতা মেরুদণ্ড ও পায়ের ক্ষতি করে!

    যেভাবে হিল জুতা মেরুদণ্ড ও পায়ের ক্ষতি করে!

    দীর্ঘ সময় হিল জুতা পরে থাকলে পায়ে, কোমরে ব্যথা হয়। সারা রাত পা-কোমরের যন্ত্রণায় ছটফট করতে হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, বয়সকালে নারীদের পা, কোমর এবং মেরুদণ্ডের নানা ধরনের সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে হিল জুতা পরার দীর্ঘ সময়ের অভ্যাস।

    শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিজস্ব মাপ রয়েছে। প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শরীরের কাঠামো তৈরি হয়। কেউ যেন একেবারে অঙ্ক কষেই তা নির্ধারণ করেছে। সেখান থেকে একচুল এ দিক-ও দিক করার উপায় নেই। জোর করে কিছু করতে গেলেই তখন শুরু হয় সমস্যা। ক্রমাগত উঁচু হিল পরার অভ্যাসে শরীরে কাঠামোগত পরিবর্তন আসে। সেই সঙ্গে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে যে সমন্বয়, তা-ও নষ্ট করে। পায়ের পাতা থেকে সমস্যা শুরু হলেও, তার রেশ মেরুদণ্ড হয়ে ঘাড়, মাথা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

    জুতা হিল কীভাবে মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে?
    স্বাভাবিক অবস্থায় মানবদেহের মেরুদণ্ড দেখতে ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো। দেহের ওজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে যেন কোনও রকম অসুবিধা না হয়, মেরুদণ্ড সেই ভাবেই তৈরি হয়েছে। দেহের নিজস্ব ভরকেন্দ্র অনুযায়ী মেরুদণ্ডকে একেবারে শরীরের মাঝ বরাবর রাখা হয়েছে। কিন্তু হিল পরলে স্বাভাবিক ভাবেই সেই ভরকেন্দ্র বদলে যায়। ফলে ভারমাস্য নষ্ট হয়। কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। মেরুদণ্ডের একেবারে নীচের দিক, অর্থাৎ ‘লাম্বার স্পাইন’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকের আবার কোমর, পিঠ এবং ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে যায়।

    জুতার হিল কীভাবে পায়ের পেশির ক্ষতি করে?
    হিল জুতা পরলে শুধু মেরুদণ্ডের ক্ষতি হয় না, গোড়ালি, হাঁটু, কোমর এবং নিতম্বের অস্থিসন্ধি ক্ষয়ে যায়। এমনকি, অল্প বয়সে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের মতো হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। পায়ের কাফ মাস্‌লের নমনীয়তা নষ্ট হয় হিল জুতা পরলে। এমনকি, সায়াটিকা স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই কারণে।

    তাহলে হিল পরা একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে?
    চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে হিল জুতা এড়িয়ে চলাই ভাল। কেনার সময়ে দেখে নিতে হবে ওই ধরনের জুতা পায়ে গলিয়ে চলাফেরা করতে বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে কি না। হিলের বিভিন্ন ধরন আছে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে দেহের ওজন এবং ভারসাম্য রাখতে পারে, এমন জুতা কেনাই ভাল। হিল জুতা পরে চলতে গিয়ে অনেকের পা মচকে যাওয়ার সমস্যা খুবই সাধারণ। তেমনটা হলে বুঝতে হবে ব্যালান্স ধরে রাখতে সমস্যা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কম হিল-যুক্ত জুতা বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

  • শিশুদের মস্তিষ্কে কী চলছে জানতে চেষ্টা করছে যে বিশেষ প্রকল্প

    শিশুদের মস্তিষ্কে কী চলছে জানতে চেষ্টা করছে যে বিশেষ প্রকল্প

    দুই বছর বয়সের হেনরি, তার সামনে রাখা ‘আইপ্যাড’ দেখে একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ। আইপ্যাডের স্ক্রিনে ফুটে ওঠা ‘স্মাইলি ফেস’ দেখতে পেলেই সে তার আঙুল ছুঁইয়ে দিচ্ছে, আর মুহূর্তে সেটা কোনো না কোনো প্রাণীর কার্টুনে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। সেই কার্টুন আবার নাচও করে।

    সাদা মাটা চোখে এই ‘গেম’ সাধারণ এবং একঘেয়ে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে, এটা একটা পরীক্ষা যার মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কে কোন ধরনের মৌলিক দক্ষতার বিকাশ ঘটছে, তা বোঝা সম্ভব। ছোট্ট হেনরির মাথায় রয়েছে একটা ক্যাপ, যেখানে ‘সেন্সর’বোঝাই করা রয়েছে। ওই ক্যাপ থেকে যে তারগুলো বেরিয়ে এসেছে, সেটা গিয়ে জুড়েছে একটা বড়সড় ‘অ্যানালিটিকাল মেশিনারি’ বা বিশ্লেষণাত্মক যন্ত্রপাতির সঙ্গে।

    হেনরি যখন ওই গেমটা খেলছে, সেই সময় তার মাথায় থাকা সেন্সর বোঝাই ক্যাপ স্ক্যান করছে ওই খুদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপকে। পাশাপাশি, কতটা ভালভাবে সে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারও একটা চিত্র তৈরি করছে।

    ‘ইনহিবিটরি কন্ট্রোল'(বাধা নিয়ন্ত্রণ)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত এই পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বুঝতে চাইছেন শিশুদের মধ্যে এই সমস্ত ক্ষমতা কখন এবং কীভাবে বিকাশ করে। এই দক্ষতাগুলো একেবারে খুদে বাচ্চাদের ফোকাস করতে এবং শিখতে সাহায্য করে। দক্ষতাগুলো যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা জানেন। কিন্তু তারা যেটা এখনও জানেন না সেটা হলো এই দক্ষতা শিশুর মস্তিষ্কে কোন সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    মাত্র ছয় মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে এমন দক্ষতার বিকাশ হতে থাকে যা ভবিষ্যতে তাদের অ্যাকাডেমিক (পঠন-পাঠন) এবং সামাজিক ক্ষমতা আকার দেবে। এটাই ওই বয়সের শতশত শিশুর ক্ষেত্রে ‘ট্র্যাক’ করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই অগ্রণী গবেষণামূলক প্রকল্পের একটা বিশেষত্ব রয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা গবেষণার মাঝে চলছে আরও একটা গবেষণা। বর্তমানে এই প্রজেক্টে অংশগ্রহণকারী ৩০০ শিশুর মায়েরাও একসময় এর অংশ ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে ওই মায়েরা যখন নিজেরা শিশু ছিলেন, সেই সময় থেকেই তাদের স্বাস্থ্য ‘মনিটর’ করা হয়েছে গবেষণার অংশ হিসাবে।

    জীবনব্যাপী তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে যা শিশুদের (যারা এখন এই গবেষণার অংশ) মস্তিষ্কের বিকাশ, তাদের অভিভাবকদের (যারা নিজেরাও এই গবেষণার অংশ ছিলেন) স্বাস্থ্য, অভিজ্ঞতা এবং জেনেটিক্সের মধ্যে থাকা ‘লিঙ্ক’ প্রকাশ করতে পারে।

    প্রধান গবেষক ড. কার্লা হোম্বের মতে, শিশুদের বিকাশ সম্পর্কিত গবেষণার দিক থেকে, ওই বাচ্চাদের অভিভাবক সম্পর্কে ইতিমধ্যে এত সমৃদ্ধ তথ্য সংগ্রহে থাকার বিষয়টা এই প্রকল্পকে ‘একেবারে অনন্য’ করে তুলেছে। কোন সময় শিশুদের বিভিন্ন স্কিল (দক্ষতা) তৈরি হয় সেটা আমাদের জানা দরকার এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে তার বিকাশ কীভাবে হয়, সেটাও আমাদের জানা দরকার।

    ড. হোম্বে ব্যাখ্যা করেছেন, যে সমস্ত শিশু স্কুল যাওয়া শুরু করার পর ‘স্ট্রাগল’ করে, সেই ‘স্ট্রাগল’ পরেও চলতে দেখা গিয়েছে। এটা (স্ট্রাগল) তাদের যৌবন বয়স পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই বাচ্চাদের বিকাশের এই পুরো সময়কালকে আমাদের ভালভাবে বোঝা দরকার, যাতে একেবারে কম বয়সেই আমরা শিশুদের সাপোর্ট করতে পারি।

    গবেষণার সময়, অংশগ্রহণকারী শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ল্যাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তারা (শিশুরা) নানান ধরণের বৈজ্ঞানিক ‘গেম’ খেলে, ধাঁধার সম্মুখীন হয় এবং সেই সময় তাদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনেক শিশুরই ছয় মাস বয়সে, তিন বছরে এবং পাঁচ বছর বয়সে এমআরআই স্ক্যান করা হয়, যা তাদের ক্রমবিকাশমান মস্তিষ্কের প্রকৃত চিত্র তৈরিতে সাহায্য করে। এমনই একটা খেলা নিয়ে ব্যাস্ত হেনরি। ওই খেলায় আইপ্যাডের স্ক্রিনে ‘স্মাইলি ফেস’ ফুটে উঠছে। সাধারণত স্ক্রিনের ডান দিকে বারেবারে ফুটে উঠছে ওই ‘স্মাইলি ফেস’। যেই মুহূর্তে হেনরি এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, সেই মুহূর্তে ওই ‘স্মাইলি ফেস’ ফুটে উঠছে স্ক্রিনের অন্য প্রান্তে।

    এই গবেষণায় সহকারী হিসাবে কাজ করছেন কারমেল ব্রফ। তিনি বলেছেন, আমরা দেখতে চাইছি শুধুমাত্র ডানদিকে ট্যাপ করার তাগিদকে হেনরি কাটিয়ে উঠতে পারে কি না এবং তার পরিবর্তে স্মাইলি ফেস স্ক্রিনের কোন দিকে ফুটে উঠছে, সেটাও সে খুঁজে দেখছে কি না।

    ড. হোম্বে ব্যাখ্যা করেছেন, শিশুরা যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন এই সমস্ত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্লাসরুমে (শ্রেণীকক্ষে) একজন শিশুর ফোকাস করাটা দরকার। তাদের মনোযোগ যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। পাশাপাশি, নতুন জিনিস শিখতে হলে, আমাদের পুরানো অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

    হেনরি’র মতোই অন্য একটা ঘরে খেলা করতে ব্যস্ত জ্যাকসন। তারও বয়স দুই বছর। এই খুদে যে খেলাটা খেলছে সেটা তার ‘ওয়ার্কিং মেমরি’ পরীক্ষা করার জন্য ‘ডিজাইন’ করা।

    একজন গবেষণা সহকারী বিভিন্ন পাত্রে স্টিকার লাগাচ্ছেন এবং জ্যাকসনকে তা দেখার জন্য উৎসাহিত করছেন। এরপর ওই খুদেকে মনে করতে বলা হয় যে কোন পাত্রগুলোতে স্টিকার রয়েছে এবং কোনটাতে নেই।

    প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কোন বিষয়টা তাকে এই খেলায় উৎসাহিত করছে? উত্তরটা হলো, খেলা শেষ হলে সমস্ত স্টিকারের মালিক হবে জ্যাকসন।

    ওয়ার্কিং মেমরি কী সে বিষয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন ড. হোম্বে। তার কথায়, ওয়ার্কিং মেমরি হলো এমন একটা বিষয় যেক্ষেত্রে খুব সামান্য কিছু তথ্য আমাদের মাথায় রাখতে হয়। কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বা কোনো কাজের জন্য- যেমন একটা ধাঁধার উত্তর খুঁজতে, বা দুই মিনিট আগে আমরা কোনো জিনিস কোথায় রেখেছি তা মনে রাখতে এটা (ওয়ার্কিং মেমরি) প্রয়োজন। শিশুরা যখন অঙ্ক কষতে শেখে বা পড়তে শেখে তখন এই সমস্ত দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার বিল্ডিং ব্লক (ভিত্তি) বলে আমি মনে করি।

    এই গবেষণা শিশুর ভাষার বিকাশ এবং তার প্রক্রিয়াকরণের গতিও মূল্যায়ন করবে যে বাচ্চারা কত দ্রুত নতুন তথ্য গ্রহণ করতে পারে, তারও একটা পরিমাপ।

    ‘দ্য চিলড্রেন অফ দ্য ‘৯০জ’-নামক এই গবেষণামূলক প্রকল্পের বয়স এখন ৩৫ বছর। প্রাথমিকভাবে শিশু স্বাস্থ্যের উপর ফোকাস করা এই প্রকল্প ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী ১৪,৫০০ শিশুকে ট্র্যাক করেছে। ওবেসিটি, অটিজম এবং সাম্প্রতিককালে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মহামারীর প্রভাব সম্পর্কে বিশেষ আলোকপাত করতে সক্ষম হয়েছে এই গবেষণা।

    সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীদের কাছে উপলব্ধ করা হয়েছে। হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই প্রকল্পের বিষয়ে উদ্ধৃতও করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৯০-এর দশকের শিশুদের ডায়েটের বিষয়ে একটা উল্লেখযোগ্য তথ্য উঠে এসেছে। খাওয়া নিয়ে শিশুরা ঝামেলা করলে অভিভাবকদের উদ্বেগ হয় বটে, কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের উপর এর কোনও স্থায়ী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে প্রমাণ মিলেছে ওই গবেষণায়।

    শিশুদের ক্রমাগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণে অন্য বিষয়ও প্রকাশ্যে এসেছে ওই প্রকল্পের হাত ধরে। যেমন জানা গিয়েছে, পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজনের ফ্যাটি লিভার রোগের লক্ষণ দেখা যায়। পাশাপাশি জানা গিয়েছে ৪০ জন তরুণের মধ্যে একজনের লিভারে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে যা মূলত ওবেসিটি এবং অ্যালকোহল সেবনের কারণে হতে পারে। এই পরিস্থিতি যে সাধারণ এবং ডায়েটের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা যায়, সেই বিষয়েও আলোকপাত করেছে এই বিশেষ প্রজেক্ট।

    এর হাত ধরে প্রায়শই নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ঘাটন প্রকাশ্যে আসতে থাকে। যেমন গত মাসে জানা গিয়েছে যে সমস্ত শিশুদের ডায়েটে তৈলাক্ত মাছের অভাব ছিল, তারা কম মিশুক এবং দয়ালু।

    নব্বইয়ের দশকের শিশুদের নিয়ে শুরু হওয়া এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এখন তাদের (যারা নব্বইয়ের দশকে অংশগ্রহণ করেছিল) সন্তানদের গঠনমূলক ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশের দিকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। স্কুলে যাওয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক শিশুকে অনুসরণ করা হবে।

    নব্বইয়ের দশকে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন এমিলি। তিনিই বছর দুয়েকের হেনরির মা। এখন তার কোলে বসে ছোট্ট হেনরি গবেষণাকারীদের যত্নসহকারে তৈরি একটা ধাঁধা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।

    এমিলির কথায়, আমরা দুজনেই জন্ম থেকেই এরই (এই গবেষণামূলক প্রকল্পের) একটা অংশ। শুরুর দিকে আমি এটা পছন্দ করতাম না। আমার মা আমাকে এর জন্য সাইন আপ করিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন আমার এটাকে দারুণ আকর্ষণীয় বলে মনে হয়।

    ড. হোম্বে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শিশুদের উন্নতিতে সহায়তা করাই এই গবেষণামূলক প্রকল্পের লক্ষ্য। কারণ তার মতে যখন বাচ্চারা স্কুলে যাওয়া শুরু করে ততদিনে শিশুদের মধ্যে অনেক কিছুই তৈরি হয়ে যায়। এটা এমন একটা মৌলিক ভিত্তি তৈরির কাজ যা আমাদের সঠিক সময়ে শিশুদের সাহায্য করবে।

    এদিকে, হেনরি এবং জ্যাকসন তাদের ধাঁধা এবং গেম শেষ করে মাথা থেকে মস্তিষ্ক-স্ক্যানিং টুপি খুলে ফেলেছে।

    এমিলি বলেছেন, আমার ছেলেরা এখানে আসতে ভালবাসে। তারা এখানে রাখা সমস্ত খেলনাগুলোও ভালবাসে। বিনামূল্যে স্ন্যাকসও পায় তারা। তাই ওরা যতদিন চাইবে, ততদিন আমি এখানে আসব। তিনি নিজেও অবশ্য ততটাই আগ্রহী। এমিলির কথায়, কেন আপনি এর অংশ হতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহায্য করতে চাইবেন না?

  • গরমে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি ভোগেন কেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

    গরমে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি ভোগেন কেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

    পয়লা বৈশাখ আজ। গ্রীষ্মের শুরু হলো। গরমের এই মৌসুমে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠবে অনেকের। গরমে বেহাল অবস্থা হয় সবারই। তবে গবেষণা বলছে, গরমের সময় পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাপ সহ্য করার ক্ষমতা, জৈবিক, শারীরিক, সামাজিক ও হরমোনজনিত নানা কারণে এ পার্থক্য হয়ে থাকে।

    জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড ফিজিওলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণত পুরুষদের তুলনায় শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি হলে নারীরা ঘামতে শুরু করেন এবং সামগ্রিকভাবে তাঁদের ঘাম উৎপাদনের পরিমাণও কম। যেহেতু ঘাম শরীর ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া, তাই এই পার্থক্য গরম বা আর্দ্র পরিবেশে নারীদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাপপ্রবাহ চলাকালে নারীদের শরীর অতিরিক্ত তাপ সহজে বের করে দিতে না পারার কারণে তাপজনিত চাপ বা হিট স্ট্রেসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

    এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিওলজির একটি গবেষণায় বিষয়টি আরও নিশ্চিতভাবে উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, গরম আবহাওয়ায় ব্যায়ামের সময় পুরুষদের শরীরে বাষ্পীয় শীতলতার হার বেশি। সহজভাবে বলতে গেলে, পুরুষদের ঘাম সহজে বাষ্প হয়ে যায়, ফলে তাঁদের শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়। তবে শুধু ঘাম হওয়া নয়— শরীরের আকার এবং গঠন গরম সহ্য করার ক্ষমতায় বড় ভূমিকা রাখে। দুবাইয়ে কার্ডিওলজিস্ট বিশাখা সিং বলেন, ‘নারীদের শরীরে সাধারণত পুরুষদের তুলনায় চর্বির পরিমাণ বেশি। শরীরের আকারও তুলনামূলকভাবে ছোট। যে কারণে শরীর থেকে তাপ বের হওয়ার পরিমাণ কমে যায়।

    টেম্পারেচার নামে এক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, যাদের শরীরের আকার ছোট, বিশেষ করে নারীরা, তাঁদের শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি তাপ ধরে রাখে। যার ফলে তাঁরা তাপজনিত চাপ বেশি অনুভব করেন। গরম পরিবেশে নারীদের জন্য ঠান্ডা হওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে— কারণ জৈবিক গঠনই সেখানে একটা বড় বাধা, বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের সময়।

    এছাড়াও শারীরবৃত্তীয় জটিলতা তো রয়েছেই। মেডকেয়ার মেডিক্যাল সেন্টার মিরডিফ সিটির প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোহা আলহৌবি বলেন, ‘নারীদের শরীর থেকে বাষ্পীয় তাপ নির্গমনের হার কম। ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে তাপ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা ততটা দক্ষ নন এবং তাঁদের শরীরও ততটা সমর্থন দেয় না। তাদের শরীরে ঘর্মগ্রন্থিও তুলনামূলকভাবে কম এবং তাঁরা পরিশ্রমের সময় সাধারণত কম ঘামেন। নারীদের শরীরে যে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, তা উত্তাপ ধরে রাখার মতো কাজ করে, যার ফলে শরীরের ভেতরের তাপ সহজে বের হতে পারে না। পাশাপাশি তাদের শরীরের আকারও ছোট হওয়ায় তাপ বের হওয়ার পথ আরও সীমিত হয়ে যায়।

    গড়পড়তা হিসেবে নারীদের এরোবিক ফিটনেস পুরুষদের তুলনায় কম। অর্থাৎ তাঁদের হৃদযন্ত্র এবং রক্তপ্রবাহের ব্যবস্থা চরম তাপমাত্রায় আরও বেশি চাপের মুখে পড়ে। এই অতিরিক্ত কার্ডিওভাসকুলার চাপ তাপজনিত সমস্যার সাথে লড়াই করার ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেয়।

    বিশাখা সিং এবং হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ইয়াসির শফির মতে, গরমে নারীদের শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করে, সেই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো হরমোন। কিন্তু এই কারণটি প্রায় উপেক্ষিতই বলা চলে। নারীদের ঋতুচক্র চলাকালীন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রায় ওঠানামা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে ঋতুচক্রের শেষার্ধে। এই সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধিই অনেক সময় নারীদের বেশি গরম অনুভব করায় এবং অতিরিক্ত গরম সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

    বয়স্ক নারীরা তাপপ্রবাহে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন বলে জানান বিশাখা সিং। তিনি বলেন, ‘আমাদের শরীর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা কমতে থাকে। ঘর্মগ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়, ত্বকের রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং পিপাসার অনুভূতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সবকিছু মিলিয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখা কঠিন করে তোলে।’

    জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড ফিজিওলজিতে প্রকাশিত কেন্নেই ও মুন্সের এক গবেষণায় দেখা যায়, বয়স্ক ব্যক্তিরা তাপ সহ্য করতে কম সক্ষম, কারণ তাঁদের ত্বকের রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং ঘামের পরিমাণও কমে যায়। তাদের মধ্যে, নারীদের ঘাম শুরু হতে দেরি হয় এবং সামগ্রিক ঘামের হার কম থাকে। এছাড়াও মেনোপজের পর নারীরা ইস্ট্রোজেন হরমোনের কমতির মুখোমুখি হয়, যা স্বাস্থ্যকর রক্তনালী বজায় রাখা এবং ত্বক গতিশীলতা ভালো রাখতে সহায়ক। ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার ফলে, শরীরের তাপ নির্গমন প্রক্রিয়ারক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে তাপ বের করার ক্ষমতা কমে যায়। আবার অনেক সময় বয়স্ক নারীরা পানি শূন্যতায় ভোগে, ফলে তাপজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

  • ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না, ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভুগছেন না তো?

    ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না, ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভুগছেন না তো?

    শাহিনুর আক্তার তানিয়া। একটি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সকালে স্কুলে ঢুকছেন, বেরোতে বেরোতে বিকেল। আবার ছুটির দিনগুলোতে বাসার কাজের ব্যস্ততা। এদিকে সব সময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে বিভিন্ন রকমের ব্যথাও ভোগায় মাঝেমধ্যে। বসে থাকতে থাকতে বাড়ছে ওজনও। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, ভুগছেন ভিটামিন ডি-এর অভাবে। যেভাবেই হোক অল্প সময়ের জন্য হলেও শরীরে সূর্যের আলো লাগানো চাই।

    ভিটামিন ডি-কে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’। কারণ এটি সূর্যের আলোয় আমাদের ত্বকে তৈরি হয়। আর এটি অভাব যে কতটা ভোগাতে পারে, তা তানিয়া আক্তারের মতো ভুক্তভোগীরাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারে। যাদের সকাল—সন্ধ্যা চার দেয়ালের ভেতরে থাকতে হয়, তাদের এই সমস্যায় ভুগতে হয় বেশি।

    দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার সুযোগ সবার হয় না। যার ফলে শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হলেও এর পর্যাপ্ততা সবার শরীরে নেই। আপনার শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি রয়েছে কি না সেটি বোঝার কিছু উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়েই জানাব এই প্রতিবেদনে।

    ভিটামিন ডি স্বল্পতার লক্ষণগুলো—
    ১. ক্লান্তি ভাব :
    ‘হাউ নট টু ইট আল্ট্রা-প্রসেসড’ বইয়ের লেখক বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান নিকোলা লুডল্যাম-রেইন বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির একটি সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৫ সালের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী নার্সদের ওপর চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ছিল এবং তারা নিজেরাই ক্লান্তি অনুভবের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায়ও দেখা যায়, ৪৮০ জন বয়স্ক মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর মাত্রার সঙ্গে ক্লান্তির উপসর্গের মিল পাওয়া যায়।

    ২. ঠান্ডা লাগা ও সংক্রমণে বারবার আক্রান্ত হওয়া : গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ইমিউন সিস্টেমের কাজ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি কেউ ঘন ঘন অসুস্থ হন বা বারবার সংক্রমণে ভোগেন এবং এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ না জানা থাকে, তাহলে জলদি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে আপনি যদি গর্ভবতী হন বা ৭৫ বছরের বেশি বয়সী হন, তবে এটি আরও জরুরি। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, ‘ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা গেলে যৌক্তিক মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট নেওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই। যদি রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ৫০ এনএমওএল/এল-এর নিচে হয়, তাহলে আমি সাধারণত এক থেকে দুই হাজার আইইউ প্রতিদিন নেওয়ার পরামর্শ দিই।

    ৩. হাড়ে ব্যথা : ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড়ের গঠন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে অস্টিওপোরোসিস অনেক সময় ধরা পড়ে তখনই, যখন হঠাৎ পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাড় ভেঙে যায়। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, ‘হাড়ে ব্যথা থাকা মানেই অস্টিওপোরোসিস হয়েছে— তা নয়। কিন্তু যদি হাড়ে ব্যথা থাকে এবং অন্য কোনো কারণ না থাকে, তাহলে আমি পরামর্শ দেব, ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ৫০ এনএমওএল/এল-এর নিচে হলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি অনেক বেশি হলে ‘অস্টিওমালাসিয়া’ হয়। এই রোগে হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও প্রায়ই পেশিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা হয়। এটি এটি অস্টিওপোরোসিস থেকে আলাদা।

    ৪. পেশির ক্লান্তি ও ব্যথা : পেশিতে ব্যথার নির্দিষ্ট কারণ সব সময় চট করে বোঝা যায় না, তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। লুডল্যাম-রেইন বলেন, ভিটামিন ডি পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়তা করে। এর অভাবে পেশির দুর্বলতা ও ব্যথা হতে পারে। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথায় ভুগছিলেন, তাঁদের ৭১ শতাংশের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ছিল।

    ৫. ক্ষত ধীরে সেরে ওঠা : ডায়েটিশিয়ান লুডল্যাম-রেইন বলেন, ভিটামিন ডি শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা ও ত্বক মেরামতে সহায়তা করে থাকে। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে ক্ষত সেরে উঠতে দেরি হওয়া স্বাভাবিক। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় ২২১ জন মানুষের মধ্যে দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ছিল, তাদের রক্তে প্রদাহ-সংক্রান্ত উপাদানের মাত্রা বেশি ছিল, যা ক্ষত নিরাময়ে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর পায়ে ক্ষত ছিল। যাঁরা ১২ সপ্তাহ ধরে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষত অন্যদের তুলনায় দ্রুত সেরে গিয়েছে। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, কিছু মানুষ বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকেন—বয়স্করা, বেশির ভাগ ঘরেই থাকেন এমন মানুষেরা, যাদের গায়ের রং কালো এবং যেসব দেশে সূর্যের আলো কম।

    ৬. চুল পড়া : লুডল্যাম-রেইন জানান, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ও চুল পড়ার মধ্যে একটি সম্পর্ক থাকতে পারে, বিশেষ করে অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা-র মতো রোগে। তিনি বলেন, ‘অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা একটি অটোইমিউন রোগ, যার ফলে প্রচুর চুল পড়ে যায়। এক গবেষণায় ৪৮ জন রোগী, যাঁরা এই রোগে ভুগছিলেন, তাঁদের ওপর একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ হিসেবে কৃত্রিম ভিটামিন ডি ব্যবহার করা হয়েছিল। ১২ সপ্তাহ পরে দেখা যায়, তাঁদের চুল গজানোর হার অনেক বেড়ে গেছে। অন্য একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বেশি ছিল, তাদের চুল পড়ার হার কম ছিল।

    ৭. ওজন বেড়ে যাওয়া : ওজন বাড়ার প্রধান কারণ শরীরের চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ। তবে এতে ভিটামিনের ঘাটতিও প্রভাব ফেলে। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, ‘যেসব রোগীর প্রি-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস হওয়ার আগের অবস্থা) রয়েছে, তাদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ধীর গতিতে রূপ নিতে পারে।

    ভিটামিন ডি কেন প্রয়োজন? এই ভিটামিন হাড় সুস্থ রাখে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) ঠিক রাখে। এমনকি মস্তিষ্কের কোষকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে হাড় তৈরি ও হাড়কে শক্ত করে তোলে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে। ঘাটতি হলে হাড় নরম হয়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে একে রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওমালাসিয়া বলা হয়। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, কম ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ক্যানসার, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, হৃদ্‌রোগ ও রক্তজনিত রোগের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে।

    ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণের উপায় : ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য বা ঘাটতি যেন না হয় সেটার জন্য সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা অনেক বেশি জরুরি। বিশেষ করে সকালের সূর্যের আলোয় সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি থাকে। যদি সূর্যের আলোতে যাওয়ার সুযোগ না থাকে তাহলে সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। এ ছাড়া খাবারের মাধ্যমেও শরীরে ভিটামিন ডি বাড়ানো সম্ভব।

    শরীরে ভিটামিন ডি বাড়ানোর কিছু উপায় বলে দিয়েছেন লুডল্যাম-রেইন— ১. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ: অনেক আলমন্ড, সয়া, ওট এবং অন্যান্য প্ল্যান্ট বেসড দুধে ভিটামিন ডি যুক্ত করা হয়। সেগুলো পান করতে পারেন। সাধারণ দুধে ভিটামিন ডি থাকে না। ২. ডিমের কুসুম: এটি একটি সমৃদ্ধ উৎস। বিশেষ করে যদি মুরগি মুক্ত বাতাসে থাকে এবং সূর্যালোক পায়। গ্রামাঞ্চলে খোলা জায়গায় লালন-পালন করে বড় করা দেশি মুরগির ডিম এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী। ৩. তেলাপিয়া মাছ: তেলাপিয়া মাছ ভিটামিন ডি-এর চমৎকার উৎস। ৪. গরুর মাংস ও যকৃৎও ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস। ৫. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ সিরিয়াল: অনেক সিরিয়ালে ভিটামিন ডি যুক্ত করা থাকে। সেগুলো খেতে পারেন। এসব খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে আপনি সহজেই ভিটামিন ডি-এর অভাব পূর্ণ করতে পারবেন।

  • শরীরে কোন বিষয়গুলো ঘটলে মানুষ হঠাৎ করে মারা যায়?

    শরীরে কোন বিষয়গুলো ঘটলে মানুষ হঠাৎ করে মারা যায়?

    জীবনে চলার পথে আমরা অনেক সময় মানুষকে বলতে শুনি, ‘ইশ! লোকটা হঠাৎ করে মরে গেল!’ অনেক সময় আমরা শুনি যে কেউ হয়তো ঘুমের মাঝেই ‘হঠাৎ করে’ মারা গেছেন। কোনও প্রকার পূর্বসংকেত না থাকায় এগুলোকে আমাদের কাছে ‘হঠাৎ করে মারা যাওয়া’ তথা অপ্রত্যাশিত মৃত্যু মনে হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে। মানুষ এভাবে মারা যায় মূলত কিছু শারীরবৃত্তীয় ব্যর্থতার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক আর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাগুলো হঠাৎ মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিবেদনে এমন কিছু বিষয় সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে, যা হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মেডিকেল জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এর প্রতিকার নিয়েও বলা হয়েছে।

    হৃদরোগ
    মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। হৃদপিণ্ডের চেয়ে হার্ট শব্দটিই আমাদের কাছে চেনা এখন। হার্ট বা হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ দরকার হয়। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী যদি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে যদি রক্ত হার্টে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। আর তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মে‌ডি‌সিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, হয় কার্ডিয়াক ফেইলিউরে, অথবা রেস্পিরেটরি ফেইলিউরে মারা যাবে। অর্থাৎ, হঠাৎ মৃত্যুর পিছনে ওই দু’টোর যে কোনও একটি কারণ থাকবেই। হার্টের পেশীগুলো অকার্যকর হয়ে গেলে হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে। অথবা, হৃদস্পন্দন কমে গেলে কিংবা ধমনী ব্লক হয়ে গেলেও মানুষ তৎক্ষণাৎ মারা যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার কয়েক মিনিটের মাঝে যদি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া না হয়, তাহলে তা নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনতে পারে।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন দিলে রোগীর বেঁচে যাওয়ার কিছুটা হলেও সম্ভাবনা থাকে। সিপিআর বিশ্ব জুড়ে বহুল প্রচলিত এক জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি। কেউ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে, তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে বা শ্বাস প্রশ্বাস চালু না থাকলে, সেই ব্যক্তিকে সিপিআর দিতে হয়। তবে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এসব লক্ষণগুলো হচ্ছে– বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা, বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট, এবং বমি বমি ভাব ও বমি।

    রেস্পিরেটরি ফেইলিউর
    হঠাৎ মৃত্যুর আরেকটি খুব সাধারণ কারণ হলো রেস্পিরেটরি ফেইলিউর বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা। আমাদের শ্বাসযন্ত্র যখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় অথবা, শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যথাযথভাবে বের করতে পারে না, তখন এই জটিলতা তৈরি হয়।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি চিহ্নিত করার কিছু পূর্ব লক্ষণ আছে। যেমন– শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ঠোঁট বা আঙুলের ডগা নীল হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, অস্থির বোধ করা, মাথা ব্যথা, দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি।

    ডা. আজাদ বলেন, এ ক্ষেত্রে “প্রতিটা মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে ভালো হয়, রোগীকে ছয় মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এনে ব্যবস্থা নিতে পারলে। কিন্তু সেটি তো সম্ভব না।”

    প্রথমত, এত অল্প সময়ের মাঝে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব। আর আনলেও প্রাথমিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সমস্যা চিহ্নিত করতেও অনেকটা সময় চলে যায়।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলছে, যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, তাহলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। যারা এই সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাদের প্রতি তিন জনের মাঝে একজন মৃত্যুবরণ করে।

    পালমোনারি এম্বোলিজম
    হঠাৎ মৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ হলো পালমোনারি এম্বোলিজম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা। উদাহরণ হিসাবে ডা. আজাদ বলেন, অনেক সময় দেখবেন যে কেউ নামাজে সিজদা করতে গিয়ে পড়ে গেছেন এবং মারা গেছেন। এরকম অবস্থাকে বলে পালমোনারি এম্বোলিজম।

    এর অর্থ, ফুসফুসের রক্তনালী ব্লক হয়ে গেছে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত চিকিৎসা না করালে পালমোনারি এম্বোলিজমের কারণে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে মৃত্যুও হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ পালমোনারি এম্বোলিজমে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা শুরু করার আগেই মারা যায়। বিশ্বব্যাপী হার্ট ও রক্তনালীর যেসব সাধারণ রোগ আছে, এটি সেগুলোর অন্যতম। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের পরেই হলো পালমোনারি এম্বোলিজমের স্থান।

    শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বছরে নয় লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন– হঠাৎ করে শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস চলা, প্রচুর ঘাম হওয়া, চিন্তিত বোধ করা, অজ্ঞান হওয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি কারও কারও বুক, বাহু, পিঠ, কাঁধ, গলা অথবা চোয়ালে তীব্র ব্যথা হতে পারে। ব্যথার তীব্রতা এত বেশি যে প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে তা বাড়তে থাকে।

    যারা ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, বা অন্যান্য হার্টের ব্যাধিতে আক্রান্ত কিংবা যাদের পরিবারে রক্ত জমাট বাঁধাসহ এসব রোগের ইতিহাস আছে, তারা পালমোনারি এম্বোলিজমে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া, বয়স যদি ৬০ বছরের বেশি হয় বা কারও ওজন যদি অতিরিক্ত হয়, তাহলে তারাও ঝুঁকিতে থাকে।

    স্ট্রোক
    স্ট্রোকের সাথে অনেকে হার্ট অ্যাটাককে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দু’টি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। স্ট্রোক মূলত মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়। এই স্ট্রোক বিশেষত হেমোরেজিক স্ট্রোক, হঠাৎ মৃত্যুর আরেকটি প্রধান কারণ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কারণ এই রক্তের মাধ্যমেই শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। কোনও কারণে মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায় তখনই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

    দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগীর পঙ্গুত্বের পাশাপাশি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হয়। অনেকে স্ট্রোক হওয়ার কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যান। এ কারণে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, কারও মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে বিন্দুমাত্র সময়ক্ষেপণ না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

    স্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো– আচমকা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা/ অন্ধকার দেখা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজ পড়ার মতো তীব্র মাথাব্যথা, জিহ্বা অসাড় হয়ে মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো, বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি, ইত্যাদি।

    এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বিছানায় বা মেঝেতে কাত করে শুইয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে, দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী যত অসংক্রামক ব্যাধি আছে, সেগুলোর মধ্যে মৃত্যুর দিক থেকে হৃদরোগের পরেই স্ট্রোকের অবস্থান। উন্নত বিশ্বের তুলনায় নিম্ন আয়ের দেশে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মত সংস্থাটির।

    প্রতিরোধের উপায় কী?
    হঠাৎ মৃত্যু অনেক কারণে হতে পারে এবং একেক কারণের জন্য সমাধানও একেক রকম। তবে ডা. আজাদ বলেন, সামগ্রিকভাবে বললে এর একমাত্র সমাধান সুশৃঙ্খল জীবন, যেগুলোর কথা বলা হলো, এই অবস্থাগুলো একবার হলে বার বার হয়। তাই, ধরা পড়ার সাথে সাথে সতর্কতা নেওয়া যেতে পারে। তবে অনেক সময় সতর্ক থাকলেও মারা যেতে পারে। ডাক্তাররা এই হঠাৎ মৃত্যু’র বিষয়গুলো নিয়ে খুব ভয়ে থাকে, কারণ এসবের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর আর্টিফিশিয়াল লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়।

    কিন্তু বেশিরভাগ রোগীই সেই সুবিধাটা পায় না। ফলে, অপ্রত্যাশিত মৃত্যু নেমে আসে। তবে এই পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেজন্য তিনি সুশৃঙ্খল জীবনাচরণের প্রতি জোর দিয়েছেন। “নিয়ম সবার জন্য সমান। যার ডায়াবেটিস আছে, তার জন্যও যা নিয়ম, হার্টের রোগীর জন্যও একই নিয়ম। তা হলো– ডিসিপ্লিনড লাইফস্টাইল, ব্যালেন্সড ডায়েট, এক্সারসাইজ।”

    সেইসাথে, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন সবাইকে তিনি। তিনি বলেছেন, যে শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও ঠিক রাখতে হবে। অর্থাৎ, “ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রোগী শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এর পরিবর্তে সমস্যা বড় হওয়ার আগেই, অর্থাৎ শুরুতেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা দরকার।

  • রাতে ঘুম না আসলে যেসব কাজগুলো করতে নেই

    রাতে ঘুম না আসলে যেসব কাজগুলো করতে নেই

    বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝ রাতে চট করে ঘুম ভেঙে গেলো, এরপর আর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? নিদ্রাহীনতা বা অনিদ্রা এমন এক সমস্যা, যে সমস্যায় অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভুগেছেন বা এখনও ভুগে চলেছেন। অনিদ্রা কারও কারও জন্য প্রবল সমস্যা হিসেবেও আবির্ভূত হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। মানুষ কেন অনিদ্রায় ভোগে –এর পেছনে বেশকিছু কারণ থাকে। বার্ধক্যের প্রভাব, রাতে বার বার প্রস্রাব, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি বা রাতের পালার কাজ –এরকম নানা বিষয় অনিদ্রা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে সেটাও জানা থাকা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কয়েকটি পরামর্শ খুঁজে রয়েছে।

    অনিদ্রায় বিশেষজ্ঞরা নিজেরা কী করেন?
    সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. ফেইথ অর্চার্ড বলছিলেন, আমি ঘুমাতে পারছি না, এর খুব স্বাভাবিক কারণ হতে পারে আমার মস্তিস্ক কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে আছে অথবা আমি খুব দুশ্চিন্তা করছি। এরকম হলে আমি একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করি এবং একটু হালকা অনুভব করার আগ পর্যন্ত পড়তে থাকি। লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালি হায়ার বলেন, আমি যখনই অনিদ্রায় ভুগি এর প্রধান কারণ হয় আমার স্বামী বিছানায় বার বার পাশ ফিরছে বা জোরে জোরে নাক ডাকছে। তাই আমি স্লিপ ডিভোর্স পদ্ধতি বেছে নেই এবং অন্য একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যাই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুম না আসলে আমি বিছনা ছেড়ে উঠে যাই এবং আবার নতুন করে এসে শুই। এটা একটা রিবুট সিস্টেমের মতো কাজ করে। সাধারণত মাথায় কোনো চিন্তা ঘোরাফেরা করার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয় এবং এটা বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই সত্যি।

    অনিদ্রার উপসর্গ কী?
    কলিন ইসপির মতে, যদি ঘুম না আসার সমস্যা এক রাতের পর কয়েকদিন ধরে হতে থাকে এবং এরপর কয়েক সপ্তাহে গড়ায়, এভাবে তিন মাস বা তার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আমরা এই অবস্থাকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলি। অনিদ্রার সমস্যাটি কয়েক ধরনের হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করে ড. অর্চার্ডি বলছেন, ঘুম না আসা প্রাথমিক উপসর্গ। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকা, এক বার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা, ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার পর আর ঘুম না আসা এগুলোও অনেকের জন্য অনিদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ড. হেয়ারের মতে, অনিদ্রার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ এবং ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য তা একইরকম। সপ্তাহে যদি তিন রাত ঘুমানোর ক্ষেত্রে কারও সমস্যা হয় এবং তিন মাসের বেশি সময় ধরে এটা চলে, আর রাতে ঘুম না আসার কারণে দিনের কাজে প্রভাব পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

    অনিদ্রা সৃষ্টির আগে মস্তিষ্কে কী ঘটে?
    ঘুমে ঢলে পড়া ও ঘুম থেকে জেগে ওঠার পেছনে দুটি প্রক্রিয়া কাজ করে। ড. অর্চার্ড বলেন, যে হরমোনের কারণে ঘুম সৃষ্টি হয় এবং সারা দিনের কর্মযজ্ঞের ফলে শরীরে যে চাপের তৈরি হয়–– এই দুটি প্রক্রিয়ারই পাশাপাশি চলা উচিত। এর মধ্যে কোনো একটার ব্যতিক্রম ঘটলে সমস্যা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দিনের বেলায় বা বিকেলে এক দফা ঘুমিয়ে নিলে রাতের বেলায় ঘুম আসা কঠিনও হতে পারে। এর বাইরেও অনিদ্রার পেছনে বাহ্যিক যেসব কারণ কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো- দুশ্চিন্তা।

    অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুমের ওপর আমরা দারুণভাবে নির্ভরশীল। নানা কিছুর বিবর্তন ঘটলেও ঘুমের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তন হয়নি। বরং বলা চলে মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড় ও জটিল প্রকৃতির, এর বিশ্রামের জন্যই তুলনামূলক বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বিপদ বা যে কোনো ধরনের হুমকির জন্য আমাদের মস্তিষ্কে যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়, যেটা আমাদের ঘুমকে তাড়ানোর কাজ করে, এই প্রবণতাও বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়নি। দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে, যা আমাদের মনে করতে বাধ্য করায়–– জেগে না থাকলেই বিপদ!

    ড. হেয়ার বলছেন, আমি এটা বলবো না যে নির্দিষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই অনিদ্রায় ভোগেন, তবে এটাও ঠিক যে দুরারোগ্য ব্যাধি বা মারাত্মক ব্যাথা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বেগসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার মিথস্ক্রিযার কারণেও অনিদ্রা সৃষ্টি হতে পারে।

    ঘুমের পেছনে মানুষের বয়সও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান অধ্যাপক ইসপি। বয়সের সাথে সাথে দেহঘড়িও পাল্টে যায়। কত সময় ধরে ঘুম হবে এবং তা কতটা গভীর হবে তা এই দেহঘড়ির ওপরও নির্ভর করে। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ব্যঘাত ঘটতে থাকে। একজন কিশোরের জন্য দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে ওঠায় যতটা না সমস্যা হয়, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের জন্য আগে আগে ঘুমিয়েও একবার তা ভেঙে গেলে হয়তো আবার ঘুমানোর জন্য বেগ পেতে হয়।

    ঘুমের ওপর জিনগত প্রভাবও কাজ করে। অধ্যাপক ইসপি যেমন বলছেন, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়ার মতো বংশগত উপসর্গ থাকে। এর সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া আপনি সকাল সকাল উঠে কাজ শুরু করছেন এবং রাতে দ্রুত ঘমিয়ে পড়ছেন কিনা, বা বেলা করে উঠে কাজ শুরু করে শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন কিনা–– এরকম প্রত্যাহিত অভ্যাসও ঘুমের আলাদা প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে অনিদ্রার পেছনে একাধিক ও নানা রকম কারণ থাকতে পারে বলেই তার অভিমত।

    ঘুমাতে না পারলে কী করা উচিত?
    মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের কী করা উচিত? এ নিয়ে কিছু কুসংস্কার রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইসপি। তিনি বলেন. সকালের দিকে আমাদের ঘুমের প্রবণতা কমে আসতে থাকে। আবার ঘুম ভেড়ে গেলে আমি আবার হয়তো ঘুমাতে পারবো না––এরকম একটা দুশ্চিন্তার আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জোর করে কেউ ঘুমাতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ঘুম এসে যায়, এর বাইরে যখনই আপনি ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করবেন- তখনই সমস্যার শুরু হয় বলে আমি সন্দেহ করি। বিশ্বাস করুন আর না করুন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো––ঘুম না আসলে জেগে থাকার সিদ্ধান্তই নেওয়া। ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে পারেন আপনি ।

    খুব সহজ কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করে জীবনের একটি ভালো রুটিন করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. অর্চার্ড। একটি নির্দিষ্ট সময়েই শুতে যাওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই উঠে পড়ার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ককে একটা বার্তা দেওয়া যায় যে এখানেই ঘুমাতে হবে। সোফায় বা চেয়ারে ঘুমিয়ে যাওয়া যেমন উচিত না, আবার বিছানায় বসে কাজ করাও ঠিক না, পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।

    শোয়ার পর ঘুম না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া উচিত এবং আধা ঘণ্টার মতো অন্য কোনো কাজ করার পর আবার বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে বলে মন করেন ড. হেয়ার।

    ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?
    ড. হেয়ার বা অধ্যাপক ইসপি, এই দুইজনেরও কেউই ও ধরনের ওষুধ খাওয়ার পক্ষপাতি নন। বরং তারা পরামর্শ দিচ্ছেন এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক থেরাপির যা মানুষকে তার চিন্তাধারা ও আচরণ পাল্টাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যারও উপশম হবে। এ ধরনের থেরাপি (কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে এবং ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান বলে জানান ড. হেয়ার।

    অধ্যাপক ইসপি বলছেন, এরকম থেরাপি যে ওষুধের চেয়ে বেশ কাজে দেয় সেটা অনেক রোগীই বিশ্বাস করতে চান না। স্লিপ রেস্ট্রিকশন থেরাপি নামে একটি পদ্ধতির পরামর্শ দেই আমরা। এর মাধ্যমে অনিদ্রার রোগীকে একটু দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটু আগে আগে ঘুম থেকে উঠতে বলা হয়।

    কিছু মানুষ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, শোয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খেয়ে তারা ঘুমের ক্ষেত্রে সুফল পেয়ছেন। কিন্তু ড. অর্চার্ড বলছেন, এই বিষয়টি বড় কোনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, বরং ছোটো আকারের কিছু জরিপে এর কথা বলা হয়েছে।

    মেলাটোনিনের বিষয়টা কী? অনেক দেশে এ ধরনের হরমোনের ওষুধ ফার্মেসিতে গেলেই পাওয়া যায়, আবার কোথাও কোথাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেনা সম্ভব। এ বিষয়ে ড. হেয়ার বলছেন, এই বিষয়টাও অনেকটা ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার ও তার প্রভাবের মতোই। অনেক সময় হয়তো রোগী মন রক্ষায় এসব ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা।

    ঘুমের ওপর আরো যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে—
    ঘুমের আগে কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন? টেলিভিশন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল ফোন––কোনটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই যন্ত্রটা নয়, বরং কী রকম আলো আপনার চোখে প্রবেশ করছে এটাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ড. অর্ডার্ড বলছেন, আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো আপনি ফোনের দিতে তাকিয়ে এমন কিছু দেখছেন যেটা আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করছে, এটায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু এমন কিছু যদি দেখেন যা আপনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটা অবশ্যই ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে।

    অনিদ্রার ওপর মেনোপজ, নাইট শিফট বা এলকোহলের কোনো প্রভাব আছে? থাকলে এগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে? ড. হেয়ার বলছেন, মেনোপজ বা রজোবিরতি নারীদের জন্য কঠিন সময় নিয়ে আসে এবং এর কারণে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে। মেনোপজের কারণে হট ফ্ল্যাশ হয় এবং এটা ঘুম ব্যাহত করতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বার বার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বা মুড চেঞ্জ এগুলো মেনোপজের সঙ্গেই আসে। তবে সংসার বা পরিবারিক চাপসহ অন্যান্য চাপও নারীর শরীরের ওপর এসময় প্রভাব ফেলে।

    এলকোহলের বিষয়ে ড. অর্চার্ড বলেন, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গভীরতার যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, এটা বদলে দিতে পারে এলকোহল। এর আরও কয়েক ধরনের প্রভাব আছে। এলকোহল পান করার পর বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে; শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা চলে আসছে পারে; হরমোনের ওপর এলকোহলের প্রভাব থাকায় আবার এটি ঘুম আসা না আসাকেও বদলে দিতে পারে।

    নাইট শিফটের ধকল কীভাবে সামলানো সম্ভব এ ব্যাপারে ড. হায়ার বলেন, এ ক্ষেত্রে যে দিন নাইট শিফট নেই সেসব দিনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি ছোটো ছোটো ঘুম দিয়ে অভাবটা পূরণ করে নিতে হবে।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • কোন বয়সের নারীরা বেশি আকর্ষণীয়?

    কোন বয়সের নারীরা বেশি আকর্ষণীয়?

    সৌন্দর্য নিয়ে দুটি কথা প্রচলিত রয়েছে। প্রথমত, সৌন্দর্য কোনো বয়সের ওপর নির্ভর করে না। আর দ্বিতীয়ত, সৌন্দর্য দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জনের একেক রকম। তাই বলা যায় এই দুটো বিষয়ই একরকম মিথ। তবুও অনেকে জানতে চান, ঠিক কোন বয়সে নারী সবচে সুন্দর থাকেন?

    কেউ বলেন নারীরা ১৮ তে সবচে আকর্ষণীয়। কেউবা ভাবেন ২০ বা ২৫ এ। আসলে নারীর বয়স আর সৌন্দর্য নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তিতে থাকেন পুরুষরা। ঠিক কোন বয়সে নারীদের সবচেয়ে সুন্দর দেখায় সে ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। তবে অনেক গবেষণার ফল অনুযায়ী, নারীরা একটি বিশেষ বয়সেই সবচেয়ে বেশি সুন্দরী হয়ে ওঠেন। কী বলছে গবেষণা?

    সৌন্দর্য একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয় এবং সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে এর পরিবর্তন হয়। এই বিষয়টিকে বোঝার জন্য নর্ডকেম (Nardchem) নামে একটি সংস্থা একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

    বলা হয়, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের নারীরা ১৮-১৯ বছর বয়সীদের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় হন। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা মানসিকভাবে আরও পরিণত হন, আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠেন এবং নিজেদের গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলেন। যা তাদের ব্যক্তিত্ব আর শারীরিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

    এই গবেষণায় প্রায় ১৬ হাজার নারী অংশ নিয়েছিলেন। তারা স্বীকার করেছেন যে ২৩ থেকে ২৭ বছর বয়সের মধ্যে তাদের সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। আসলে, এই বয়সে নারীরা আরও পরিণত হয়ে ওঠেন, যা তাদের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলে।

    ‘অ্যালুর’ (Allure) নামক সংস্থার করা একটি গবেষণায় জানা যায়, পুরুষদের মতে নারীরা ২৯ বছর বয়সে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অন্যদিকে, নারীরা নিজেদের সৌন্দর্যের চূড়ান্ত বয়স হিসেবে বেছে নিয়েছেন ৩১ বছরকে।

    ‘অ্যালুর’ এবং আরেকটি সংগঠনের যৌথ গবেষণায় ২০০০ জনের ওপর আরেকটি সমীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, পুরুষ ও নারীরা উভয়েই মনে করেন, ৩০ বছর বয়সে নারীরা সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন।

    গবেষণার ফল এমন কিছু বললেও, কার চোখে কাকে কোন বয়সে আকর্ষণীয় লাগে এটি একান্তই নিজস্ব বিষয়। আপনার মত কী? কোন বয়সে নারীদের সবচেয়ে সুন্দর দেখায় বলে মনে করেন? মতামত জানান কমেন্টে।

  • মেকআপ নিয়ে ঘুমালে হতে পারে যেসব মারাত্মক ক্ষতি

    মেকআপ নিয়ে ঘুমালে হতে পারে যেসব মারাত্মক ক্ষতি

    বাইরে থেকে ফিরে অনেকেই মেকআপ নিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। এ ছোট অভ্যাসটি আপনার ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে চেহারায় বয়সের ছাপ, মেকআপ পরিষ্কার না করে ঘুমালে দেখা দিতে পারে ত্বকের নানাবিধ সমস্যা।

    রাতে আমাদের ত্বক পুরনো ত্বকের কোষগুলোকে নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। এ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সুস্থ, উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেকআপ নিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্থ করে। যার ফলে ত্বকে নান জটিলতা দেখা দেয়।

    বন্ধ লোমকূপ

    সারাদিন আমাদের ত্বক ধুলো, তেল এবং অন্যান্য পরিবেশগত দূষণকারীর সংস্পর্শে থাকে। আপনি যখন মেকআপ দিয়ে ঘুমান তখন এগুলো ত্বকের ছিদ্রে আটকে যায়। মেকআপ আপনার লোমকূপকে ঘন এবং অবরুদ্ধ করে তোলে। এর ফলে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস, পিম্পল এবং অন্যান্য ধরণের ত্বকের সমস্যা হতে পারে। মেকআপ অপসারণ না করার সবচেয়ে দ্রুত পরিণতিগুলোর মধ্যে একটি হলো লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এতে আপনার ত্বক নিস্তেজ এবং প্রাণহীন হয়ে যায়।

    বয়সের ছাপ

    অনেক মেকআপ পণ্যে রাসায়নিক এবং প্রিজারভেটিভ থাকে যা ত্বকে বেশিক্ষণ রেখে দিলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হতে পারে। এই চাপ কোলাজেন এবং ইলাস্টিন ফাইবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা এবং দৃঢ়তা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। ফলাফল হিসেবে বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ যেমন সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা এবং ত্বকের স্বরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ত্বকের পুষ্টিতে বাধা

    ত্বক রাতের বোলায় ত্বকের যত্নের উপকরণ থেকে উপকারী উপাদানগুলো শোষণ করে। ত্বকে মেকআপ থাকলে তা বাধা তৈরি করে যা পুষ্টিকর উপকরণগুলোকে ত্বকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। সঠিক হাইড্রেশন এবং পুষ্টির অভাবের ফলে ত্বককে ক্লান্ত এবং ডিহাইড্রেটেড দেখাতে পারে।

    চোখের ক্ষতি করে

    চোখের মেকআপ যেমন, মাস্কারা এবং আইলাইনার না মুছে ঘুমিয়ে পড়লে চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। চোখের মেকআপ তুলতে ভুলে গেলে চোখের জ্বালা হতে পারে এবং এর ফলে চোখের সংক্রমণ হতে পারে। এটি প্রদাহ, লালভাব এবং এমনকি কনজেক্টিভাইটিসের কারণ হতে পারে।