Category: সাহিত্য

  • ‘আলোকচিত্রপুরাণ’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব শুক্রবার

    ‘আলোকচিত্রপুরাণ’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব শুক্রবার

    রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আগামীকাল (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে আলোকচিত্রী সাংবাদিক, গবেষক সাহাদাত পারভেজ সম্পাদিত ‘আলোকচিত্রপুরাণ’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

    বইটি প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ। আলোকচিত্রপুরাণ বইটিতে ব্রিটিশ আমলের অবিভক্ত বাংলায় প্রকাশিত ফটোগ্রাফি বিষয়ের আদি প্রবন্ধগুলো গ্রন্থিত হয়েছে।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বইটি নিয়ে আলোচনা করবেন জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী ও শিক্ষাবিদ শহিদুল আলম, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুভা নাহিদ চৌধুরী, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, আলোকচিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টার ফটোর অধ্যক্ষ সাইফুল হক অমি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক ও কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব।

    অনুষ্ঠানে বইটির সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ ও কথাপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন এই গ্রন্থ প্রকাশের পেছনের গল্প তুলে ধরবেন।

  • নেতা হওয়ার রেসিপি

    নেতা হওয়ার রেসিপি

    • নেতা হতে ছবি তোলো
      ফেসবুকে দাও পোস্ট,
      এতেও যদি না হয় তবে
      করো এবার বুস্ট।
    • সুযোগ বুঝে ছাড়ো হাঁকডাক
      যত মিথ্যার ঝুলি,
      দল—নেতার পক্ষে গেলেই
      এটাই হালাল বুলি।
    • দলও বদলাও দরকারবোধে
      হও সুবিধার ভাগী,
      যার কাছে ক্ষমতার চাবি
      তারে বুলাও ‘ত্যাগী’।
    • মুখে মুখে রাখো দেশপ্রেম
      কাজের নেই দরকার,
      বিবেক বেচে চায়ের চুমুক—
      লজ্জা কী আবার?

    • লেখক : সাংবাদিক
  • ভাঙা হচ্ছে কবি রফিক আজাদের স্মৃতিস্মারক বাড়ি

    ভাঙা হচ্ছে কবি রফিক আজাদের স্মৃতিস্মারক বাড়ি

    প্রয়াত কবি রফিক আজাদের ধানমণ্ডির বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়িটিতে প্রায় ২৯ বছর সপরিবারে বসবাস করেছেন রফিক আজাদ। এখন সেখানে বববাস করছিলেন তার স্ত্রী দিলারা হাফিজ। বাড়িটি দিলারা হাফিজের নামে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া।  এ বাড়িতে বসেই রফিক আজাদ বহু কবিতা ও কাব্যসহ ২০টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ  রচনা করেছেন। তার আত্মজীবনী ‘কোনো খেদ নেই’ এই বাড়িতে বসেই রচনা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন তার স্ত্রী দিলারা হাফিজ।

    বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।

    চার ইউনিটের বাড়িটির একটিতে থাকছেন দিলারা হাফিজ। বাকি তিন ইউনিট অন্যদের নামে বরাদ্দ রয়েছে। বুধবার বাড়িটির পূর্বাংশের দুটি ইউনিট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধানমণ্ডির ১ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে (পশ্চিমাংশ) কমবেশি ৫ কাঠা পরিমাণ জায়গা রয়েছে।

    ১৯৮৮ সালে একতলা এ বাড়িটি রফিক আজাদের স্ত্রী কবি দিলারা হাফিজের নামে সাময়িকভাবে বরাদ্দ দেয় “এস্টেট অফিস”। দিলারা হাফিজ তখন ইডেন কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    বরাদ্দ কপিতে দেখা যায়, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক এম বেগমের সই করা বরাদ্দনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, “এই বরাদ্দের দ্বারা বাসার ওপর কোনো অধিকার বর্তাবে না, তবে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বসবাস করতে পারবেন।”

    তবে, দীর্ঘদিন পর বাড়িটি নিজের বলে দাবি করেন সৈয়দ নেহাল আহাদ নামের এক ব্যক্তি। ২০১২ সালে নিজের মালিকানার পক্ষে আদালতের রায় পান তিনি। এ নিয়ে সৈয়দ নেহাল, হাউজিং অ্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করে মামলা করেন দিলারা হাফিজ। এর ফলে আদালত বাড়িটির ওপর স্থিতাবস্থা দেন। পরের বছর এই স্থিতাবস্থা স্থায়ী করেন আদালত।

    পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকার সপ্তম সহকারী জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আগামী মে মাসের ২৫ তারিখ এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। এইসব তথ্য উল্লেখ করে গতকাল মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পৃথক চিঠি দেন দিলারা হাফিজ। এর মাঝেই বুধবার সকালে বাড়িটি উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়।

    জানা গেছে, দিলারা হাফিজ শিক্ষা ক্যাডারের একজন প্রভাষক হিসেবে বাড়িটির বরাদ্দ পেয়েছিলেন। সর্বশেষ সরকারি তিতুমীর কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডর চেয়ারম্যান হিসেবে চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। তার স্বামী রফিক আজাদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে তাদের দুই সন্তান—অভিন্ন আজাদ ও অব্যয় আজাদ প্রবাসে রয়েছেন।

    এ বিষয়ে দিলারা হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, “জাতীয় জীবনে একজন অগ্রগণ্য কবি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদ। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও ধারণের জন্যে বাড়িটির অংশবিশেষের স্থায়ী বন্দোবস্তের আদেশ পেতে গতকালও আমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ঘুরেছি। মামলা চলমান থাকাবস্থায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে এটা আশা করিনি।”

  • ঈদ আনন্দে একগুচ্ছ গল্প : অহর্নিশ

    ঈদ আনন্দে একগুচ্ছ গল্প : অহর্নিশ

    লুনা রুশদী

    আমার ধারণা ছিল নির্বাণ লাভ করে দরবেশ দশায় চলে গেছি, কিন্তু এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে। আসন্ন হার্টব্রেকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। নিজেই নিজেকে শান্টিং দিচ্ছি, ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা হওয়ার জন্য রেডি হও ডিয়ার অথই! প্রথমে টেরই পাইনি, কিন্তু কীভাবে যে সে অক্সিজেনের মতো আলগোছ, অনায়াস এবং অবারিতভাবে আমার সমস্ত সত্তার ওপর রাজত্ব কায়েম করে ফেলল, তা এক রহস্য। এখন আর কিছুই করার নেই। পেটের মধ্যে একটা গিট্টুলাগা ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে। টানটান হয়ে থাকতে হবে তার কণ্ঠস্বরের অপেক্ষায়, ঝনঝন করে বাজতে হবে দেখা পাওয়ার আশায়।

    মেলবোর্নের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত এলাকাগুলোর একটা হলো টুরাক। এখানে একটা প্রাচীন বাড়ির দোতলায় এক বেডরুমের গরিব অ্যাপার্টমেন্টে থাকি আমি আর আমার বিড়াল মিউ। আমাদের আর কেউ নেই। বাথরুম স্যাঁতস্যাঁত করে, সিলিংয়ে মোল্ড জমেছে। রান্নাঘর চরম চিপা। প্রায়ই ভাবি অন্য কোথাও উঠে যাব। কিন্তু সামনের ছোট্ট ব্যালকনিটার কারণে পারি না। সেখানে ছায়া দিয়ে রেখেছে একটা জ্যাকারান্ডাগাছ। গরমকালে বেগুনি ফুলে ছেয়ে যাওয়া গাছটা দেখতে দেখতে মনে ভাসে আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ভিসির বাড়ির মাঝখানের আইল্যান্ডে দাঁড়ানো কৃষ্ণচূড়াগাছটা, যার লাল-হলুদ পাপড়ি ছড়িয়ে থাকত রাস্তাজুড়ে আলপনার মতো। এই অনাত্মীয় শহরে গাছটাই আত্মীয়। মায়ের চেয়ে বেশি ছায়া দিয়ে রাখে সে আমাকে।

    গত কয়েক সপ্তাহ রুদ্ধশ্বাস ওড়াউড়ির মধ্যে গেল! এত উচ্ছ্বাস! ৪৮ বছর বয়সে আবার আমি টিনএজার। সপ্তাহখানেক আগে, দোলপূর্ণিমার পরের দিন, সারা রাত না ঘুমিয়েও কিছুতেই এনার্জি কমানো যাচ্ছিল না। ফোন রাখার সময় দেখলাম ছয় ঘণ্টা ধরে বকরবকর করেছি! কী কথা তার সাথে, তাহার সাথে! ইশ্! শাওয়ারে ঢুকেও তার ঘুমজড়ানো কণ্ঠস্বর আর ঘন নিশ্বাসের শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছিলাম। পানির অবিরল স্পর্শে আমার আত্মা বেঁচে উঠছিল। আমার সারা দুনিয়া অয়ন নামের একটা বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাচ্ছে। যেখানে যখন থাকার কথা সেখানে আর আমি নেই। সেদিনও বের হতে দেরি হলো।

    ধুপুরধাপুর লাফাতে লাফাতে সিঁড়ি দিয়ে নামলাম। অন্যান্য দিন আমি চলি কুচিমুচি হয়ে, মাটিতে চোখ নামিয়ে। সেদিন ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো স্টাইলে বিড়ালের চামড়ার জিপার খুলে সিংহ বের হয়ে গটগটায়ে হাঁটছিল যেন বাপের রাস্তা! ততক্ষণে রোদ উঠে গেছে। গাছের কচি পাতার ভেতর থেকে আলো ঠিকরাচ্ছে। পাখিগুলো মহা অস্থির আলাপ শুরু করেছে। ইশ্ অয়ন! কী যে করলেন আপনি আমারে! নিজের মনেই কথা বলছিলাম তার সঙ্গে। হার্টবিটের সঙ্গে তাল রাখার জন্য ঝেড়ে দৌড় দিতে ইচ্ছা করছিল অথবা একপাক নেচে নিতে। হিন্দি সিনেমায় প্রেমে পড়লে কেন আকাশ-বাতাস থেকে গান ভেসে আসে আর নায়ক-নায়িকা কেন এত দৌড়ায় এখন বোঝা যাচ্ছে।

    নাহ্‌, সাবধান হও অথই! আনন্দ সিনেমায় রাজেশ খান্না কী বলেছিল, মনে নেই? ‘বাবুমশাই, এত ভালোবাসা ভালো নয়!’ সে তোমার চেয়ে ১৮ বছরের ছোট। যখন সে সদ্যোজাত, তুমি তখন সাবালক। সে জিয়াউর রহমানের শাসনকাল জানে না, বিটিভির প্রতিটি খবরের আগে রাষ্ট্রপতি লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ব মোরা’ দেখেনি, গ্রীষ্মের ঝাঁ ঝাঁ রোদে বারান্দায় বসে ডাকপিয়নের জন্য অপেক্ষা কেমন, সে জানে না। এক অধিকল্প বিছিয়ে আছে আমাদের মধ্যে।

    এত সব গরমিলে পার হয়েও তার কণ্ঠস্বর নিরালা-নির্জন দুপুরে দূর থেকে ভেসে আসা নিরবচ্ছিন্ন ঘুঘুর ডাকের মতো একটা বিষণ্ন আপনবোধে আচ্ছন্ন করে আমাকে। প্রচণ্ড জ্বরের ঘোরে ঠান্ডা জলপট্টির মতো প্রশান্তিময় তার স্পর্শ আমি মনে করতে পারি।

    চার সপ্তাহ আগের শনিবারে ব্যালকনিতে ঠিক আমার সামনের চেয়ারটায় সে বসেছিল, যেখানে মিউ এখন গোল্লা পাকিয়ে কান খাড়া করে শুয়ে আছে। হাতে চায়ের মগ, চোখ মেলে দেওয়া রেলিংয়ের ওই পাশে দোদুল্যমান জ্যাকারান্ডাগাছের শাখায়। কী দেখছিল সে? সকালের স্নিগ্ধ মায়াময় বাতাস আলগোছে পরিপাটি বিলি কাটছিল চিরল পাতায়। বেগুনি ফুলগুলোর ছায়া দুলছিল বারান্দাজুড়ে। আমি দেখছিলাম তাকে ঘিরে আলোছায়ার খেলা। চারকোনা কালো ফ্রেমের চশমার ভেতরে গহিন উজ্জ্বল চোখ। বিষণ্ন? অস্থির? একদম কাছ ঘেঁষে তার দিকে মুখ করে বসেছিলাম আমি, তার গায়ের তাপ অনুভব করছিলাম। তার নিশ্বাসের আঁচ এসে লাগছিল কোলের ওপর ফেলে রাখা আমার হাতের ওপরে। বাঁ গালের ওপরে চশমার ফ্রেমটা যেখানে শেষ হয়েছে, তার নিচে, খাড়া ঋজু নাকের ঠিক পাশে, গালের প্রান্ত ছুঁয়ে কালো তিলটা চুম্বকের মতো টানছিল আমাকে।

    আমার দৃষ্টি দিয়ে তাকে স্পর্শ করা সে-ও টের পেয়েছিল। আমার দিকে ফিরে দৃষ্টি ছুঁয়ে থাকল চোখে চোখ ফেলে। যেন আমার মনের বিস্মৃত আর ধুলায় ধূসর তালাগুলো খুলে যাচ্ছে, যা কিছু আমি নিজেও জানি না অথবা ভুলে গেছি, দিনের আলোর মতো সহজে ধরা দিচ্ছে তার কাছে। পেটের ভেতর কয়েক লাখ প্রজাপতি ডানা ঝাপটাচ্ছিল, বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে বেরিয়ে আসছিল কাঁপা কাঁপা নিশ্বাস। ধীর সহজ প্রশ্রয়ের হাসি তার সারা মুখে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। সস্নেহ, কোমল, গভীর স্বরে মুখটা সামনে এগিয়ে নিয়ে এসে, ভ্রু সামান্য ওপরে তুলে সে টেনে টেনে উচ্চারণ করেছিল ‘কীইইই!’ চমকে উঠে তার চোখ থেকে সরিয়ে নিয়ে ঝাপসা দৃষ্টি সামনের রাস্তায় পাঁচ বাচ্চাসহ হাঁসের হেলেদুলে হাঁটার দিকে ফোকাস করতে করতে উত্তর দিলাম, ‘কিছু না।’ সে শব্দ করে হেসে উঠে হাতের চায়ের মগ মাটিতে নামিয়ে রেখে চেয়ারে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসে জিনস পরা খালি পা মেলে দিল সামনে। আমার লম্বা স্কার্টের ঝুল মিশে যাচ্ছিল তার পায়ের পাতায়। আমরা ভান করলাম খেয়াল করিনি।

    তার চুলে, ঘাড়ে এসে পড়েছিল সূর্যের নরম আলো। কমলা রঙের টি-শার্ট টানটান হয়ে আছে কাঁধ আর বাহুর সীমানায়। টি-শার্টের বুকের কাছে এক জোড়া ঝুলন্ত জুতার ছবি। তার এক পাটিতে লাল-কালো-সবুজে লেখা, ‘ফ্রিডম ইজ আ হিউম্যান রাইট’, আরেক পাটিতে, ‘অল লাইভস আর ইকুয়াল’। জানতে চাইলাম, এই টি-শার্ট ফিলিস্তিনের সমর্থনে কি না।

    প্রশ্ন শুনে একঝটকায় টানটান উঠে বসল সে। একমুহূর্ত আগের শৈথিল্য ঝরে গিয়ে অস্থিরতা দখল নিল তার। ক্রিকেটার উসমান খাজার কথা জানাল আমাকে। পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলার সময় বাহুতে তিনি কালো কাপড় বেঁধেছিলেন ফিলিস্তিনের সমর্থনে, প্র্যাকটিসের সময়ে তাঁর জুতায় লেখা থাকত টি-শার্টের এই স্লোগানগুলো। তা নিয়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে টি-শার্ট ডিজাইন করেছেন খাজা। বিক্রির সব অর্থ দিয়ে গাজায় ত্রাণ পাঠানো হবে।

    আমি মুগ্ধ দেখছিলাম তার চোখে-মুখে চাপা রাগ আর অসহায়তা। হাত নাড়ার ভঙ্গি। অস্থির পায়চারি। শক্ত করে চেপে ধরা বারান্দার রেলিংয়ে কাঁপতে থাকা হাতের পাতা। সে যখন বাবার কোলে মৃত শিশুকন্যার কথা বলছিল, তার কপালের পাশের রগ দপদপ করছিল। আমরা রিফাত আলারিরের কবিতা উচ্চারণ করলাম নিশ্বাসদূরত্বে দাঁড়িয়ে। গণমাধ্যমে কেট মিডলটনের অন্তর্ধান নিয়ে তোলপাড়ের সমান্তরালে গাজায় হাজার হাজার শিশুহত্যার বিষয়ে নীরবতার রাজনীতি নিয়ে কথা বললাম। একসঙ্গে রান্না করার সময় ছোটবেলায় ফিরতে ফিরতে দেখলাম আমার আশির দশকের ঢাকা আর তার শূন্য দশকের মফস্‌সল পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্য।

    সারা দুপুর তাকে পড়ে শোনালাম সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদে নাজিম হিকমতের কবিতা আর রিলকের লেটারস টু আ ইয়াং পোয়েট, ‘একজন মানুষের পক্ষে আরেকজনকে ভালোবাসাই হয়তো জগতের সবচেয়ে কঠিন কাজ…’, সে সোফায় গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনল আমাকে। আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম তার কাঁপতে থাকা চোখের পাতা, চেহারায় খেলে যাওয়া অনন্ত অভিব্যক্তি। সে জানাল, আমার উচ্ছ্বসিত আর আদুরে কণ্ঠস্বর কানের জন্য আরামদায়ক, আমি জানালাম, তার অনিন্দ্যসুন্দর মুখশ্রী চোখের জন্য স্বস্তিকর। তাকে বললাম, মোনাশ ইউনিভার্সিটির একাডেমিকদের ভেতরকার রাজনীতির কথা, সে বলল, মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে তার স্কলারশিপের কথা। বিকেল গড়াল সন্ধ্যায়, সন্ধ্যা ঢলে পড়ল রাতে। বিদায় নেওয়ার সময় সে আমাকে উপদেশ দিল রাত না জেগে ঠিকঠাক লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমাতে, আমি তাকে বললাম সাবধানে রাস্তা পার হতে। সেটা ছিল তার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় এবং শেষ দেখা।

    প্রথম দেখা ঠিক তার আগের রাতে। সহকর্মীদের সঙ্গে অফিস শেষে একটা পাবে ঢুকেছিলাম। সেদিন খুব কিছু খাওয়া হয়নি সারা দিন, তার ওপর পেটে তরলের মাত্রা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। রাত প্রায় একটা বাজে তখন। সঙ্গের লোকজন যে যার মতো বাড়ি ফিরেছে। আমি টলতে টলতে এসে দাঁড়ালাম ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে। খুব অসুস্থ লাগছিল, বমি পাচ্ছিল। চাঁদটা ক্ষয়ে যাচ্ছিল আকাশে। বাতাসে ধুলা, কুয়াশা আর মেলা ভেঙে যাওয়া ক্লান্ত বিষণ্ন গন্ধ। সারা গা গুলাচ্ছিল আর আমি টালমাটাল হয়ে বমি করার জন্য ময়লার ঝুড়ি খুঁজতে খুঁজতে চিৎকার করে জাতীয় সংগীত গাইছিলাম বাংলায়। তখনই সে এসে ধরে ফেলেছিল আমাকে। বারবার জানতে চাইছিল, ঠিক আছি কি না।

    তার গায়ের ওপর ছেড়ে দিলাম নিজেকে। যেন যা কিছু করার সে-ই করবে। বমি করার সময় পরম মমতায় সে আমার কপাল ধরে থাকল। রুমাল ভিজিয়ে মুখ মোছাল। উবারে তার গায়ের ওপর লেপটে ঘুমাতে ঘুমাতে ফিরেছিলাম। আর সে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে রেখেছিল আমাকে। এখনো ঘুমের ঘোরে আমি তার গায়ের আনকোরা সুতি শার্টের গন্ধ পাই, তার হার্টবিটের শব্দ এসে কানে বাজে, আর চুলে পাই তার হাতের স্পর্শ, তার গায়ের পরিচ্ছন্ন ঘ্রাণে নিজেকে পবিত্র লাগে।

    আমার মাতাল কণ্ঠে বেসুরো বাংলা গান শুনেই বুঝেছিল আমি বাংলাদেশের। পরের দিন এসেছিল তার কাছে থেকে যাওয়া আমার পার্সটা ফেরত দিতে; এবং তার পরের দিন, অর্থাৎ রোববার দুপুরে ঘুম ভেঙে আমি তার ফোনে মেসেজ পাঠাতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। বারবার ফোন করে ফোন বন্ধ পেলাম। এরপরের তিনটা দিন শ্বাসরুদ্ধ গেল। নিজেকে প্রশ্ন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। খুব কি অশালীন কিছু করেছি আমি? শুক্রবার রাতে যদি করেও থাকি কিছু, তখন তো আমি নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম না। শনিবার সারা দিন একসঙ্গে ছিলাম, তাকে তো বিরক্ত মনে হয়নি। তাহলে কেন হঠাৎ একদম চুপ?

    বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটা ফুলের ছবি এল তার নম্বর থেকে। নিচে লেখা—ফুলের নাম কানাই বাঁশি। আমি ধড়মড় করে উঠে বসে লিখলাম, ‘কই আপনি?’ জানলাম রোববার ভোরের ফ্লাইটেই সে দেশে গেছে, আমাকে নাকি বলতে ভুলে গেছিল। তিন মাস দেশে থাকবে রিসার্চের কাজে। এরপর কয়েকটা সপ্তাহ স্বপ্নের মতো। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা। সারা রাত জেগে, দিনের বেলা ডিপার্টমেন্টে ঝিমানো। কখনো চুপচাপ ফোন ধরে একজন আরেকজনের নিশ্বাস শুনতাম আর তার সেই গভীর কণ্ঠের, ‘কীইইই!’ একদিন বললাম, ‘অয়ন! আমাকে একটু জড়ায়ে ধরেন তো!’ সে জবাব দিল, ‘সম্মানিতা রাজকন্যা অথই অবন্তিকা, এক সমুদ্র দূর থেকে কীভাবে আপনারে জড়ায়ে ধরব?’ আমি রাগের চোটে তাকে কাঠের টুকরো বলে গালি দিলাম। সে বলল, এই নাম তার ভালো লেগেছে। কারণ, কাঠের টুকরা চিরভাসমান, তার কোনো আশ্রয় নেই।

    • তিন দিন আগে ফোন রাখার পর একটা কবিতা পাঠিয়েছিলাম তাকে—
      তোমাকে আমি তো আপনি করেই বলি
      ঘুমের ভেতরে তুমি হয়ে যাও তুমি
      আজ বলছিলে জীবন কেমন
      জোনাকির মতো উড়ে উড়ে গিয়ে
      নিরেট অন্ধকারের গায়ে
      মিটমিট করে জ্বলে…
      বলতে বলতে হাসছিলে খুব
      কান্নার মতো করে
      কত কথা শুধু মুছে মুছে যায়
      হাসি দিয়ে ঢেকে রাখি
      আমি তো তোমাকে আপনি বলেই ডাকি…

    লেখাটা সে দেখেছে, কিন্তু জবাব নেই। প্রথমে খুব অস্থির ছিলাম। আর আজ, তার চুপ হয়ে যাওয়ার তৃতীয় দিনে অবসাদ ঘিরে রেখেছে আমাকে। আবার শনিবার। দিন ফুরাচ্ছে। পাড়া বেড়িয়ে মিউ ফিরল, আমার পায়ের কাছে বসা। তাকে বললাম, ‘আর কোনো দিন দেখব না, নারে?’ মিউ ঘররর শব্দ করে আমার পায়ের আঙুল নিয়ে খেলে।

    কলিং বেল বাজল, আর বিদ্যুৎ-তরঙ্গ খেলে গেল আমার শরীরে। দরজায় পৌঁছানোর আগেই বুঝলাম, সে এসেছে। এখানে আর কেউ আসে না! দেখি সিঁড়ির রেলিংয়ে পিঠ ঠেকিয়ে সে দাঁড়ানো। আমি কিছুতেই ঠিকঠাক শ্বাস নিতে পারছি না! চোখ উপচে পানি আসছে। এই রকম পানির ফোয়ারা সঙ্গে নিয়ে ঘুরছি? সে আস্তে হেঁটে ঠিক আমার সামনে এল। ‘কী খবর সম্মানিতা রাজকন্যা অথই অবন্তিকা?’

    ‘কেন আমার মেসেজের জবাব দেন নাই!’ এবার ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করেছি।

    ‘আহহা! দেখো তো কী করে!’ এক হাতে আমার চিবুক তুলে ধরে চোখ মুছে দিল আরেক হাতে। কাঁধ জড়িয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ‘আর কতকাল আপনি করে বলবা? চলো ঘরে যাই, আর ভেসে থাকতে ভাল্লাগে না!’

  • এই সময়ের ধনী লেখকরা

    এই সময়ের ধনী লেখকরা

    সারা বিশ্বে ধনী লেখকের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবু কেউ কেউ তো লিখেই আয়েশি জীবন যাপন করছেন। এখন লেখালেখি শুধু বই ছাপানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ই-বুক, অডিও বুক, পিডিএফ, কিন্ডল, উপন্যাস থেকে সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে গল্প বিক্রি করা—এরকম নানা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় এখন লেখালেখি করে আয় করার সুযোগও বেড়েছে। ফলে ধনী লেখকদের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।

    প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রায় প্রতি বছর বিশ্বের ধনী লেখকদের তালিকা প্রকাশ করলেও ২০১৯ সালের পর কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি। এখানে সাহিত্যবিষয়ক সাময়িকী লিটারেরি হাবের দৃষ্টিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৫ ধনী লেখকের তালিকা তুলে ধরা হলো।

    ১. জেমস প্যাটারসন
    জেমস প্যাটারসন সম্ভবত এখন বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রহস্যোপন্যাস লেখক। তাঁর অ্যালেক্স ক্রস সিরিজের নাম শোনেননি এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি এখন পর্যন্ত শতাধিক বই লিখেছেন। তাঁর বেশির ভাগ বই চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্যাটারসনের বই ৪০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। লিটারেরি হাব জানয়িছে, জেমস প্যাটারসনের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২. জে কে রাওলিং
    হ্যারি পটার কিংবা জে কে রাওলিং নিয়ে নতুন করে কীই বা বলার আছে। এই একটি সিরিজ রাওলিংকে জীবিত কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তাঁকে এনে দিয়েছে অর্থ,খ্যাতি ও প্রতিপত্তি। হ্যারি পটার থেকে এখন পর্যন্ত ৮টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি চলচ্চিত্র পেয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। লিটারারি হাব বলছে, জে কে রাওলিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার।

    ৩. স্টিফেন কিং
    স্টিফেন কিংয়ের পাঠকদের বলা হয় ‘একনিষ্ঠ ভক্ত’। কারণ তারা সব সময় কিংয়ের বইয়ের জন্য মুখিয়ে থাকেন এবং বই প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়ে যায়। স্টিফেন কিংয়ের প্রকৃত নাম রিচার্ড বাচম্যান। ১৯৭৪ সালে লেখালেখিতে প্রবেশ করার পর ‘স্টিফেন কিং’ ছদ্মনাম নেন তিনি। প্রতি ২০ সপ্তাহ পর পর একটি করে বই প্রকাশ করতে শুরু করেন। ভৌতিক উপন্যাস লেখাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন স্টিফেন কিং। এখন ভৌতিক উপন্যাস বলতেই পাঠক স্টিফেন কিংকে বোঝেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭০ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার।

    ৪. ড্যানিয়েল স্টিল
    গত কয়েক দশক ধরেই রোমাঞ্চ উপন্যাস বিক্রির শীর্ষে রয়েছে ড্যানিয়েল স্টিলের বইগুলো। তিনি ১৯৭৩ সালে লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে ১৮০টির বেশি বই লিখেছেন। বিশ্বব্যাপী তাঁর বইগুলো ৮০ কোটির বেশি বিক্রি হয়েছে। আর তাঁর উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র হয়েছে ২৩টি। লিটারেরি হাব বলছে, ড্যানিয়েল স্টিলের সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৫. জন গ্রিশাম
    আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ জন গ্রিশাম। জন গ্রিশাম আইনবিষয়ক থ্রিলার লিখে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে আ টাইম টু কিল, দ্য ফার্ম ও দ্য রেইনমেকার। গ্রিশামের সব কটি বই থেকেই চলচ্চিত্র হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তাঁর বই ৩০ কোটির বেশি বিক্রি হয়েছে। গ্রিশামের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।

    ৬. জেফি কিনি
    বর্তমান সময়ের শিশুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বইটির নাম ডায়েরি অব আ উইম্পি কিড। এই সিরিজ লিখেই রাতারাতি তারকা বনে গেছেন এবং বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন জেফি কিনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৭. ই এল জেমস
    টোয়াইলাইট-এর ফ্যানফিকশন হিসেবে ফিফটি সেশড অব গ্রে লেখা শুরু করেছিলেন ই এল জেমস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। এরপরই তো বাজিমাত। টোয়াইলাইট–এর জনপ্রিয়তাকেও ছাড়িয়ে যেতে বসেছে ফিফটি শেডস অব গ্রে। টিকটকের বুকটকে এখন সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস এটি। ই এল জেমসের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৪৬ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৮. জেনেট ইভানোভিচ
    ১৯৭০-এর দশকে লেখালেখির জগতে পা রেখেছিলেন জেনেট ইভানোভিচ। তবে তিনি প্রথম সফলতার দেখা পান ১৯৯৪ সালে ওয়ান ফর দ্য মানি উপন্যাসের মাধ্যমে। এর সাফল্য এতটাই আকাশচুম্বী হয় যে তিনি এই রহস্যোপন্যাস সিরিজ লিখতে বাধ্য হন। এই সিরিজের সর্বশেষ উপন্যাস ডার্টি থার্টি ২০২৩ সালের হ্যালোইনে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪২ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৯. নোরা রবার্টস
    জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রায়ই দন কিহোতের সঙ্গে তুলনা করা হয় নোরা রবার্টসকে। বলা হয়, তিনি ক্রমশ নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। রোমাঞ্চ-ফ্যান্টাসি-রহস্য ঘরানার এই লেখক ‘জে ডি রব’ নামেও লিখে থাকেন। এই ছদ্মনামে তাঁর রহস্য সিরিজ ইন ডেথ প্রকাশিত হয়। এখন পর্যন্ত ২৩০টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন নোরা বরার্টস। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা তাঁকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী লেখকে পরিণত করেছে।

    ১০. সুজানে কলিনস
    দ্য হাঙ্গার গেমস ট্রিলজির জন্য বিখ্যাত হয়ে গেছেন সুজানে কলিনস। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত এই সিরিজ থেকে চারটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তাঁর আরেকটি উপন্যাস দ্য ব্যালাড অব সংবার্ডস অ্যান্ড স্নেকস থেকেও ২০২৩ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। সুজানে কলিনসের সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ১১. ড্যান ব্রাউন
    দ্য ভিঞ্চি কোড নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এর লেখক ডন ব্রাউনকে নিয়েও নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ভিঞ্চি কোড ও ড্যান ব্রাউন বিশ্বজুড়ে এতটাই জনপ্রিয় যে ফুটপাতের দোকানিরাও তাঁকে চেনেন। আমাদের দেশেও ভিঞ্চি কোড নিয়ে মাতম কম নয়। ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সারা জাগানো দ্য ভিঞ্চি কোড। উপন্যাসটি এখনো বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বইগুলোর একটি। এ পর্যন্ত দুবার চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে দ্য ভিঞ্চি কোড। আর বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয়েছে ২৫ কোটির বেশি কপি। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

    ১২. দন কিহোতে
    এমন কোনো বইয়ের দোকান সম্ভবত পাওয়া যাবে না, যেখানে দন কিহোতের রহস্য উপন্যাস নেই। ১৯৬৮ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে যাচ্ছেন কিহোতে। এ পর্যন্ত ১১০টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। আর তাঁর প্রতিটি বই তুমুল পাঠকপ্রিয়। সেলিব্রেটি নেটওর্থের বরাত দিয়ে লিটারেরি হাব বলছে, দন কিহোতের বর্তমান সম্পদ ২০ কোটি মার্কন ডলার।

    ১৩. রিক রিঅর্ডান
    মামুলি এক স্কুল শিক্ষক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী লেখক বনে গেছেন রিক রিঅর্ডান। গত শতকের ৯০-এর দশকের শেষের দিকে একটি ক্রাইম থ্রিলার লিখতে শুরু করেছিলেন তিনি। সেটি শেষ হয় ২০০৫ সালে। কে জানত, বইটি প্রকাশের পর রাতারাতি তাঁর জীবনটাই বদলে যাবে? উপন্যাসটির নাম দ্য লাইটনিং থিফ। প্রকাশের পরপরই মুড়িমুড়কির মতো বিক্রি হতে থাকে বইটি। মার্কিন শিশুদের জীবনে গ্রিক, রোমান আর মিসরীয় পুরাণের অনবদ্য মিশেলের কারণেই হয়তো বইটি চূড়ান্তভাবে আকর্ষণ করেছিল পাঠকদের। রিক রিঅর্ডানের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি মার্কিন ডলার।

    ১৪. স্টিফেন মেয়ার
    ২০০৫ সালে একটি বই সারা বিশ্বের কিশোর-তরুণদের মধ্যে ঝড় তুলেছিল। বইটির নাম টোয়াইলাইট। এই একটি বই স্টিফেন মেয়ারকে তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছে। আর দিয়েছে প্রভূত অর্থ-প্রতিপত্তি। এরপর মেয়ার আরও তিনিট উপন্যাস এবং পাঁচটি চিত্রনাট্য (চলচ্চিত্রের) লিখেছেন। তাঁর লেখালেখি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল ভক্তশ্রেণি। গত ৮ বছরে শুধু বই লিখে মেয়ার আয় করেছেন ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১২ কোটি মার্কিন ডলার।

    ১৫. কেন ফলেট
    দ্য পিলার্স অব দ্য আট বইয়ের নাম শোনেননি এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই একটিমাত্র বই কেন ফলেটের জীবনকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে বইটি লিখেছিলেন কেন ফলেট। বিশ্বব্যাপী তাঁর বই বিক্রি হয় ১৬ কোটি কপি। ১ ডলার করে রয়্যালটি নিলেও তাঁর বছরে রয়্যালিটি দাঁড়ায় ১৬ কোটি ডলার। সন্দেহের কোনো কারণ নেই, ফলেট এর চেয়ে বহুগুণ বেশি র​য়্যালটি পেয়ে থাকেন। লিটারেরি হাব বলছে, কেন ফলেটের বর্তমান সম্পদ ৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।

  • বুকারের দীর্ঘ তালিকায় দক্ষিণ ভারতীয় বানু মুশতাক

    বুকারের দীর্ঘ তালিকায় দক্ষিণ ভারতীয় বানু মুশতাক

    দীপা ভাস্তির ইংরেজিতে অনুবাদ করা কন্নড় ভাষার লেখক বানু মুশতাকের ছোটগল্পের সংকলন হার্ট ল্যাম্প ২০২৫ সালের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকাভুক্ত হয়েছে।

    দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীদের জীবনের গল্প ফুটিয়ে তোলায় সংকলনটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটিকে কন্নড় সাহিত্যের জন্য একটি মাইলফলক বলে মনে করছেন অনেকে।

    দীর্ঘ তালিকা থেকে বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা হয় ৮ এপ্রিল। এরপর আগামী ২০ মে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

    ৭৭ বছর বয়সী বানু মুশতাক দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। ১৯৭০ দশকে বন্দয়া সাহিত্য আন্দোলন থেকে উদ্বুব্ধ হয়ে সাহিত্যজীবন শুরু করেন তিনি। তাঁর লেখায় বর্ণ ও শ্রেণি নিপীড়নের কথা উঠে এসেছে বেশি।

    বুকারে মনোনয়ন পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি। তবে সমাজের বৈষম্য নিয়ে আমার আরও লেখা দরকার।’ আর বিচারকদের মতে, হার্ট ল্যাম্প হলো দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের নারী ও মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি।

  • কাঁদো মুসলিম জাহান | সিবগাতুর রহমান

    কাঁদো মুসলিম জাহান | সিবগাতুর রহমান

    কাঁদো মুসলিম জাহান

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    ব্যথাতুর ওই হৃদয়টা উজাড় করে
    আজ তোমার ভাইয়ের জন্য কাঁদো।
    যে শিশুটি আজই জন্ম নিয়েছিল
    একটি বারও যার দেখা হয়নি
    দীর্ঘ নয়মাস আপন জঠরে নিরাপদে
    আগলে রাখা দুঃখিনী মায়ের মুখ,
    সেই অবুঝ শিশুটির জন্য কাঁদো।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    প্রত্যেক মুসলমান তো ভাই-ভাই;
    যার জন্য বিলাপ করে বুক ভাসাবে
    নির্মম-নিষ্ঠুরতায় ঠাসা এ দুনিয়ায়;
    এমন আপনজন আর কেউ নেই।
    মমতায় দু’ফোটা জল ফেলার মতো
    আপন কোনো চোখ আর বাকি নেই।
    তোমার সেই ভাইয়ের জন্য কাঁদো।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    মা-বোনের ক্ষুধা নিবারণে রিলিফের
    গাড়ির আশায় পথ চেয়ে বসে থাকা
    নিষ্পাপ শিশুটির রক্তাক্ত ছিন্নভিন্ন
    নিথর দেহের টুকরো দেখে কাঁদো।
    মানব ধর্মের তীর্থভূমি মৃত্যু নগরীতে
    পরিণত হওয়া অচেনা অচিন্তনীয়
    ধ্বংসস্তূপের অবয়ব দেখে কাঁদো।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    সাত আসমান আর সাত জমিন
    বিদীর্ণ করা চিৎকার দিয়ে কাঁদো।
    তোমার এই চিৎকারে কেঁপে উঠুক
    সর্বশক্তিমান খোদার আরশ।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

  • বৈশাখ নিয়ে বিপুল চন্দ্র রায়ের দুই কবিতা

    বৈশাখ নিয়ে বিপুল চন্দ্র রায়ের দুই কবিতা

    হে বৈশাখ

    • হে বৈশাখ তুমি
      অনন্ত প্রকৃতির অবিশ্রান্ত প্রকাশ।
      হে বৈশাখ তোমার অভিষেকে
      তৃষ্ণাকাতর হাজার বুক;
      মেটাও তৃষ্ণা লাগুক পানির সুখ।
      উঠুক ঝড় বুকের মধ্যে
      ঝরুক কালবৈশাখী ঝড়।
    • হে মহাকাল!
      কাল বৈশাখের তাণ্ডবে কাঁপে
      অত্যাচারীর দল।
      আমি সেই বৈশাখ
      নবরূপে নতুন সাজে বৈশাখ।

    নব দীপ্ত সন

    • যতই আসুক নব দীপ্ত সন,
      পুরোনোকে বিদায় দিতে চায় না মন।
      পুরোনা বছর সব স্মৃতি আজ
      হৃদয় ফ্রেমে তুলে রাখা ছবি।
      নতুন ভোরে নতুন আলোয়,
      নতুন রবির আবির্ভাব তিথি।
      নতুন আলোয় আলোকিত,
      জীবনের নব অধ্যায় আজি।