Category: সাহিত্য

  • ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ইতিহাসে, স্মৃতিতে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

    ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ইতিহাসে, স্মৃতিতে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ইতিহাসে, স্মৃতিতে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও আলোচনাপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকাল চারটায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বইটির প্রকাশনা উপলক্ষে এ আলোচনাপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম।

    প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গলবুকসের উদ্যোগে এতে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম; বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও অনুবাদক অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস; বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, লেখক ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ; কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল; তরুণ লেখক ও গবেষক কাজী সামিও শীশ এবং বেঙ্গলবুকসের প্রকাশক ও ‘বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস)’ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান।

    আলোচকরা তাদের আলোচনায় বইটি নিয়ে বলেন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ইতিহাসে, স্মৃতিতে বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা, বিকাশ ও সমাজ- রাজনীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে এক গভীর বিশ্লেষণ। লেখক এখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও ঐতিহাসিক তথ্যকে তুলে ধরেছেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে। এতে রয়েছে ঔপনিবেশিক শিক্ষানীতি, রাষ্ট্রচেতনার বিকাশ ও বুদ্ধিজীবী সমাজের গতিপথের স্পষ্ট অনুধাবন। সংযত অথচ স্পষ্ট ভাষায় রচিত এ বইটি ইতিহাস, শিক্ষা ও সমাজচিন্তার আন্তঃসম্পর্ক বোঝার এক নির্ভরযোগ্য সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।

    বেঙ্গলবুকসের প্রকাশক মাহমুদুল হাসান, আমরা দেখেছি যে, দেশে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সৃজনশীল বই পাঠের অভ্যাস তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে আমরা শিশুদের জন্য কিন্ডারবুকস চালু করি, যাতে তারা গল্প-ছড়ার মাধ্যমে শৈশবেই পড়ার আনন্দ আবিষ্কার করতে পারে।

  • অনন্যা সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন মহুয়া রউফ

    অনন্যা সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন মহুয়া রউফ

    দেশের শীর্ষস্থানীয় নারীভিত্তিক ম্যাগাজিন পাক্ষিক অনন্যার আয়োজনে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হলো অনন্যা সাহিত্য পুরষ্কার-১৪৩২ প্রদান অনুষ্ঠান। এবছর এই পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন ভ্রমণবিষয়ক লেখক ও ভূপর্যটক মহুয়া রউফ।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এই পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

    পাক্ষিক অনন্যা ও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. তানজিনা হোসেন ও কবি পিয়াস মজিদ। তারা মহুয়া রউফের লেখার ওপর আলোচনা করেন।

    তাসমিমা হোসেন বলেন, এই প্রথম অনন্যা ভ্রমনবিষয়ক লেখককে পুরষ্কৃত করলো। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে খুব কম এমন লেখিকা পাওয়া যাবে। ভ্রমণের মধ্যে মহুয়া নতুন আংগিক এনেছে। কিভাবে একটা লেখাকে শিক্ষনীয় করা যায় তা মহুয়া রউফের লেখা পড়লে বোঝা যায়। তার লেখনিতে ভাষাশৈলী ও গরীর জ্ঞ্যান দারুনভাবে উঠে এসেছে।

    বক্তারা বলেন, মহুয়া রউফ তার প্রথম বই ‘দখিন দুয়ার খোলা’-তে অ্যান্টার্কটিকার দুর্গম অভিযাত্রার রোমাঞ্চকে তুলে এনেছেন নতুন দৃষ্টিতে।

    দ্বিতীয় বই ‘লাতিনের নাটাই’ পাঠককে নিয়ে গেছে মায়া-ইনকা সভ্যতার বিস্ময়, নেরুদার কবিতার সুর আর লাতিন সংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্যের ভেতরে।

    তার ভ্রমণগদ্য মানুষের জীবন, ইতিহাস, প্রকৃতি আর স্মৃতির ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক নবতর আলোকরেখা। এভাবে তিনি বাংলা ভ্রমণসাহিত্যকে দিয়েছেন কৌতূহলোদ্দীপক ভিন্নতর বৈশিষ্ট্য।

    বক্তারা আরও বলেন, মহুয়া রউফ গবেষক হিসেবে বহু দিনে ধরে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে ছুটে গেছেন পৃথিবীর দূরতম বিচিত্র অঞ্চলে। আর সেই পথচলার মধ্যেই জন্ম নিয়েছে তার লেখকসত্তা। একাকী ভ্রমণ তাঁর কাছে শুধু স্বাধীনতার অনুশীলন নয়-এ এক অপার আত্মবিশ্বাস। ইউরোপের ব্যস্ত নগরী থেকে লাতিন আমেরিকার উন্মাতাল সংস্কৃতি, আবার সোজা পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের বরফমহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা-সবখানেই তিনি হেঁটেছেন নিজের কৌতূহল আর জেদকে সঙ্গী করে।

    এর আগে অনুষ্ঠানে পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখকের ওপর তাপস কুমার দত্ত নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। পরে তাকে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।

    সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নারী সাহিত্যিকদের ১৯৯৩ সাল (বাংলা ১৪০১ সন) থেকে ৩২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অনন্যা সাহিত্য পুরষ্কার দেওয়া হচ্ছে।

  • ‘ঐতিহ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’ সম্পন্ন

    ‘ঐতিহ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’ সম্পন্ন

    বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল ২০২৫’–এর বিশেষ আয়োজন ‘ঐতিহ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রজতজয়ন্তীর উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রতিযোগিতায় শিশু শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ‘ক’ ও ‘খ’—এই দুই বিভাগে অংশ নেয়। শিশুদের সৃজনশীলতা, রং ব্যবহারের দক্ষতা ও বিষয়বস্তুর উপস্থাপন দেখে বিচারকমণ্ডলী মুগ্ধ হন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ আব্দুল মোমেন মিজান, সহযোগী অধ্যাপক, কারুশিল্প বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাদিয়া শারমিন, কারুশিল্পী ও শিশু শিল্প নির্দেশক।

    বক্তৃতায় বিচারকরা শিশুদের অঙ্কন দক্ষতা ও বিষয় নির্বাচনের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও তোমরা সুন্দর এঁকেছ। আমরা অভিভূত, আমরা আনন্দিত। তোমাদের ভবিষ্যৎ দীপ্তময় হোক, সেই আশা রাখি।

    দুজন বিচারক অংশগ্রহণকারীদের কাজ পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিভাগে ১ম থেকে ১০ম স্থান পর্যন্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

    প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ। এছাড়া প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে দেওয়া হয় অংশগ্রহণ সনদ, যা ছোটদের মাঝে বাড়িয়ে তোলে আনন্দ ও প্রেরণা।

    রজতজয়ন্তীর এ বিশেষ আয়োজনে শিশুদের প্রবল অংশগ্রহণ ও তাদের অভিভাবক–শিক্ষকদের সহযোগিতা অনুষ্ঠানটিকে করে তুলেছে আরও সফল এবং প্রাণবন্ত। আমরা আশা করছি আগামী বছরগুলোতেও শিশুদের জন্য এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একক প্রকাশনা হিসেবে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার বই ছেপেছে ঐতিহ্য। বুক কার্নিভালে এই বছর ঐতিহ্যের প্যাভিলিয়নে থাকবে ২৫+ নতুন বই, ২৫০০+ বই ও ২৫টি রচনাবলি এবং সর্বোচ্চ ৭১% পর্যন্ত ছাড়সহ নানা অফার ও উপহার। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে—ঐতিহ্য প্রকাশিত রচনাবলির আলাদা খÊ নামমাত্র মূল্যে (মাত্র ৫০ থেকে ৩০০ টাকায়) কেনার সুবর্ণ সুযোগ।

    কার্নিভালে অংশ নিচ্ছে—ইসলামি বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ইলহাম’, শিশুতোষ বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘কাকাতুয়া’, বাংলাদেশের ইংরেজি সাহিত্যের একমাত্র প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিপারমার্ক’ ও নান্দনিক  নোটবুক ও বুকমার্ক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘নু বুকস বাই নুবাহা’। তাদের বই, নোটবুক ও বুকমার্কেও বিশেষ ছাড় থাকবে। এছাড়াও অংশ নিবে বই বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘নির্বাচিত’। নির্বাচিত’তে মজুদ থাকা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সকল প্রকাশনীর বইয়ে থাকবে ৩০% পর্যন্ত ছাড়। মজুদ বিদেশি বইয়ে (বাংলা, ইংরেজি) প্রদত্ত মূল্যের উপর ১৫% পর্যন্ত ছাড়ও থাকছে।

    ঐতিহ্যের ২৫ বছরের যাত্রায় প্রায় ১০০০+ লেখক যুক্ত হয়েছেন আমাদের সাথে। এছাড়াও তরুণদের উৎসাহিত করতে ৩০০+ লেখকের ১ম বইয়ের প্রকাশকও ঐতিহ্য। লেখকদের সৃষ্টিশীলতা, পরিশ্রম ও মমতায় ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই আমাদের সব লেখককে একত্রিত করতে আগামীকাল ১৫ নভেম্বর ২০২৫, শনিবার আমরা আয়োজন করছি ‘ঐতিহ্য রাইটার্স ডে’।

    এছাড়াও থাকছে ফোক মেহফিল, রিডার্স ক্লাব ডেসহ নানান আয়োজন।

  • ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র লেখক কি আসলেই শেখ মুজিবুর রহমান: তথ্য-উপাত্ত কী বলছে

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র লেখক কি আসলেই শেখ মুজিবুর রহমান: তথ্য-উপাত্ত কী বলছে

    সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিকথা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির লেখক তিনি নন, এটি লিখেছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। আইজিপি হওয়ার জন্যই তিনি এই বই সংকলন করেন এবং এতে তাঁর সঙ্গে আরও ১২৩ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের বরাতে খবরগুলোতে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যাঁরা কাজটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে এক কোটি টাকাসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছিল বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়। খবর বাংলা স্ট্রিম’র। 

    এই সংবাদ যেমন চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে, তেমনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকেই।

    তাঁরা বলছেন, শেখ মুজিবুর রহমানই যে এই বইয়ের লেখক, তা বইয়ের সঙ্গে থাকা তাঁর হাতের লেখা দেখেই বোঝা যায়। আর এখানে যেভাবে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের বিশদ বর্ণনা আছে, প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়া তা অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।’

    কিন্তু এর পরেও কারও কারও সন্দেহ যে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র লেখক কি আসলেই শেখ মুজিবুর রহমান —বিশেষত, এত দিন পরে প্রায় কাছাকাছি সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যম যখন একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলছে, বইটি সংকলক জাবেদ পাটোয়ারী এ কাজ করেছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি থেকে আইজিপি হওয়ার জন্য?

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বের হয় ২০১২ সালের ১৯ জুন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে প্রকাশিত এ বই বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাঠকের দৃষ্টি কাঁড়ে। তখনো কেউ কেউ এমন বলেছিলেন, বইটি আদৌও শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা কি না। পরে বইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবের ছেলেবেলা, কলকাতায় বসবাস ও পাকিস্তান আন্দোলন প্রসঙ্গে যে সবিস্তার খুঁটিনাটি বর্ণনা রয়েছে, তাতে সবাই স্বীকার করেন, বইয়ের লেখক আসলে শেখ মুজিবুর রহমানই।

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত স্মৃতিচারণ লিখেছেন শেখ মুজিব। এতে শৈশব থেকে শুরু করে উঠে এসেছে ইসলামীয়া কলেজে পড়ার সময় তাঁর কলকাতা-যাপন, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অনুপুঙ্খ বর্ণনা।

    বইয়ের ভূমিকা অংশ থেকে জানা যায়, ১৯৬৬ থেকে ‘৬৯ পর্যন্ত কারাগারে রাজবন্দী হিসেবে অন্তরীণ থাকার সময় খাতায় নিজের স্মৃতিকথা লিখতে শুরু করেন শেখ মুজিব। এর অনেককাল বাদে ২০০৪ সালের পর চারটি খাতা পান শেখ মুজিবের পরিবার। ওই চারটি খাতাই ছিল ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি। বইয়ের ভূমিকায় লেখা হয়েছে, ‘খাতাগুলোর পাতা হলুদ, জীর্ণ ও খুবই নরম হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় লেখাগুলো এত ঝাপসা যে পড়া খুব কঠিন।’

    এই খাতা থেকেই প্রয়াত সাংবাদিক বেবী মওদুদের সহায়তায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র লেখাগুলো উদ্ধার করেন শেখ মুজিবের উত্তরসূরিরা। খাতার যেসব জায়গায় লেখা অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ওই সব স্থানে সহায়তা নেওয়া হয় ম্যাগনেফাইং গ্লাসের। পরে খাতা থেকে লেখাগুলো কম্পিউটার কম্পোজ করে বইয়ের উপযোগী করা হয়। ভূমিকায় আরও লেখা হয়, লোকসংস্কৃতিবিদ প্রয়াত শামসুজ্জামান খান ও বেবী মওদুদ পাণ্ডুলিপি প্রুফ দেখা, টিকাভাষ্য তৈরি করার কাজটি করেন। আর এই বই প্রকাশে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ইতিহাসবিদ এ এফ সালাহ্‌উদ্দীন আহমদ।

    বইয়ের সম্পাদনা প্রসঙ্গে ভূমিকায় লেখা হয়েছে, ‘আমাদের খুব বেশি সম্পাদনা করতে হয়নি। কিছু শব্দ ও ভাষার সাবলীলতা রক্ষার জন্য সামান্য কিছু সম্পাদনা করতে হয়েছে।’

    ভূমিকা থেকে বোঝা যাচ্ছে, শেখ মুজিব যেভাবে লিখেছিলেন, সেভাবেই প্রকাশিত হয় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। আর এটি পড়লেও বোঝা যাবে, একদা মুসলিম লীগের সক্রিয় কর্মী শেখ মুজিব এখানে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ সম্মেলন’-এ মোহম্মদ আলী জিন্নাহকে দেখে উদ্বেলিত হয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে কর্মীর চোখে একজন নেতার ছবিই ফুটে উঠেছে। বইয়ের ২৫ পৃষ্ঠায় আছে, ‘প্রথম দিন কনফারেন্স হয়ে যাওয়ার পরে মোহম্মদ আলী জিন্নাহকে হাতির পিঠে নিয়ে এক বিরাট শোভাযাত্রা বের হলো। আমরাও সাথে সাথে রইলাম।’

    বইয়ে শুধু জিন্নাহর কথা নয়, আছে পরবর্তী জীবনে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফজলুল কাদের চৌধুরীর কথাও।

    মুজিব তাঁর আত্মজীবনীর ছত্রে ছত্রে মুসলিম লীগের কর্মী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাই এ আত্মজীবনী মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী সংকলিত, কথাটি মানতে নারাজ সচেতন পাঠকেরা। তাঁদের কথা, এখানে এমন অনেক প্রসঙ্গ আছে যা স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগের বিপরীত বয়ান ধারণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বাঙালি জাতীয়তাবাদকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

    এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, ‘এ বইয়ে মুজিব যেভাবে পাকিস্তান আন্দোলন, জিন্নাহসহ মুসলিম লীগের বিভিন্ন নেতার স্মৃতিচারণ করেছেন, আওয়ামী লীগের অন্য কেউ এভাবে বলেন না, কখনো বলবেনও না। কারণ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো পাকিস্তান আন্দোলনকে এক অর্থে অস্বীকারই করেই গড়ে উঠেছে। ফলে এ বই যে মুজিবই লিখেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

    এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যে বলা হলো জাবেদ পাটোয়ারী কাজটি করেছিলেন আইজিপি হওয়ার জন্য। তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে। আওয়ামী লীগ তখন শাসন ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে জাবেদ পাটোয়ারী কীভাবে বইটি সংকলন করলেন? এমনকি ২০১২ সালে এটি যখন প্রকাশিত হয়, তখনো তিনি শীর্ষতম পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন নন। তিনি আইজিপি হয়েছেন ২০১৮ সালে। তাই সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এ কথা বলেছেন যে অনর্থক বিতর্ক এবং কোনো মহলের কূট উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই কি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে?

  • কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ও ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের জন্মদিন আজ

    কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ও ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের জন্মদিন আজ

    খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ও ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট)। এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানীতে জহির রায়হান ফিল্ম ইনস্টিটিউট আয়োজন করছে বিশেষ অনুষ্ঠান।

    ‘বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের দর্শন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক এ আয়োজনে থাকবে প্রবন্ধ উপস্থাপন, আবৃত্তি, সংগীত, আলোচনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং জহির রায়হানের ছেলে অনল রায়হান।

    অনুষ্ঠানটি আজ বিকেল ৫টায় ধানমন্ডির ক্যাফে ভিনটেজ, ভিনটেজ কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হবে।

    বলা প্রয়োজন, ১৯৩৫ সালে ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষণজন্মা এ মানুষটি। তিনি তার ঘটনাবহুল জীবনে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় উপন্যাস লিখে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার রচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আর কয়টা দিন’, ‘কয়েকটি মৃত্যু’, ‘তৃষ্ণা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘আরেক ফালগুন’, ‘বরফ গলা নদী’ প্রভৃতি। এসব উপন্যাস তাকে ঔপন্যাসিক হিসেবে পাঠকপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

    এরমধ্যে তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও বেশ আলোচনায় আসেন। যে চলচ্চিত্রগুলো তাকে অমর করে রেখেছে আজও। ১৯৬১ সালে তিনি পরিচালনায় আসেন ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রটির মধ্য দিয়ে। তারপর একে একে উপহার দেন ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘সংগ্রাম’, ‘বাহানা’ (১৯৬৫), ‘বেহুলা’ (১৯৬৬), ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৬), ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮), ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৬৯), ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ (১৯৭০) প্রভৃতি। এসব ছবি বাংলা চলচ্চিত্রের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এখনও।

    এছাড়া ১৯৬২ সালে কলিম শরাফীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন ‘সোনার কাজল’ ছবিটি। সেই সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলিষ্ঠ হাতে। ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে যেমন স্মরণীয় ঠিক তেমনি তার নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য দলিল স্বরূপ বিবেচনা করা হয়। তার নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘বার্থ অব এ নেশন’ ও ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বিখ্যাত আমতলার বৈঠক, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তিনি তার ক্যামেরায় পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের নৃশংসতার চিত্র ধারণ করে আনেন, যা দিয়ে পরে প্রামাণ্যচিত্রগুলো তৈরি করেন। ইতিহাসের এ স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব প্রথম জীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫০ সালে ‘যুগের আলো’ পত্রিকায়। ১৯৫৬ সালে দৈনিক প্রবাহ’র সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব।

    উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মৃতদেহ মিরপুরের বধ্যভূমিতে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি তার।

  • একটি ক্ষেপণাস্ত্র, একটি জীবনের সমাপ্তি

    একটি ক্ষেপণাস্ত্র, একটি জীবনের সমাপ্তি

    ‘আমি পুড়ে যাই,
    আমি বিবর্ণ হয়ে যাই,
    আমি এক নীরব তারা হয়ে উঠি,
    যে তোমার আকাশে ধোঁয়া হয়ে যায়…’

    নিজের নোট বইয়ে ইরানের তরুণ কবি পারনিয়া আব্বাসির লেখা শেষ কয়েকটি পঙতি। আর ক’দিন পরেই নিজের ২৪তম জন্মদিন পালন করতেন তিনি। কিন্তু ইসরাইলের এক হামলায় ২৩-এই থেমে গেছে তার কলম। গত শুক্রবার ভোরে তেহরানে পারনিয়ার পরিবারের সব সদস্য নিহত হয়েছেন।

    পারনিয়ার বান্ধবী মরিয়ম জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি পারনিয়াদের ভবনের ঠিক মাঝখানে আঘাত হানে। যে কারণে ভবনের পুরো একটি অংশ ধসে পড়ে, ভবনের আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

    প্রিয় বান্ধবীর এমন মৃত্যুতে মরিয়ম বাকরুদ্ধ। কান্নাজড়ানো গলায় মরিয়ম জানান, ‘সে সবই ছিল। একজন কবি, একজন শিক্ষক ও একজন কন্যা। মাত্র কয়েক দিন আগে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। ইরানের মেল্লি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় শাখায় নিজের চাকরি ধরে রাখতে সে ভর্তি স্থগিত রেখেছিল।’

    পারনিয়াদের ধসে পড়া ভবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি গোলাপি রঙের ম্যাট্রেস, সেটির এক প্রান্ত রক্তে ভেসে যাচ্ছে, রক্তের ওপর কয়েক গোছা চুল, যেন কংক্রিটের চাদর মুড়ি দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে কেউ।

    ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সবার প্রথমে পারনিয়ার মৃতদেহ বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। এরপর আনা হয় তার ভাই পারহামের মৃতদেহ, ১৬ বছরের এ কিশোরের জীবন সবে শুরু হয়েছিল।

    পারনিয়ার বাবা অবসরে যাওয়া শিক্ষাকর্মী আর মা মেল্লি ব্যাংকের সাবেক কর্মীর মৃতদেহ তখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। কয়েক ঘণ্টা পর ভারী যন্ত্রপাতি এনে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে তাদের মৃতদেহ বের করা হয়।

    মুখে শুধু সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার কথা বললেও আদতে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেনের মতো ইরানেও নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপরই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। তাদের হাতে ফিলিস্তিনের পাঁচ বছরের শিশু হিন্দ রাজাবের ছোট্ট শরীর যেমন গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছিল, তেমনি তরুণ পারনিয়ার কবিতার নোট বইও রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে।

  • বিপুল চন্দ্র রায়ের দুটি কবিতা

    বিপুল চন্দ্র রায়ের দুটি কবিতা

    সোনার দেশে

    হৃদয়ে আঁকা রূপের দেশ,
    সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।

    বৈচিত্র্যময় ষড়ঋতুর দেশ,
    আমার সোনার বাংলাদেশ।

    ফুলের দেশ, ফলের দেশ,
    আমার সোনার বাংলাদেশ।

    নদীর দেশ, মাছের দেশ,
    আমার সোনার বাংলাদেশ।

    বনের দেশ, পাখির দেশ,
    আমার সোনার বাংলাদেশ।

    সম্প্রীতির দেশ, সোনার দেশ,
    আমার সোনার বাংলাদেশ।

    মহাকালের কবি

    ওগো দ্রোহী কবি নজরুল
    তুমি এক মহাকাল।
    সাহিত্যের আসরে
    তুমি এক প্রদীপ্ত মশাল।

    ওগো দ্রোহী কবি নজরুল
    তুমি সংগ্রামী অদম্য বীর।
    তোমার গান কবিতা যত,
    তুমি অমর রবে চিরদিন।

  • স্বদেশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন নজরুল

    স্বদেশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন নজরুল

    কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বদেশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, নজরুল তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনে কোনো অন্যায় বা অপশক্তির সঙ্গে আপোষ করেননি। তিনি চেয়েছেন স্বদেশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। ঔপনিবেশিক বাস্তবতায় বসবাস করেও বিপ্লব বিদ্রোহের আগুনে সবসময় জ্বলন্ত ছিলেন তিনি। নিজের অন্তরের অগ্নি তিনি সম্প্রসারিত করেছেন বাংলা কবিতায় এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের মনের ময়দানে।

    রবিবার (২৫মে) বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নজরুল বিষয়ক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে এই সেমিনার ও নজরুল পুরস্কার ২০২৫ প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি।

    সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, আজম বলেন, নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার উদ্বোধনে অবিকল্প ভূমিকা পালন করেছেন; এটা ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে সমান সত্য। নজরুল ব্যক্তিগত নিভৃতির জায়গা থেকে বাংলা কবিতাকে জনযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ আবেদনে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, নজরুলজয়ন্তীতে আমরা নিশ্চয়ই তাঁর সাহিত্যকে একমাত্রিক বলয় থেকে বেরিয়ে নানা নন্দনতাত্ত্বিক পরিসরে পাঠ করা শুরু করব।


    নজরুল পুরস্কার-২০২৫ গ্রহণ করছেন গবেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক

    ‘নন্দনের ‘বাঁশরী তূর্য’ অথবা নজরুলের সাহিত্য—চিন্তার কয়েক দিক’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারি সা’দত কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল—এর ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জগলুল আসাদ। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক ও ‘বাঙ্গালা গবেষণা’র পরিচালক আফজালুল বাসার।

    অধ্যাপক জগলুল আসাদ বলেন, নজরুলের সাহিত্য তাঁর অভিজ্ঞতার বিস্তৃত জমিন থেকে উৎসারিত। খণ্ড খণ্ড নজরুল অখণ্ড নজরুলের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। প্রত্যেকেরই আছে টুকরো টুকরো নজরুল, যে নজরুলকে ভার বহন করতে হয় বিবিধ মতাদর্শের ও প্রেমাকুতির। কবি নজরুল তাঁর জীবনকে করেছিলেন বেদনার মতো টলোমলো, আনন্দের মতো চঞ্চলা ও অনিশ্চিত। নজরুলের বিশিষ্টতা হচ্ছে, তাঁকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। মিছিলে বিক্ষোভে ও প্রতিবাদে। তিনি বলেন, পশ্চিমা নন্দনতত্ত্বকে গন্তব্য না করেই নজরুল নির্মাণ করেছিলেন তাঁর নিজস্ব শিল্পভুবন। বাংলাভাষার রমণীয় গীতিময়তার মধ্যে তিনি যোগ করেছেন পৌরুষ। কবিতায় তার ব্যক্তিগত হাহাকারও হয়েছে সকলের।

    নজরুল বিষয়ক সেমিনারে অতিথিরা

    তিনি আরো বলেন, নজরুলে দীর্ঘশ্বাস আছে, প্রার্থনার মত আকুল পঙ্ ক্তি আছে, বিক্ষুব্ধ স্বর আছে, দ্রোহের অগ্নিও আছে, ভাষার তুর্কি নাচন আছে, ছন্দের গীতল ভঙ্গিও আছে। নজরুলে ‘উন্নত শির’ আছে, প্রেয়সীর কাছে ‘নতশির’ সমর্পণ’ও আছে। নজরুল ময়দানের শ্লোগানেও ব্যবহার্য, ব্যক্তিগত নিভৃতিতেও সে সমান চিত্তহারী। একটুকরো অসাম্প্রদায়িক নজরুলকে অনুসন্ধান করবার অভীপ্সা এখনো হাজির প্রথাবদ্ধ—বন্ধ্যা কলমে। বহুমাত্রিক নজরুলের প্রত্যাশাও করে কাব্যমোদী।

    আফজালুল বাসার বলেন, নজরুলকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অবকাশ আছে। তাঁর সাহিত্য ও জীবনের বৈচিত্র্য মানুষের কাছে তাঁকে মূল্যায়নের বিভিন্ন সড়ক তৈরি করেছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এটিই সবচেয়ে বড় সত্য যে তিনি মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্নকে সত্যি করতে সাহিত্যচর্চা করেছেন এবং লড়াইয়ের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

    সাংস্কৃতিক পর্বে রয়েছে নূর হোসেন রানা—এর নির্দেশনা ও পরিচালনায় গীতিনাট্য ‘দেখবো এবার জগৎটাকে’। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী লিজা চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরী। নজরুলগীতি পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, সুমন মজুমদার, আজগর আলীম, ফারাহ দিবা খান লাবণ্য।

    নজরুল পুরস্কার ২০২৫

    বাংলা একাডেমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে গবেষণায় বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক এবং নজরুলসংগীত—চর্চায় প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী শবনম মুশতারীকে নজরুল পুরস্কার ২০২৫—এ ভূষিত করেছে।

    পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় শিল্পী শবনম মুশতারীর পক্ষে তাঁর কন্যা শামারুখ মাহজাবীন টোড়ীর হাতে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং মহাপরিচালক।

    পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জ্ঞাপন করে অধ্যাপক আনোয়ারুল হক বলেন, নজরুল গবেষণা মানেই আমাদের সামগ্রিক শুভবোধ ও মঙ্গলচিন্তার চর্চা। বাংলা একাডেমির এই স্বীকৃতি নজরুল গবেষণায় আমাকে এবং আমার মতো বহু গবেষককে প্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করি।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

  • প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী আজ

    প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী আজ

    দ্রোহ ও প্রেম, হৃদয় ও সংগ্রাম; যার কবিতায় একীভূত হয়ে চিরায়ত উচ্চারণে পাঠককে মুগ্ধ আর প্রাণিত করে চলেছে, সেই কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মদিন আজ। পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে ‘মহাকালের ধূমকেতু’ হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছিল তার। তিনি শুনিয়েছেন আশার বাণী- ‘আসিতেছে শুভ দিন’। জাতির মুক্তিদাতা কবি শোষিতের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাসকের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শুধিতে হইবে ঋণ।’

    কবি নজরুল চিরপ্রেমের, চিরযৌবনের দূত। সাম্যের দূতও তিনি। জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষকেই মহীয়ান হিসেবে দেখেছেন। তার চোখে পুরুষ-রমণীর কোনো ভেদাভেদ ছিল না।

    কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব আর কৈশোরে দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে বেড়ে ওঠা ‘দুখু মিয়া’ পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা-কবি। একদিকে কবিতায় দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ সঞ্চারের জন্য পাঠকের কাছে হয়ে উঠেছেন বিদ্রোহী কবি, আবার প্রেমের অসামান্য কবিতা ও গানের রচয়িতা হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন প্রেমিক কবি হিসেবে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে কবি নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    জাতীয় কবির ১২৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নজরুলের কবিতার মূল বিষয় ছিল মানবতার জয়গান এবং মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার, সাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। নজরুলের অমর সৃষ্টি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছে। তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, গেয়েছেন নারী-পুরুষের সাম্যের বন্দনা। বাণী ও সুরের অমিয় ধারায় ঋদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে।’

    তিনি বলেন, ‘কবি নজরুলের সংগ্রামী জীবন ও তার সৃষ্টি বাংলার মানুষের জন্য আজীবন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।’

    জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে আজ। এ বছর কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান: কাজী নজরুলের উত্তরাধিকার’।

    জাতীয় পর্যায়ে আজ ২৫ মে এবং আগামীকাল ও পরশু এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আজ কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বেলা ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। স্মারক বক্তৃতা করবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

    আগামীকাল সোমবার ২৬ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুল জন্মদিবসে ‘চেতনা ও জাগরণে নজরুল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকীর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ ভোর সাড়ে ৬টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষ।

    বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নজরুলবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানের চর্চা, প্রসার এবং তার জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে গবেষণায় স্বীকৃতি হিসেবে গবেষক ও অধ্যাপক আনোয়ারুল হক এবং সংগীতশিল্পী শবনম মুশতারীকে ‘নজরুল পুরস্কার-২০২৫’ দেবে বাংলা একাডেমি। প্রতিটি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা, সঙ্গে দেওয়া হবে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয়।

  • ঢাবিতে পাণ্ডুলিপি বিষয়ক কর্মশালা শুরু

    ঢাবিতে পাণ্ডুলিপি বিষয়ক কর্মশালা শুরু

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের উদ্যোগে পাণ্ডুলিপি বিষয়ক তিনদিনব্যাপী এক কর্মশালা ও সেমিনার শুরু হয়েছে।

    সোমবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান গ্রন্থাগারের ই-জোনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মশালা ও সেমিনারের উদ্বোধন করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

    সেমিনারে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি: সম্পাদনা ও প্রকাশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-গ্রন্থাগারিক সাদিয়া আফরিন।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান যথাযথভাবে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানব সভ্যতার ইতিহাস পাণ্ডুলিপি থেকেই সংগ্রহ করতে হয়। পাণ্ডুলিপির উপর ভিত্তি করে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে, তাই এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। পাণ্ডুলিপি পাঠোদ্ধারের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এর শিক্ষা সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত বিভিন্ন দুর্লভ পাণ্ডুলিপির জ্ঞান দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিনিময় করতে হবে।

    উল্লেখ্য, এই কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।