কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ও ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের জন্মদিন আজ

খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ও ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট)। এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানীতে জহির রায়হান ফিল্ম ইনস্টিটিউট আয়োজন করছে বিশেষ অনুষ্ঠান।

‘বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের দর্শন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক এ আয়োজনে থাকবে প্রবন্ধ উপস্থাপন, আবৃত্তি, সংগীত, আলোচনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং জহির রায়হানের ছেলে অনল রায়হান।

অনুষ্ঠানটি আজ বিকেল ৫টায় ধানমন্ডির ক্যাফে ভিনটেজ, ভিনটেজ কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হবে।

বলা প্রয়োজন, ১৯৩৫ সালে ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষণজন্মা এ মানুষটি। তিনি তার ঘটনাবহুল জীবনে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় উপন্যাস লিখে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার রচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আর কয়টা দিন’, ‘কয়েকটি মৃত্যু’, ‘তৃষ্ণা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘আরেক ফালগুন’, ‘বরফ গলা নদী’ প্রভৃতি। এসব উপন্যাস তাকে ঔপন্যাসিক হিসেবে পাঠকপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

এরমধ্যে তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও বেশ আলোচনায় আসেন। যে চলচ্চিত্রগুলো তাকে অমর করে রেখেছে আজও। ১৯৬১ সালে তিনি পরিচালনায় আসেন ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রটির মধ্য দিয়ে। তারপর একে একে উপহার দেন ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘সংগ্রাম’, ‘বাহানা’ (১৯৬৫), ‘বেহুলা’ (১৯৬৬), ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৬), ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮), ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৬৯), ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ (১৯৭০) প্রভৃতি। এসব ছবি বাংলা চলচ্চিত্রের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এখনও।

এছাড়া ১৯৬২ সালে কলিম শরাফীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন ‘সোনার কাজল’ ছবিটি। সেই সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলিষ্ঠ হাতে। ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে যেমন স্মরণীয় ঠিক তেমনি তার নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য দলিল স্বরূপ বিবেচনা করা হয়। তার নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘বার্থ অব এ নেশন’ ও ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বিখ্যাত আমতলার বৈঠক, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তিনি তার ক্যামেরায় পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের নৃশংসতার চিত্র ধারণ করে আনেন, যা দিয়ে পরে প্রামাণ্যচিত্রগুলো তৈরি করেন। ইতিহাসের এ স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব প্রথম জীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫০ সালে ‘যুগের আলো’ পত্রিকায়। ১৯৫৬ সালে দৈনিক প্রবাহ’র সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মৃতদেহ মিরপুরের বধ্যভূমিতে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি তার।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *