Tag: এনসিপি

  • বাংলাদেশে আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই : এনসিপি নেতা

    বাংলাদেশে আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই : এনসিপি নেতা

    ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছি। বিগত ১৬-১৭ বছর কেউ এ নেতৃত্ব দিতে পারেনি। এটি একটি রাজনৈতিক বিপ্লব। কেউ যদি বলে যে শিক্ষার্থীরা তাদের কাজ শেষ করেছে, তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাক। আমরা বলব, ১৬ বছরের একজন মাফিয়াকে হটাতে পারছি। আমাদের বুঝ দিয়ে আবার যদি কেউ মাফিয়া হয়ে উঠতে চায়; আমরা তাদের বলব, এখন বাংলাদেশে যদি বড় মাফিয়া থাকে, আমরাই হচ্ছি বড় মাফিয়া। আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই।’

    সোমবার (৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও বেসরকারি কারা পরিদর্শক জোবাইরুল আলম মানিক। তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করলে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ে।

    বক্তব্যে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘কেউ যদি আবার জাবেদ হতে চায় (সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী), আমাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়, তাহলে আমরা আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের মতো শহীদ হয়ে তাদের রুখে দেব। সংখ্যা চিন্তা করার দরকার নেই। ১৮ জুলাই আমরা ২০-২৫ জন শাহ আমানত সেতু ব্লক করি। এমন কমসংখ্যক ছাত্র–জনতা নিয়ে যদি আমরা আনোয়ারা-কর্ণফুলী থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারি তাহলে এখন কেন পারব না।

    এনসিপি নেতা জোবাইরুল আলম বলেন, ‘কেউ কেউ ভালোবেসে যখন জুলাই–যোদ্ধা বলে, তখন আমরা অনুপ্রাণিত হই। তাই তখন দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। আপনারা হীনম্মন্যতা রাখবেন না। আমরা যারা এখানে আছি, এখান থেকে চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র হবে।’

    এম ইউ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণ-অভ্যুত্থানে আহত মো. জাবেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদুল আলম, এনসিপি নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • ভারতীয় আধিপত্য-ধর্মীয় উগ্রতাসহ ৭ বিষয়ে এনসিপির স্পষ্ট অবস্থান

    ভারতীয় আধিপত্য-ধর্মীয় উগ্রতাসহ ৭ বিষয়ে এনসিপির স্পষ্ট অবস্থান

    বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে মুক্তি পেতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্র কাঠামোর পূর্ণ সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মোড়কে একটি দলীয় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এনসিপির প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য হচ্ছে সেই ফ্যাসিবাদ ভেঙে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।”

    রোববার (১৯ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির পাঠানো এক বিবৃতিতে ৭ বিষয়ে রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “এই রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে হলে শুধু নীতির বদল নয়, প্রয়োজন নতুন সংবিধান। আমরা যে সংবিধান চাই, তা হবে বৈষম্যহীন ইনসাফ, নাগরিক মর্যাদা ও সাম্যভিত্তিক।

    এনসিপির মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। তবে আমরা শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল নয়, বরং তার আদর্শ—সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাকে ধারণ করি। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং বাংলার উপনিবেশবিরোধী ও ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকেও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে মূল্যায়ন করি।”

    • ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির রাজনৈতিক রূপরেখা
      এনসিপির দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ধর্ম রাষ্ট্রের হাতিয়ার নয়, বরং নাগরিকদের আত্মিক অনুভবের বিষয়। নাহিদ বলেন, আমরা ধর্মীয় উগ্রতা ও ইসলামবিদ্বেষ উভয়ের বিরোধিতা করি। এনসিপি ইসলামসহ সব ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও আন্ত সম্প্রীতির নীতিতে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম। এর নৈতিকতা, মানবিকতা এবং বাঙালি মুসলমানের ভাষা-সংস্কৃতি ও জীবনচর্চাকে এনসিপি মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি আমরা সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
    • জাতীয় পরিচয়ের নতুন সংজ্ঞা
      নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জাতি, ধর্ম বা গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে বঙ্গীয় বদ্বীপের সভ্যতাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। এনসিপির জাতীয়তাবাদ হবে বহুস্বর, বহুভাষা ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত।”
    • নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন
      নারীর অধিকারের প্রশ্নে এনসিপি বরাবরই সরব। ঘোষণায় বলা হয়, নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে এনসিপি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে। পারিবারিক আইনের আওতায় সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নেও দলটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
    • আঞ্চলিক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি
      দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ভূরাজনৈতিক আধিপত্য এবং হিন্দুত্ববাদের প্রসঙ্গে এনসিপির অবস্থান অত্যন্ত কড়া। নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশের জন্য সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তাগত হুমকি। এনসিপি এই আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেবে। বাংলাদেশের উচিত ন্যায্যতা, মর্যাদা, সভ্যতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা।
    • অর্থনীতি ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি
      এনসিপি একটি ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পক্ষে। দলটির দৃষ্টিতে শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু, নগর ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান— এসবই রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে থাকা উচিত। ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে ঘিরে একটি নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোন গঠনের ভিশনও রয়েছে এনসিপির। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময় আমাদের কল্পনা করতে হবে একটি নতুন রাষ্ট্র, একটি নতুন সমাজ, যেখানে মানুষ মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবে। সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এনসিপি একটি কাঠামোগত পালাবদলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
  • পরিবারসহ এনসিপি নেতা আখতারকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

    পরিবারসহ এনসিপি নেতা আখতারকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

    পরিবার-পরিজনসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি ) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ মে) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ডাকযোগে আমার গ্রামের বাড়িতে বুলেট নামে এক ব্যক্তি চিঠি পাঠিয়েছেন। আমার পরিবার-পরিজনকে খুন করার হুমকি দিয়েছে। চিঠির প্রেরকের ছদ্মনাম ‘বুলেট’।

    তবে শুক্রবার (১৬ মে) ডাকযোগে তার গ্রামের বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে এ হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডাকযোগে চিঠিটি পান এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের বড় ভাই আরিফ হোসেন। আখতার হোসেনের গ্রামের বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়।

    পোস্টে আখতার উল্লেখ করেন তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরও লিখেছেন চিঠিটি তার বড় পাই পাওয়ার পর থেকে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। যেখানে পাবে সেখানে খুন ও ঝামেলায় ফেলা হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোনাস লাইফ লিড করতেছি। মৃত্যু কয়েকবার কাছে এসে ফিরে গেছে। মরতে হবে জেনেও প্রতিবাদে পিছপা হইনি, কখনও হবো না। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ভরসা।

    বিষয়টি জানতে কথা হয় আখতার হোসেনের বড় ভাই আরিফ হোসেন জানান, আখতারসহ পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

    চিঠিতে লিখেছে, ‘আমাদের গ্রহণ যোগ্যতা নেই, তাই যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। আরিফ হোসেন জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।

  • যুবশক্তির আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

    যুবশক্তির আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের আবরার ফাহাদ এভিনিউতে দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহ্বায়ক কমিটির নতুন নেতাদের নাম ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ্যাড মো. তরিকুল ইসলাম, সদস‍্য সচিব হয়েছেন ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং মুখ‍্য সংগঠক হয়েছেন ইন্জি. ফরহাদ সোহেল।

    জানা গেছে, দলটির আহ্বায়ক কমিটির পূর্নাঙ্গ কমিটি হবে ১৩১ সদস‍্যের।

    এর আগে বিকেলে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    অনুষ্ঠানের মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন স্লোগানের পাশাপাশি মঞ্চে গান পরিবেশন করা হয়।

  • বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তরুণদের হাত ধরে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তরুণদের হাত ধরে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    তরুণদের হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করার জন্য আমাদের নাগরিক পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব শক্তি আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন এনসিপির যুব উইংয়ের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আগামী শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল ৩টায় গুলিস্তানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ে একটি বড় প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় আকারে বাংলাদেশের মানুষের সামনে হাজির হবে বলে ওই সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের বড় একটা অংশগ্রহণ ছিল। আমরা দল ঘোষণা পর তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজ শুরু করি। আমরা ৬৪ জেলার প্রত্যেকটি জায়গার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। ফিল্ডে গিয়েছি, ডাটা সার্ভে করেছি। বাংলাদেশকে একটি জায়গা নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন যুব সংগঠন কীভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারি, সে বিষয়ে গত দুই মাস পরিশ্রম করার পর আমরা একটি পর্যায়ে এসেছি।

    এনসিপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের সামনের যে সুযোগ এসেছে, এটা প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে ১০০ বছর, ২০০ বছর পরে আসে। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চাইলে এই ফোর্স ছাড়া আমাদের উপায় নেই। এই ফোর্সকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদেরকে অর্গানাইজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ জায়গায় কাজ করতে হবে।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশকে নতুন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণদের ফোর্স প্রয়োজন। আশা করি জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব শক্তি বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (যুব) অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা। দোলা শুধু আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নয়, তিনি জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নিও। তার বাবার নাম সৈয়দ গোলাম দস্তগির। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

    গতকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এনসিপি’র মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ওই চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে মো. আব্দিুর রহমানকে এবং সংগঠক করা হয়েছে মো. রাকিব হোসেনকে। এছাড়া, ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলার দুইজন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের টিমকে বলা হয়েছে, উক্ত টিমকে উল্লেখিত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিম্মোক্ত সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিটির প্রস্তাবনার নির্দেশনার প্রদান করা হল।

    ফরিদপুর জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে যে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার একজন হলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।

    সৈয়দা নীলিমা ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীত বিভাগে মাস্টার্স করেন। এরপর তিনি কিছুদিন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে ‘সিনে কার্টেল’ নামে একটি মুভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বধিকারী।

    জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মেয়ে হয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দা নীলিমা দোলা গণমাধ্যমকে জানান, আমার পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা সংক্রান্ত কিছু পোস্ট আপনাদের সামনে আসতে পারে। আমি নিজের দিক থেকে একটা ব্যাখ্যা আমার মানুষজন এবং রাজপথের সহযোদ্ধাদের দিয়ে রাখতে চাই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন আমি করে আসতেছি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে সকল আন্দোলনের আমি অতি পরিচিত মুখ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার লেখালেখিও পুরোনো। ২০১২ সালে পরিবার ছাড়ার পর রাজপথই আমার আসল পরিবার। জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্যতম মামলা তাহির জামান প্রিয় হত্যা মামলা ও একজন প্রতক্ষ্যদর্শী আমি।

    তিনি আরও জানান, সরাসরি ছাত্রলীগ করে অনেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। আমি কখনও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, তাই আমার নাগরিক কমিটির সদস্য হতে বাধা কোথায় ? তিনি আরও জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেনে, বুঝে এবং আমি ‘লিটমাস’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করেছেন।

    আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার এনসিপি কমিটি গঠনের এ বিষয়ে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন জানতে চাইলে ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা জানান, তার (সৈয়দা নীলিমা) পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগ। আমরা দেখেছি গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার মামা গোলাম নাসির কিভাবে আমাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছুঁড়েছে। তার মায়ের কর্মকান্ড আমাদের অজনা নয়।

    সৈয়দা নীলিমা দোলার সঙ্গে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত নেই মন্তব্য করে সোহেল রানা জানান, আসলে দায়িত্ব দেয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে নেয়া হলে ভাল হতো। সঠিক যাচাই-বাছাই করা হলে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

  • বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির দৌড়ঝাঁপ, জোটের নানা হিসাব

    বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির দৌড়ঝাঁপ, জোটের নানা হিসাব

    বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হবে, এখনো সে ব্যাপারে কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা মেরুকরণ হচ্ছে। দৃশ্যমান হচ্ছে, ছোট ছোট দলগুলোকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র পৃথক পৃথক বলয় তৈরির তৎপরতা।

    ঢাকার বনানীতে বিএনপির আহ্বানে একটি বৈঠক। উপস্থিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুটি দল সিপিবি-বাসদের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে আলোচনার মুল বিষয় ছিল নির্বাচন। বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে দাবি করছে, দলটি সেই দাবির প্রতি সিপিবি-বাসদের নেতাদের সমর্থন চেয়েছে। সিপিবি-বাসদের নেতারাও জানিয়েছেন, তারাও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন। আলোচনায় উভয়পক্ষই একমত হয় যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব।বিএনপি ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বাইরে স্বতন্ত্র বাম গণতান্ত্রিক জোটে রয়েছে সিপিবি ও বাসদ।।

    এর আগে বিএনপি যখন শেখ হাসিনা বিরোধী যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তখন সিপিবি-বাসদকে প্রস্তাব দেয়া হলেও তারা এর অংশ হয়নি। এবার বিএনপির সঙ্গে দল দুটোর বৈঠক একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে, এমন আলোচনা শুরু হলেও সিপিবি-বাসদ অবশ্য সেটা নাকচ করে দিয়েছে। তবে বিএনপি এমুহুর্তে কোনো জোট গঠনের কথা না বললেও ছোট দলগুলোকে তাদের পক্ষে রাখতে চাইছে। সেজন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে তারা।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অন্যান্য ইসলামী দলের ঐক্য নিয়েও ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপিও বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। কিন্তু নির্বাচনের সময় এখনো সুনির্দিষ্ট নয়; সংস্কার শেষপর্যন্ত কতটা করা সম্ভব হবে, সেটাও স্পষ্ট হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত দলগুলোর এমন তৎপরতা কী জোট গঠন পর্যন্ত যেতে পারে? আর ঠিক কোন বিষয়কে সামনে রেখে ভিন্ন ভিন্ন ধারায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টায় রাজনৈতিক দলগুলো?

    ছোট দলগুলোকে কেন কাছে টানছে বিএনপি?
    বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ভূমিকা রেখেছিলো, সেই দলগুলোর মধ্যে এখন বিভক্তি স্পষ্ট। নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার লড়াইয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এনসিপিও রাজনীতিতে তৎপর হয়েছে নিজস্ব বক্তব্য নিয়ে।

    বিএনপি ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে চলতি বছরের শুরুতে। প্রথম বৈঠক হয় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে। এরপর আরেকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হলেও পরে আর এ নিয়ে খুব একটা এগোয়নি দলটি। তবে কয়েকমাস পর আবারও তৎপর হয়েছে বিএনপি। মূলত: ডিসেম্বরে নির্বাচন আদায়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ার পরই বিএনপি ছোট দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করেছে।

    বিএনপি একের পর এক বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। যেটাকে অনেকেই বলছেন, একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ। যদিও বিএনপি এখনই সেটা বলছে না।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এটা কোন জোটের রূপ না। আমরা চাচ্ছি জনগনের কাছে যাওয়ার জন্য। নির্বাচন নিয়ে জনগনের যে দাবি, সেটা নিয়েই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। এই দাবিকে অন্য দলগুলোও সমর্থন করছে। আমরা আলাপ করে দেখছি যে, সব পলিটিক্যাল পার্টিই এখন জরুরি ভিত্তিতে একটা নির্বাচন চায়। আমরা আলোচনা করে সবার মতামত নিয়ে তারপর নির্বাচনের জন্য যা করা প্রয়োজন তা-ই করবো।

    ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিএনপির দাবির পক্ষে অন্য দলগুলোও রয়েছে, দলটি এমুহুর্তে সেটাই দেখাতে চাইছে। তারা একটা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখাতে বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে।

    বিএনপির সঙ্গে কারা আছে?
    বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে অতীতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের মতো দলগুলো। এর বাইরেও বিভিন্ন দলকে কাছে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে এসব বৈঠক শেষে ডিসেম্বরে যেন নির্বাচন হয়, সেই দাবিতে প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চিন্তা রয়েছে।

    কিন্তু সেটা কি জোটগতভাবে হবে নাকি আলাদা- এমন প্রশ্নে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জোটগত আন্দোলনের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তাছাড়া দাবি আদায়ে ‘আন্দোলনের দিকেই যেতে হবে’ এমনটাও মনে করছেন না তারা। এখানে পরিস্থিতিই সব বলে দেবে। তবে আমরা আশা করি, আন্দোলনের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।

    বিএনপির সঙ্গে বাম ও অন্যান্য দলের বৃহৎ কোনো জোট আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাব পেতে বা জোটের বিষয়টা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সাইফুল হক বলেন, অতীতে তো আমরা একসঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। তখন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটা ঐক্য তৈরি হয়েছিলো। হয়তো নির্বাচনী বোঝা-পড়া-সমঝোতার মধ্য দিয়ে তার একটা বহি:প্রকাশ ভবিষ্যতে হবে। তবে এটা কি যুক্তফ্রন্ট হবে, নাকি জোট হবে, নাকি নির্বাচনী জোট হবে, সেটা বোঝার জন্য আরও কিছুদিন দেখতে হবে।

    অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সব দল মিলে প্রয়োজনে আন্দোলন হবে। কিন্তু সেটার জন্য আলাদা জোট করার এখনই কোনও প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। এর আগে আমরা বড় আন্দোলন করেছি। তখন তো জোট করিনি। সমমনা দল নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। তো এখানে যুগপৎ আন্দোলন হতেই পারে। তবে আমি মনে করি আন্দোলনে যাওয়ার আগেই এই সরকার একটা নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একজন ‘নন্দিত ব্যক্তি’। উনি নিশ্চয়ই চাইবেন না ‘নিন্দিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে।

    আসন ভাগাভাগির জোট করতে চায় জামায়াত
    জামায়াত বিভিন্ন দলকে নিয়ে ঐক্য করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে মূলত: ৫ই অগাস্টের পর। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ক্বওমী মাদরাসা কেন্দ্রিক বিভিন্ন দল আছে এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায়। তবে এই জোট এখনই আত্মপ্রকাশ করবে না।

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জোট গঠনের প্রাথমিক আলাপ তারা এগিয়ে রেখেছেন। আমাদের প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা আবারও বসবো। এখনও ভেতরে ভেতরে বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। এই জোট চূড়ান্ত রূপ নেবে যখন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষিত হবে। তখন হয়তো পরিস্কার হবে সবকিছু।

    জামায়াত অবশ্য বলছে, ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হলেও সেখানে নির্বাচন কবে হবে, সংস্কার কী হবে -এ ধরণের কোনও বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন না। জোট দুই ধরনের হয়। একটা হয় আন্দোলনের, আরেকটা হয় নির্বাচনের। আমরা নির্বাচনী জোট করতে চাই। ইসলামী দলগুলো সকলেই এটা বলছে যে, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিভিন্ন আসনে ইসলামী দলগুলো থেকে একক প্রার্থী রাখবো। ইসলামী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী যেন না থাকে। এই আলোচনাই চলছে। সুতরাং এই জোট যখন হবে, সেটা নির্বাচন কেন্দ্রীক হবে।

    এনসিপি কি আলাদা জোট করছে?
    জামায়াত-বিএনপি যখন রাজনীতিতে আলাদা বলয় তৈরির চেষ্টা করছে, তখন নতুন দল এনসিপি কোন দিকে ঝুঁকবে? তারা অবশ্য বলছে, তারা কোনো জোটের দিকে ঝুঁকছে না। কিন্তু দলটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমে সন্দেহ বাড়ছে। গত রোববার এনসিপির নেতাদের বৈঠক করতে দেখা গেছে খেলাফত মজলিসের নেতাদের সঙ্গে। এর আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছিলো জাতীয় নাগরিক পার্টি -এনসিপি।

    এনসিপির এভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের ফলে এই প্রশ্ন উঠছে যে, দলটি কি তাহলে নিজেরাই আলাদা কোনো জোট গঠন করছে? জানতে চাইলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও কোন জোটের কথা অস্বীকার করেন।

    তিনি বলেন, এনসিপি নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো রাজনৈতিক জোটের কথা ভাবছে না। এনসিপির এখনকার অ্যাজেন্ডা হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন। এই বিষয়গুলো আমরা সামনে আনতে চাই, জনগনের কাছে যেতে চাই। আমাদের দল এবং বক্তব্যকে জনগনের কাছে পরিচিতি করানোই এখন মুখ্য।”

    তাহলে অন্য দলের সঙ্গে বৈঠক কী কারণে, এমন প্রশ্নে অনেকটা বিএনপির মতোই কৌশল দেখা যাচ্ছে এনসিপিতেও। অর্থাৎ দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এনসিপি তাদের দাবির সমর্থনে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

    নাহিদ ইসলাম বলছেন, নির্বাচনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলোও যেন সামনে আসে আমরা সেটা চাই। সংস্কার এবং গণপিরষদ নির্বাচন নিয়ে এবং ফ্যাসিবাদি শক্তি আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে আমরা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনিসিপি -তিনটি দলই ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছে। তবে এই কার্যক্রমে দলগুলো আবার সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলছে একে অপরকে। ফলে কে কার পক্ষে তা নিয়ে একধরনের প্রচ্ছন্ন লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দলগুলোর মধ্যে। কিন্তু জোট নিয়ে এটাই শেষ কথা নয়। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দল, ব্যক্তিগত লাভের হিসাব আর এমপি হওয়ার নিশ্চয়তা কোন দলে গেলে বেশি থাকবে, এসবের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে কোন দল কোন জোটে থাকছে।


    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • কুয়েটের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে যাবে ইউজিসি

    কুয়েটের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে যাবে ইউজিসি

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ চলমান অনশন কর্মসূচির প্রেক্ষিতে  ইউজিসি থেকে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যাবেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। 

    মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, কুয়েটের শিক্ষার্থী আন্দোলন ইস্যুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে। উনি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন। আগামীকাল ইউজিসি থেকে একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কুয়েটে যাবেন। তারপর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

  • এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিনকে অব্যাহতি

    এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিনকে অব্যাহতি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দলটি।

    সোমবার জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ১১ মার্চ জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আপনার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক নিয়োগে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর পাঠ্যবই ছাপার কাগজে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে আগামী সাতদিনের মধ্যে লিখিতভাবে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করতে এবং আপনাকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর জন্য আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন নির্দেশ দিয়েছেন।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রদত্ত পূর্ববর্তী মৌখিক সতর্কতা অমান্যের পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত আপনাকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

    চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব এবং শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানকে।

  • নতুন দলের নিবন্ধনে সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি এনসিপির

    নতুন দলের নিবন্ধনে সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি এনসিপির

    নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি ও নির্বাচন কমিশনের গঠনমূলক সংস্কারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে দলটি এ দাবি জানায়।

    চিঠিতে এনসিপির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আইন সরকারের প্রভাবমুক্ত নয় এবং অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার কমিশনকে ব্যবহার করে সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকারের অনুপস্থিতি এবং ভোট ডাকাতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

    এনসিপি আরও বলেছে, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তাবলি এখন অতিমাত্রায় কঠোর ও ব্যয়বহুল। শতভাগ উপজেলা কমিটির ছবি ও ভোটার তথ্য দাখিলের শর্ত নতুন দলগুলোর জন্য বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এ কারণে, দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো এবং সহজিকৃত প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানায়।

    চিঠিতে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আইন ও বিধিমালার পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।