Tag: এনসিপি

  • নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কেননো দেখছে বিএনপি, কী বলছে এনসিপি-জামায়াত?

    নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কেননো দেখছে বিএনপি, কী বলছে এনসিপি-জামায়াত?

    নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে চলছে নানা গুঞ্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ- সর্বত্রই এখন প্রশ্ন; নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে তো, হলে কবে হবে? যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, নির্বাচন হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করছে। তবে ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় বিএনপি। ইদের আগেই বোঝা যাচ্ছিলো যে, ইদের পর রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে। কারণ বিএনপি ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলো, ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে রাজপথের কর্মসূচি দেবে তারা।

    দলটি এখন সে পথেই এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই দলের নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। গত সোমবার হয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। এরপর বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ১৬ই এপ্রিল তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। যেখানে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ‘রোডম্যাপ দেয়ার আহ্বান’ জানানো হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা জবাবে কী বলেন তার ওপর ভিত্তি করেই বিএনপি ঠিক করবে নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে তারা সরকারের ওপর কীভাবে চাপ তৈরি করবে, কর্মসূচি কী হবে। আর যদি ডিসেম্বরকে ঘিরেই নির্বাচনের কথা বলা হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাবে দলটি। কিন্তু বিএনপি যখন ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য এখনই রোডম্যাপ চাইছে, তখন জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি আবার আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়ার পক্ষে রয়েছে। তাদের যুক্তি, এই সময়ের মধ্যেই সরকার যেন ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের’ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

    রোডম্যাপ দিতে বাধা কোথায়- প্রশ্ন বিএনপির
    গত পাঁচই অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর আটই অগাস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপি শুরু থেকেই ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। পরে নতুন বছরের শুরুতে বিএনপি নেতারা আগামী জুলাই-অগাস্টের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব, এমন কথা বলে আসছিলেন। তবে দলটি আরেকটু পিছিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার বলছে সংস্কারের কথা। সংস্কারের জন্য গঠিত বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, বড় ধরণের সংস্কার করতে হলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে হতে পারে। আর ছোট আকারের সংস্কার হলে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরে। কিন্তু সংস্কারের জন্য ডিসেম্বরের পরে নির্বাচনের আয়োজনের বিরোধী বিএনপি।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বড় সংস্কার আর ছোট সংস্কার বলতে কী বোঝান, সেটা তো আমরা বুঝি না! কোন সংস্কারই ছোট বা বড় নয়। আমরা বলেছিলাম, নির্বাচনমুখী যেসকল সংস্কার সেগুলো শেষ করে নির্বাচন দিয়ে দিন। কিন্তু এখন বড় সংস্কার বলতে উনি কী বোঝাচ্ছেন, সেটা পরিস্কার করতে হবে। যদি উনি সংবিধান সংস্কারকে বড় সংস্কার মনে করেন তাহলে সেটা আমাদেরকে বলতে হবে। সংবিধথান সংস্কার তো জাতীয় সংসদ ছাড়া হবে না। সংস্কারের জন্য সময়ক্ষেপন করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। দেখেন সংবিধান সংস্কার ছাড়া এর বাইরে এমন আর কোনও সংস্কার প্রস্তাব নেই যেটা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহিত হলে এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় লাগবে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এখানে সংবিধান সংশোধনীর যেসব বিষয়ে জাতীয় একমত্য তৈরি হবে সেসব বিষয় চিহ্নিত করে একটা চার্টার করাই যায়। পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সেটা বাস্তবায়ন করবে। এরজন্য নির্বাচন পেছানোর তো দরকার নেই। এগুলো নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য একটা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে কিন্তু সেজন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে বাধা কোথায়?

    নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা দেখছে বিএনপি
    বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপ চায়। কিন্তু সরকার রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না। বিএনপি এটাকে সন্দেহের চোখে দেখে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে জুন––এই সাত মাসের মধ্যেই নির্বাচন হবে। সরকার প্রথমে সংস্কারের অ্যাজেন্ডা ঠিক করার জন্য অপেক্ষা করেছে। সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়েছে। এরপরের ধাপ হচ্ছে দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা। এই আলোচনা শেষ হলেই বোঝা যাবে সংস্কারের অ্যাজেন্ডা কী হবে এবং কবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে। এই বিষয়ে ঐকমত্য হলেই সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।

    দেখা যাচ্ছে, জামায়াত, এনসিপির মতো দলগুলো সরকারের এই প্রক্রিয়ায় এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমায় আস্থা রাখলেও বিএনপি সাত মাসের এই সম্ভাব্য সময়সীমাকে দেখছে তাদের ভাষায় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা হিসেবে। ফলে তারা ডিসেম্বরের পরে যেতে চায় না। কিন্তু নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা দেয়ার পরও বিএনপি কেন সেটাকে সন্দেহ করছে?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন বিএনপি নেতারা। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেখানে মানুষ গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য যদি এতো অনিশ্চয়তা থাকে, সেটাকে আমরা স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করি। আমরা কো-রিলেট করতে চাই যে, কিছু কিছু নতুন রাজনৈতিক দল এবং পুরনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে নির্বাচন বিলম্বিত করার একটা পাঁয়তারা লক্ষ্য করা যায়। তো সে কারণে সরকারের বক্তব্য এবং তাদের কথা ও কর্মকাণ্ড -সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। সেটা গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণকর নয়। কারণ নির্বাচন যতো দেরি হবে, গণতন্ত্র উত্তরণের রাস্তা ততো কঠিন হবে। নির্বাচন কবে হবে সেটা জানতে তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই সাক্ষাতে কী ফল আসে তার ভিত্তিতেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

    অন্য দলগুলো কী বলছে?
    এটা স্পষ্ট যে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা কেউ কেউ করছে- বিএনপির ভেতরে এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এটা আরও জোরালো হয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসা করে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানিয়েছেন। এসব প্রেক্ষাপটেই বিএনপি বলছে, ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন নেয়ার চেষ্টা হলে তারা বিরোধিতা করবে, প্রয়োজনে রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে। এর বিপরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব বক্তব্য আসছে, সেগুলো মূলত পাওয়া যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে। এসব দল নির্বাচনের আগে সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচারের যে দাবি করছে সেটাকে অনেকেই দেখছেন নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা হিসেবে। তবে জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপি অবশ্য বলছে, তারা নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নন। বরং সরকারকে সময় দিতে চান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র ও দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তো বলেই দিয়েছেন জুনের মধ্যে নির্বাচন। তিনি বলেছেন, বেশি সংস্কার চাইলে ইলেকশন হবে জুনে। উনি যেহেতু জুন পর্যন্ত চলে গিয়েছেন, সুতরাং বেশি সংস্কার নিয়েই তো (নির্বাচন) হবে। আর এর পরে নির্বাচন কোন কারণে পেছাবে? এর পরে নির্বাচন যাওয়ার তো কোনো কারণ দেখি না।

    একইরকম মনোভাব জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে সংস্কার হওয়াটাই স্বাভাবিক। ডি‌সেম্বর থেকে জুন -আমরা মনে করি এ সময়ের মধ্যেই সরকার সংস্কার এবং বিচারের দৃশ্যমানতার দিকে সরকার এগুতে পারে। এর মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের যে কার্যক্রম সেটা সম্পূর্ণ করা সম্ভব।

    তবে এনসিপি কিংবা জামায়াত জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলেও ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সেক্ষেত্রে যেসব দল জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দিতে চায় তাদের কী হবে? এসব দলও কি তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে যাবে?

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, কোনো দলেরই আন্দোলনের পরিস্থিতি দেশে নেই। আন্দোলনটা কার বিরুদ্ধে হবে? আন্দোলনটা তো হবে একটা দাবি আদায়ের জন্য। সেই দাবিটা তুলে ধরা, আলোচনার তো জায়গা আছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলা যায়, ঐকমত্য কমিশনে বক্তব্য তুলে ধরা যায়। দ্বিতীয়ত, যদি এমনটা হয় যে কোনো অবস্থাতেই একটা যৌক্তিক দাবি আদায় করা যাচ্ছে না। তখন আপনি জনগনকে জানাতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো সিচুয়েশন এখনও তৈরি হয়নি।

    দলগুলোর মধ্যে যখন এমন মতভেদ তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশন ধারাবাহিকভাবে বৈঠক শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। এসব বৈঠক এবং দলগুলোর আনুষ্ঠানিক মতামত পাওয়ার পরই সংস্কার এবং নির্বাচনের সময় নিয়ে ঐকমত্যের পথ স্পষ্ট করতে চায় সরকার। কিন্তু তার আগেই বড় দলগুলোর যে মনোভাবে তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সেই ঐকমত্য হয়তো খুব একটা সহজ হবে না।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • বিসিএস পরীক্ষার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবি

    বিসিএস পরীক্ষার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবি

    বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পিএসসি কার্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পিএসসির কার্যক্রমের গতিশীলতা ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ’ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এক স্মারকলিপি পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের কাছে দেওয়া হয়।

    এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া ও ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।

    এনসিপির দাবিগুলো হলো- প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল, কাট মার্কস ও সঠিক উত্তর পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা; লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নম্বরসহ ওয়েবসাইটে ভাইভার আগেই প্রকাশ করা; লিখিত ফলাফল ঘোষণার পর ভাইভার আগে ক্যাডার চয়েস রদবদল করার অপশন দেওয়া; ১০০ নম্বরের ভাইভা ৪৫তম বিসিএস থেকেই কার্যকর করা এবং স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে ভাইভার নম্বরও প্রকাশ করা; ভাইভাতে উত্তীর্ণদের থেকে নন-ক্যাডারে সর্বোচ্চ নিয়োগ দেওয়া; ১ বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সার্কুলারে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করা।

    চলমান বিসিএস পরীক্ষার জট নিরসন নিয়ে তোলা দাবির মধ্যে রয়েছে- জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ৪৪তম বিসিএসের সব ভাইভা সম্পন্ন করে ৩০ জুনের মধ্যে ৪৪তমের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা। ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে ঘোষণা করা এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পন্ন করা। জুনের শেষ সপ্তাহ অথবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত শুরু করা। এই সময়কালের মধ্যে সম্ভব না হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে লিখিত পরীক্ষা শুরু করা। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি গ্রহণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় বিসিএস লিখিত ও ভাইভার মধ্যে ন্যূনতম গ্যাপ থাকতে হবে। ৪৬তম লিখিত পরীক্ষা সম্পন্নের পর এক মাসের মধ্যে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া।

  • অভিযোগ নিয়ে দুদক কার্যালয়ে সারজিস-হাসনাত

    অভিযোগ নিয়ে দুদক কার্যালয়ে সারজিস-হাসনাত

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

    বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন তারা। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

    এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটা ভেরি কনফিডেনশিয়াল। এখন কনফিডেনশিয়াল বিষয় বলে দিলে তো আর কনফিডেনশিয়াল থাকল না। তা ছাড়া অপরাধীরা তখন সতর্ক হয়ে যাবে।’

    এ বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘অতীতে দুদককে ব্যবহার করে অনেকে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অনেক সাধারণ মানুষকে আবার বিনা অপরাধে হয়রানি করা হয়েছে। এই সময়ে এসেও এখন আমরা সেটি প্রত্যাশা করি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু অভিযোগ ছিল, সেটি আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেটি জানাতেই আমরা এখানে এসেছি। এর বেশি কিছু বলছি না এখন।’

  • ‘বিতর্কিত’ আল হারামাইনে নাহিদের চিকিৎসায় সমালোচনার ঝড়

    ‘বিতর্কিত’ আল হারামাইনে নাহিদের চিকিৎসায় সমালোচনার ঝড়

    রাজধানী ঢাকা ছেড়ে সিলেটে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তাও বিতর্কিত ব্যবসায়ী, মানি লন্ডারিং ও হুন্ডি ব্যবসায় অভিযুক্ত দুবাইর আল হারামাইন পারফিউমের মালিক মাহতাবুর রহমান নাসিরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল হারামাইন হাসপাতালে। একটি ছবিতে সস্ত্রীক তাকে হাসপাতালে বসে থাকতে দেখা গেছে। তাদের হাতে ছিল ফুলের তোড়া। এ সময় তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

    এ খবর জানাজানি হলে সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়। গতকাল শনিবার বিষয়টি ছিল সিলেটের টক অব দ্য টাউন। ঢাকায় চিকিৎসার জন্য বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও নাহিদ গেল বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন মফস্বল শহর সিলেটে বিমান থেকে নেমেই আল হারামাইনে গিয়ে চিকিৎসা নিলেন এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন- এ প্রশ্ন এখন সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিষয়টি আগে থেকে মিডিয়া বা কাউকে জানানো হয়নি। এমনকি হাসপাতাল থেকেও কাউকে কিছু বলা হয়নি।

    এ প্রসঙ্গে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ বলেন, ঈদের ছুটিতে সিলেট আসার জন্য বিমানে উঠার সময় পা মচকে যায় নাহিদ ইসলামের। তাৎক্ষণিক তিনি কোনো সমস্যা অনুভব না করলেও সিলেট বিমানবন্দরে নেমে শ্রীমঙ্গল আসার পথে ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাৎক্ষণিক খোঁজখবর নিয়ে তাকে আল হারামাইন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালটির অর্থোপেডিক ডাক্তার জোবায়ের আহমদের কাছে চিকিৎসা নেন তিনি। তবে হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়টি সঠিক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    আল হারামাইন হাসপাতালের জিএম পারভেজ আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার পায়ে আঘাত পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে এসেছিলেন নাহিদ। অর্থোপেডিক্স ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

    এদিকে নাহিদ ইসলাম এমন সময় সিলেটে গিয়ে বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান নাসিরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল হারামাইন পরিদর্শন করেন, যখন নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে। তার মাথার ওপর অভিযোগের পাহাড়। দুদক মাঠে ব্যস্ত রয়েছে হুন্ডিসহ নানা অভিযোগের তদন্তে।

    সিলেটে নাসিরের বাসা কাজী ক্যাসলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে! এমনকি যখন নাসিরের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা ও তাকে অবৈধ সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে ব্যাংকের সিলেট লালদীঘির পাড় শাখার ব্যবস্থাপক পিযুষ কুমার সরকারকে শাস্তিমূলক বদলি করেছে, তখন আল হারামাইনে নাহিদের এই সফর আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

    এনসিপির নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে (বিএস-৫৩৫) স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে সিলেট আসেন নাহিদ ইসলাম। পরে বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত আল হারামাইন হাসপাতালে যান।

    সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর সড়কপথে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শুক্রবার রাতে তিনি শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বনবিভাগের একটি বাংলোতে অবস্থান করেন। গতকাল শনিবার শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকায় ফিরেন তিনি।

    মাহতাবুর রহমান নাসির বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তার ব্যবসা ও আল হারামাইন হাসপাতাল দেখাশোনা করেন তার বড় ভাই ওয়ালিউর রহমান। বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাতালে ছিলেন।

    কিছুদিন আগে দেশে পারফিউম ব্যবসার আড়ালে সবচেয়ে বড় হুন্ডি তৎপরতার প্রমাণ পায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) অনুসন্ধান চালিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের জন্য অভিযুক্ত করে আল হারামাইন পারফিউমসকে।

    কোম্পানির মালিক সিলেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এ ব্যবসায়ী এখন গোল্ডেন ভিসার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাস করছেন।

    দুদুকের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, মাহতাবুর রহমান নাসিরের পুরো ব্যাবসায়িক নেটওয়ার্কই হুন্ডি তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পারফিউম বা আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার আড়ালে তার প্রধান ব্যবসা মূলত এক দেশের অর্থ অন্য দেশে পাচার করা। মাহতাবুর রহমান নাসির এনআরবি ব্যাংকের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান।

    এই ব্যাংকের মাধ্যমেই তিনি টাকা পাচার করতেন। বিশ্বের অন্তত ৮৬টি দেশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে মাহতাবুর রহমান টাকা পাচার করেন বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি টার্মেই তিনি নিয়েছেন বিশেষ সুবিধা। সব মিলিয়ে সরকারি মন্ত্রী আমলাদের খুশি করে পরপর ১১ বার হয়েছিলেন সিআইপি। আওয়ামী সরকারের তহবিলের অন্যতম জোগানদাতাও তিনি। আলোচিত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজেরও পতন শুরু হয় এই মাহতাবুর রহমান ও তার সহযোগীদের হাত ধরেই।

    আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন মাহতাবুর রহমান

    মাহতাবুর রহমান ছিলেন এই বেসরকারি বিমান সংস্থাটির এমডি। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ১২টি বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়ন অনুপযোগী হয়ে আছে।

    একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে টাকা পাচার, ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা নেওয়ার জন্য তিনি এনআরবি ব্যাংক সিলেট শহরের লালদিঘী শাখার ম্যানেজার পিযুষ কুমার সরকারকে খাস লোক বানিয়ে সেই শাখায় বসিয়েছিলেন। এই শাখাতেই আল হারামাইনের সব হিসাবে লেনদেন করা হতো।

    ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন পিযুষ কুমার সরকার। তার মাধ্যমেই সিলেট থেকে টাকা পাচার হতো। এ অভিযোগে শাখার ব্যবস্থাপককে গত ১৫ মার্চ শাস্তিমূলক বদলি করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

    দুদকের জালে মাহতাবুর রহমান নাসির যখন ফেঁসে যান, সেখানে নাম ঝড়িয়ে পড়ে শাখা ব্যবস্থাপক পিযুষ কুমারের। তারপরই ব্যাংকের এমডি তারেক রিয়াজ খান তাকে বদলি করেন। তবে বদলি হলেও পদায়ন না হওয়ায় এখন তিনি সিলেটে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    মাহতাবুর রহমান নাসির প্রথম আলোচনায় আসেন সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অজপাড়াগাঁয়ে তিনি গড়ে তোলেন প্রাসাদসম অট্টালিকা। পরে শহরের মেজরটিলার ইসলামপুরে নির্মাণ করেন আরেক অত্যাধুনিক প্রাসাদসম ‘কাজী প্যালেস’। এই বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। যা এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি হিসেবে আলোচিত।

    অন্যদিকে গত ২২ জানুয়ারি মাহতাবুর রহমান নাসির ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।

    ব্যাংক হিসাবে জব্দের তালিকায় আছেন মাহতাবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ এমাদুর রহমান, ভাই মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, ভাতিজা মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও মোহাম্মদ এহসানুর রহমান এবং আল হারামাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সাব্বির আহমেদ।

    এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ‘মাহতাবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সদস্য। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের হুন্ডির ব্যবসা রয়েছে। দেশ থেকে অর্থ পাচারেরও অন্যতম বড় রুট হলো এ পরিবার। এনবিআরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এ-সংক্রান্ত অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    এ পরিপ্রেক্ষিতেই মাহতাবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ছাড়াও পরিবারটির বিভিন্ন সদস্যের নামে থাকা ১১৪টি দলিল জব্দ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা তাদের সম্পদও শনাক্ত করার কাজ চলছে।’