শিরোনাম
কর্মসংস্থান

সিভির যেসব ভুলেই হাতছাড়া হতে পারে চাকরি

প্রতিকী ছবি

আরও পড়ুন

একটি আকর্ষণীয় ও পেশাদার সিভি হলো চাকরির বাজারে আপনার প্রথম পরিচয়পত্র। নিয়োগকর্তারা সরাসরি আপনার সঙ্গে কথা বলার আগে আপনার সিভির মাধ্যমেই আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব মূল্যায়ন করেন। বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ করপোরেট বিশ্বে একটি ভালো সিভির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি কেবল আপনার তথ্যের তালিকা নয়, বরং এটি আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

গবেষণায় দেখা গেছে, একজন নিয়োগকর্তা বা রিক্রুটার একটি সিভির ওপর মাত্র ৬ থেকে ৮ সেকেন্ড চোখ বোলান। এই সামান্য সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায় আপনি ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পাবেন নাকি আপনার সিভিটি বাতিল হবে। দুর্ভাগ্যবশত, অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কেবল সিভি তৈরির কিছু সাধারণ ভুলের কারণে অনেকেই শুরুতেই বাদ পড়ে যান। নিজের অজান্তেই করা এই ভুলগুলো চাকরি পাওয়ার দৌড়ে আপনাকে অনেক পিছিয়ে দিতে পারে। তাই একটি নিখুঁত ও আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

বানান ভুলে নেতিবাচক প্রভাব

সিভি তৈরির ক্ষেত্রে শুদ্ধ বানান ও ব্যাকরণগত নিয়ম মেনে লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন দু-একটি বানান ভুলে তেমন কোনো ক্ষতি নেই। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি ছোট বানান ভুলও প্রমাণ করে আপনি নিজের কাজের প্রতি যত্নশীল নন। এটি আপনার পেশাগত উদাসীনতার ইঙ্গিত দেয়। সঠিক বানান, বিরামচিহ্ন ও ব্যাকরণ ব্যবহার আপনার আত্মবিশ্বাস এবং পেশাদারিত্বের ছাপ ফেলে।

ভুল বা অকার্যকর যোগাযোগের তথ্য

আপনার ফোন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা যদি ভুল থাকে, তবে নিয়োগকর্তা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউর সুযোগ হাতছাড়া হবে।

চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল না থাকা

বর্তমান যুগে বেশিরভাগ বড় প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System (ATS) নামক সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিভি স্ক্রিনিং করে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে দক্ষতা ও কিওয়ার্ড চাওয়া হয়েছে, সেগুলো সিভিতে না থাকলে সফটওয়্যার শুরুতেই আপনার সিভি বাতিল করে দেবে।

মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য দেওয়া

অভিজ্ঞতার বছর, পদের নাম বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিলে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে তা ধরা পড়লে ইন্টারভিউর ডাক পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।

অস্পষ্ট এবং উদ্দেশ্যহীন অবজেক্টিভ

আমি একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে কঠোর পরিশ্রম করতে চাই… , এই ধরনের সাধারণ ও কপি-পেস্ট করা অবজেক্টিভ নিয়োগকর্তাদের আকর্ষণ করে না। আপনার মূল লক্ষ্য ও যোগ্যতা পরিষ্কার না থাকলে সিভি প্রথমেই বাদ পড়ে।

ফরম্যাটিং ও পড়ার অযোগ্যতা

হিজিবিজি ফন্ট, অতিরিক্ত রঙ এবং এলোমেলো মার্জিন থাকলে নিয়োগকর্তারা সেই সিভি পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। একটি সিভি দেখার জন্য তারা মাত্র ৬ থেকে ৭ সেকেন্ড সময় নেন; এই সময়ের মধ্যে সিভিটি পড়তে কষ্ট হলে তা বাতিল তালিকায় চলে যায়।

ক্রমানুসারে সাজানো না থাকা

আপনার সর্বশেষ কর্মসংস্থান বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সিভির সবার ওপরে থাকা উচিত। পুরোনো তথ্য আগে দিলে নিয়োগকর্তা আপনার বর্তমান অবস্থা বুঝতে পারেন না।

অপ্রাসঙ্গিক ছবি ব্যবহার

সিভিতে সেলফি, ক্রপ করা ক্যাজুয়াল ছবি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবি ব্যবহার করলে পেশাদারিত্বের অভাব প্রকাশ পায়, যা ইন্টারভিউ থেকে বাদ পড়ার অন্যতম বড় কারণ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ