ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের খাবারে রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সরবরাহ করা আরডি ইউএইচটি মিল্ক নামের প্যাকেটজাত দুধ খেয়ে পেটব্যথা ও বমি নিয়ে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথমে এ ঘটনা ঘটে। ওই বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। পরে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত রায় জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাদের অনেকেই বমি করেছে, কারও কারও পেটে তীব্র ব্যথা। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, মিড ডে মিলের দুধ খাওয়ার পরই সবার পেটব্যথা শুরু হয়। অনেকেই স্কুলেই বমি করে। প্যাকেটজাত দুধটা তিতা এবং নষ্ট ছিল। আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বললে তারা বলেন, খেয়ে নাও, কিছু হবে না।
একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম হাসান বলে, পেটে খুব ব্যথা করছে, বমি বমি লাগছে, কিন্তু বমি হচ্ছে না। দুধ খাওয়ার পর থেকেই পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে।
মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ জানান, মেয়েটার পেটে ব্যথা শুরু হলে বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে কমছিল না বলে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। নষ্ট দুধ খেয়ে বাচ্চাগুলো খুব কষ্ট পাচ্ছে।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, খাবার ভালো আছে কি না—শিক্ষকরা তা পরীক্ষা করে বাচ্চাদের খেতে দেননি। নষ্ট দুধ কীভাবে বাচ্চাদের খেতে বলেন? শিক্ষকদের উদাসীনতার কারণেই বাচ্চারা অসুস্থ হয়েছে। শিশুদের কোনো ক্ষতি হলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি জানান, আমি ছুটিতে দিনাজপুর যাচ্ছিলাম। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছি। ফেরদৌসী বেগম নামে এক সহকারী শিক্ষক দায়িত্বে ছিলেন। দুধগুলো প্যাকেটে সংরক্ষিত থাকায় বিষয়টি তিনি বুঝে উঠতে পারেননি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, বাচ্চারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। কোনো খাবারে সমস্যা ছিল কি না এবং আসলে কী ঘটেছিল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা সবাই হাসপাতালেই আছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস বলেন, মিড ডে মিলের অবশিষ্ট খাবার জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড। আরডি ইউএইচটি মিল্ক নামের এই দুধের সরবরাহকারী প্রতিনিধি আবু রিয়াল জানান, “আমরা গতকাল দুধ দিয়েছিলাম, আজ বাচ্চারা খেয়েছে। অন্যান্য বিদ্যালয়ে তো কোনো সমস্যা হয়নি, এই তিনটি স্কুলে কেন হলো তা বুঝতে পারছি না।





