শিরোনাম
Advertisement
স্বপ্নসিঁড়ি

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশে চালু হচ্ছে নতুন আবেদন প্রক্রিয়া

Advertisement
summer, holidays, vacation, happy people concept - group of friends jumping on the park near Eiffle tower in Paris, France

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবেদন প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘এতুদে আঁ ফ্রান্স’ পদ্ধতি। ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশ জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ফ্রান্সে পড়াশোনা শুরু করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এতুদে আঁ ফ্রান্স আসলে কী: এতুদে আঁ ফ্রান্স হলো ক্যাম্পাস ফ্রান্সের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যা ফ্রান্সের ৩০৯টিরও বেশি সংযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া ভিসা আবেদন পর্যন্ত পরিচালনা করে। এই একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহায়তায় ফ্রান্সের একাধিক উচ্চশিক্ষা কর্মসূচিতে একসঙ্গে আবেদন করতে পারেন।

এই পদ্ধতিতে মূলত দুই ধরনের আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে: যারা ফরাসি ভাষায় পরিচালিত স্নাতক প্রথম বর্ষ, মেডিকেল প্রোগ্রাম বা স্থাপত্যবিদ্যার (সব স্তরে) কোনো প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, তাদের জন্য এই পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ তিনটি প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে। স্নাতকের দ্বিতীয়-তৃতীয় বর্ষ বা মাস্টার্সসহ অন্যান্য স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের জন্য এই পদ্ধতি প্রযোজ্য।

সময়সূচি: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে এতুদে আঁ ফ্রান্স প্ল্যাটফর্মে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এরপর প্রার্থীর ক্যাটাগরি অনুযায়ী সময়সূচি ভিন্ন হয়ে থাকে— DAP প্রার্থীদের জন্য: আবেদন জমার শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬; ৩০ এপ্রিল ২০২৭ এর মধ্যে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রার্থী গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে; আর ৩১ মে ২০২৭ এর মধ্যে প্রার্থীকে কোনো একটি প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। স্থাপত্যবিদ্যায় DAP প্রার্থীদের জন্য: একই সময়সূচি প্রযোজ্য। HDAP প্রার্থীদের জন্য: আবেদন জমার শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৭; আর ৩০ এপ্রিল ২০২৭ এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত জানানোর কথা।

আবেদনের ধাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: সাধারণভাবে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়- ১. ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশের পোর্টালে নিবন্ধন করা, সাধারণত ইনটেকের ৫ থেকে ৬ মাস আগে ২. এতুদে আঁ ফ্রান্স প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে একাডেমিক নথিপত্র আপলোড করা ৩. ঢাকায় ক্যাম্পাস ফ্রান্সের বাধ্যতামূলক একাডেমিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া (অনলাইন বা সরাসরি) ৪. ফরাসি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিশ্চিতকরণপত্র পাওয়া ৫. ক্যাম্পাস ফ্রান্স অনুমোদন সংগ্রহ করা ৬. ভিসার জন্য আবেদন করাG

সাধারণত প্রয়োজন হয়—বৈধ পাসপোর্ট, একাডেমিক সনদপত্র, ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণ (IELTS/TOEFL অথবা ফরাসি ভাষার জন্য DELF/DALF), আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, থাকার ব্যবস্থার প্রমাণ এবং স্বাস্থ্যবিমা।

ভর্তির যোগ্যতা ও আর্থিক শর্ত: সাধারণভাবে স্নাতকে আবেদনের জন্য এইচএসসি সমমানের সনদ এবং স্নাতকোত্তরে আবেদনের জন্য স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। ভিসার জন্য আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে সাধারণত মাসে ৬১৫ ইউরো হারে বছরে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা) ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হয়। ফরাসি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনাবাসিক (নন-ইইউ) শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক টিউশন ফি সাধারণত ২ হাজার ৭৭০ থেকে ৩ হাজার ৭৭০ ইউরোর মধ্যে থাকে।

বৃত্তির সুযোগ: মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ফ্রান্স এক্সিলেন্স আইফেল স্কলারশিপ, যেখানে মাস্টার্স পর্যায়ে মাসিক ১ হাজার ১৮১ ইউরো এবং পিএইচডি পর্যায়ে ১ হাজার ৮০০ ইউরো পর্যন্ত ভাতা, রিটার্ন বিমান টিকিট, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এই বৃত্তির আবেদনের সময় সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ফরাসি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আবেদন জমা দিতে হয়।

আবেদন পদ্ধতি, গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি এবং এ বিষয়ে আয়োজিত তথ্য সেশন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশের অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে। ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আপডেটের জন্য ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশের অফিসিয়াল মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিস্তারিত তথ্য পেতে ভিজিট করুন: https://www.bangladesh.campusfrance.org/en

এ বিভাগের আরও সংবাদ