২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ইসলামপন্থী দলগুলোর জন্য এক বড় শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বার্তা নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে পরিকল্পিতভাবে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে পারলে ২০৩১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
ফলাফল মূল্যায়ন ও গঠনমূলক আত্মসমালোচনা: ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র তুলনায় ইসলামপন্থীরা কম ভোট পেয়েছেন—এই বাস্তবতাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ভোটের ফলাফল এক ধরনের ‘আমলনামা’। এতে অসন্তুষ্ট বা ক্ষুব্ধ না হয়ে নিজেদের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না পেলে যেমন শিক্ষকের ওপর দায় চাপানো অনুচিত, তেমনই ব্যর্থতাকে অস্বীকার না করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
ফেসবুককেন্দ্রিক সক্রিয়তা বনাম নীতিগত আলোচনা : নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল— দলের নির্বাচনী ইশতেহার, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক মানবিক কার্যক্রম, শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক সাহায্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণ, ইসলামী শরিয়াহ আইনের স্বরূপ, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রচলিত আইনের সাথে এর সামাজিক সমন্বয়, দেশী-বিদেশী স্কলার, আইনজীবী, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদদের সাথে মতবিনিময়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব নীতিগত ও মৌলিক ইস্যুতে মনযোগ দেওয়ার পরিবর্তে অনেক কর্মী ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস লিখে নিজেদের শক্তি ও সময় অপচয় করছেন। গালাগাল, কটু মন্তব্য ও বিরূপ সমালোচনা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য ক্ষতিকর।
মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ও তৃণমূলের শূন্যতা: বিগত ৮ মাসে কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও রংপুর সফর করে ইসলামপন্থী দলগুলোর কর্মীদের সাথে সরাসরি আলোচনার সুযোগ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে—বহু কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্ব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোক ছিল না, এমনকি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার মতো সক্রিয় কর্মীও ছিল না। তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত সংগঠন না থাকায় এই কাঠামোগত শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৪ বছর ৮ মাস। আবেগসর্বস্ব গরম বক্তৃতা, অন্যের অযথা সমালোচনা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তি ক্ষয় বন্ধ করতে হবে। তার পরিবর্তে গঠনমূলক চিন্তাভাবনা ও সুদৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারলে আগামী দিনে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হবে।