সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বা অনলাইন পেইজে সব ধরনের ইসলামী বই-পুস্তক আপলোড দিয়ে রাখছে, যাতে কেউ চাইলেই সেগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট বই-পুস্তকের স্বত্বাধিকারী বা প্রকাশকের অনুমতি ছাড়াই তারা এটা করছেন। এর ফলে অনেকেই এখন এসব বই-পুস্তক ডাউনলোড করে পাঠ করছে, হার্ডকপি বা মুদ্রিত বই-পুস্তক ক্রয় করছে না। এতে প্রকাশকগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে জানলাম তাদের মুদ্রিত বই-পুস্তকের বিক্রয়ের হার শতকরা আশি নব্বই ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। অনেক ছোটখাট প্রকাশক ইতিমধ্যে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন। অনেকে গুটিয়ে ফেলার চিন্তা করছেন।
কারণ, দেখা গেল- অনেক প্রকাশক লেখককে সম্মানী দিয়ে, কম্পোজ, প্রুফ, মুদ্রণ ইত্যাদি সব ধরনের ব্যয় নির্বাহ করে একটি বই কিতাব প্রকাশ করল। সে তার খরচ উঠিয়ে পারল না এরই মধ্যে সেই বই কিতাব অসংখ্য ওয়েবসাইট ও পেইজে আপলোড হয়ে গেল আর মানুষ সেগুলো ডাউনলোড করে ফ্রী ফ্রী পড়তে শুরু করল, প্রকাশকের মুদ্রিত কপি ক্রয়ের ধারে কাছেও গেল না। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইসলামী বই-পুস্তকের প্রকাশকরা আর নতুন কোন বই-পুস্তক প্রকাশ করার উদ্যোগ নিবে না। তাতে বিশেষত নবীন লেখকরা তাদের লেখা বই পুস্তক প্রকাশ করার লোক খুঁজে পাবে না। লেখক সম্মানী বা রয়্যালিটি পাওয়ার ধারাও বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে ইসলামী বই পুস্তক লেখা ও গবেষণার ধারা মারাত্মকভাবে অনুৎসাহিত হবে।

অতএব সময় থাকতে সোচ্চার হোন। প্রয়োজনে নতুন আইন করে হলেও এটা নিশ্চিত করুন যে, সংশ্লিষ্ট বই-পুস্তকের স্বত্বাধিকারী বা প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া কেউ বই-পুস্তক অনলাইনে আপলোড করতে পারবে না। তাতে কিছু পাঠক হয়তো ফ্রীতে বই পড়তে পারবে না- এতটুকু অসুবিধা হবে, কিন্তু ইসলামী বই পুস্তকের জগতকে জীবিত রাখা এবং লেখা ও গবেষণার ধারাকে উজ্জীবিত রাখার বৃহত্তর স্বার্থে এতটুকু অসুবিধাকে মেনে নিতে হবে। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয় বৈ কি।
পুস্তক সমিতিকে আহবান জানাই আপনারা আইনী পদক্ষেপ নিন। ইসলামী বই-পুস্তকের জগতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। যারা সামান্য স্বার্থে অন্যদের বই-পুস্তক নিজেদের ওয়েবসাইটে বা পেইজে আপলোড দিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরকে বলব, এটা গ্রন্থস্বত্ব আইনের লঙ্ঘন। মাসআলাগতভাবেও এটা না-জায়েয। কারণ এতে অন্যের হক্কে তাসনীফ (গ্রন্থস্বত্ব অধিকার) নষ্ট করা হয়। অতএব এ থেকে বিরত হোন। সর্বশেষে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শেষ করছি।