লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় ছিলেন দ্বিতীয়। কিন্তু ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় দুই দফায় প্রকাশিত গেজেটের কোনোটিতেই নাম আসেনি মো. ফয়জুল আলমের। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ না পেয়ে এখন বেকার তিনি। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সও পেরিয়ে গেছে।
ভোলার লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা ফয়জুল আলমের দাবি, তার কাগজপত্রে কোনো সমস্যা নেই, নেই কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ডও। তারপরও কী কারণে তাকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে পারেননি তিনি। চাকরি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই চাকরিপ্রার্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভোলা জেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন ২৫৬ জন। তাদের মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৪৩ জন। ফয়জুলের দাবি, লালমোহন থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য সবাই নিয়োগপত্র পেলেও তিনি পাননি।
প্রথম দফায় দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে ফয়জুলসহ কয়েকজনের নাম প্রথম দফার গেজেটে না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বাদ পড়া প্রার্থীদের আন্দোলনের পর দ্বিতীয় দফায় গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেই গেজেটেও লালমোহনের অন্য প্রার্থীদের নাম থাকলেও বাদ পড়ে যায় ফয়জুলের নাম। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তিনি জানতে পারেন, ভেরিফিকেশনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তার নাম বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়ার কথা জানাননি তিনি।
ফয়জুল আলম বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও অজ্ঞাত কারণে নিয়োগপত্র পাইনি। অথচ উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় আমার অবস্থান দ্বিতীয়। আমার কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। আগে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ হওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন নিয়োগপত্র না পেয়ে বেকার অবস্থায় রয়েছি। আমার পরিবারে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাইবোন রয়েছেন। আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এর আগে তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ পাইনি। তখন আফসোস ছিল না। এবার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র পাইনি। এর মধ্যে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সও শেষ হয়ে গেছে।
ফয়জুলের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোলা জেলার লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক বাদ পড়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





