মীর আনিসুল হাসান
জি বি এম রুবেল আহম্মেদ তরুণ গল্পকার। তার রচিত ‘রোদগলা দুপুরে’ একটি চমৎকার গল্পগ্রন্থ। রুবেল মূলত কবি হলেও সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই তার স্বচ্ছন্দ্য চলাচল। গল্পকার আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। পরিচয়ের কারণ, তার চমৎকার সব কবিতার ভক্ত আমি। তবে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তার গল্পও আমি পড়েছি। আমাকে বেশ টেনেছে সেগুলো।
‘রোদগলা দুপুরে’ গল্পগ্রন্থে মোট পনেরোটি গল্প আছে। গল্পগুলো সহজ ও সাবলীল গতিধারার ফসল। ডিজিটাল বিশ্বে মানুষ হন্যে হয়ে দৌড়াচ্ছে। সময়হীন রোবটের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণিকুল হারিয়ে ফেলেছে সুন্দর সহজিয়া জীবনবোধ। আধুনিক সাহিত্য জীবন খনন করতে করতে, জটিল হতে হতে সহজ হতে যেন ভুলে গেছে।
জীবনানন্দের ‘বোধ’ কবিতার পঙ্ক্তি এখানে তুলে দেওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারছি না–‘সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে আর?’ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘জীবনের জটিলতা’ বাংলা কথাসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে একটি কালজয়ী উপন্যাস। কেউ কেউ সহজ করে লিখতেই পারেন। এটিও একটি চ্যালেঞ্জ।
গল্পকার রুবেল আহম্মেদ ‘রোদগলা দুপুরে’র সুনির্বাচিত গল্পে সেই প্রাঞ্জল প্রতীতি রেখেছেন। সবুজাভ বৃক্ষের মতো যত্নআত্তি করে তুলে এনেছেন সহজ জীবনের সারাৎসার। এগুলো আমাদের জীবন, প্রতিবেশ ও চেনা চরিত্রের প্রাণের স্পন্দন।
রুবেলের গল্পে সারল্য, গদ্যের ম্যাচিউর মুন্সিয়ানার পাশাপাশি পাথরে পাথর ঘঁষে আগুন জ্বালানোর মতো জীবন জাগানোর স্পর্ধিত চ্যালেঞ্জ আছে, যা আধুনিক সাহিত্যের আধার। রবীন্দ্রনাথের কথায় বলি–‘সহজ করে কইতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’
কিন্তু তিনি যখন ভাঙন গল্পে বলেন–‘নদী ভিটা ভাঙতে পারে, কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছা ভাঙতে পারে না।’ আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ শেষ করেন অপরাজিত, অপ্রতিরোধ্য বুড়ো নাবিকের পাহাড় স্পর্শী প্রত্যয়ের অগ্নিময় উচ্চারণে–‘আ ম্যান ক্যান বি ডেস্ট্রয়েড বাট নট ডিফিটেড’।
জি বি এম রুবেল আহম্মেদের গল্পও জীবনের গহন–গভীর শ্লাগার গল্প। যা জীবনের সহজ দরজার আলোর উদ্ভাস ছড়ায়। তাই আশা করি, বইটি পাঠকের ভালো লাগবে। আমি বইটির বহুল পাঠ ও প্রচার কামনা করছি।
বই: রোদগলা দুপুরে
গল্পকার: জি বি এম রুবেল আহম্মেদ
প্রকাশক: হরিৎপত্র
প্রচ্ছদ: সোহানুর রহমান অন্তর
মূল্য: ২৭০ টাকা।