গল্প। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের তৃতীয় তলায় একটি ভাঙা কম্পিউটারের সামনে বসে হারুন মোল্লা প্রথম জমে গেলেন, তিনি ইন্টারনেট মারা গেছেন। তার বয়স তখন সাতষট্টি, দাঁতের মধ্যে পান লেগে ছিল, ডল খাইতে নািয়া দিন বাইরে ঝুল মাসের বুটি থেকে বাঁচতে তিনি যে কালো ছাতা হাতে থেকে বের হয়েছিলেন, দিনে দুপুরের খাবার খাবেন বলে, সেই ছাতাটি গুঁজে করে চোদারাসি পাশে রাখা ছিল। জীবিত গাছের পক্ষে এগুতোলো প্রমাণ তার কাছে যথেষ্ট মনে হয়েছিল।
দিবা কম্পিউটারের সামনে বসা কর্মচারীটি মাউস নাড়াতে নাড়াতে বলল, ‘চাচা, আপনি তো মৃত।’
ক্যাসাট কালার সমস্ত স্তরে ঘুরে কেনো বিকল্প ছিল না; যেন সে বলছে, আপনার আধাননেওয়া দুই কপি ছবি কম। হারুন মোল্লা হাসলেন। তিনি ভেবেছিলেন হালালেই ভুল ডেকে যাবে। কিন্তু কর্মচারীটি স্ক্রিন ঘুরিয়ে দিল। সেখানে তার মৃত্যু-তারিখ, এমনকি মৃত্যুর কারণও লেখা—বার্ধক্যজনিত।
হারুন মোল্লা তার দিকে বিশ্বক্ষণ ফাঁকাকবল করে চেয়ে রইলেন। তারপর বললেন, ‘কিন্তু বাবা, ডেথসেট তো পাচ্ছ আমি মরিনি।’
কর্মচারীটি এলার খানিটিটি স্ত্রীর মধ্যে বলল, ‘সিষ্টেমে যেটা আছে, সেটাই বলতে হবে। আপনার জীবিত খবরাখবর প্রয়োজনয় ছাড়া আর পেনসন উঠবে পাকবেন না।’
তা তুলতে তিনি নিবারণ অর্মাদনে গিয়ে দেখলেন, তার স্থায়ী পরিনাপের গুগল্টি সাল। আগুলের ছাপ মেলানো হলো, চোখের মণি জ্ঞান করা হলো এবং নামটি ছোট সবুজ আলো জ্বলতে বলল : মৃত।
ততক্ষণে হারুন মোল্লা থিটো মুখে পড়েছিলেন বংশী সমুদ্রের নিবারণ কর্মকর্তা তাকে ঠান্ডা করায় চেষ্টা করলেন। তিনি হাসিমুখে জানালেন, ‘আপনি এখন তথ্য জীবিত সেক্টর।’ হারুন মোল্লার মন কিছুটা ভালো হলো। তিনি পালট্টি প্লেসে ডিফেন্স করলেন, ‘এখন জালের বেশি জীবিত হওয়া যায়, স্যার?’
বিশ্ব কর্মকর্তা তার সঙ্গে রসিকতায় যোগ না দিয়ে দরজায় গলায় হাঁক ছাড়লেন, ‘নেক্সট।’
হারুন মোল্লা বাইরে খতরমানদের সুযোগ দিতে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে জনদিন্দন অফিসে গেলেন। সেখানে গিয়ে আরেক বিপরীত ‘সাতা’-এর মুখোমুখি হলেন। দোকানের নখ খসাতে গেলে দেখা পেলেন কনেরাও জন্মসনদনি। ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো খাতায তার বাবার নাম আছে, ভাইদের নাম আছে, এমনকি তবে থেকে তিন বছর আগে মারা যাওয়া এক বোনের জন্মও আছে; শুধু মাঝখানের যে খাতায় তার নাম খাজের কথা, সেটাই অপ্রাপ্তিবিকারে সাদা।
ইউপি সচিবকে এই নিয়ে লিজেস বলতে গেলে বললেন, ‘সাক্ষে পত্রে আসেন।’
হারুন মোল্লার আর বাসার লাভ হলো না। স্ত্রী হেলিমা গোপাকে ফোন দিয়ে বললেন, কিভাবে মেই হবে, তারা সেন পেয়ে নেয়। নাছকর পর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের রুমে ঢুকে তিনি কসম কেটে বললেন যে তিনি জন্মেছেন। প্রমাণ হিসাবে মায়ের বর্ধিত কমাও উদ্ধৃত করতে বাদ রাখলেন না; তবু জন্ম হয়েছিল অমাবস্যার রাতে। গেড়াতে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ছিল, তার বাইরে তহপে জড়িয়ে বলেছিলেন, ‘এ ছেলে রেডি হবে।’
ইউপি সচিব জানালেন, তিনি হারুন মোল্লার কথা বিশ্বাস করলেন না, কিন্তু সমস্যা হলো সরকারি কাগজে দমিনেরা ভবিষ্যদ্বাণী লেখার জন্য কোনো পৃথক খাতা বরাদ্দ নেই। এরপর ভূমি অফিসে সমস্যা আলগা গম্ভীর হলো। সেখানে হারুন মোস্থার গলায় নামের হতে লেখা: গোলাপ। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের কাছে তিনি নিয়ের বাবা। তহসিলদার অনেকক্ষণ ফ্লিকে দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওটা মতিপ্রেশনের সময় লুপ করেছে মনে হয়।’
হারুন মোল্লা বললেন, ‘আমি কি তাইলে নিজের উত্তরাধিকারী হইতে পারেন, স্যার?’
তহসিলদার বলল, ‘অফিসের লোক ভাড়া বলা কঠিন।’
সেদিন বিধান রেটির পরে বাড়ি ফিরে তিনি দেখলেন কন্নস্ত্র স্ত্রী হেলিমা বাসায় বসে কাঁদছে। হারুন মোল্লা অবাক হয়ে কী হওয়ায়ে জানতে চাইলেন।
‘এবার ঠিক আছে।’
সেই রাত থেকে তাদের সংসারে একটি নতুন নিয়ম চালু হলো; হেলিমা মেয়া ঘুমাতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র বালিশের নিচে রাখতেন।
নিজের জন্ম দেখতে জানার জন্য তিনি ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করলেন: সাক্ষী হিসেবে এলেন তার বড় ভাই, স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, আর গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক দাখিয়া জবিনা বেগম। সাক্ষীদের পরে তার নতুন জন্মনিবন্ধন তৈরি হলো। তারিখ বসানো হলো স্কুলের পুরোনো সনদ অনুযায়ী। সামনে দিল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হারুন মোল্লার ইঁদুর বাধা এক মুহূর্তের মধ্যে চলে গেল, তিনি চমকে উঠে দাঁড়ালেন; বাড়ি গিয়ে দেখলেন তার বড় মেয়ে নাজমা তার থেকে বসে নাম বছর ময়েতের ছোট হয়ে গেছে। কারণ নামমায় জন্মতারিখ অপরিবর্তিত, কিন্তু বালার নতুন জন্মতারিখ পনেরো বছর এগিয়ে গেছে।
পরদিন তাকে থানায় জনতাদ্বীয় সংশোধন করতে যেতে হতো। এবার স্কুলের সনদ, ভোটার তালিকা, ডাক্তারের বহি এবং দুটি পুরোনো রেশন কার্ড মিলিয়ে ‘সংযুক্তি’ জন্মদিন নির্ধারণ করা হলো। প্রতিবার তাবিদ কপলানোর সঙ্গে হারুন মোল্লার শরীর কতক বাপ বা বয়ংকর নম্বর এপিয়া-পিরিয়ে যাচ্ছিল। একবার তিনি অফিস থেকে বের হয়ে দেখলেন জয় চাল হলো; আলেকজান্ডার মিড়ি ভেঙে নিচে নামে অবিকায় করলেন ফোঁয়ের একটি গাড়ি ফাঁকা। তিনি বুঝলেন, রাত্রি তার বয়স গণনা করবে না, বয়স নির্মাণ করছে। শেষমেশ তার এমন একটি বয়স ঘাড় হলো যেটিতে ঠায় চল করলো, মাটিতে সববটি দাঁতও টিকল, তবে ইঁইয়া বাধা বাদ দেওয়া সম্ভব হলো না।
ওদিকে ভূমি অফিসে নিজের বাবা হওয়ার ভুলটি সংশোধন করতে গিয়ে আরেক বিপদম হলো। তার পিতার প্রকৃত নাম আনদুল ঘনি মোল্লা। পুরোনো খতিয়ানে তা-ই ছিল। কিন্তু ডিজিটাল রেকর্ডে সব বছর ঘরে হায়ান নিজেই নিজের পিতা হিসাবে থেকে যাওয়া জমির উত্তরাধিকার শৃঙ্খলা একটি বুঝে পরিণত হয়েছিল। কম্পিউটার বলছিল : হারুন মোল্লা হিসাবে থেকে যাওয়া জমির উত্তরাধিকার শৃঙ্খলা একটি; এবং তার মৃত্যু পর জমি আবার যাবে হাতান মোঘায় কাছেই।
সংশোধনের আবেদনপত্র জমা দিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে দেখছেন তার ছেলে রুদ্রিক ততক্ষ ‘আক্কা’ বলতে গিয়ে থেমে গেছে। একমাত্র ‘দানা’, একমাত্র ‘আনা’, তারপর আবার নাম ধরে ডাকছে। পারিবারিক অললাতে তিন প্রজন্মের মুখগুলো অতলরমল হয়ে গেছে। এক তরিতে হারুন নিজের কৈশোরের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কুহু হতে; আরে কঁদিতে তিনি তার বাষ্পকে বদলে নিতে আসেন।
তলিমা মরিচলো নেমে বলল, ‘কপালে ভুল করে ঢুকে গেছে।’ হারুন মোল্লা তার চুপ থাকতে পারছেন না। উকিল মারফত হাইকোর্টে রিট করলেন; হারুন মোল্লা বানান রুষ্ট। প্রথম প্রোনায়েটেই রাষ্ট্রপক্ষ আপতি তুলল এই বলে যে আবেদনকারী আইনগতভাবে সে, সেটাই নির্ধারিত নয়। মৃত ব্যক্তি রিট করতে পারেন না, অসময়া বাকি লোকাস স্টাডি অর্জন করেন না, তার নিজ পিতা নিজেই হলে উত্তরাধিকার সম্পর্ক ও স্পষ্ট।’
বিচারপতি চমা খুলে বিরূপ ফলকে দেখতে তাকালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি নিজে কী বলেন, আপনি আসলে কে?’
হারুন মোল্লা এতদিন এই প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আমি হারুন। আনদুন ঘনির ছেলে, হেলিমাঙ্গ কর্মী, নাজমা আর রুমিকের বাবা, অবসরপ্রাপ্ত হিসাব সহকারী, ডাক কমিটি-মুখরীব বাণিজ্য।’
কিন্তু আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘হুজুর, আমার চার-পাঁচটি অফিসের মধ্যে কোনটা যে এই মুহূর্তে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে তা আমি নিজেও ভোলার ক্ষেত্রেছি।’
বিজ্ঞাপিত হতাশা হয়ে বললেন, ‘দৃষ্টু একজন মানুষের একাধিক পরিচয় ঈশ্বর করে না, আপনাকে যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে।’
এরপর আদালত চার দপ্তরকে মূল নথি দাখিল করতে বলল। এক মাস পরে টেবিলের ওপর চিপটি পত্রে এসে জমা হলো। হিসাবরক্ষণ দপ্তরের সত্য হারুন মৃত, নির্বাচন কমিশনারের সত্য তিনি জীবিত, জন্মনিবন্ধনদয়া সত্য তিনি বিলম্বে হয়েছেন, ভূমি দপ্তরের সত্য তিনি নিজের পিতা। প্রত্যেক নথিতেই পিন ছিল, খাপবন্ধ ছিল।
অতপর নিজ বিচারপতির নির্দেশে সরকার হাজার সোলায় একটি মাত্র সরকারি জীবন নির্ধারণ করতে ‘একক নাগরিক বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করল। সাত দিনের মধ্যে সব প্রমাণ চাওয়া হলো। হারুন একট গেয়ে ট্রাকে করে নিয়ে গেলেন বাজার হতের দেনা চিঠি, মাজের পুরোনো তসলিবর খলে, কবিতা, প্রথম সেনের রশিদ, ছেলের জন্মদ হাসপাতালের খিল, হেলিমাঙ্গ সঙ্গে সাদা-কালো ছবি এবং নিজের মৃত্যুসংসের সত্যায়িত ফটোসর্গ।
কমটির চেয়ারম্যান বললেন, ‘এগুলোর মধ্যে কোনটা আসল? সিষ্টেমে একটি মাষ্টার রেকর্ড লাগবে।’
হারুন মোল্লা বললেন, ‘আমি ভাব পারতেছি না স্যার, আপনাকেই আসলটি সার্চ করে দেন।’
কমিটি একে একে ভুলগুলো সংশোধন করতে শুরু করল। প্রথমে মৃত্যূসনদ বাতিল হলো। পরে হেলিমা বললেন, সেজন্য তার বুকটা হালকা লেগেছিল। হারুন বুঝলেন, ভুল নথিটিও এতদিন একটি লেসটে শোকানুভূতি সৃষ্টি করেছিল।
এরপর জন্মতারিখ এক করা হলো। তার মুখে বয়স ছিল না। ভূমি রেকর্ড পিতার নাম ঠিক হলে আলাপমাত্র অলক্ষ্য ছবিগুলোতে রাজাবিত হয়ে গেল, তখন হারুন সেই দলিলগুলো জন্য হঠাৎ শোক অনুভব করলেন। কারণ সেখানে তিনি একজন নিহায় বাবাকে কেচলে নিয়েছিলেন—অসন্তপ্ত হলেও সেটাই তার ভবিষ্যতে সত্য ছিল।
তিনি কমিটিতে বললেন, ‘সামনে। সব ঠিক অঠ্রইন না।’ কমিটির সদস্য মোতায়ারে আস্তে তাকালেন তাতে হারুন মোল্লা করলেন তাহা তাকে ড্রপাইজ তায়্যারেছেন।
হারুন বললেন, ‘আপনারা ভুল ঠিক করতে করতে আমার জীবনের ষোল অংশ স্কুলের ভেতর জন্মাইল, গোলাপ মায়ীরা ফেলেছেন। কিন্তু এতদিন পোমখ তো আমি!’
একজন সদস্য বললেন, ‘কিন্তু প্রশাসন মানুষের কাল্পনিক রূপ রাখতে পারে না।’
হারুন উত্তর দিলেন, ‘তাহলে আমারে তেঁতুলিয়া নদী মনে করেন গেরা। তার মতো আমারে ডাকেন, ইপসা, বুড়াংগোল-বা মনে ছায়া। শুধু আমারে মাইরেন না।’
‘তাহলে আপনি ড্রিট করলে কেন?’
‘পিট করে ভুল করছি স্যার, পিট তুইলা নিন। তবু লোহায় লাগে, আমারে মাইরেন না।’