শিরোনাম
Advertisement
শব্দশিল্প

সাম্য রায়য়ানের কবিতা

সাম্য রায়য়ানের কবিতা
Advertisement

ব্রিজ, ব্রিজ
জুতোব মাপে পা এঁকে নিচ্ছি। ব্রিজের ওপর ব্রিজ
ভেদ করে পুলিশের গাড়ি, অথবা অ্যাম্বলেন্সও
হতে পারে। পরিচিত ধানখেত জুড়ে ভ্যানগহ।

হাইফেন চক্রের পাশে আমি ও মহোদয়
লুফে নিচ্ছি জলের শুশ্রূষা।

ভ্রান্তিটুকু বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের
দেখে নিও—
হাহাকারে নষ্ট হবে চোখ।

এই বুদ্বুদগুলো নদীর নিঃশ্বাস
বেঁচে থাকার চিরকৌশল—

উড্ডীন পাখিদল
আমাদের ভেতরে রেখে যাচ্ছে ডানার ছায়া।
তার চোখে চেনা জল, ঠোঁটে অসংখ্য ঢেউ
একটি ডানায় লিখে লুপ্ত রোদের ইতিহাস।

বিদ্যুৎ-চমকের মতো
মুখোমুখী দাঁড়ালে এসে
ঝড়ো বাতাসের কৌতুক। অথচ শান্ত
ভীষণ, বাইরে দাবানল
মুখরস্বভাবে।

আশ্চর্য টিবির নিচে, নিজস্ব ভ্রমর
আকড়ে ধরবে কাকে?
দ্বিধাগ্রস্ত হাওয়ায়
দুলে ওঠে সামাজিক প্রেম!

বিদ্যুৎ-চমকের মতো
পাচিল ডিঙিয়ে এলো
মূর্তমান অন্ধকার— ঠেকানো
যাবে না আজ কাউকেই।

ওইসব মৃত্যুর মতো হাসিঠাট্টা
ভাসে ব্যক্তিগত ঝর্ণার জলে।

এই নিয়ে প্রতি রাতে
ঘুমের ভেতরও নিশ্চিত গোলযোগ।
ক্ষীণ আলোয় দেখি স্বপ্ন নেই কোনো
স্পষ্ট বেটোফেয়ন বুক-ভাঙা শ্বাসে।

তবুও বৃষ্টির দিকে
নিবন্ধিত রিকশার পিছে
মনে মনে ভেসে যাচ্ছিলাম
যেখানে আমি নাই, সেখানেও
সামান্য নিঃশ্বাস ছিল আমার।

প্রমাণ চাইলে ফাটল দেখাতে পারি
রক্তহীন আঁচড়, ডোরাকাটা।

বিকেলবেলার লক্ষণ— সেই থেকে
উড়ছি, অসম্ভব আলো আর আলেয়া
দ্যুতিহীন ধুঁকে ধুঁকে, নির্লিপ্ত বৃষ্টির দিকে।

সাগর স্বরলিপি জানে
তীরঘেঁষে যেটুকু লিপি অস্পৃশ্য ভালগার
মিশে গেছে দুপুরের রোদে, আশ্চর্য ধূর্ততায়
আনত ভূমির কাছে দুলে ওঠে অন্ধকার
হাতিরা ম্লান সারে উজ্জ্বল গরিমার দিনে

এখানে এমনই আগুন— বনের জীবন
সাইরেন ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে প্রহরী।
কিছুটা হিংসা ভুলে তুমি দূর পাতাল থেকে
বাড়াও হাত-ভর্তি রেণু।

স্বরলিপি— ওই পত্র থেকে দুলছে সাগর
দ্যাখো বাদ্যযন্ত্রসমেত দুলে ওঠা শাখায়-পাতায়।
প্রাচীরের ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছে টেউ,
তোমার চোখে বালি ও ফেন্না; আন্ত সাগর…

পাড়াতো বানর
পৃথিবীর কোনো গল্পে এই বানরটি নেই
যে আমাদের বাড়িতে এসেছে গতকাল
গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে বেড়াত আড়াল
স্বরসন্ধির আড়ালে তার উজ্জ্বল গরিমা
ডুমুর পাতার দিকে ঝুঁকে থাকা রেণু

উঠোনে কলার থেকে অভিমানে খসে যাচ্ছে বোতাম
শুকনো বৃষ্টির পরে অ্যানিয়োমিটারে বাড়ছে হাওয়া

বিরত বানর কোথায় লুকিয়ে আছে কে জানে!
মা তাকে খুঁজে হয়রান
কলার কাঁদি হাতে
সাথে ক’টা খুচরো বিস্কুট

পৃথিবীর কোনো বনে এই বানরটি নেই
চুপচাপ বসে আছে পাতার আড়ালে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ