শিরোনাম
Advertisement
শব্দশিল্প

হানিফ ওয়াহিদের হাসির গল্প ‘চিরকুমার’

Advertisement

আরও পড়ুন

আমাদের বাড়ির সামনে দুইটা কমিউনিটি সেন্টার আছে। এখানে প্রতি শুক্রবার কোনো না কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান লেগেই আছে। আমি দেখি আর আফসোস করি, কারণ আমার এনগেজমেন্ট রিং পরার বয়স পার হয়ে এখন হার্টে রিং পরানোর বয়স চলছে, এখনো কোনো মেয়ের আঙুলে রিং পরাতে পারি নাই।

পাড়ার লোকজন আমাকে ডাকে চিরকুমার।

একসময় ভেবেছিলাম, সুন্দরী, টাকাওয়ালা, অল্পবয়সী মেয়ে বিয়ে করব। একটু বয়স হওয়ার পর ভাবলাম, থাক, মেয়ে সুন্দরী না হলেও চলবে, বাপের টাকাপয়সা আছে এমন অল্পবয়সী মেয়ে হলেই হবে। আরেকটু বয়স হওয়ায় ভাবলাম, সুন্দরী, টাকাপয়সা লাগবে না, মেয়ে অল্পবয়সী হলেই হবে।

এখন অতিরিক্ত বয়স হওয়ার পর ভাবছি, মেয়ে শুধু জীবিত থাকলেই হবে, বয়স টয়স ব্যাপার না!

সঠিক বয়সে বিয়ে না করার জন্য দায়ী আমাদের পাশের বাসার সুন্দরী সুমি। মনে হয় সে আমাকে অভিশাপ দিয়েছে, সেজন্যই বিয়ে হচ্ছে না ।

কলেজ জীবনে স্কুল পড়ুয়া সুমির উপর ক্রাশ খাইছিলাম। এমনভাবে তার প্রেমে পড়েছি, মানুষ উষ্ঠা খেয়েও এমনভাবে উপোত হয়ে পড়ে না। ক্রাশ আর কুত্তা মারাত্মক জিনিস, রাস্তায় দেখলেই বুক ধড়ফড় করে।

সুমিকে দেখলেও আমার বুক ধড়ফড় করত।

একদিন সুমিকে রাস্তায় একা পেয়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েই ফেললাম। একটা গোলাপ নিয়ে তার চোখের সামনে ধরে বললাম, সুমি, আমি সারাজীবন তোমার হাত ধরে হাঁটতে চাই।

সুমি বিরক্ত গলায় বলল, আপনি কি অন্ধ? আমার হাত ধরে হাঁটতে হবে কেন? একটা লাঠি কিনে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।

আমি তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললাম, আমি তোমার জন্য পাগল।

পাগল হলে পাবনা পাগলা গারদে গিয়ে চিকিৎসা নেন। আমি কি পাগলের ডাক্তার?

আমি প্রার্থনার ভঙ্গিতে বললাম, আমি সত্যি সত্যি তোমার প্রেমে অন্ধ।

আমার প্রেমে অন্ধ হয়ে লাভ নাই, প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন না। আরেকটা কথা, আমার পিছনে ঘুরেও লাভ নাই, কারণ আমিও আরেকজনের পিছনে ঘুরি।

কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, এত কঠিন হইয়ো না সুমি, দয়া কর, তোমরা মেয়েরা না মায়ের জাত…

কথা শেষ হওয়ার আগেই সুমি বলল, আমরা মেয়েরা মায়ের জাত সত্যি, কিন্তু তোমরা ছেলেরা কোনো জাতই না, একেবারে বজ্জাত। বজ্জাতদের বিশ্বাস করি কীভাবে?

আমি শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললাম, আমার মতো ভালো ছেলে তুমি টর্চলাইট দিয়ে খুঁজেও পাবে না। আমার চেয়ে ভালো গোল্ড খুঁজো না, কপালে সিটি গোল্ড জুটবে।

সুমি তার কপালের চুল ঠিক করতে করতে বলল, আগে লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াব তারপর বিয়ে করব।

আমি হড়বড় করে বললাম, স্বামীর পা থাকতে তুমি কষ্ট করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে যাবে কেন? তুমি আমার পায়ে দাঁড়াবে, না হয় সারাক্ষণ আমার কোলে বসে থাকবে। শোনো সুমি, আমি চাই তুমি সারাজীবন আমার সাথে লাইন মারবে, নইলে কিন্তু আমি বেলাইনে চলে যাব।

আমার উল্টাপাল্টা কথা শুনে সুমি রেগে গিয়ে গালি দিতে শুরু করল, আমি অতি কোমল গলায় বললাম, রাগ কইরো না লক্ষীটি, ছেলেরা প্রেমে পড়লে বোকা হয়ে যায়, নরমাল হও…

সুমি বিরক্ত হয়ে বলল, আমি কীভাবে নরমাল হব? আমি তো হইছি সিজার কইরা…

আমি সুমিকে খুশি করার জন্য বললাম, যেসব মেয়ে সিজারে জন্ম হয়, তারা অতি লক্ষী এবং ভদ্র হয়। তাদের হৃদয় থাকে অতি কোমল। শুধু আমাকে বল, তোমাকে পাওয়ার জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে? মন তো আগেই নিয়ে গেছ, এবার আমাকেও সাথে করে নিয়ে যাও।

প্রশংসা পেলে লোহাও গলে যায়, সুমি তো মেয়েমানুষ, সেও গলে গেল। কোমল গলায় বলল, তুমি হয়তো ভালো ছেলে, শুনেছি তোমার ফ্রেন্ড সার্কেল ভালো না।

আমি অতি বিনয়ী হয়ে বললাম, আমার চোখের নিচে একটা ডার্ক সার্কেল ছাড়া আর কোনো সার্কেল নাই, তুমি কোন সার্কেলের কথা বলছ? শোনো সুমি, আমাদের বংশের ছেলেরা এমন ভদ্র, তারা নিজের গার্লফ্রেন্ড ছাড়া আর কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায় না।

সুমি বলল, আমি তো শুনেছি অর্থ আর নারীর পিছনে ছুটতে ছেলেরা কখনো ক্লান্ত হয় না। তোমাদের বংশের ছেলেরা কি শারিরীকভাবে খুব বেশি দুর্বল?

আমি মনে মনে বললাম, হাউ ফানি, জরিনার নানি! আমি বলি কী, সারিন্দা বাজায় কী!

আমার কান্নাকাটি শুনে সুমির মনটা বোধহয় কিছুটা গলল।

রাতে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিবো, একসেপ্ট কইর। ভেবে বিস্তারিত জানাব, তোমার সাথে আমার যায় কি না! বলেই সুমি চলে গেল।

আমি জানি, আমার প্রতি দুর্বল না হলে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর কথা বলত না।

আমি নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে এলাম। মনে মনে বললাম, পাইলাম, আমি সুমিকে পাইলাম।

দিনটা আনন্দে কাটল, খুশির ঠেলায় সারাদিন বাসা থেকে বের হলাম না। যা দেখি সবই ভালো লাগে।

যা খাই সবই মজা লাগে। রাতে সুমি সত্যি সত্যি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাল, অতি উত্তেজনায় একসেপ্ট করার পরিবর্তে ডিলিট করে ফেললাম। সুমি আমাকে সাথে সাথে ব্লক করে দিল।

মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত আমি চিরকুমার।- প্রতিদিনের সংবাদ

এ বিভাগের আরও সংবাদ