খৈয়াম কাদের
স্ফুরণের গীত
নদীর সাথে নারীর দেখা হলে
রূপের অরূপে তারা বিমোহিত হয়,
রূপে রূপে করে মাখামাখি
দ্বিত্বের দ্বৈরথ ভেঙে অস্তির একত্বে মিশে যায়!
জলের চিতায় জ্বলে সৃষ্টি-তাড়নার দ্যুতি
দৃশ্যের আবিরে সব দৃশ্যাতীত হয়ে যায়;
সেই তাপে স্নান করে নিমগ্ন হৃদয়
মনে হয় সিজদায় পড়েছে নুইয়ে আনাল হকের ভঙিমায়!
প্রত্নকালের এই প্রবীণ জল
বীজের উদরে ঢালে স্ফুরণের গীত,
শারদীয় শিশিরের প্রেম লুফে নেয়
রোদের চুম্বনে আঁকে ভাবের সম্বিৎ!
নদীর ভেতরে নারী, নারীর ভেতরে নদী খেলা করে
নারী-নদী মকরন্দ-সুধা, জলের আকাশে ওড়ে!
কষ্টের সিম্ফনি
স্মৃতি নীল হলে নিজেকে অমর মনে হয়,
মনে হয় ইতিহাস যেন এক কবরের মমি;
ভোলা তো যায় না কিছু, বারবার সব মনে পড়ে
স্মৃতির মিনারে ওড়ে বিস্মৃত কালের ঘুড়ি!
বদলের স্বপ্ন শেষে আগের দৃশ্যই ফিরে আসে,
কৌমের ভূমিতে ঝরে বিবিধ বৃষ্টির পানি;
বাবার পীড়িত মুখ রঙের ফানুসে নড়েচড়ে,
মায়ের হেঁসেলে পোড়ে কষ্টের সিম্ফনি!
পাখিনগরের যত গান, যত সরোদের সুর
বেজে বেজে সরে যায়, সরে যায় দূর-বহুদূর।
শরীর ছোঁব না
কতদূর যাবে?
আমার মনও ঠিক ততদূর যাবে;
মতি-চাঞ্চল্যে যখন বেঘোরে মাড়িয়ে যাও প্রেমের ঠিকানা
বুঝেও বোঝ না—প্রেমকে মাড়ানো আদৌ সহজ না!
যে গলিতে রোজ হেঁটে যাও, যে বাজারে
করো বেচাকেনা; আমি তার পার্শ্ববাসী, খবর রাখো না।
তোমাকে রেখেছি আবেগের ইন্দ্রপুরে,
প্রেমাধিক প্রেমের কবুলে ঘিরে;
এ প্রেমে বিরহ নেই, অভিসার জেগে থাকে
স্মরণের ঘরে। প্রেমের স্মৃতিরা প্রতীক্ষার সর্বনাম
ভালোবেসে আমি তাই নিঃস্ব হবো না
প্রেমকে বাঁচাতে আমি শরীর ছোঁব না!
তুমি গেলে যাও, যেখানে ইচ্ছে চলে যাও, প্রেম যাবে না,
প্রেম কখনো যাওয়ার জন্য আসে না!
সকল দৃশ্যই মেকি
অনুবাদ করি, কথারা বদলে যায়
ভাবের ভেতরে তবু নিজেকেই দেখি
শত্রু মিত্র শেষে সকল দৃশ্যই মেকি
অলীক মেঘেরা সব বৃষ্টি গিলে খায়!
সান্তাল পাড়ায় শুনি নৃশব্দের ধ্বনি
আমলকী বনে শুনি তিতাস্বাদ বাঁশি
বারবার ফিরে যাই, ফের ফিরে আসি
প্রেমকে আহত করে কামের কিঙ্কিণী!
রমণী-কণ্ঠের ভাষা জলকেলি জানে
পাখির বাণীতে জাগে রমণের সুর
অভিমান হেঁটে যায় দূর বহুদূর
আবেগ অমর হয় বিরহের গানে!
ফুল-পাতা গুল্ম-লতা আলপথ চেনে
প্রলাপ পেরিয়ে তারা সংলাপ কেনে।
পলিটিক্স
গণিকা সত্যের পলিটিক্স গিলে
আমাদের নেতারা পবিত্র হন
তাদের বায়াতে শিখি
নিজেকে ভিখিরি করার মুর্শিদি গান।
তাদের পবিত্র নামে
মিছিল করি, স্লোগান দেই
ভুলে যাই ঘরের খবর
তাদের পকেটে রাখি আত্ম-সনদের খেই।
ওনারা রুহানি ছবকের ওলি
জীবনের সব গলি চেনেন, মানুষকে বানান মুরিদ
মানুষকে হরণ করেন, ভাঙেন গড়েন
মানুষকে নিঃস্ব করে মানুষেরই হয়ে যান সুহৃদ!
সূত্র: জাগো নিউজ