শুরুটা হয়েছিল হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকে, শেষটা তাঁর এলবিডব্লুতে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের লিডসহ বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রান। দিনের শুরুটা দুর্দান্তই হয়েছিল তাদের জন্য। ইবাদতের হাত ধরে প্রথম উইকেট পাওয়ার পর হাসান মাহমুদ হ্যাটট্রিক করেন। ২৯ রানের ভেতরই আজ আফগানিস্তানের ৬ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর বড় জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম। তাদের জুটিতে ১৫৯ রান আসে। দুজনই ফিফটি পান, কিন্তু কেউই তিন অঙ্ক ছুতে পারেননি। মুশফিক ৮১ আর নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২ রানে। শেষ বিকেলে ৫ ওভারের ব্যবধানে তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে একটু বিপদে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ইনিংসে বড় লিড পাওয়ায় এখনও ম্যাচের সুবিধাজনক জায়গায় আছে বাংলাদেশই। দিনের খেলা শেষে উইকেটে আছেন লিটন দাস ও হাসান মাহমুদ। লিটন ১৩ বলে ৫ রান করেছেন, হাসানের সংগ্রহ ১ রান। বাংলাদেশের হাতে এখনো ৫ উইকেট রয়েছে।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। সাদমান ইসলাম ১৩, তানজিদ হাসান তামিম ৩১ ও মুমিনুল হক ৭ রান করে আউট হন। একপর্যায়ে ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে শান্ত ও মুশফিকুরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দল। আফগানিস্তানের হয়ে ইয়ামিন আহমদজাই ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। মোহাম্মদ সেলিম সাফি, জিয়া-উর-রহমান ও কাইস আহমদ পেয়েছেন ১টি করে উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে এখন লিড আরও বাড়ানোর সুযোগ। ৩২৯ রানের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ।
হাসানের ফিফটি
বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেট নিয়েছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে এর আগে ৫০ উইকেটের কীর্তি আছে মাশরাফি বিন মুর্তজা (৭৮) ও তাসকিন আহমেদের (৫৯)।
হাসানের ৫ উইকেট
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৮৭ ওভারে ২২৩/৯। আবারও হাসানের ৫ উইকেট। গত আগষ্টে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়া হাসান আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবু ধাবিতেও পেলেন ৫ উইকেট। পঞ্চম উইকেটটি পেয়েছেন ইয়ামিন আহমদজাইর। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। টেস্টে এটি হাসানের চতুর্থ ফাইফার। এটি হাসানের ৫০তম উইকেটও। টেস্ট ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক। চলতি বছরে টেস্টে এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক।
তালিকার তিনে হাসান
বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি (২০০৩) ও সোহাগ গাজীর (২০১৩)।
যেভাবে হলো হাসানের হ্যাটট্রিক
৮২.৩ ওভার: হাসানের ব্যাক অব আ লেংথের বলটি নিচু হয়ে ঢুকে যায় ভেতরে। সামলাতে পারেননি ইসমত আলম, হন বোল্ড। ৮২.৪ ওভার: লিটন দাসও এখানে কৃতিত্ব পাবেন। হাসানের বলে কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যাচ্ছিল স্লিপের দিকে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। ৮২.৫ ওভার: জিয়া-উর–রেহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল গিয়ে আঘাত করত অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে।





