শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের বাইরে

চাঁদপুরের ফাহিমার পরকীয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে দিশাহারা কলেজশিক্ষক ইকবাল

Advertisement

ভালোবাসার সম্পর্কের টানে গড়া সংসার টিকিয়ে রাখতে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে ৩২ লাখ টাকার ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছিলেন স্ত্রীর নামে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি কুমিল্লার এক কলেজশিক্ষকের সংসার। স্ত্রীর পরকীয়া, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দেওয়ার ঘটনায় এখন প্রায় ৬১ লাখ টাকার সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে স্ত্রীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

কুমিল্লা সদর উপজেলার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এন্নাতলী গ্রামের বাসিন্দা ফাহিমা আক্তারের (২৫)। পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অজুহাতে কুমিল্লায় ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার জন্য ইকবালকে চাপ দিতে থাকেন ফাহিমা ও তাঁর পরিবার। স্ত্রীর আবদার মেটাতে ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকার ‘আইডিয়াল প্যালেস’-এ ৩২ লাখ ২৬ হাজার টাকা দিয়ে ১১৩০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ফাহিমার নামে কিনে দেন ইকবাল।

ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার পরও পরিবারে শান্তি ফেরেনি। বরং তা কেবলই শুরু ছিল। ইকবালের অভিযোগ, ফাহিমার সঙ্গে অন্য এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ইকবাল যখন কলেজে পাঠদানে ব্যস্ত, সেই সুযোগে বাসা থেকে পাঁচ লাখ টাকা, ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তাঁদের চার বছরের সন্তান ইরফানকে নিয়ে ঘর ছাড়েন ফাহিমা। পরবর্তীতে এই অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করলে ইকবালকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার একটি রেস্তোরাঁয় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ নভেম্বর ইকবালের কাছে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় এবং উল্টো ইকবালের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়।

এই ঘটনায় কলেজশিক্ষক ইকবাল হোসেন আদালতে মামলা দায়ের করলে তা তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তদন্ত কর্মকর্তা নাজিউল ইসলাম সিসিটিভি ফুটেজ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৯৭, ৩৮০, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় (বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধে সহায়তা) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৪৯৮ ধারার অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে অভিযুক্ত সাতজন হলেন- ১. ফাহিমা আক্তার (স্ত্রী) ২. মোহাম্মদ সেলিম (শশ্বুর – ৫২) ৩. লুৎফুন নাহার ওরফে লাভলী (শাশুড়ি – ৮২) ৪. ফারহান হোসেন (শ্যালক – ২৩) ৫. খাদিজা বেগম ওরফে রুমা (চাচি – ৪৩) ৬. অহিদা বেগম (দাদি – ৭৩) ৭. মো. রেদোয়ান আহমেদ (নতুন অভিযুক্ত প্রেমিক – ২৫; ঘটনার সময় দেশে থাকলেও বর্তমানে সার্বিয়ায় অবস্থান করছেন)

তদন্তে ফাহিমার বিরুদ্ধে স্বামীর কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে ফ্ল্যাট ও অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার এবং তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ, হুমকি ও সহযোগিতার প্রমাণ মিলেছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষের কাউকেই ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি; ফাহিমার মা লুৎফুন্নাহার এ বিষয়ে প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করে ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বস্ব হারিয়ে ও প্রতারণার শিকার হয়ে বর্তমানে চরম মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন এবং আইনের সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ