শিরোনাম
Advertisement
মুক্তস্বর

প্রশ্নফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা

Advertisement

নজরে এলো? প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা আর নজরদারির দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কাঠামো তবে কী করেছে? পরীক্ষার আগের কয়েক ঘণ্টা কেন গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা গেল না, সেই দায় এড়ানো সম্ভব? শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নিয়োগ ব্যবস্থার সেই পুরনো ভঙ্গুরতাকে নতুন করে প্রকাশ করল। ঘটনার পর ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি আর ৩ দিনের আলটিমেটম— এসব আমলাতান্ত্রিক গন্ধবাঁধা নাটক আমরা আগেও বম্বার দেখেছি। কিন্তু অতীত সাক্ষী— এসব তদন্ত কমিটির ফাইল শেষ পর্যন্ত লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে ধুলো জমে আর অপরাধীরা অধরা থেকে যায়।

ওএমআর শিটে তুলে নেওয়া হয়নি, বরং ওই মুহূর্তে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে লাখো প্রার্থীর দীর্ঘদিনের শ্রম ও মানসিক স্থৈর্যকে। এ জাতীয় পুনরাবৃত্তিমূলক ঘটনা তরুণ প্রজন্মকে কেবল হতাশাগ্রস্ত করছে না, বরং রাষ্ট্র ও তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর থেকে তাদের ন্যূনতম বিশ্বাসটুকুও কেড়ে নিচ্ছে— যা একটি দেশের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য চূড়ান্ত অশনিসংকেত। এই হতাশার ঘোর কাটানোর একটি পথ, প্রশাসনিক কাঠামোগত শুদ্ধি অভিযান। ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে শুধু তিন দিনের ডেডলাইনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়ে খালাস পেলে চলবে না; প্রশ্ন চোরদের সিন্ডিকেট এবং পর্দার আড়ালের ইন্ধনদাতাদের জনগণের সামনে দাঁড় করাতে হবে। সেই রিপোর্ট যেন ফাইলবন্দী না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কাগজের প্যাকেটে কেন্দ্রভিত্তিক প্রশ্ন পাঠানোর সনাতন ব্যবস্থা অবিলম্বে জাদুঘরে পাঠাতে হবে। এর বদলে এনক্রিপ্টেড কোড ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রেই প্রশ্ন প্রিন্ট বা সরাসরি সুরক্ষিত ডিজিটাল বিতরণের বন্দোবস্ত করতে হবে। পরীক্ষার আগে ৪৮ ঘণ্টা ফেসবুক, টেলিগ্রাম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন কেনাবেচার বাজার বন্ধে বিটিআরসি ও সাইবার বাহিনীকে শুধু নজর রাখলে হবে না, নামতে হবে সাঁড়াশি অভিযানে।

সর্বোপরি, ১৬ অক্টোবরের নির্ধারিত তারিখটি যেন আর কোনো অজুহাতে না পেছায়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

শুধু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অধিকাংশ সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো না কোনো অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁস কিংবা অনাকঙ্ক্ষিত স্থগিতাদেশের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই চক্র থেকে বের হতে হলে প্রতিটি অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের পৃথক ও অদৃশ্য নিয়োগ কাঠামোর বদলে একটি সুনির্দিষ্ট, কেন্দ্রীয় ও স্বতন্ত্র ‘নিয়োগ বোর্ড’ গঠন সময়ের দাবি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি ধাপে, কারিগরি অডিট এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শান্তির নজর না থাকায়, প্রতিবার যদি অপরাধীরা পার পায়, তবে নতুন কোনো প্রযুক্তি নিয়ে এসেও, চৌধুরীর ছিদ্রপথ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

যে দেশের তরুণদের কাঁধে ভর দিয়ে আগামী স্বপ্ন আঁকা হয়, সেই তরুণ সমাজকে যখন বারবার পরীক্ষার হলের দোরগোড়ায় এসে অপমানিত হতে হয়, তখন তা কেবল দুঃখজনক নয় বরং চরম আশঙ্কাজনক। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই ক্ষততে প্রলেপ দেওয়ার সময় এসেছে। দেশের লাখ লাখ প্রার্থীর প্রতি সরকারের এখন একটাই দায়বদ্ধতা— আজকের পরীক্ষাকে কোনো দাগ ছাড়া সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা।

তরুণরা কোনো করুণার ভিক্ষণ চান না, তারা চান একটি সুরক্ষিত ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি ওএমআর শিটে তাদের রক্তঘাম ঝরানো মেধার মূল্যায়ন হবে। তরুণদের আস্থারীনতার অন্ধকার কাটুক, মেধার জয় হোক— এটাই শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের দাবি।

লেখক: সিইও, এইচটিসি ইভেন্টস লিমিটেড

এ বিভাগের আরও সংবাদ