আইডিয়াল স্কুল এমপিওভুক্তির আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ; শিক্ষক বরখাস্ত

এমপিওভুক্তির আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া ও জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফেরদাউসের সই করা চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক হলেন রোকুনুজ্জামান শেখ। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল (মূল) শাখার ইংলিশ ভার্সনের প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক। তবে বরখাস্ত ওই শিক্ষকের দাবি, তিনি এমপিওভুক্তির জন্য কখনো আবেদনই করেননি। তিনি আবেদন করলে এমন উল্টা-পাল্টা তথ্য দিতেন না বলেও দাবি করেছেন।

ভারপ্ত অধ্যক্ষের দেওয়া চিঠিতে রোকুনুজ্জামান শেখকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনি রোকুনুজ্জামান শেখ, মতিঝিল ইংলিশ ভার্সনের প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আলিয়াতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

এতে বলা হয়, সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য মাউশির নির্ধারিত আবেদন ফরম-১ এ দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্যে রোকুনুজ্জামান শেখ অধ্যক্ষ ও সভাপতির সই ও তারিখ জালিয়াতি করেছেন। মাউশি বরাবর ফরওয়ার্ডিং লেটারেও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এমাম হোসাইনের পরিবর্তে মো. মিজানুর রহমানের সই নিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য কর্মরত শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারী সংক্রান্ত তথ্যাদিতে রোকুনুজ্জামান শেখ জন্মতারিখ দেখিয়েছেন ১৫/০৫/১৯৬৯। প্রকৃতপক্ষে তার জন্মতারিখ ২০/১০/১৯৮২। এ প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগদান দেখিয়েছেন ১০/১০/২০০০ তারিখ। প্রকৃতপক্ষে তিনি কাজে যোগদান করেছেন ১৫/০৯/২০১১ তারিখ। এছাড়া এমপিওর কাগজপত্রে আইডিয়াল স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগদান দেখিয়েছেন ০১/১০/২০০০ তারিখ। প্রকৃতপক্ষে তিনি ০১/০৩/২০২৩ তারিখ যোগদান করেছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে চারটি সৃষ্টপদের কথা উল্লেখ থাকার পরও রোকুনুজ্জামান শেখ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি থাকায় নিজ ক্ষমতাবলে নিজের নিয়োগপত্রে ‌‌শূন্যপদ কথাটি উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া নিজ ক্ষমতাবলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চারটি সৃষ্ট পদের কথা উল্লেখ থাকার পরও জালিয়াতির মাধ্যম নিয়োগ রেজুলেশনে তিনি দুটি সৃষ্ট পদ ও দুটি শূন্যপদ দেখিয়েছেন।

চিঠিতে রোকুনুজ্জামান শেখকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ প্রতারণা ও জালিয়াতি। এ জাতীয় কাজের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যক্ষ বরাবর লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১৬ জুলাই থেকে আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আপনি বাসস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন না ও এ সময় বিধি মোতাবেক আপনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

তবে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বরখাস্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকুনুজ্জামান শেখ। তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য আমি কোনো আবেদনই করিনি। ষড়যন্ত্র করে কেউ এটা করে থাকতে পারে। আমি কর্তৃপক্ষকে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেবো।’

জন্মতারিখ, যোগদানের তারিখ ভুল দেওয়া প্রসঙ্গে রোকুনুজ্জামান শেখ বলেন, ‘আমার জন্মতারিখ ভুল আমি কেন দেবো? তাছাড়া এখানে আমার বয়স ১৩ বছর বেশি দেখানো হয়েছে। এ বয়স দেখানো হলে তো আমার চাকরির বয়স আরও আগে শেষ হয়ে যাবে.. ২০২৯ সালে আমাকে অবসরে যেতে হবে। তাতে আমার তো আরও লোকসান হবে। তাহলে কেন আমি এটা করতে যাবো? এ আবেদন আমার করা নয়। এটা ষড়যন্ত্র।’

রোকুনুজ্জামান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা নিশ্চিত করেছেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফেরদাউস। তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *