Category: শিক্ষাঙ্গন

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, কী ঘটেছিল আসলে?

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, কী ঘটেছিল আসলে?

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে একজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতভর আন্দোলন হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার। 

    মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসেরই একটি সড়ক থেকে ওই শিক্ষার্থীকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের ঝোপঝাঁড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও অভিযুক্ত ব্যক্তির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সিসি ফুটেজের মাধ্যমে আসামির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসামির নাম পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে গ্রেফতার করা যায়।’

    অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকারই বাসিন্দা কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

    অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে ঢাকা জেলা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে। অতীতেও এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্ষণের মতো ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এখনো কেন ক্যাম্পাসটি অনিরাপদ সেই প্রশ্ন সামনে আসছে।

    ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন প্রশ্নের মুখে পড়ছে- জানতে চাইলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বলেন প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম।

    প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, বর্তমান প্রশাসন তো দেড় বছর হলো এসেছে, কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাই ছিল না, আমরা নিরাপত্তা বেষ্টনী দৃঢ় করার জন্য ইতোমধ্যেই আড়াইশ’র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযুক্ত করেছি।

    বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে অংশীজনদের সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানান তিনি।

    কী ঘটেছে বুধবার রাতে?
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে অনেকে দাবি করছেন এবং ওই ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে লক্ষ্যহীনভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

    ভিডিওটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বলেই পুলিশ মনে করছে, তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পুলিশ ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মঙ্গলবার রাত এগারোটার দিকে পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

    এ সময় ওই ব্যক্তি তার সাথে কথা বলতে চাইলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের কি না প্রশ্ন করেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মতো ব্যাচের নাম উল্লেখ করে পরিচয় দেয়।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা বোঝা গেছে যে সে এখানকার সাথে পরিচিত। ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা কীভাবে পরিচয় দেয় এটা সে জানে।’

    নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার সম্পর্কে অভিযোগকারী তাদের বলছেন, এরপরই তাকে টেনে পাশের ঝোপের অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই ব্যক্তি এবং তিনি চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে কয়েকজন এগিয়ে এলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে বের হতে সক্ষম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

    বুধবার এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
    প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন প্রায় কয়েকশ নারী শিক্ষার্থী।

    সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বুধবার রাত দশটায় নারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ করেন। পরে তাদের সাথে ছেলেরাও যোগ দেয়।

    রাতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন মেহরিন মোবাশ্বিরা বিনতে আনোয়ার। এই শিক্ষার্থী জানান, মেয়েদের মিছিলটি প্রতিবাদী নানা স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে প্রথমে প্রক্টর অফিসের সামনে যায়।

    সেখান থেকে ছেলেরাও তাদের সাথে সংহতি জানালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিছিল নিয়ে যান তারা। মেহরিন মোবাশ্বিরা বিনতে আনোয়ার বলেন, প্রক্টর অফিসের সামনে হঠাৎ করেই কয়েকজন দাঁড়িয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই লোককে গ্রেফতার, প্রক্টর ও তার পুরা বডির পদত্যাগসহ পাঁচটা দাবির কথা বলে। আমরাতো খানিকটা অবাক হই।

    রাত দশটা থেকে প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার থাকলেও তখন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভক্তি দেখা দেয় বলে জানান তিনি ও আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখান থেকে দুই পক্ষ ভাগ হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে আন্দোলন শুরু করে বলে জানান তারা।

    এ দুটি পক্ষ কারা জানতে চাইলে শিক্ষার্থী তিনি জানান, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টের নেত্রীরা ১০টা থেকেই ছিল আমাদের সাথে। কিন্তু তারা ওই সাড়ে বারোটা পর্যন্ত কেবল সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই ছিল।

    ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আরেকটি পক্ষ পাঁচ দফা ঘোষণা দেয়। এই দুই পক্ষই আন্দোলন চালিয়ে যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

    পরে দুই পক্ষেরই কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সাথে এক বৈঠকে ছয় দফা দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, রাত দেড়টা থেকে প্রায় সাড়ে তিনটা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ে ছিলেন তারা।

    এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বুধবার রাতে আন্দোলনে ছিলেন। তিনি জানান, ‘ভিকটিম আসলে খুবই স্ট্রং একজন মানুষ। আমার জুনিয়র ছোট বোন আমি প্রাউড এ ব্যাপারে।’

    উপাচার্যের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপনের সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানান তিনি। ফারিয়া বলেন, এমনকি আমরা যখন ভিসির রুমে দাবি-দাওয়াগুলো উত্থাপন করছিলাম তখন সে নিজে সেখানে উপস্থিত ছিল এবং এই পুরোটা সময় সে আসলে ভেঙে পড়েনি। পুরোটা সময়ই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখেছে সে।

    দাবি নিয়ে দ্বন্দ্ব কেন?
    প্রথমে ২৪ ঘণ্টা বললেও পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পথগুলোতে প্রহরী মোতায়েনসহ ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

    তবে, প্রক্টর ও তার পুরো টিমের পদত্যাগের দাবির প্রশ্নে দুই পক্ষের মাঝে বিভেদ দেখা দেয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

    ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির নেত্রী ফারিয়া দাবি করেন, ছাত্র ইউনিয়ন পৃথক ওই দাবিটি তুলেছিল। যদিও ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার দাবি, এই অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কোনো ব্যানার, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো কিছু করি নাই। বরং সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই ছিলাম আমরা।

    নিরাপত্তা প্রাচীর নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশে
    প্রায় সাতশো একর জমি নিয়ে ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এটি অবস্থিত।

    আবাসিক হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোপুরি নিরাপত্তা প্রাচীর নেই বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি স্বীকারও করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একদিকে হাইওয়ে অন্য তিনদিকে লোকাল অধিবাসীরা বসবাস করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে পশ্চিম দিকের বাসিন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়েই চলাচল করে। আবাসিক হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতটা সুসংহত হওয়া প্রয়োজন ততটা না।

    কেন নিরাপত্তা প্রাচীর নেই- জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক আলম আর্থিক ফান্ড নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বাউন্ডারি ওয়াল এখনো সম্পূর্ণ না। আসলে আমাদের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে, আমাদের ফান্ডিং এর অভাব আছে।

    একইসঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার এগারোটি পথে সার্বক্ষণিক পাহারা নেই বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি গেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন, সাত দিনের মধ্যে কাঠামোগত ত্রুটি মেরামত, ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের দাবিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

    নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা কম স্বীকার করে প্রক্টর আলম দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের দেড় বছরে প্রতিটি প্রবেশপথ ও বাউন্ডারি ওয়াল তৈরির জন্য সচেষ্ট আছে।

    অধ্যাপক আলম বলেন, আগামী একমাসের মধ্যে কাজগুলোকে আরো ফাস্টেন করবে, আমরা সচেষ্ট আছি। আমরা আশা করছি বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হবে, আগের চেয়ে আরো কড়াকড়ি হবে।

    উল্লেখ্য, ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ২৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১শে মে থেকে এ ছুটি শুরু হবে।

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কাটাতে রিসোর্স পুল

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কাটাতে রিসোর্স পুল

    শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যও ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পুলে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিলে তাঁরা পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সূত্র বলছে, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটিসহ নানা কারণে প্রায়ই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিখন ঘাটতি দূর করতেই রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষককে নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। রিসোর্স পুলে অন্তর্ভুক্তির জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হতে হবে; বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে; রিসোর্স পারসন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে এবং একাডেমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।

    এর আগে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিভিন্ন কারণে শিক্ষকসংকট তৈরি হলে শিখন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। রিসোর্স পুল গঠন করা হলে এই সংকট আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৬৫ হাজারের বেশি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি পদ বর্তমানে শূন্য। মূলত মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এসব পদে নিয়োগ বা পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ২০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে।

    বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪-এর তথ্য বলছে, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

  • শাকসু নির্বাচন: প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

    শাকসু নির্বাচন: প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদেরকে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করতে হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনো প্রার্থীর ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রকাশিত শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনী আচরণবিধিমালায় এ তথ্য জানানো হয়।

    নির্বাচনী আচরণবিধিমালায় বলা হয়, প্রার্থী নিজ উদ্যোগে শাবিপ্রবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ডোপ টেস্টের স্যাম্পল দেওয়ার পর প্রাপ্ত রসিদটি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিবেন। নির্বাচন কমিশন অফিস সকল প্রার্থীর ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করবে।

    ডোপ টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন গঠিত রিভিউ কমিটির চূড়ান্ত মতামত নেওয়া হবে। ডোপ টেস্টের রশিদ ব্যতীত কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে না। অসত্য ও অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

  • বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্থায়ী সনদ পেল সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি

    বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্থায়ী সনদ পেল সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি

    সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার সরকারি সনদ পেয়েছে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এতে জানানো হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ১০ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মতামতের ভিত্তিতে এই সনদ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়েছে।

    প্রথম শর্তে বলা হয়েছে, প্রতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৬ শতাংশ আসন বরাদ্দ দিতে হবে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ আসন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং বাকি ৩ শতাংশ আসন প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য রাখতে হবে।

    দ্বিতীয় শর্তে আইন, ইসলামিক স্টাডিজ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্থাপত্য বিভাগে অধ্যাপক বা সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তৃতীয় শর্তে গবেষণা খাতে বাজেটের কমপক্ষে দুই শতাংশ বরাদ্দ দিতে বলা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পের আহ্বান জুন ২০২৫-এর মধ্যে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন মে ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করতে হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগকে অন্তত একটি গবেষণা প্রকল্প দিতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী রাকিব, জিএস খাদিজা

    জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী রাকিব, জিএস খাদিজা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্যানেলের সহ-সভাপতি মো. রাকিব (এ কে এম রাকিব), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খাদিজাতুল কুবরা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলনে এ প্যানেল ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

    প্রার্থীদের মধ্যে এ কে এম রাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জিএস পদে খাদিজাতুল কোবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং এজিএস পদে তানজিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    এছাড়া সম্পাদকীয় পদে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক অনিক কুমার দাস, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নুসরাত চৌধুরী জাফরিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাসফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শাওন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অপু মুন্সি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. কামরুল হাসান নাফিজ, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মো. আনন বিন রহমান ও পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক প্রার্থী রিয়াসাল রাকিব।

    প্যানেলে অন্য সদস্যরা হলেন–ইমরান হাসান ইমন, সাদমান সাম্য, সুলতান মাহমুদ শুভ, মনিরুজ্জামান, তৌহিদুল ইসলাম তামিম, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ।

    এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমরা যে প্যানেল দিয়েছি সেখানে সবাই শিক্ষার্থী বান্ধব কাজের সঙ্গে যুক্ত। জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে শক্তিশালী এই প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।’

  • জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার, প্রশাসন বলছে তদন্ত হবে না

    জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার, প্রশাসন বলছে তদন্ত হবে না

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন চত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর ঘটনার সময় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিল। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভেতরকার কেউ সহযোগিতা করেছে।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর)  পরিবহন চত্বরে গভীর রাতে “Stop Genocide” লিখিত ছাত্রলীগের একটি ব্যানার টানানো দেখা যায়।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, জুলাই হা/মলার ঘটনায় চিহ্নিত ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান করে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ট্রান্সপোর্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা সংস্কারের কারণে অচল থাকায় সেখানে অবাধে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার টানানো হয়েছে। এর দায়ও প্রশাসনের ওপরই বর্তায়।

    জাকসুর এজিএস ফেরদৌস ফাহিম বলেন, লাইন মেরামতের নামে ট্রান্সপোর্ট চত্বর এলাকার সিসিটিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ গতকাল সকাল থেকেই বন্ধ ছিল। এই তথ্য সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কিংবা প্রকৌশল দপ্তরের ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে বাইরে গেছে।  লাইন কাট অফ থাকায় ট্রান্সপোর্ট থেকে চৌরঙ্গী, খালেদা জিয়া হল, সালাম বরকত জেনারেটর মোড়, আল বেরুনী সবখানেই সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

    তিনি আরও বলেন, কারা এই তথ্য ফাঁস করেছে, কারা ছাত্রলীগকে সহায়তা করেছে তা খুঁজে বের করতে হবে। আমরা প্রক্টর বারবার এই ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানাবো।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেট সংযোগ উদ্দেশ্যে সাময়িক সময়ের জন্য লাইন কাট অফ হয়েছিল।  তবে আমার মনে হয়, ব্যানারটি কোন দলের পক্ষ থেকে নয় ব্যাক্তি কর্তৃক লাগানো হয়েছে। তাই কোন তদন্ত কমিটি গঠনের করা হবে না।

  • গণহত্যার অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল

    গণহত্যার অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে অদম্য-২৪ স্তম্ভের সামনে এসে মিছিলটি সমাপ্ত হয়।

    মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘শেখ হাসিনার গদিতে,  ‘খুনী হাসিনার গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’ ‘খুনি হাসিনার শাস্তি, দিতে হবে, দিতে হবে’ “We want Justice”, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, খুনী হাসিনার বিচার চাই” স্লোগান দিতে থাকে।

    মিছিল শেষে ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম সদস্য জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। সেই গণহত্যার সুস্পষ্টভাবে নির্দেশদাতা ছিল তৎকালীন সরকার, স্বৈরশাসক এবং গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা। যিনি এখন ভারতে কোনো এক গর্তে লুকিয়ে আছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই গণহত্যাকারীদের সাথে যারাই জড়িত ছিল তাদের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং গণহত্যাকারী এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তাদের বিচার নিশ্চিত করে।

    তিনি আরো বলেন, যারা এই গণহত্যার শিকার হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে, সেই গণহত্যার শিকার হওয়া এবং গত পনেরো বছর গুম, খুনের শিকার হওয়া পরিবারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয় এবং যেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামীকাল রায় ঘোষণা করা হবে। খুনি হাসিনাকে দেশে এনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

  • শাকসু নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর, তফসিল ঘোষণা

    শাকসু নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর, তফসিল ঘোষণা

    সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৭ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, ২০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, ২২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ, ২৩ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং ২৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমাদান।

    তিনি আরো জানান, ২৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ, ২৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ২৮ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ৩০ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ, ১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ।

  • জাবির আইআর বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও খাতা অবমূল্যায়নের অভিযোগ

    জাবির আইআর বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও খাতা অবমূল্যায়নের অভিযোগ

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায্য আচরণ, রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে অপমান, খাতার অবমূল্যায়ন এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী।

    সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে করা একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন আইআর বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান।

    এসময় তিনি বলেন, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ব্যবহার করছেন এবং খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে মানসিক হয়রানি এবং রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করছেন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই টিউটোরিয়াল বা অ্যাসাইনমেন্ট খাতা না দেখে ইচ্ছামতো কম নম্বর দেন। এমনকি এক শিক্ষার্থী প্রথম টিউটোরিয়ালে কম নম্বর পাওয়ার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী টিউটোরিয়াল খাতাও না দেখে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

    শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, একই ধরনের উত্তরে কেউ পূর্ণ নম্বর পেলেও কেউ কম নম্বর পেয়েছেন—যা শিক্ষক মূল্যায়নে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

    এছাড়া অভিযোগকারী এবং অন্য শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষক অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দাড়ি, পোশাক বা মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে ‘শিবির’ বা ‘জঙ্গি’ ট্যাগ দিয়ে অপমান করে থাকেন। বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধি (সিআর) ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও তার খারাপ ব্যবহার, হুমকি এবং অবমাননাকর মন্তব্যের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

    অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক বছরের বেশিরভাগ সময় ক্লাস না নিলেও পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে হঠাৎ হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বলেন, যা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করে।

    এসময় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সজিবুর রহমানের সাথে অভিযোগ জানাতে আসেন ঐ বিভাগের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো–

    (১) সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা যেন চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেন;

    (২) টিউটোরিয়ালসহ সব খাতা স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা ;

    (৩) নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ;

    (৪) শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক হেনস্থা প্রতিরোধে স্থায়ী নীতিমালা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

    অভিযোগপত্র জমাদান শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের আচরণে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এধরনের ঘটনার ফলে পরবর্তীতে তাদের শারীরিক, মানসিক হয়রানি এবং একাডেমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

    এসময় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

  • ঢাকা সিটি ও আইডিয়াল কলেজে সংঘাত এড়াতে শান্তি কমিটি

    ঢাকা সিটি ও আইডিয়াল কলেজে সংঘাত এড়াতে শান্তি কমিটি

    রাজধানীর সাইন্সল্যাব সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে ৯ সদস্যের একটি শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের আ. ন. ম. নজিব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে পুলিশের উদ্যোগে তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত মিলনমেলায় এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    জানা যায়, কমিটিতে তিন কলেজের তিনজন শিক্ষক, তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং ধানমন্ডি, কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানার তিনজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মিলনমেলায় ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সিটি ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজি নেওয়ামুল হক এবং আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

    অনুষ্ঠানে নিউমার্কেট থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেকোনো সংঘাত বা উত্তেজনা দেখা দিলে এই কমিটি দ্রুত সমাধানে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের খবর সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে এই মিলনমেলা প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবে না। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।