Category: শিক্ষাঙ্গন

  • রাবির ৯১ ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, মামলার সিদ্ধান্ত

    রাবির ৯১ ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, মামলার সিদ্ধান্ত

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই ৩৬ হলের ৯১ জন শিক্ষার্থীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলা শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রদল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল ওই ছাত্রদল নেতা। পরে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে সত্যতা যাচাই করার জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

    শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬ হল’-এর প্রভোস্ট কর্তৃক ৯১ জন শিক্ষার্থীকে অযাচিতভাবে তলব করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা তুহিনার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে এ আর মিলন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে উক্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনিই ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এ আর মিলন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ হল সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ঘোষণা করছে। একইসাথে সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হলো তার সঙ্গে কোনোপ্রকার সাংগঠনিক কোন যোগাযোগ না রাখার জন্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানানো হচ্ছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

    উল্লেখ্য, রাবির ‘জুলাই ৩৬’ হলে নির্ধারিত সময়ের পরে প্রবেশ করায় ৯১ জন ছাত্রীকে তলব করেছিলেন হল প্রাধ্যক্ষ। নোটিসটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে তা প্রত্যাহার করে হল প্রশাসন। এই বিষয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামে এক ফেসবুক গ্রুপে করা এক পোস্টের কমেন্টে ওই ৯১ জন ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন রাবি’র শাহ মাখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।

  • ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না ভিপি প্রার্থী জুলিয়াস সিজার

    ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না ভিপি প্রার্থী জুলিয়াস সিজার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া ভিপি প্রার্থী জুলিয়াস সিজার তালুকদারের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের কমিটি। ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ থাকছে না।

    বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এই বিষয়ে বলেন, জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা বাতিলের বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা বলেছে সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের কমিটি। সে অনুযায়ী, জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা থাকছে না। এতে করে সে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

    এর আগে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সভায় তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপণকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। এছাড়া সদস্য হিসেবে আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন রাখা হয়।

  • ডাকসুর নারী প্রার্থীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেওয়া সেই ছাত্রকে বহিষ্কার

    ডাকসুর নারী প্রার্থীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেওয়া সেই ছাত্রকে বহিষ্কার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেওয়ার ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত আলী হুসেনকে ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে।

    বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী আলী হুসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত প্রক্টরিয়াল সত্যানুসন্ধান কমিটির সুপারিশের আলোকে তাকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রদত্ত শাস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডারে প্রদত্ত প্রক্টরের এখতিয়ারভুক্ত সর্বোচ্চ শাস্তি। একইসঙ্গে আলী হুসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিষয়ক কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) তিন বাম সংগঠন সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলমের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়ার পর আলী হোসেন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এই হুমকি দেন।

    আলী হোসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘হাইকোর্টের বিপক্ষে এখন আন্দোলন না করে আগে একে গণধর্ষণের পদযাত্রা করা উচিত।’ পরে অবশ্য তিনি একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন দাবি করেছেন।

    তবে তার ফেসবুকের আগের পোস্টগুলোতে জামায়াতের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সেসময় তিনি ফেসবুক কমেন্টে নিজেকে শিবির সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে শিবিরের দাবি, আলী হোসেন শিবিরের কোনো সমর্থক নন। তিনি একেক সময় একেক দলের কর্মসূচিতে যোগ দেন।

  • রাতে দেরিতে হলে ফেরায় রাবির ৯১ ছাত্রীকে তলব

    রাতে দেরিতে হলে ফেরায় রাবির ৯১ ছাত্রীকে তলব

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মেয়েদের আবাসিক হলে রাতে দেরিতে ঢোকায় ৯১ জন ছাত্রীকে তলব করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬’ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহার স্বাক্ষরিত নোটিশে হলের অনাবাসিক ও গণরুমের ৯১ ছাত্রীর তালিকা প্রকাশ করে অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে নোটিশের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

    নোটিশে বলা হয়, ‘এতদ্বারা জুলাই-৩৬ হলের অনাবাসিক ও গণরুমের ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দেরিতে (রাত ১১টার পরে) হলে ফেরার কারনে নিম্নে উল্লিখিত ছাত্রীদের ক্রমিক নং ০১-৪৫ পর্যন্ত আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার এবং ক্রমিক নং ৪৬-৯১ পর্যন্ত ১০ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার বিকেল ৪ টায় প্রাধ্যক্ষ মহোদয়ের অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।’

    এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ এ ঘটনাকে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, প্রশাসন থেকে এসব নিয়ম তুলে নেওয়া হলে- মেয়েরা যখন খুশি হলে ঢুকতে ও বের হতে পারবে। দুর্ভাগ্যবশত কোনো ছাত্রীর সঙ্গে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে গেলে সেই প্রশাসনেরই দারস্থ হতে হবে।

    অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ পরাণ হল প্রশাসনের নোটিশটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে লিখেন, ‘আমি আজকে ১ টার পর রুমে ঢুকেছি, আমরা অনেকেই ঢুকেছি আসলে। আমি চাই জিয়া হলেও এমন একটা নোটিশ ঝুলানো হোক। আমাদের ও প্রভোস্ট রুমে তলব করা হোক। কী মনে হয়, প্রশাসন করবে এটা কিংবা করতে পারবে? যদি না করে তাহলে এক দেশে দুই আইন কেন? বিশ্ববিদ্যালয় কেনো শিক্ষার্থীদের ছেলে বা মেয়ে এইভাবে ভাবে? কেন শুধু শিক্ষার্থী হিসেবে ভাবতে পারছে না? আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষার্থী হিসেবে ভাবুক। নারী-পুরুষে, হিন্দু-মুসলমানে, পাহাড়ে-সমতলে ইত্যাদিতে ডিভাইড না করে শুধু শিক্ষার্থী ভাবুক।’

    হল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তের সমর্থনকারীদের সমালোচনা করে অশেকা জাইমা খান নামে এক শিক্ষার্থী লিখেন, ‘যারা ৩৬ জুলাই হলের নোটিশ বিষয়ক প্রেক্ষাপটে বলতেছেন যে, যদি কারো কিছু হয়ে যায় তাহলে হল প্রশাসনকে অভিভাবকরা দায়ী করবে অথবা হল প্রশাসন আমাদের অভিভাবক। তাদের মুখে জুতার বাড়ি। চব্বিশের ১৬ জুলাই সারাদেশে ব্লকেড থাকার পড়েও ৫-৬ ঘন্টার নোটিশে যে আমাদের হল ছাড়া করেছিল মনে নাই? ওই প্রশাসন এই প্রশাসন সবাই সান্ধ্য আইনের পক্ষেই, এবং একই রসুনের তলা।’

    এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহার বলেন, তারা সবাই আমাদের সন্তানের মতো। তাদের খেয়াল রাখা আমাদের দায়িত্ব। নিরাপত্তার স্বার্থেই ছাত্রীদের ডাকা হয়েছে, এখানে অন্যকোনো কারণ নেই। তবে যারা একদিন দেরি করে এসেছে, তাদেরকেও তালিকায় রাখা হয়েছে, এটা ভুল হয়েছে। দেরি হতেই পারে, তবে সামনে রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের বিপদ না হয়, সতর্কতা অবলম্বনের জন্যই তাদের ডাকা হয়েছে।

  • বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, শুক্রবার মহাসমাবেশ

    বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, শুক্রবার মহাসমাবেশ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এ আন্দোলন চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে, কোনো প্রকার কোটা ব্যবস্থা রাখা যাবে না। তাদের অভিযোগ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য কোটা রাখা হলে প্রকৃত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হন।

    তাদের তিন দফা দাবি হলো: ১. নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ এবং ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা। ২. দশম গ্রেডে ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা। ৩. বিএসসি ছাড়া কেউ যেন নামের সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ উপাধি ব্যবহার করতে না পারে।

    শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

    এর আগে, বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাওয়ার পথে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একইসঙ্গে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

  • ডাকসুর নারী প্রার্থীকে ধর্ষণের হুমকি: তদন্তে ২ কমিটি

    ডাকসুর নারী প্রার্থীকে ধর্ষণের হুমকি: তদন্তে ২ কমিটি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্পাদক বি এম ফাহমিদা আলমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গণধর্ষণের হুমকির ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দুটি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন কমিশন এবং অপরটি করেছে প্রক্টরিয়াল বডি।

    বিশ্ববিদ্যালয়েল জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হুমকির ঘটনায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ ও অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪ প্যানেলের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. নাইম হাসান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সদস্য বিশিষ্ট একটি সত্যানুসন্ধান তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

    কমিটিকে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমাদানের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলো।

    কমিটির সদস্যরা হলেন— সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সার, সহকারী প্রক্টর মিসেস শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও সহকারী প্রক্টর মো. রেজাউল করিম সোহাগ।

    একই ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের আরেকটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি করেছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন। এই কমিটিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হককে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্য করা হয়েছে। তাদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। এ ছাড়াও নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি।

    অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, সাইবার বুলিং মোকাবিলায় তাঁরা একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টি কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে তারা কাজ করছেন।

    প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যেসব অনলাইন গ্রুপ বা পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর নাম ও যারা পরিচালনা করেন (এডমিন) তাদেরও নাম বিটিআরসি ও ডিএমপি কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়াও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, ভোটের দিন নিরাপত্তা এবং ভোট গণনার নিরাপত্তার বিষয়েও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট প্রদান করতে আসার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো যাতে কোনো প্রকার বাধায় না পড়ে, সে ব্যাপারে আইজিপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হলে নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে বহিরাগতদের বিষয়ে হল প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটার ভিন্ন কেউ হলে অবস্থান করতে না পারে। অন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেছিলেন ওই ছাত্রী। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সোমবার ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী হোসেন রিটকারী ওই ছাত্রীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন।

  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, আসামি প্রায় এক হাজার

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, আসামি প্রায় এক হাজার

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষের প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৯৫ জনের, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি ৮০০ থেকে এক হাজার জন।

    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটহাজারী মডেল থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আব্দুর রহিম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই কষ্ট আমাদের ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আমরা মামলা করেছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।’

    তিনিই আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে অস্ত্র লুটের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা যত দ্রুত সম্ভব ক্লাসে ফিরে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক করার জন্য আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।’

    হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাওসার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘চবি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢোকার সময় এক ছাত্রীকে দারোয়ান চড় মারার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরদিন (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে ফের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

    এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ অন্তত দেড় সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবার দুপুর থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে।

  • ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চবির সব পরীক্ষা স্থগিত

    ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চবির সব পরীক্ষা স্থগিত

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত সব বিভাগ-ইনস্টিটিউটের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

    সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে, এরপর দুপুর ৪টায় পরীক্ষা স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি সংশোধনী করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত আরেকটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘোষিত সময়ে বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির মাধ্যমে শতভাগ পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউটের চলমান পরীক্ষা নিতে পারবেন।

    এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়।  এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেটের কাছে একটি ভবনে ভাড়া থাকেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার পর তিনি ওই ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভবনের দারোয়ান তাকে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতের পর রবিবার দ্বিতীয় দফায় সংঘাতে জড়ায় স্থানীয় লোকজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন, যা সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

  • চবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌথবাহিনী মোতায়েন, ২১ সদস্যের তদন্ত কমিটি

    চবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌথবাহিনী মোতায়েন, ২১ সদস্যের তদন্ত কমিটি

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সংঘর্ষের ঘটনায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সোমবার বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যৌথবাহিনী ক্যাম্পাসে মোতায়েন থাকবে।

    রোববার (৩১ আগস্ট) চবি উপাচার্যের দপ্তরে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরে বৈঠকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ছাড়াও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর সংঘটিত হামলার বর্ণনা দিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেন।

    বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার জানান, আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা এখন জরুরি এবং তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য ক্যাম্পাসে যৌথবাহিনী মোতায়েন রাখা হবে।

    ঘটনার সূত্রপাত
    ভাড়া বাসার দারোয়ান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে এক ছাত্রী একটি ভবনে ভাড়া থাকেন। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি ওই ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়। একপর্যায়ে ভবনের দারোয়ান তাঁকে মারধর করেন। এ সময় ২ নম্বর গেটে থাকা শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ধাওয়া করলে স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। তখন সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয় লোকজন মাইকে ডেকে লোক জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরবাড়ি।

    আহত অন্তত দেড়হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী
    এ সময় স্থানীয়দের হামলায় সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং অন্তত দেড়হাজার শিক্ষার্থী আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের পক্ষের কয়েক শতাধিক আহত হয়েছেন।

    রোববার রাতে চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, গতকাল থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন।

    আহতদের বিষয়ে ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, অধিকাংশরই শরীর ছিলে গেছে, কেটে গেছে এবং শরীরে গভীর ক্ষতও ছিল। স্ক্রিনের নিচে ব্লাড জমে কালো হয়ে গেছে- এ ধরনের শিক্ষার্থীও ছিল। মোট কথা ছোট-বড় সব ধরনের ক্ষতই ছিল। শিক্ষার্থীদের কপাল, মাথা, শরীরে ক্ষত ছিল।

    ১৪৪ ধারা জারি
    ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। এটি সোমবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। রোববার বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে যৌথবাহিনী মোতায়েন করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    পরীক্ষা স্থগিত
    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আগামীকাল সোমবারের (১ সেপ্টেম্বর) সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিন্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণমাধ্যমকে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অনিবার্য কারণবশত আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হলো

  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ

    দিনভর সংঘর্ষসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন‍্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    রোববার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অনলাইনে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আগামীকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে হল ত‍্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কম্বাইন্ড ডিগ্রি কার্যকরের দাবিতে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না আসায় পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভায় উপস্থিত উপাচার্যসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর পুনরায় কাউন্সিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    এর মধ্যেই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ সশস্ত্র হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

    শিক্ষার্থীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং এসময় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুফিদুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে শিক্ষকেরা সভাকক্ষ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই তাদের সামনেই বহিরাগতদের একটি দল আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    পশুপালন অনুষদের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের মুক্ত করার পরপরই বহিরাগতরা জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের সহপাঠীদের অনেকে আহত হয়েছেন।’

    শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করায় আমাদের ওপর প্রশাসন বহিরাগতদের লেলিয়ে দিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলা চলাকালে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    পশুপালন অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে একদল বহিরাগত আমাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের সামনে হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।’

    বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজকে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ককে প্রধান করে একটি চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে, যারা কম্বাইন্ড ডিগ্রির জন্য কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন করবে। আগামী সেশন থেকে কম্বাইন্ড কোর্সে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। এবার যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের অপশন থাকবে তারা চাইলে ভেটেরিনারি, পশুপালন বা কম্বাইন্ড নিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দুই অনুষদকে এক করতে পারবেন না। দুই অনুষদ মিলিতভাবে কম্বাইন্ড ডিগ্রি দেবে এবং ধারাবাহিকভাবে দুই অনুষদ থেকেই ডিন হবে।’