Category: শিক্ষাঙ্গন

  • পূর্ণ সিলেবাসে ২০২৬ সালের এইচএসসি-আলিম পরীক্ষা হবে

    পূর্ণ সিলেবাসে ২০২৬ সালের এইচএসসি-আলিম পরীক্ষা হবে

    ২০২৬ সালের এইচএসসি-আলিম ও সমমানের পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি ও পূর্ণ নম্বরের ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে চলতি বছরের আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এ শিক্ষার্থীরাই ২০২৬ সালের মে-জুন মাসে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে।

    এনসিটিবির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষাগুলো সম্পূর্ণ সময়ব্যাপী এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য পূর্ণ নম্বর অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ– করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার যে ধারা চলছিল, তা থেকে বেরিয়ে ২০২৬ সালেই আবার পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবোর্ড ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবগত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে এনসিটিবি।

  • ডাকসু নির্বাচন: ২৮ পদে ফরম নিয়েছেন ৬৫৮ জন

    ডাকসু নির্বাচন: ২৮ পদে ফরম নিয়েছেন ৬৫৮ জন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ২৮টি পদের বিপরীতে মোট ৬৫৮ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৯৩ জন ফরম সংগ্রহ করেন আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) শেষ দিনে এসে। আগের আট দিন নেন ৫৬৫ জন।

    এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজারের বেশি। সেই হিসাবে প্রতি একশ জনে ১.৭৮ জন ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান।

    মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে মনোনয়ন ফরম বিক্রির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত সর্বমোট ৬৫৮টি ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে জমা পড়েছে ১০৬টি।

    শেষ দিন হল সংসদের কতটি ফরম বিক্রি হয়েছে তা জানা যায়নি। সোমবার পর্যন্ত হল সংসদ নির্বাচনের জন্য মোট ১২২৬ জন ফরম নিয়েছিলেন।

    বুধবার মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিন। তারপর জানা যাবে কোন পদে কতজন প্রার্থী শেষমেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ অগাস্ট। পরদিন প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা। আর ভোট হবে ৯ সেপ্টেম্বর।

    ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ডাকসুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এখানে কেউ কোনো দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন নেননি। ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম অপরাধীর তালিকায় পাওয়া গেলে প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ আছে।

  • উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে নতুন নির্দেশনা

    উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে নতুন নির্দেশনা

    উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন বা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। একইসঙ্গে চলতি আগস্ট মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সৃষ্ট সমস্যার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দায়ী করা হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের স্কিম পরিচালক ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আসাদুল হকের সই করা একটি চিঠিতে এসব বিষয়ে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি ও সমমানের মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে সরকার। তবে নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে। যেমন—অষ্টম শ্রেণি শেষে নবম শ্রেণিতে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া অথবা টিসি নিয়ে অন্য স্কুল-কলেজে চলে যাওয়া। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে হালনাগাদ করতে হবে ‘এইচএসপি-এমআইএস’ সফটওয়্যারে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের hsp.pmeat.gov.bd/HSP-MIS/login লিংকে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। এরপর ‘উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী’ মেন্যু থেকে ‘শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। সঠিকভাবে বদলি করা প্রতিষ্ঠানের নাম নির্বাচন করে ট্রান্সফার সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে সফটওয়্যারে লগইন করার নিয়মাবলিও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে লগইন করার সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (ওটিপি) যাবে, যা ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হবে। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে লগইন পেজের ‘পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন’ অপশনে গিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করার সুযোগ থাকবে।

    তবে পাঁচবারের বেশি ভুল পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে চেষ্টা করলে ব্যবহারকারীর আইডি এক ঘণ্টার জন্য লক হয়ে যাবে। আবার পাঁচবারের বেশি ভুল ওটিপি দিলে ইউজার স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পুনরায় লগইন করার সুযোগ থাকবে না। এই চিঠি সারাদেশের উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • রাবিতে পোষ্য কোটা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

    রাবিতে পোষ্য কোটা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ‘পোষ্য কোটা’ ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোষ্য কোটার দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। এর আগে টানা তিন দিন তাঁরা অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষা ও জরুরি সেবা ছাড়া অধিকাংশ বিভাগ ও দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। দাবি পূরণ না হলে তাঁরা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন।

    অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটাকে অযৌক্তিক ও অন্যায্য দাবি করে জানান, এটি কোনোভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করা হবে।

    প্রশাসনিক ভবনের সামনে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবিতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আমরা কোটার জন্য আন্দোলন করছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আদায়ের দাবিতে দাঁড়িয়েছি।

    অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা বলেন, পোষ্য কোটাকে শিক্ষক-কর্মকর্তারা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বলছেন। যে নামেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হোক না কেন, তা হতে দেওয়া হবে না। এটি ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে। এখন সেটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার ঘোষণা ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।

    দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহ মুহিব বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তারা অন্যায্য সুবিধা ভোগ করতে করতে সেটিকে অধিকার বানিয়ে ফেলেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৬৭–৬৮ নম্বর পেয়েও চান্স পান না, সেখানে তাঁদের সন্তানেরা ৩১ নম্বর পেয়েও ভর্তি হয়। এটা অন্যায্য।

  • জাবিতে পাবলিক হেলথে মাস্টার্স, আবেদন ফি ১৫০০ টাকা

    জাবিতে পাবলিক হেলথে মাস্টার্স, আবেদন ফি ১৫০০ টাকা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগে ফল-২০২৫ সেশনে পাবলিক হেলথে মাস্টার্স প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    দরকারি তথ্য—
    ১. কোর্সের মেয়াদ: ১ বছর ৫ মাস (৪ সেমিস্টার)। ২. মোট ৫২ ক্রেডিট। ৩. ক্লাসের সময়: সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। ৪. আবেদন ফি ১৫০০ টাকা।

    আবেদনের যোগ্যতা—
    ১. ব্যাচেলর ডিগ্রি (তিন বা চার বছর বা সমমানের ডিগ্রি পাসের সমমান হতে হবে) পাবলিক হেলথ বা এমবিবিএস, বিডিএস, নার্সিং অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মেডিকেল সায়েন্স, হেলথ সায়েন্স, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স, সাইকোলজি অথবা আর্টস, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি ও অন্যান্য বিভাগ। ২. এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পরীক্ষায় কমপক্ষে সিজিপিএ ২.৫ অথবা ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। ৩. অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পেতে ওয়েবসাইটে:

    ভর্তির পরীক্ষার বিস্তারিত—
    ১. ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ মাধ্যমে হবে। ২. ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। ৩. প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। ৪. ক্যালকুলেটর পরীক্ষার হলে নেওয়া যাবে। ৫. মোবাইল ফোন পরীক্ষার হলে নেওয়া যাবে না।

    ভর্তি পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর বণ্টন—
    ইংরেজি ৫, সাধারণ জ্ঞান ১০, মৌলিক পরিসংখ্যান ৫, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি ৫, কম্পিউটার শিক্ষা ৫, বাংলাদেশের সামাজিক দিক ৫, সমসাময়িক স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিষয় (জাতীয় ও বিশ্ব) ১০, জনস্বাস্থ্যের মৌলিক জ্ঞান ১০, মানব জীববিজ্ঞানের মৌলিক বিষয় ৫ নম্বর।

    ভর্তির তারিখ—
    ১. আবেদনের শেষ তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ২. ভর্তি পরীক্ষার তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।

    • বিস্তারিত তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
  • ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

    ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

    ছয় হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। বাতিল হওয়া ৬ হাজার শিক্ষার্থী ভিসার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিসাই আইন লঙ্ঘনের কারণে বাতিল হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর কড়া পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি‘র।  

    সোমবার (১৮ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমকে পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এই শিক্ষার্থীরা মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেছে বা অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করেছে।

    পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আইন লঙ্ঘনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিল আক্রমণ, মাদকাসক্ত অবস্থায় ড্রাইভিং, চুরি এবং সন্ত্রাসবাদে সহায়তা।

    যদিও পররাষ্ট্র দফতর স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেনি ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তা’ বলতে তারা কী বোঝাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন কিছু শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করেছে যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ করেছে। প্রশাসন তাদের যুক্তি দিয়েছে যে তারা ইহুদি-বিরোধী আচরণ প্রকাশ করেছে।

    পররাষ্ট্র দফতর আরও জানিয়েছে, প্রায় ২০০-৩০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য।

    বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছিল। জুনে যখন তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনরায় চালু করেছিল, তখন ঘোষণা করা হয়েছিল যে সমস্ত আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট প্রকাশ্য রাখতে হবে যাতে যাচাই-বাছাই করা যায়।

    তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতির বিরুদ্ধে কোনও শত্রুতার ইঙ্গিত’ আছে কিনা তা খুঁজে দেখবে তারা। এসবের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ অ্যাকাউন্ট স্ক্রিনিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পররাষ্ট্র দফতর কর্মকর্তাদের।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জানুয়ারি থেকে ‘হাজার হাজার’ শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ সংখ্যা আমি জানি না, তবে সম্ভবত আরও করতে হবে।

    ২০ মে আইনপ্রণেতাদের রুবিও জানান, সেইসব ব্যক্তির ভিসা বাতিল করার বিষয়টি আমরা চালিয়ে যাবো, যারা অতিথি হিসাবে এদেশে রয়েছেন এবং আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছেন।

    তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ওপেন ডোরসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিল।

  • ডাকসুর ২৮টি পদে মনোনয়ন ফরম নিলেন ৫৬৫ জন

    ডাকসুর ২৮টি পদে মনোনয়ন ফরম নিলেন ৫৬৫ জন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মোট ৫৬৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে শেষ দিন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৪৪২ জন। শেষ দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বাড়তি চাপ ছিল। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন নিয়েছেন।

    সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এ তথ্য জানান।

    তিনি আরো বলেন, ১২ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে ডাকসুর বিভিন্ন পদে মোট ৫৬৫ জন শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো তথ্য আমরা পাইনি। প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে একসঙ্গে পাঁচজন করে এসে মনোনয়নপত্র নিয়েছে। কেউ কেউ একা এসে নিয়েছে। লবিতে হয়তো হঠাৎ করে কেউ মিছিল করে থাকতে পারে। তবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটা নিষেধ করেছি। সেটি তারা মেনেছে। সর্বশেষ নির্বাচনে ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি, জিএসসহ পদ ছিল ২৫টি। এবার নতুন তিনটি পদ যুক্ত করায় মোট পদ হয়েছে ২৮টি। তবে হল সংসদে পদসংখ্যা আগের মতো ১৩টি করেই থাকছে।

    হল সংসদের মনোনয়নের বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ১৮টি হলে বিভিন্ন পদে মোট ১ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এর মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৭১ জন, শহীদুল্লাহ হলে ৯৭ জন, জগন্নাথ হলে ৬৬ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৭৮ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৯৩ জন, বেগম রোকেয়া হলে ৪৬ জন, সূর্যসেন হলে ৯০ জন, মুহসীন হলে ৭৪ জন, শামসুন্নাহার হলে ৩৭ জন, জসীমউদ্‌দীন হলে ৭৪ জন, জিয়াউর রহমান হলে ৮৭ জন, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৬৯ জন, কুয়েত মৈত্রী হলে ২৯ জন, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩০ জন, অমর একুশে হলে ৮৪ জন, সুফিয়া কামাল হলে ৪০ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৮৮ জন, স্যার এ এফ রহমান হলে ৭৩ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

    ডাকসুর তফসিল অনুযায়ী, ১২ আগস্ট থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়ে আজ সোমবার শেষ হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২১ আগস্ট বেলা একটায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে ডাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭১ জন ও ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন।

  • ৪১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের পথে, অনুমোদনের অপেক্ষায় এনটিআরসিএ

    ৪১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের পথে, অনুমোদনের অপেক্ষায় এনটিআরসিএ

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক ফল চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অনুমোদন পেলেই দ্রুততম সময়ে সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। জানা গেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই নিয়োগ সুপারিশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছিল এনটিআরসিএ।

    রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মজিবর রহমান এ অনুমোদন দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান এবং এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

    এখন বিষয়টি শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তরে যাবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই এনটিআরসিএ ফল প্রকাশ করবে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগ সুপারিশে সাধারণত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে না। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখে সুপারিশ করতে হলে অনুমোদন নিতে হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শিক্ষা উপদেষ্টার অনুমোদন হলেই ফল প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ।

    এদিকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি প্রক্রিয়ায় ৪১ হাজারের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সঠিক সংখ্যা জানানো যাবে না। সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। খুব দ্রুতই নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

    এর আগে, গত ১৬ জুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এতে মোট শূন্যপদ ছিল এক লাখ ৮২২টি। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে ৪৬ হাজার ২১১টি, মাদ্রাসায় ৫৩ হাজার ৫০১টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে এক হাজার ১১০টি পদ ফাঁকা ছিল। ২২ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ফি পরিশোধ করে সফলভাবে আবেদন করেন ৫৭ হাজার ৮৪০ জন প্রার্থী। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪০টি প্রতিষ্ঠানে পছন্দ দিতে পেরেছেন। তবে শূন্যপদ লক্ষাধিক হলেও আবেদনকারীর সংখ্যা ৬০ হাজারেরও কম হওয়ায় প্রায় অর্ধেক পদ এবারও ফাঁকা থেকে যাবে।

    এনটিআরসিএ সূত্র বলছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখে প্রথম ধাপে প্রায় ৪১ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিচ্ছে। তবে প্রথম ১০ বছর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে এনটিআরসিএকে সনদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতাও দেওয়া হয়। এরপর থেকে পাঁচটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। ষষ্ঠ বিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

  • ছাত্রশিবির, ‘গোপন রাজনীতি’ ও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ছাত্রশিবির, ‘গোপন রাজনীতি’ ও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ‘ওই বড় ভাই প্রথমে আমাকে আলাদা রুমে নেয়। তারপর আমার বাম হাতটা ধরে একটু মোচড় দিয়ে রাখল। এরপর ক্রমাগত আমার কান আর গাল বরাবর সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় দিতে থাকে। এত জোরে মারছিল যে আমার কান থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে।’ খবর বিসিসি বাংলার। 

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গেস্টরুম’ নির্যাতনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন সূর্যসেন হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান। তার ভাষায়, ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে অনিয়মিত হওয়ায় ২০২৪ সালের শুরুতে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

    আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন গেস্টরুমে যেতে হবে। হলে থাকার নিয়মই এটা। আপনার যদি ফাইনাল পরীক্ষাও থাকে, তবু এসে অপেক্ষা করতে হবে। ভাইয়েরা এলে অনুমতি নিয়ে পড়তে যেতে পারবেন। নাহলে খোঁজাখুঁজি শুরু হবে।’

    তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গেস্টরুমের সংস্কৃতি আর নেই বলে জানান আরিফ। তবে তার আশঙ্কা, আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি ফিরে এলে আবারও ‘গণরুম-গেস্টরুম কালচার’ ফিরে আসবে।

    তিনি বলেন, ‘দেখেন, এখন আমরা স্বাধীন। দিনে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা রাজনীতিতে নষ্ট হচ্ছে না। কিন্তু হলে রাজনীতি ফিরলে এর প্রভাব পড়বেই। হলে রাজনীতি না থাকলে ছাত্রদল, শিবির কিংবা বাম সংগঠনদের কী সমস্যা হয়, আমি বুঝি না। তারা কমিটি দিলেই গেস্টরুম, গণরুম আবার ফিরবে।’

    পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে আরিফের মতো অনেকে হলে ছাত্ররাজনীতি চান না। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অনেকেই এর বিরোধী। এক সপ্তাহ আগে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কমিটি ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখায়। হলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষোভের মুখে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের মৌখিক ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    কিন্তু এর মধ্যেই ছাত্রদল, ছাত্রইউনিয়নসহ বামপন্থী সংগঠনগুলো হলে ছাত্ররাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) হলে রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।বাংলাদেশি ফ্যাশন ট্রেন্ড

    ফলে ডাকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা ও ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। প্রকাশ্য রাজনীতি বনাম গোপন রাজনীতির প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।

    যদিও অভ্যুত্থানের সময় দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নয় দফার মধ্যেও এই দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, এখন ছাত্র সংগঠনগুলো ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।

    ক্যাম্পাস ও হলে রাজনীতি কেন দরকার?
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে মূলত ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার পর। এরপর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নয় দফাতেও লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ছিল।

    কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনীতি ফিরে আসে। সক্রিয় হয় সব রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন। দীর্ঘদিন প্রকাশ্য রাজনীতি না করলেও ইসলামী ছাত্রশিবিরও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ঘোষণা করে প্রকাশ্যে আসে।

    এসব সংগঠনের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। তবে ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ আর সামনে আসেনি। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাংশ ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ (বাগছাস) গঠন করে। দলটি এনসিপির হয়ে কাজ করছে—এমন অভিযোগ থাকলেও নেতারা তা অস্বীকার করেছেন।

    বাগছাসের মুখপাত্র হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘এটা অপপ্রচার। আমরা এনসিপির লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন না। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করছি। আমাদের কোনও অভিভাবক সংগঠন নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের অভিভাবক।’

    এই দল ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির পক্ষে হলেও হলে রাজনীতির বিপক্ষে। অপরদিকে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন হলে রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী বলেন, ‘হলে রাজনীতি করতে না দিলে ডাকসু নির্বাচনে আমরা কীভাবে কাজ করব? হলে যদি সাংগঠনিক কাঠামো না থাকে তাহলে প্রচারণা কীভাবে করব? আমরা গুপ্ত সংগঠন নই। প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামোর জন্যই হল কমিটি দিয়েছি।’

    ছাত্রইউনিয়নও প্রথমে হলে কমিটি ঘোষণা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘হলে রাজনীতি নিয়ে একটা ভীতি আছে, আমরা সেটা সম্মান করি। তবে হলে যেকোনও সংকট মোকাবেলায় হল কমিটির নেতারাই কাজ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নয়।’

    গোপন রাজনীতি কীভাবে বন্ধ হবে?
    অনেক ছাত্রনেতা মনে করেন, হলে প্রকাশ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে গোপন রাজনীতি বাড়বে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘গোপন রাজনীতি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। ছাত্রশিবিরকে গোপন রাজনীতির জন্য অভিযুক্ত করা হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের কি কোনও অবস্থান আছে? প্রশাসন কঠোর না হলে গোপন রাজনীতি বন্ধ হবে না।’

    উমামা ফাতেমার মতো বাগছাসও হলে রাজনীতির বিপক্ষে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, ‘হলে রাজনীতি ফিরলে শিক্ষার্থীরাই ভিক্টিম হবেন। এখন হলে কমিটি নেই বলে কেউ বাধ্য করছে না। কিন্তু হলে কমিটি হলে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামে আনতে চাপ দেবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই আমরা বলছি রাজনীতি ক্যাম্পাসেই সীমাবদ্ধ থাকুক।’

    তবে শিক্ষার্থীরা যেহেতু হলে থাকেন, তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রাজনীতি থাকলে হলে তার প্রভাব পড়বেই বলে অনেকে মনে করেন। আব্দুল কাদেরের মতে, সেটি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘রাজনীতির একটি রূপরেখা’ তৈরি করতে হবে।

    ছাত্রশিবির কী বলছে?
    হলে রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তির মধ্যে ছাত্রশিবির মাঝামাঝি অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন দল অভিযোগ করেছে, হলে শিবিরের ‘গোপন কার্যক্রম’ আছে, ফলে প্রকাশ্য রাজনীতি না থাকলে তাদেরই সুবিধা। তবে শিবির নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা অসংখ্য প্রোগ্রাম করেছি ক্যাম্পাসে। এগুলোতে হলে থাকা শিক্ষার্থীরাই এসেছে। হলগুলোতে আমাদের ছোট ছোট টিম তাদের কাছে গেছে। সবাই সবাইকে চেনে।’

  • মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক-কর্মচারীদের যাতায়াতে কড়াকড়ি

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক-কর্মচারীদের যাতায়াতে কড়াকড়ি

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অযথা অধিদপ্তরে যাতায়াতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কাজের অজুহাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা অধিদপ্তরে নিয়মিত আসায় শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের আবেদন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে বা ডকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল মান্নানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীরা অধিদপ্তরে নিয়মিত আসছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্তকরণ, এমপিওভুক্ত মাদরাসায় বিশেষ বরাদ্দ, উচ্চতর স্কেল দেওয়া, পদোন্নতি, মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মনোনয়ন, এমপিও শিটে নাম, পদবি ও বিষয় সংশোধন, জন্ম তারিখ সংশোধন, বকেয়া দেওয়া, প্রশিক্ষণে মনোনয়ন, ইনডেক্স দেওয়া বা কর্তনসহ যেকোনো কাজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে অনলাইনে বা সরাসরি ডকেটে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই অন্য ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া, প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিদপ্তরে আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ছুটি বা অনুমতিপত্র সঙ্গে আনতে হবে। শাখা কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

    নির্দেশনায় বলা হয়, উল্লিখিত বিধি লঙ্ঘন করলে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১৮.১ (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।