Category: প্রধান সংবাদ

  • একদিনে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

    একদিনে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির এক ঘণ্টার মধ্যেই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যারিটির ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের বোন জামাই তিনি। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ‎আজ বৃহস্পতিবার উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবা নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ‎‎উপাচার্যদের নিয়োগে শর্তে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটবে, নবনিযুক্ত ব্যক্তিরা উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁরা তাঁদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনের তথ্যমতে, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. একরামুল হককে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    ‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।

    রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    ‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ।

    ‎‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

    ‎‎পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও (পাবিপ্রবি) পেয়েছে নতুন উপাচার্য। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের (এসএআরডি) অধ্যাপক ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য করা হয়েছে। আর জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

    ‎২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই আমলে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শীর্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা আন্দোলন ও তোপের মুখে একের পর এক পদত্যাগ করেন। মেয়াদ শেষ ও কার্যক্রম শুরু হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্তর্বর্তী সরকার ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের জন্য শর্তসাপেক্ষে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়।

    বিএনপি সরকারও ক্ষমতায় এসে প্রথম ধাপে গত মার্চে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এরপর আলাদাভাবে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, কী ঘটেছিল আসলে?

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, কী ঘটেছিল আসলে?

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে একজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতভর আন্দোলন হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার। 

    মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসেরই একটি সড়ক থেকে ওই শিক্ষার্থীকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের ঝোপঝাঁড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও অভিযুক্ত ব্যক্তির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সিসি ফুটেজের মাধ্যমে আসামির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসামির নাম পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে গ্রেফতার করা যায়।’

    অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকারই বাসিন্দা কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

    অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে ঢাকা জেলা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে। অতীতেও এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্ষণের মতো ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এখনো কেন ক্যাম্পাসটি অনিরাপদ সেই প্রশ্ন সামনে আসছে।

    ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন প্রশ্নের মুখে পড়ছে- জানতে চাইলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বলেন প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম।

    প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, বর্তমান প্রশাসন তো দেড় বছর হলো এসেছে, কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাই ছিল না, আমরা নিরাপত্তা বেষ্টনী দৃঢ় করার জন্য ইতোমধ্যেই আড়াইশ’র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযুক্ত করেছি।

    বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে অংশীজনদের সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানান তিনি।

    কী ঘটেছে বুধবার রাতে?
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে অনেকে দাবি করছেন এবং ওই ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে লক্ষ্যহীনভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

    ভিডিওটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বলেই পুলিশ মনে করছে, তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পুলিশ ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মঙ্গলবার রাত এগারোটার দিকে পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

    এ সময় ওই ব্যক্তি তার সাথে কথা বলতে চাইলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের কি না প্রশ্ন করেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মতো ব্যাচের নাম উল্লেখ করে পরিচয় দেয়।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা বোঝা গেছে যে সে এখানকার সাথে পরিচিত। ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা কীভাবে পরিচয় দেয় এটা সে জানে।’

    নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার সম্পর্কে অভিযোগকারী তাদের বলছেন, এরপরই তাকে টেনে পাশের ঝোপের অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই ব্যক্তি এবং তিনি চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে কয়েকজন এগিয়ে এলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে বের হতে সক্ষম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

    বুধবার এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
    প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন প্রায় কয়েকশ নারী শিক্ষার্থী।

    সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বুধবার রাত দশটায় নারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ করেন। পরে তাদের সাথে ছেলেরাও যোগ দেয়।

    রাতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন মেহরিন মোবাশ্বিরা বিনতে আনোয়ার। এই শিক্ষার্থী জানান, মেয়েদের মিছিলটি প্রতিবাদী নানা স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে প্রথমে প্রক্টর অফিসের সামনে যায়।

    সেখান থেকে ছেলেরাও তাদের সাথে সংহতি জানালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিছিল নিয়ে যান তারা। মেহরিন মোবাশ্বিরা বিনতে আনোয়ার বলেন, প্রক্টর অফিসের সামনে হঠাৎ করেই কয়েকজন দাঁড়িয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই লোককে গ্রেফতার, প্রক্টর ও তার পুরা বডির পদত্যাগসহ পাঁচটা দাবির কথা বলে। আমরাতো খানিকটা অবাক হই।

    রাত দশটা থেকে প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার থাকলেও তখন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভক্তি দেখা দেয় বলে জানান তিনি ও আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখান থেকে দুই পক্ষ ভাগ হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে আন্দোলন শুরু করে বলে জানান তারা।

    এ দুটি পক্ষ কারা জানতে চাইলে শিক্ষার্থী তিনি জানান, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টের নেত্রীরা ১০টা থেকেই ছিল আমাদের সাথে। কিন্তু তারা ওই সাড়ে বারোটা পর্যন্ত কেবল সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই ছিল।

    ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আরেকটি পক্ষ পাঁচ দফা ঘোষণা দেয়। এই দুই পক্ষই আন্দোলন চালিয়ে যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

    পরে দুই পক্ষেরই কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সাথে এক বৈঠকে ছয় দফা দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, রাত দেড়টা থেকে প্রায় সাড়ে তিনটা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ে ছিলেন তারা।

    এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বুধবার রাতে আন্দোলনে ছিলেন। তিনি জানান, ‘ভিকটিম আসলে খুবই স্ট্রং একজন মানুষ। আমার জুনিয়র ছোট বোন আমি প্রাউড এ ব্যাপারে।’

    উপাচার্যের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপনের সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানান তিনি। ফারিয়া বলেন, এমনকি আমরা যখন ভিসির রুমে দাবি-দাওয়াগুলো উত্থাপন করছিলাম তখন সে নিজে সেখানে উপস্থিত ছিল এবং এই পুরোটা সময় সে আসলে ভেঙে পড়েনি। পুরোটা সময়ই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখেছে সে।

    দাবি নিয়ে দ্বন্দ্ব কেন?
    প্রথমে ২৪ ঘণ্টা বললেও পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পথগুলোতে প্রহরী মোতায়েনসহ ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

    তবে, প্রক্টর ও তার পুরো টিমের পদত্যাগের দাবির প্রশ্নে দুই পক্ষের মাঝে বিভেদ দেখা দেয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

    ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির নেত্রী ফারিয়া দাবি করেন, ছাত্র ইউনিয়ন পৃথক ওই দাবিটি তুলেছিল। যদিও ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার দাবি, এই অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কোনো ব্যানার, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো কিছু করি নাই। বরং সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই ছিলাম আমরা।

    নিরাপত্তা প্রাচীর নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশে
    প্রায় সাতশো একর জমি নিয়ে ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এটি অবস্থিত।

    আবাসিক হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোপুরি নিরাপত্তা প্রাচীর নেই বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি স্বীকারও করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একদিকে হাইওয়ে অন্য তিনদিকে লোকাল অধিবাসীরা বসবাস করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে পশ্চিম দিকের বাসিন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়েই চলাচল করে। আবাসিক হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতটা সুসংহত হওয়া প্রয়োজন ততটা না।

    কেন নিরাপত্তা প্রাচীর নেই- জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক আলম আর্থিক ফান্ড নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বাউন্ডারি ওয়াল এখনো সম্পূর্ণ না। আসলে আমাদের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে, আমাদের ফান্ডিং এর অভাব আছে।

    একইসঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার এগারোটি পথে সার্বক্ষণিক পাহারা নেই বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি গেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন, সাত দিনের মধ্যে কাঠামোগত ত্রুটি মেরামত, ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের দাবিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

    নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা কম স্বীকার করে প্রক্টর আলম দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের দেড় বছরে প্রতিটি প্রবেশপথ ও বাউন্ডারি ওয়াল তৈরির জন্য সচেষ্ট আছে।

    অধ্যাপক আলম বলেন, আগামী একমাসের মধ্যে কাজগুলোকে আরো ফাস্টেন করবে, আমরা সচেষ্ট আছি। আমরা আশা করছি বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হবে, আগের চেয়ে আরো কড়াকড়ি হবে।

    উল্লেখ্য, ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ২৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১শে মে থেকে এ ছুটি শুরু হবে।

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কাটাতে রিসোর্স পুল

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কাটাতে রিসোর্স পুল

    শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যও ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পুলে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিলে তাঁরা পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সূত্র বলছে, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটিসহ নানা কারণে প্রায়ই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিখন ঘাটতি দূর করতেই রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষককে নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। রিসোর্স পুলে অন্তর্ভুক্তির জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হতে হবে; বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে; রিসোর্স পারসন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে এবং একাডেমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।

    এর আগে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিভিন্ন কারণে শিক্ষকসংকট তৈরি হলে শিখন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। রিসোর্স পুল গঠন করা হলে এই সংকট আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৬৫ হাজারের বেশি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি পদ বর্তমানে শূন্য। মূলত মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এসব পদে নিয়োগ বা পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ২০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে।

    বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪-এর তথ্য বলছে, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

  • নতুন পাঠ্যবই বিতরণে মাউশির পাঁচ নির্দেশনা

    নতুন পাঠ্যবই বিতরণে মাউশির পাঁচ নির্দেশনা

    ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, দাখিল, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক গ্রহণ ও অনলাইনে চালান অনুমোদন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এস. এম. জিয়াউল হায়দার হেনরীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল, এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি (ট্রেড) স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ শুরু করেছে। এ নিয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক গ্রহণ ও বিতরণ কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য নির্দেশনাগুলো মানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনাগুলো হচ্ছে–

    ১. জেলা, উপজেলা বা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এনসিটিবির নির্ধারিত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান থেকে বই বুঝে নিতে হবে।

    ২. বই গ্রহণের পর https://nctb.ihealthscreen.org ঠিকানায় ‘পাঠ্যপুস্তক গ্রহণ বা বিতরণ সিস্টেম’-এ প্রবেশ করে মেনুর ‘Chalan Management’ অপশনে গিয়ে বিদ্যমান ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে চালানের অনুমোদন দিতে হবে।

    ৩. পাঠ্যপুস্তক গ্রহণের পর দ্রুততম সময়ে অনলাইনে চালান অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে।

    ৪. সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও বই সরবরাহ ও গ্রহণের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

    ৫. সব জেলা, উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নিজ নিজ ইউজার অ্যাকাউন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নাম, মোবাইল নম্বর ও স্বাক্ষর হালনাগাদ করে আপলোড করতে হবে।

  • শাকসু নির্বাচন: প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

    শাকসু নির্বাচন: প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদেরকে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করতে হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনো প্রার্থীর ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রকাশিত শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনী আচরণবিধিমালায় এ তথ্য জানানো হয়।

    নির্বাচনী আচরণবিধিমালায় বলা হয়, প্রার্থী নিজ উদ্যোগে শাবিপ্রবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ডোপ টেস্টের স্যাম্পল দেওয়ার পর প্রাপ্ত রসিদটি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিবেন। নির্বাচন কমিশন অফিস সকল প্রার্থীর ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করবে।

    ডোপ টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন গঠিত রিভিউ কমিটির চূড়ান্ত মতামত নেওয়া হবে। ডোপ টেস্টের রশিদ ব্যতীত কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে না। অসত্য ও অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

  • শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়: মিষ্টি বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়: মিষ্টি বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    বরিশালের বাবুগঞ্জে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রবিউল ইসলাম নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর (আগরপুর) ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনায় আরও ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    নিহত রবিউল ইসলাম জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী। তার মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

    এছাড়া আহত আটজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

  • পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

    পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

    রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কে বা কারা গুলি করেছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হয়নি।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পল্লবীর পুরানো থানার কাছে সি ব্লকে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে মুখোশ ও হেলমেট পড়া তিন ব্যক্তি ঢুকে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে চলে যায়। রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে থানা পুলিশ জানায়।

    পল্লবী থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, যুবদল নেতা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গেছে।

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পরপরই ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের একটি দরজা দিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ঢোকেন। সেখানে তিনি ঢোকার পরপরই পাশের আরেকটি দরজা দিয়ে তিনজন মুখোশ ও হেলমেট পড়া ব্যক্তি দ্রুত ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন কিবরিয়াকে খুব কাছে থেকে গুলি করেন। তিনি নিচে মেঝেতে পড়ে গেলে আরেক ব্যক্তি তাকে গুলি করেন। এরপর অস্ত্রধারীরা দ্রুত ওই দোকান থেকে বেড়িয়ে যান।

    এদিকে  এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পল্লবী এলাকা ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    বিস্তারিত আসছে…

  • হাসিনা-কামালের ফাঁসি, মামুনের ৫ বছরের দণ্ড

    হাসিনা-কামালের ফাঁসি, মামুনের ৫ বছরের দণ্ড

    গেলো বছরের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মানুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করে। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    রায়ে আদালত বলেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মানুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো হলো-

    উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দেওয়া, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহায়তা, সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।

    এ ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নামে দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

  • জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী রাকিব, জিএস খাদিজা

    জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী রাকিব, জিএস খাদিজা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্যানেলের সহ-সভাপতি মো. রাকিব (এ কে এম রাকিব), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খাদিজাতুল কুবরা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলনে এ প্যানেল ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

    প্রার্থীদের মধ্যে এ কে এম রাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জিএস পদে খাদিজাতুল কোবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং এজিএস পদে তানজিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    এছাড়া সম্পাদকীয় পদে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক অনিক কুমার দাস, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নুসরাত চৌধুরী জাফরিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাসফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শাওন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অপু মুন্সি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. কামরুল হাসান নাফিজ, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মো. আনন বিন রহমান ও পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক প্রার্থী রিয়াসাল রাকিব।

    প্যানেলে অন্য সদস্যরা হলেন–ইমরান হাসান ইমন, সাদমান সাম্য, সুলতান মাহমুদ শুভ, মনিরুজ্জামান, তৌহিদুল ইসলাম তামিম, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ।

    এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমরা যে প্যানেল দিয়েছি সেখানে সবাই শিক্ষার্থী বান্ধব কাজের সঙ্গে যুক্ত। জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে শক্তিশালী এই প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।’

  • শেখ হাসিনার রায় আজ, সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালে

    শেখ হাসিনার রায় আজ, সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালে

    গত বছরের জুলাই আন্দোলনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম রায় হতে যাচ্ছে। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

    গত ১৩ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন। শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলার অপর আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আজকের এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ প্রথম শেষ হতে যাচ্ছে।

    গত ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখেন। সেদিন ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেনÑ ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে সেটা হবে খুব তাড়াতাড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য আজ (১৭ নভেম্বর) দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের কাছে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চাওয়া হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাঁদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

    সরাসরি সম্প্রচার

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলার বিচারকাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণার অংশবিশেষও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    গতকাল রবিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেনÑ এ মামলার স্পেশাল প্রসেডিংসগুলো (বিশেষ কার্যধারা বা বিচারকাজের বিশেষ অংশ) আমরা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে সরাসরি সম্প্রচার করেছি। আগামীকাল (আজ সোমবার) রায়ের যে অংশটুকু ট্রাইব্যুনাল পড়ে শোনাবেন, সে অংশটুকুও ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। আর বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ যে কয়েকটি সংস্থা আছে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে এ দেশের সব গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে।

    গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীর আগে আইনটির নাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন হলেও সেখানে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো প্রযোজ্যতা ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আইনটি সংশোধন করে রোম সংবিধিতে আন্তর্জাতিক আইনের যে সংজ্ঞা, সেই সংজ্ঞা এবং অ্যাপ্লিকেবিলিটি (প্রযোজ্যতা), সেটি এখানে প্রযোজ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডের পাশাপাশি অর্থাৎ কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আরেকটি দণ্ডকে আইনে সংযোজন করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে, আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভিকটিম (ভুক্তভোগী) অর্থাৎ ঘটনায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের বরাবর হস্তান্তর করা।

    ট্রাইব্যুনাল যে রায় ঘোষণা করবেন, তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রসিকিউশন প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন। যে কারণে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছে ট্রাইব্যুনালের কাছে। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এ মামলায় বা ঘটনায় যারা ভিকটিম (ভুক্তোভোগী) আছেন, তাঁদের বরাবর হস্তান্তরের প্রার্থনা আমরা জানিয়েছিলাম। ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে আদেশ দেবেন, সেটা প্রসিকিউশন মেনে নেবে।

    মামলার আদ্যেপান্ত

    গত বছরের ৫ আগস্ট গণÑঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে যেসব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তাঁর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা আটটি। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন এসব মামলার মধ্যে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় মামলা।

    সারাদেশে লাগাতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই অভ্যুত্থানে পতিত সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দেয়, এ অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। ঘোষণা অনুযায়ী পরে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গত বছর ১৭ অক্টোবর দুই মামলার বিষয়ে প্রথম শুনানি হয়। সেদিন প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ এই ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে, গত বছরের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়। তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ৬ মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

    আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলি, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ব্যাপক মাত্রায় পদ্ধতিগত হত্যা, অপরাধে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অমানবিক আচরণ, সংঘটিত অপরাধ প্রতিহত না করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

    যে পাঁচ অভিযোগের বিচার

    আদালতের নথি থেকে জানা যায়, প্রথম অভিযোগ হচ্ছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়।

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ নির্দেশ বাস্তবায়নে তাঁদের অধীনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছেÑ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সামনে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নির্দেশ দিয়েছেন।

    চতুর্থ অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনাতেও শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পঞ্চম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা; তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে গুরুতর আহত একজনকে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    গত ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে তা আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আত্মসমর্পণ করতে ১৬ জুন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের দিন সেই বিজ্ঞপ্তি দুটি জাতীয় সংবাদপত্রে ছাপা হয়। আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের পলাতক দেখিয়ে গত ১০ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিন আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ মামলার রাজসাক্ষী হতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন। পরে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

    গত ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। ২৮ কার্যদিবসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাক্ষ্য দেন এ মামলায়। রাজসাক্ষী হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। টানা পাঁচ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    গত ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ২০ অক্টোবর থেকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী টানা তিন দিন শেখ হাসিনা-কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন দুই পক্ষই। তার আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ট্রাইব্যুনালে সমাপনী বক্তব্য দেন।