Category: রাজকাহন

  • নতুন রাজনৈতিক দলে যাচ্ছেন ফাতিমা তাসনিম

    নতুন রাজনৈতিক দলে যাচ্ছেন ফাতিমা তাসনিম

    গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ফাতিমা তাসনিম পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে এই পদত্যাগপত্র ফাতিমা তাসনিম নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল তিনি পদত্যাগপত্রটি দপ্তর সম্পাদকের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বরাবর পাঠান। পদত্যাগপত্রে ফাতিমা তাসনিম উল্লেখ করেন, ‘আমি ফাতিমা তাসনিম ব্যক্তিগত কারণে গণঅধিকার থেকে পদত্যাগ করছি।’

    এ বিষয়ে জানতে ফাতিমা তাসনিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের প্রতি কোনো অভিযোগ না রেখে ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি।

    আপনার অন্য কোনো দলে যোগদান করার সম্ভাবনা রয়েছে কি না– এমন প্রশ্নে ফাতিমা বলেন, ‘আগামী ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানীর শেরাটন হোটেলে সকাল ১০টায় আমি নিজেই একটি দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি। আমি মূলত দেশ ও জাতির সমুদ্র বন্দর, স্থল বন্দর ও আকাশসীমা সকল ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করব। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন এবং মানুষের অধিকার যেন আপামর জনগণ প্রত্যেকের কাছে যেন পৌঁছে দিতে পারি এটিই হবে আমার নতুন রাজনৈতিক দলের প্রত্যয়, আমাদের মিশন ও ভিশন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের উত্থান এবং তার পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নামে একটি ছাত্র সংগঠন তৈরি করি তারই ধারাবাহিকতায় আমার রাজনৈতিক অঙ্গণে অনুপ্রবেশ।

    গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নেত্রী বলেন, ‘হাঁটি হাঁটি পা পা করে গণঅধিকার পরিষদের সাথে একীভূত হয়ে আমরা সারা বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান তৈরি করি। সারা বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়েই রাজপথের স্রোতের বিপরীতে আমাদের উঠে আসা। নানা ধরনের ঘাত–প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই আমাদের বেড়ে ওঠা। ফ্যাসিস্ট রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই আমাদের রাজনীতিতে পদার্পণ। এই দীর্ঘ ৭ বছরের ভালোবাসা লিডারশিপ অর্জন, এগুলো যা অর্জন করেছি তা দেশ ও জাতির বৃহত্তম স্বার্থে বৃহৎ পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই আমার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া। আপনারা সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসী সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।’

    উল্লেখ্য, বিগত দিনে গণঅধিকার পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ফাতিমা তাসনিম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে সামনে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তিনি কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের মেয়ে। এর আগে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৪, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

  • এনসিপির বর্ষবরণে মানুষের উপস্থিতি কম থাকার কারণ জানালেন সামান্তা

    এনসিপির বর্ষবরণে মানুষের উপস্থিতি কম থাকার কারণ জানালেন সামান্তা

    বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির উপস্থিতি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় কম ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বেসরকারি টিভির এক টকশোতে বিষয়টি তোলা হলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সামান্তা।

    দল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, আমাদের শুধু একটি সেন্ট্রাল কমিটি রয়েছে, যেখানে ২১৭ জন সদস্য কাজ করছেন। এই ২১৭ জনের কাঁধেই পুরো দেশের সাংগঠনিক দায়িত্ব। অনেকেই বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করছেন, ফলে ঢাকায় উপস্থিতির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কম ছিল। ঢাকা শহরজুড়ে আজ (সোমবার) অসংখ্য কর্মসূচি হয়েছে। আমাদের পক্ষে প্রতিটি স্থানে সরাসরি উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি, তবে আমরা সজাগ ছিলাম।

    তিনি আরো বলেন, বর্ষবরণ সার্বজনীন উৎসব হলেও, এতে বাধা দেওয়ার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। তাই আমরা সতর্ক ছিলাম, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে, আমাদের পক্ষ থেকে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে নানা জায়গায় ছড়িয়ে থেকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বর্ষবরণে সহায়তা করার চেষ্টা করেছে।

  • ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদলের মারধর, গলায় জুতার মালা

    ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদলের মারধর, গলায় জুতার মালা

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী শাওন হোসেনকে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে দিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আটকৃত ছাত্রলীগ কর্মী শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের সক্রিয় কর্মী।তিনি পূর্বে ছাত্রদলের এক কর্মী মারধরের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে তাকে আটক করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    জানা যায়, শাওনকে আটকের পর অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে মারধর করে তাকে সেন্ট্রাল ফিল্ডে নিয়ে যান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে জিরো পয়েন্ট পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। পুরো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। পুলিশ বক্সে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করে।

    মারধরের শিকার ছাত্রলীগ কর্মী শাওন বলেন, জুলাইয়ে আমি শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলাম। ৯ তারিখের পরে আমি বাড়িতে চলে যাই। এরপর আন্দোলন নিয়ে কোনো পোস্ট করিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী শামিম বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে চবিতে ছাত্রদলের তেমন কোনো অবস্থান ছিল না। তবে ছাত্রদলের সঙ্গে আমার গোপন যোগাযোগ ছিল। এ বিষয়টি শাওন হোসেন জানতো। তাই সে আমাকে মারধর করে ও ক্যাম্পাসে আসাতেও বাঁধার সৃষ্টি করে। তাকে মারধর করা হয়নি। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ছাত্রলীগ করতো তা স্বীকার করে।

    বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ভুক্তভোগীর প্যানিক ডিসঅর্ডারের কারণে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থেকে আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রেফার করেছি।

    প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

  • ডিসেম্বরে নির্বাচন ধরে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ

    ডিসেম্বরে নির্বাচন ধরে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ

    আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    আজ শনিবার (১২ এপ্রিল) ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

    তারা আরো জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

  • নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কেননো দেখছে বিএনপি, কী বলছে এনসিপি-জামায়াত?

    নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কেননো দেখছে বিএনপি, কী বলছে এনসিপি-জামায়াত?

    নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে চলছে নানা গুঞ্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ- সর্বত্রই এখন প্রশ্ন; নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে তো, হলে কবে হবে? যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, নির্বাচন হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করছে। তবে ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় বিএনপি। ইদের আগেই বোঝা যাচ্ছিলো যে, ইদের পর রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে। কারণ বিএনপি ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলো, ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে রাজপথের কর্মসূচি দেবে তারা।

    দলটি এখন সে পথেই এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই দলের নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। গত সোমবার হয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। এরপর বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ১৬ই এপ্রিল তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। যেখানে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ‘রোডম্যাপ দেয়ার আহ্বান’ জানানো হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা জবাবে কী বলেন তার ওপর ভিত্তি করেই বিএনপি ঠিক করবে নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে তারা সরকারের ওপর কীভাবে চাপ তৈরি করবে, কর্মসূচি কী হবে। আর যদি ডিসেম্বরকে ঘিরেই নির্বাচনের কথা বলা হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাবে দলটি। কিন্তু বিএনপি যখন ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য এখনই রোডম্যাপ চাইছে, তখন জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি আবার আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়ার পক্ষে রয়েছে। তাদের যুক্তি, এই সময়ের মধ্যেই সরকার যেন ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের’ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

    রোডম্যাপ দিতে বাধা কোথায়- প্রশ্ন বিএনপির
    গত পাঁচই অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর আটই অগাস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপি শুরু থেকেই ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। পরে নতুন বছরের শুরুতে বিএনপি নেতারা আগামী জুলাই-অগাস্টের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব, এমন কথা বলে আসছিলেন। তবে দলটি আরেকটু পিছিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার বলছে সংস্কারের কথা। সংস্কারের জন্য গঠিত বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, বড় ধরণের সংস্কার করতে হলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে হতে পারে। আর ছোট আকারের সংস্কার হলে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরে। কিন্তু সংস্কারের জন্য ডিসেম্বরের পরে নির্বাচনের আয়োজনের বিরোধী বিএনপি।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বড় সংস্কার আর ছোট সংস্কার বলতে কী বোঝান, সেটা তো আমরা বুঝি না! কোন সংস্কারই ছোট বা বড় নয়। আমরা বলেছিলাম, নির্বাচনমুখী যেসকল সংস্কার সেগুলো শেষ করে নির্বাচন দিয়ে দিন। কিন্তু এখন বড় সংস্কার বলতে উনি কী বোঝাচ্ছেন, সেটা পরিস্কার করতে হবে। যদি উনি সংবিধান সংস্কারকে বড় সংস্কার মনে করেন তাহলে সেটা আমাদেরকে বলতে হবে। সংবিধথান সংস্কার তো জাতীয় সংসদ ছাড়া হবে না। সংস্কারের জন্য সময়ক্ষেপন করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। দেখেন সংবিধান সংস্কার ছাড়া এর বাইরে এমন আর কোনও সংস্কার প্রস্তাব নেই যেটা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহিত হলে এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় লাগবে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এখানে সংবিধান সংশোধনীর যেসব বিষয়ে জাতীয় একমত্য তৈরি হবে সেসব বিষয় চিহ্নিত করে একটা চার্টার করাই যায়। পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সেটা বাস্তবায়ন করবে। এরজন্য নির্বাচন পেছানোর তো দরকার নেই। এগুলো নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য একটা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে কিন্তু সেজন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে বাধা কোথায়?

    নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা দেখছে বিএনপি
    বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপ চায়। কিন্তু সরকার রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না। বিএনপি এটাকে সন্দেহের চোখে দেখে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে জুন––এই সাত মাসের মধ্যেই নির্বাচন হবে। সরকার প্রথমে সংস্কারের অ্যাজেন্ডা ঠিক করার জন্য অপেক্ষা করেছে। সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়েছে। এরপরের ধাপ হচ্ছে দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা। এই আলোচনা শেষ হলেই বোঝা যাবে সংস্কারের অ্যাজেন্ডা কী হবে এবং কবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে। এই বিষয়ে ঐকমত্য হলেই সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।

    দেখা যাচ্ছে, জামায়াত, এনসিপির মতো দলগুলো সরকারের এই প্রক্রিয়ায় এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমায় আস্থা রাখলেও বিএনপি সাত মাসের এই সম্ভাব্য সময়সীমাকে দেখছে তাদের ভাষায় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা হিসেবে। ফলে তারা ডিসেম্বরের পরে যেতে চায় না। কিন্তু নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা দেয়ার পরও বিএনপি কেন সেটাকে সন্দেহ করছে?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন বিএনপি নেতারা। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেখানে মানুষ গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য যদি এতো অনিশ্চয়তা থাকে, সেটাকে আমরা স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করি। আমরা কো-রিলেট করতে চাই যে, কিছু কিছু নতুন রাজনৈতিক দল এবং পুরনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে নির্বাচন বিলম্বিত করার একটা পাঁয়তারা লক্ষ্য করা যায়। তো সে কারণে সরকারের বক্তব্য এবং তাদের কথা ও কর্মকাণ্ড -সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। সেটা গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণকর নয়। কারণ নির্বাচন যতো দেরি হবে, গণতন্ত্র উত্তরণের রাস্তা ততো কঠিন হবে। নির্বাচন কবে হবে সেটা জানতে তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই সাক্ষাতে কী ফল আসে তার ভিত্তিতেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

    অন্য দলগুলো কী বলছে?
    এটা স্পষ্ট যে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা কেউ কেউ করছে- বিএনপির ভেতরে এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এটা আরও জোরালো হয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসা করে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানিয়েছেন। এসব প্রেক্ষাপটেই বিএনপি বলছে, ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন নেয়ার চেষ্টা হলে তারা বিরোধিতা করবে, প্রয়োজনে রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে। এর বিপরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব বক্তব্য আসছে, সেগুলো মূলত পাওয়া যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে। এসব দল নির্বাচনের আগে সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচারের যে দাবি করছে সেটাকে অনেকেই দেখছেন নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা হিসেবে। তবে জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপি অবশ্য বলছে, তারা নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নন। বরং সরকারকে সময় দিতে চান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র ও দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তো বলেই দিয়েছেন জুনের মধ্যে নির্বাচন। তিনি বলেছেন, বেশি সংস্কার চাইলে ইলেকশন হবে জুনে। উনি যেহেতু জুন পর্যন্ত চলে গিয়েছেন, সুতরাং বেশি সংস্কার নিয়েই তো (নির্বাচন) হবে। আর এর পরে নির্বাচন কোন কারণে পেছাবে? এর পরে নির্বাচন যাওয়ার তো কোনো কারণ দেখি না।

    একইরকম মনোভাব জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে সংস্কার হওয়াটাই স্বাভাবিক। ডি‌সেম্বর থেকে জুন -আমরা মনে করি এ সময়ের মধ্যেই সরকার সংস্কার এবং বিচারের দৃশ্যমানতার দিকে সরকার এগুতে পারে। এর মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের যে কার্যক্রম সেটা সম্পূর্ণ করা সম্ভব।

    তবে এনসিপি কিংবা জামায়াত জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলেও ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সেক্ষেত্রে যেসব দল জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দিতে চায় তাদের কী হবে? এসব দলও কি তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে যাবে?

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, কোনো দলেরই আন্দোলনের পরিস্থিতি দেশে নেই। আন্দোলনটা কার বিরুদ্ধে হবে? আন্দোলনটা তো হবে একটা দাবি আদায়ের জন্য। সেই দাবিটা তুলে ধরা, আলোচনার তো জায়গা আছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলা যায়, ঐকমত্য কমিশনে বক্তব্য তুলে ধরা যায়। দ্বিতীয়ত, যদি এমনটা হয় যে কোনো অবস্থাতেই একটা যৌক্তিক দাবি আদায় করা যাচ্ছে না। তখন আপনি জনগনকে জানাতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো সিচুয়েশন এখনও তৈরি হয়নি।

    দলগুলোর মধ্যে যখন এমন মতভেদ তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশন ধারাবাহিকভাবে বৈঠক শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। এসব বৈঠক এবং দলগুলোর আনুষ্ঠানিক মতামত পাওয়ার পরই সংস্কার এবং নির্বাচনের সময় নিয়ে ঐকমত্যের পথ স্পষ্ট করতে চায় সরকার। কিন্তু তার আগেই বড় দলগুলোর যে মনোভাবে তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সেই ঐকমত্য হয়তো খুব একটা সহজ হবে না।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • সংস্কার নিয়ে কোন দল কী চায়, কী চায় না? আপত্তি কোথায়?

    সংস্কার নিয়ে কোন দল কী চায়, কী চায় না? আপত্তি কোথায়?

    রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পরিবর্তন বা সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় রকমের ভিন্নমত বা পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা যাচ্ছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে ভিন্নমত বা মতপার্থক্য দূর হওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। তারা আবার নতুন সংবিধান ও গণপরিষদ নির্বাচন চাইছে। বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল থেকে একেবারে বিপরীত অবস্থান নতুন এই দলটির।

    প্রশ্ন হচ্ছে, মৌলিক বিষয়গুলোতে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা কি আদৌ সম্ভব? জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অবশ্য হাল ছাড়তে চায় না। এই কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দলগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনায় তারা ভিন্নমতের কারণ জানার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে তাদের সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা রয়েছে।

    বড় দলগুলো যখন একে অপরের বিপরীত অবস্থান নিচ্ছে, তখন সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়গুলোয় ঐকমত্য বেশ কঠিন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, দলগুলো তাদের দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে যেতে পারছে না।

    গত বছরের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গঠিত অর্ন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির জন্য ১১টি কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে সংবিধান, বিচারবিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন, ও পুলিশ-এ সব বিষয়ে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মূলত সংবিধান সংস্কারের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আপত্তি, ভিন্নমত বা মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

    বিএনপি, জামায়াতের ভিন্নমত কোন ক্ষেত্রে : সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পারিবর্তনের প্রশ্নেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এ ব্যাপারে কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহুজাতি, বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহু সংস্কৃতির দেশ, যেখানে সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নয় বিএনপি। ভিন্নমত পোষণ করে দলটি বলেছে, সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদ পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে তারা।

    সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে। আর অনুচ্ছেদ ৯, ১০, ও ১২-এ জাতীয়তাবাদ, সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি কি তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতায় ফিরে যেতে চায়––এমন প্রশ্নও তুলছেন দলটির সমালোচকরা। আর এই সমালোচনার মুখে বিএনপি বলেছে, তারা তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনের সময় আনা পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যেতে চায়। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতেই সর্বশক্তিমান ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের দলের পক্ষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তারা মূলনীতিতে পরিবর্তন চান না, সেটাই তারা বলেছেন। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় এবং পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে গেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা থাকছে; ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয় আসছে না।

    এই মূলনীতি সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির বিপরীত অবস্থান নিয়েছে তাদের এক সময়ের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামী। দলটি সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। জামায়াত শুধু একটি শব্দ ‘বহুত্ববাদ’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা এর পরিবর্তে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ, এই শব্দগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

    এই ইস্যুতে অন্য ইসলামী ও বামপন্থিদলগুলোও বিএনপি এবং জামায়াতকে অনুসরণ করে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পরিবর্তন না করে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার যে কথা বিএনপি বলছে, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী হবে-এই আলোচনাও উঠছে। কারণ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে। এমন সমালোচনার জবাবে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির প্রশ্নে পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু অষ্টম সংশোধনী বাতিলের কথা বলছেন না তারা।

    সাংবিধানিক কমিশন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা নিয়েও মতভেদ : বিএনপিসহ বিভিন্ন দল জাতীয় সাংবিধানিক কমিশন গঠনে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের পক্ষে নয়। রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে এমন কমিশন গঠনের ব্যাপারে জামায়াতেরও আপত্তি রয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতীয় সাংবিধানিক কমিশনের (এনসিসি) সিদ্ধান্তক্রমে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারির সঙ্গে সরকারের নির্বাহী কর্তৃত্বের বিষয়টি সম্পর্কিত, সেকারণে এ ক্ষমতা সরকার ও সংসদের বাইরে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা সংগত হবে না।

    এছাড়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে সে সময় নাগরিকদের কোনো অধিকার রদ বা স্থগিত করা যাবে না এবং আদালতে যাওয়ার অধিকার বন্ধ বা স্থগিত করা যাবে না। তাই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) এবং অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) বাতিল হবে–– এমন সুপারিশও করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এ প্রশ্নেও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নাগরিকদের কোনো অধিকার রদ বা স্থগিত না করে জরুরি অবস্থা জারির কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে, প্রস্তাবিত সুপারিশে তা বোধগম্য নয়।

    সংস্কারে মত দিলেও নতুন সংবিধান চায় এনসিপি : জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। তবে সংবিধান সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের যে সুপারিশ করেছে, তাতে আপত্তি জানিয়েছে এনসিপি। এখন রাষ্ট্রের নাম রয়েছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। সেখানে পরিবর্তন এনে ‘নাগরিকতন্ত্র’ ও ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন।

    এনসিপি ‘প্রজাতন্ত্র’ ও ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ বহাল রাখার পক্ষে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য দলগুলোও রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন চায় না। তবে এনসিপি বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান চাইছে। সেজন্য তারা গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে। দলটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, নির্বাচন একবারই হবে। সেই নির্বাচনে যারা জয়ী হবে, তারা প্রথমে গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবে।

    এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ তাদের দিয়েই সংসদ গঠিত হবে। এনসিপি’র এই দাবির সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতসহ বেশিরভাগ দলই একমত নয়। এই ইস্যুতেই অন্যান্য দলের সঙ্গে এনসিপি’র মতপার্থক্য বেশি। অবশ্য এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা তাদের দাবি নিয়ে এগোবেন। সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে ব্যাপারে তাদের সমর্থন থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি : সরকারের মেয়াদ চার বছর করার প্রস্তাবে এখন সক্রিয় সব দলেরই আপত্তি রয়েছে। তারা পাঁচ বছর মেয়াদের কোনো পরিবর্তন চায় না। একই ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না বলে সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাব করেছে, এ নিয়ে বড় আপত্তি বিএনপির। দলটির বক্তব্য হচ্ছে, এটি রাজনৈতিক দলের নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ব্যাপারে পরিবর্তন বা সংস্কারের কোনো প্রয়োজন নেই। জামায়াত অবশ্য বলছে, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এক ব্যক্তি হতে পারেন। দলীয় প্রধান অন্য কেউ থাকতে পারেন।

    টানা দুই মেয়াদের বেশি এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, এই প্রস্তাব বিএনপির ৩১ দফায় ছিল। কিন্তু দলটি সেখান থেকে সরে এসেছে। তারা এখন এক ব্যক্তির টানা তিন বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলছে। তবে বামপন্থি দলগুলো ও অন্যান্য ইসলামী দল সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। তারা মনে করে, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকার কারণে ‘একনায়ক’ বা ‘স্বৈরাচার’ হওয়ার সুযোগ থাকছে।

    অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার প্রস্তাবে ভিন্নমত নেই দলগুলোর। প্রস্তাব হচ্ছে, সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০, নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তারা নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি। উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া এবং ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট নিয়েও আপত্তি রয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের।

    সংসদ সদস্যদের ভোটের স্বাধীনতা দিতে চায় না দলগুলো : বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন না। তাতে এ-ও বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। এটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে রয়েছে। ফলে সংসদে কোনো আইন পাসের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা ছাড়া বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

    সংবিধানের এই ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যে দলগুলো ক্ষমতায় বা বিরোধীদলে থেকেছে, তারা কখনও পরিবর্তন চায়নি। এখনো এ ব্যাপারে পরিবর্তন আনার সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে আপত্তি দলগুলোর। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এমনকি এনসিপি সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে চায় না।

    কমিশনের প্রস্তাব হচ্ছে, অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। এর সঙ্গে একমত নয় এই দলগুলো। তারা চায়, অর্থবিলের মতো আস্থা ভোটের ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা স্বাধীন থাকবেন না। সংসদ সদস্যদের নিজ দলের অবস্থানের পক্ষেই থাকতে হবে।

    ঐকমত্য কি সম্ভব? সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতেই মতভেদ রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পাশাপাশি রাজনীতিকদেরও অনেকে বলছেন, সংস্কারের এসব বিষয়ে ঐকমত্য বা এক অবস্থানে দলগুলোকে আনা বেশ কঠিন। বিএনপির মিত্র জোট গণতন্ত্র মঞ্চেরই অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মূল বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হওয়ার সম্ভবনা কম বলেই মনে করেন তিনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে। তারা মনে করেন, মৌলিক বা স্পর্শকাতর নয়, এমন বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হতে পারে। সে অনুযায়ী ঐকমত্য কমিশন হয়তো সরকারের প্রতিশ্রতি অনুযায়ী জুলাই চার্টার তৈরি করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের মূল বিষয়গুলোতে ভিন্নমত, বিতর্কের অবসান না হলে সংস্কার অর্থবহ কতটা হবে, সেই প্রশ্ন থেকে যাবে। লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, দলগুলো তাদের দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অবস্থান নিচ্ছে। সেজন্য ঐকমত্য হওয়া বেশ কঠিন।

    ঐকমত্য হলেও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা কি সম্ভব? বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশিরভাগ দল এখন নির্বাচন সর্ম্পকিত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ভোট চাইছে। আর এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল সামগ্রিক সংস্কার শেষ করার পর নির্বাচনের কথা বলছে। যে দলগুলো ন্যুনতম সংস্কার করে নির্বাচন চাইছে, তারা বলছে–– বাকি সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার।

    বিএনপির ক্ষমতায় যাওযাটা এখন সময়ের ব্যাপার, ভােট হলেই তারা ক্ষমতায় যাবে–– এমন একটা মনোভাব দলটির সবপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। ফলে দলটির পক্ষ থেকেই জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, নির্বাচিত সরকার এসে বাকি সংস্কারগুলো করবে। কিন্তু কোনো দল নির্বাচিত হয়ে এসে প্রস্তাবিত সংস্কার কাজ কতটা বাস্তবায়ন করবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে। যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের দিক থেকেই এই সন্দেহ বেশি।

    এমন পরিস্থিতিকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও বিবেচনায় নিচ্ছে। সে কারণে যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হবে, তা নিয়ে জুলাই চার্টার তৈরি করার কথা বলা হচ্ছে এবং তাতে দলগুলোর নেতাদের স্বাক্ষর করতে হবে।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তারা দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করবেন। এই আলোচনায় তারা ঐকমত্য ও দ্বিমতের বিষয়গুলো চিহ্নিত করবেন। এর ভিত্তিতে জুলাই চার্টার বা অঙ্গীকারনামা তৈরি করবেন তারা।

    এছাড়া বাস্তবায়নের জন্য চাপ রাখতে চার্টারের কোনো আইনগত ভিত্তি দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটাও ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অঙ্গীকার ও চাপ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা প্রয়োজন।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • বিসিএস পরীক্ষার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবি

    বিসিএস পরীক্ষার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবি

    বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পিএসসি কার্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পিএসসির কার্যক্রমের গতিশীলতা ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ’ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এক স্মারকলিপি পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের কাছে দেওয়া হয়।

    এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া ও ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।

    এনসিপির দাবিগুলো হলো- প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল, কাট মার্কস ও সঠিক উত্তর পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা; লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নম্বরসহ ওয়েবসাইটে ভাইভার আগেই প্রকাশ করা; লিখিত ফলাফল ঘোষণার পর ভাইভার আগে ক্যাডার চয়েস রদবদল করার অপশন দেওয়া; ১০০ নম্বরের ভাইভা ৪৫তম বিসিএস থেকেই কার্যকর করা এবং স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে ভাইভার নম্বরও প্রকাশ করা; ভাইভাতে উত্তীর্ণদের থেকে নন-ক্যাডারে সর্বোচ্চ নিয়োগ দেওয়া; ১ বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সার্কুলারে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করা।

    চলমান বিসিএস পরীক্ষার জট নিরসন নিয়ে তোলা দাবির মধ্যে রয়েছে- জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ৪৪তম বিসিএসের সব ভাইভা সম্পন্ন করে ৩০ জুনের মধ্যে ৪৪তমের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা। ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে ঘোষণা করা এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পন্ন করা। জুনের শেষ সপ্তাহ অথবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত শুরু করা। এই সময়কালের মধ্যে সম্ভব না হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে লিখিত পরীক্ষা শুরু করা। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি গ্রহণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় বিসিএস লিখিত ও ভাইভার মধ্যে ন্যূনতম গ্যাপ থাকতে হবে। ৪৬তম লিখিত পরীক্ষা সম্পন্নের পর এক মাসের মধ্যে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া।

  • অভিযোগ নিয়ে দুদক কার্যালয়ে সারজিস-হাসনাত

    অভিযোগ নিয়ে দুদক কার্যালয়ে সারজিস-হাসনাত

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

    বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন তারা। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

    এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটা ভেরি কনফিডেনশিয়াল। এখন কনফিডেনশিয়াল বিষয় বলে দিলে তো আর কনফিডেনশিয়াল থাকল না। তা ছাড়া অপরাধীরা তখন সতর্ক হয়ে যাবে।’

    এ বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘অতীতে দুদককে ব্যবহার করে অনেকে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অনেক সাধারণ মানুষকে আবার বিনা অপরাধে হয়রানি করা হয়েছে। এই সময়ে এসেও এখন আমরা সেটি প্রত্যাশা করি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু অভিযোগ ছিল, সেটি আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেটি জানাতেই আমরা এখানে এসেছি। এর বেশি কিছু বলছি না এখন।’

  • জাতীয় নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার: ইসি

    জাতীয় নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার: ইসি

    সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতসহ প্রচারণায় পোস্টার না রাখার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে পোস্টারের পরির্বতে করা যাবে লিফলেট। এ ব্যাপারে আচরণ বিধিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের জন্য নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

    সোমবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

    নির্বাচনে পোস্টার কেন রাখতে চাচ্ছেন না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব এ রকমই। সে প্রস্তাবকে ভালোই মনে করছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়টিও আছে। গুজব যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সেগুলোও ভাবছি। আমরা সর্বোচ্চ কঠোরতার জন্য যে টুলসগুলো আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করবো। ২০০/৫০০ টাকা জরিমানার বিষয়গুলো আরো বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে। আচরণবিধির বাইরেও পেনাল কোড আছে।

    নির্বাচন কমিশনার বলেন, দল নিবন্ধনের যে বিজ্ঞপ্তি- এতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামে একটি রিট করেছে। এটা শুধু তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। দু-একটি দল আবেদন করেছে। এখন ২০ এপ্রিলের মধ্যে যদি অনেক দল আবেদন করে, তাহলে এক রকম হবে। তবে ২০ তারিখ এলে বোঝা যাবে সময় বাড়ানো হবে কি না। একটি দল আবেদন করেছে। আমাদের ধারণা, ২০ এপ্রিলের মধ্যে বেশ কয়েকটি দল আবেদন করার জন্য প্রস্তুত। বর্তমান আইন অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। এ জন্য অংশীজনদের সঙ্গেও বসব।

    এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, সীমানা নির্ধারণ আইনে করণিক ভুলটি সংশোধনের জন্য করা প্রস্তাবটা আমরা পাঠিয়েছিলাম। অনুমোদন এখনো কেবিনেট থেকে পাইনি। না পেলে বিদ্যমান আইনেই সীমানা নির্ধারণ হবে।

    তিনি আরো বরেন, আগামী নির্বাচনে কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, ট্রেন বা অন্য কোনো যানবাহন সহকারে জনসভা কিংবা মশাল নিয়ে জনসভা করা যাবে না। কোনো ধরনের শো ডাউন করা যাবে না। প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শোডাউন করতে পারবে না।

  • রাজবাড়ীর সাবেক এমপি কাজী কেরামত ঢাকায় গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ীর সাবেক এমপি কাজী কেরামত ঢাকায় গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক এমপি কাজী কেরামত আলীকে রাজধানীর মহাখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার(ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও রাজবাড়ীতে একাধিক মামলা রয়েছে৷ এর যেকোনো একটি মামলা থাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামীকাল সোমবার (৭ এপ্রিল) আদালতের সোপর্দ করা হবে।