Category: রাজকাহন

  • কোন দিকে ঝুঁকছে ইসলামপন্থি দলগুলো?

    কোন দিকে ঝুঁকছে ইসলামপন্থি দলগুলো?

    বাংলাদেশে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে মতের ভিন্নতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন নির্বাচন লক্ষ্য করে ‘এক বাক্সে ভোট আনার’ স্লোগান তোলা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক পাঁচটি দল নির্বাচনি জোট করার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অন্য দলগুলোর মধ্যে। অন্যতম প্রধান দল বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থিদের রাজনীতির মেরুকরণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এই প্রশ্নে এসব দলের মধ্যেই চলছে নানা আলোচনা।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে; অনেক ক্ষেত্রেই তা চোখে পড়ার মতো। এমনকি বিভিন্ন সময় এসব দল ও সংগঠনের শক্তি দেখানোর চেষ্টা ছিল। নির্বাচনের সময় ও সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির বিপরীতে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থি দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামী দলগুলোর নেতারা বলছেন, দেশে পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ এসেছে বলে তারা মনে করছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তারা। সেজন্য তারা ইসলামপন্থিদের ঐক্য বা একটি জোট গঠনের তাগিদ অনুভব করছেন।

    নির্বাচনি জোট করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি আসনে তাদের একক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলছে ইসলামপন্থি দলগুলো। তা কতটা সম্ভব হবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যদিও নেতারা বলছেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচন এগিয়ে এলে নানা মেরুকরণ হবে এবং অনিশ্চয়তাও আছে।

    বিএনপি ও জামায়াতের কাছে টানার চেষ্টায় অনেক ইসলামি দল দুই বলয়ে ভিড়তে পারে, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করতে পারছেন না ঐক্যের চেষ্টায় থাকা নেতারা।

    ঐক্যের চেষ্টায় জামায়াতের অবস্থান আসলে কী
    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের শেষদিকে কোণঠাসা জামায়াত অন্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তাদের সেই চেষ্টা প্রকাশ্যে এসেছে। কারণ অন্য দল, বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক ও ধর্মীয় নেতা বা পীরদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে জামায়াতের সম্পর্কের দূরত্ব ছিল।

    জামায়াতের এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দলটির আমির শফিকুর রহমান গত ২১শে জানুয়ারি বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমােনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সঙ্গে দেখা করেন। সেদিন ইসলামি আন্দোলনের নেতার মধ্যাহ্ণভোজেও অংশ নেন জামায়াতের আমির। দল দুটির শীর্ষ দুই নেতা বরিশালে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। সেদিনই তারা সাংবাদিকদকদের বলেছিলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামি দলগুলো ‘একবাক্সে ভোট আনার’ চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এরপর জামায়াত নেতারা ঐক্যের ব্যাপারে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তবে ঐক্যের ব্যাপারে দলটির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে বলে অন্য ইসলামি দলগুলোর নেতারা মনে করছেন। কারণ এখন ঐক্য তৈরি প্রক্রিয়ায় জামায়াত অংশ নিচ্ছে না।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলোর ঐক্য বা জোট করার চেষ্টাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু ওই জোট থাকা না থাকার প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতেই নানা মেরুকরণ হচ্ছে। নির্বাচন এগিয়ে এলে আরও মেরুকরণ হবে। ফলে আরও পরে দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হবে।

    দলটির অন্য একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, কোনো জোটে না গিয়ে জামায়াত স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে দলগতভাবে নির্বাচন করতে চায়। এবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার চিন্তা তাদের মধ্যে রয়েছে। সেজন্য কোনো জোটে না গিয়ে নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা জামায়াতের ভেতরে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। একইসঙ্গে ইসলামপন্থিসহ বিভিন্ন দলকে কাছে রেখে নিজেদের একটা বলয় তৈরির চিন্তা নিয়েও এগোচ্ছে দলটি। আর এমন চিন্তার ক্ষেত্রে জামায়াত গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।

    ইসলামপন্থি দলগুলোর রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা জামায়াতের অবস্থানকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তারা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এখন রাজনীতির মাঠে নেই। এই দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলে বা ভোটে অংশ না নিলে বিএনপি ও জামায়াতের জোট করার প্রয়োজন হবে না। কারণ আওয়ামী লীগের বিরোধিতা থেকেই তারা অতীতে নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়েছে। এখন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বিবেচনা রেখেই জামায়াত কোনো জোটে না যাওয়ার বিষয় চিন্তা করছে।

    এসব চিন্তা থাকলেও এখন অবস্থান পরিষ্কার করেনি দলটি। ফলে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনসহ পাঁচটি দল তাদের ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে।

    ঐক্যের চেষ্টায় কারা, নির্বাচনি জোট নাকি স্থায়ী জোট?
    জোট গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি দল এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। সর্বশেষ গত ২৩শে এপ্রিল তারা বৈঠক করেছে। তারা একটি লিঁয়াজো কমিটিও গঠন করেছে। দুই-একদিনের মধ্যে সেই লিঁয়াজো কমিটির বেঠক হতে পারে।

    ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে এই ঐক্যের প্রক্রিয়ায় রয়েছে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং নেজামে ইসলাম। এই পাঁচটি দলেরই নিবন্ধন আছে।

    ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবার নির্বাচনে একটা অবস্থান তৈরির চিন্তা থেকে তারা এই ঐক্যের চেষ্টা করছেন। তবে, কোনো স্থায়ী জোট নয়, এটি হবে নির্বাচনি জোট।

    পাঁচটি দল প্রথমে নিজেরা একটি নীতিমালা তৈরি করছে। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে তারা অল্প সময়ের মধ্যে জোট গঠনের ঘোষণা দেবে। এই প্রক্রিয়ায় থাকা অন্য একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইসলামি দলের বাইরেও গণঅধিকার পরিষদ ও ডানপন্থি কিছু দলের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা এলেও জোটে স্বাগত জানানো হবে।

    যদিও তাদের কাছে জামায়াতের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। এরপরও জামায়াত তাদের সঙ্গে ঐক্য করতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই। কারণ জামায়াত এখনো তাদের ‘না’ বলেনি। সেজন্য জামায়াতকেও সঙ্গে রাখার চেষ্টা থাকবে বলে ইসলামি দলগুলাের নেতারা বলছেন।

    খেলাফত মজলিসের সহ সভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, তারা নির্বাচনি জােট গঠন করলে অন্যান্য দলের জন্যও তাদের জোট উন্মুক্ত থাকবে।

    হেফাজতসহ ইসলামি বিভিন্ন ফোরামের নতুন তৎপরতা কেন?
    কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম তেসরা মে ঢাকায় সমাবেশ করছে। সংগঠনটি তেরো দফা দাবি তুলে ২০১৩ সালের পাঁচই মে ঢাকায় শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। তাদের সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনার ব্যাপারে এবং দমননীতি চালানোর অভিযোগ রয়েছে সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। এবার সেই ঘটনার স্মরণে এবং সংগঠনটির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সে সময় দায়ের করা পুলিশের সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তেসরা মে সমাবেশ করার কথা বলছে হেফাজত।

    সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব জালালাউদ্দীন আহমদ বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টি মামলা রয়েছে। সেগুলোর প্রত্যাহার চান তারা। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশসহ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেই প্রতিবেদন ও কমিশনই বাতিলের দাবি তুলেছে হেফাজত। ঢাকার সমাবেশে সেই দাবিকেও তারা সামনে আনবেন বলে জানিয়েছেন জালালউদ্দীন আহমদ।

    হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও তাদের নেতৃত্বের বেশিরভাগই ইসলামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতা। এই সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটির শক্তি দেখানোর একটা চেষ্টা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    • ইসলামি দলগুলোর রাজনীতির পর্যবেক্ষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ইসলামি দলগুলোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সংগঠন বা ফোরামের পক্ষ থেকেও তাদের অবস্থানের জানান দিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। হেফাজতও ঢাকায় জমায়েত করে তারা নতুন করে তাদের অবস্থানের একটা বার্তা দিতে চাইছে।

    বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানছে, কেন
    এখন সক্রিয় থাকা প্রায় সব দলই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন হলে এই দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, এই ধারণা তৈরি হয়েছে রাজনীতিতে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এই নির্বাচনে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী যেহেতু নেই, সে কারণে তারা এখন কোনো জোট করতে চান না।

    দলটি এবার স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে দলগতভাবে নির্বাচন করতে চাইছে। তবে আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন করেছে বাম, ডান ও ইসলামপন্থি বিভিন্ন দল। বিএনপির কাছে ওই দলগুলোর একটা চাওয়া রয়েছে। ফলে এই দলগুলোর জন্য বিএনপি কিছু আসন ছেড়ে দেবে এবং সে ক্ষেত্রে এক ধরনের সমঝোতা হবে। দলটির নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বাইরেও ইসলামপন্থি বিভিন্ন দলকে কাছে রাখতে চাইছে বিএনপি। সেজন্য তারা আলোচনাও চালাচ্ছে।

    আর এসব দলকে কাছে রেখে জোটবদ্ধ না হয়ে একটা বলয় তৈরির ক্ষেত্রেও আসন দিতে হবে বিএনপিকে। দলটির সে ধরনের সমঝোতায়ও যেতে পারে বলে মনে হয়েছে।

    নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর নেতাদের এককভাবে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে তাদের জেতার সম্ভবনা থাকে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দলগুলোর বেশিরভাগই বিএনপির দিকে ঝুঁকবে এবং তাতে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    ভোটে ইসলামপন্থিদের প্রভাব কতটা, কেন তাদের নিয়ে টানাটানি
    ইসলামি দলগুলোর অতীতের নির্বাচনের পরিসংখ্যান কিন্তু বেশি নয়। গত তিনটি নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। এর আগে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছিল। সেই নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে। ওই নির্বাচনে জামায়াতের ভোট ছিল চার দশমিক সাত শূন্য শতাংশ। অন্য ইসলামি দলগুলোর ভোটের হার দেখা যায় এক শতাংশেরও নিচে।

    এখন তাদের ভোট বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। কিন্তু এরপরও এসব দলের এককভাবে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া বেশ কঠিন। ফলে তাদের দিক থেকে বড় দল বা জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করার একটা তাগিদ থাকে।

    এছাড়া তাদের কাছে টানার ক্ষেত্রে বিএনপি বা বড় দলগুলোর চিন্তা থাকে তাদের সমর্থনে দলের সংখ্যা বাড়ানো; নিজেদের একটা বলয় তৈরি করা। তবে ভোটের হার কম হলেও ইসলামি দলগুলোর সারাদেশে কিছু ভোট আছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোট না থাকলেও ইসলামপন্থি দলগুলো সঙ্গে থাকলে এরও একটা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এসব বিবেচনায় এবার বিএনপি ও জামায়াত তাদের পৃথকভাবে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। অতীতেও সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক যে সব নির্বাচন হয়েছে, সে সব নির্বাচনে বড় দলগুলোর ইসলামি দলগুলোকে কাছে রাখার চেষ্টা আরও বেশি ছিল।

    ইসলামি দলগুলোর মেরুকরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কেন?
    দেশে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামি দল ১১টি। নিবন্ধিত ইসলামি দলগুলোর মধ্যেই নানামত রয়েছে। এতে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক দল যেমন রয়েছে, একইসঙ্গে ধর্মীয় নেতা বা পীরদের দল রয়েছে। সেখানে মাজারকেন্দ্রিক তরিকত ফেডারেশন, সুপ্রিম পার্টির মতো দলও রয়েছে। এছাড়া নিবন্ধিত দলের বাইরে ইসলামি দলের সংখ্যা অনেক। এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান দলগুলোও দিতে পারে না। ফলে ইসলামি সব দলকে এক জায়গায় এনে এক বাক্সে ব্যালট পাঠানো দুরূহ ব্যাপার। এটা এসব দলের নেতাদেরও অনেকে মনে করেন।

    অন্যদিকে, ঐক্যের চিন্তা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেখানে নির্বাচিত হয়ে আসা এবং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বেশিরভাগ দলেরই বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। বিএনপিও বিভিন্ন দলের সঙ্গে যে আলোচনা চালাচ্ছে, তাতে ইসলামপন্থি অনেক দল অংশ নিচ্ছে। এমনকি যে পাঁচটি দল ঐক্যের চেষ্টা করছে, তাদের একাধিক দল বিএনপির সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। বড় দল যখন আসন সমঝোতার ভিত্তিতে কাছে রাখতে চাইবে, তখন ঐক্যের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকছে।

    জামায়াত এবং অন্য ইসলামি দলগুলোর কয়েকজন নেতাও বলেছেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে রাজনীতি আরও মেরুকরণ হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত মেরুকরণ হতে পারে।

    • বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ মনে করেন, ইসলামি দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারা কোনো জোট করলে সেই জোটও বড় কোনো দল বা জোটের দিকে ঝুঁকবে না, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। ঐক্য চেষ্টা ও দলগুলোর অবস্থান স্থির হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা। দোলা শুধু আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নয়, তিনি জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নিও। তার বাবার নাম সৈয়দ গোলাম দস্তগির। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

    গতকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এনসিপি’র মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ওই চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে মো. আব্দিুর রহমানকে এবং সংগঠক করা হয়েছে মো. রাকিব হোসেনকে। এছাড়া, ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলার দুইজন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের টিমকে বলা হয়েছে, উক্ত টিমকে উল্লেখিত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিম্মোক্ত সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিটির প্রস্তাবনার নির্দেশনার প্রদান করা হল।

    ফরিদপুর জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে যে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার একজন হলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।

    সৈয়দা নীলিমা ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীত বিভাগে মাস্টার্স করেন। এরপর তিনি কিছুদিন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে ‘সিনে কার্টেল’ নামে একটি মুভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বধিকারী।

    জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মেয়ে হয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দা নীলিমা দোলা গণমাধ্যমকে জানান, আমার পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা সংক্রান্ত কিছু পোস্ট আপনাদের সামনে আসতে পারে। আমি নিজের দিক থেকে একটা ব্যাখ্যা আমার মানুষজন এবং রাজপথের সহযোদ্ধাদের দিয়ে রাখতে চাই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন আমি করে আসতেছি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে সকল আন্দোলনের আমি অতি পরিচিত মুখ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার লেখালেখিও পুরোনো। ২০১২ সালে পরিবার ছাড়ার পর রাজপথই আমার আসল পরিবার। জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্যতম মামলা তাহির জামান প্রিয় হত্যা মামলা ও একজন প্রতক্ষ্যদর্শী আমি।

    তিনি আরও জানান, সরাসরি ছাত্রলীগ করে অনেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। আমি কখনও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, তাই আমার নাগরিক কমিটির সদস্য হতে বাধা কোথায় ? তিনি আরও জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেনে, বুঝে এবং আমি ‘লিটমাস’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করেছেন।

    আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার এনসিপি কমিটি গঠনের এ বিষয়ে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন জানতে চাইলে ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা জানান, তার (সৈয়দা নীলিমা) পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগ। আমরা দেখেছি গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার মামা গোলাম নাসির কিভাবে আমাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছুঁড়েছে। তার মায়ের কর্মকান্ড আমাদের অজনা নয়।

    সৈয়দা নীলিমা দোলার সঙ্গে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত নেই মন্তব্য করে সোহেল রানা জানান, আসলে দায়িত্ব দেয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে নেয়া হলে ভাল হতো। সঠিক যাচাই-বাছাই করা হলে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

  • আ’লীগের বিচার-নিষিদ্ধের দাবি ২মে এনসিপির বিক্ষোভ

    আ’লীগের বিচার-নিষিদ্ধের দাবি ২মে এনসিপির বিক্ষোভ

    আওয়ামী লীগের বিচার, নিবন্ধন বাতিল ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আগামী ২ মে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    শনিবার দলটির চতুর্থ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের সঞ্চালনায় ওই সভায় সারাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় সদস্যরা উপস্থিত হন।

    সভায় সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ গঠন করারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা সংগঠনের সকল নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সভায় একটি ‘নির্বাহী কাউন্সিল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর এ কমিটি অবস্থা বিচারে নবায়ন, পুনর্মূল্যায়ন বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    একইসঙ্গে এ সভায় দলের গঠনতন্ত্র প্রণয়নে পাঁচ বা ততোধিক সদস্যের সমন্বয়ে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন টিম গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই টিমকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলের খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

  • রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    যখন রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন তখন নিজের জন্য সেরা অপশনই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে এখনই তার রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, “আমার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে আমাদের নিয়ে একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। তারা মনে করেন আমরা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কাজ করব। তবে কোন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হব, তা নির্ধারণের সময় এখনো আসেনি।”

  • বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির দৌড়ঝাঁপ, জোটের নানা হিসাব

    বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির দৌড়ঝাঁপ, জোটের নানা হিসাব

    বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হবে, এখনো সে ব্যাপারে কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা মেরুকরণ হচ্ছে। দৃশ্যমান হচ্ছে, ছোট ছোট দলগুলোকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র পৃথক পৃথক বলয় তৈরির তৎপরতা।

    ঢাকার বনানীতে বিএনপির আহ্বানে একটি বৈঠক। উপস্থিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুটি দল সিপিবি-বাসদের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে আলোচনার মুল বিষয় ছিল নির্বাচন। বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে দাবি করছে, দলটি সেই দাবির প্রতি সিপিবি-বাসদের নেতাদের সমর্থন চেয়েছে। সিপিবি-বাসদের নেতারাও জানিয়েছেন, তারাও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন। আলোচনায় উভয়পক্ষই একমত হয় যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব।বিএনপি ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বাইরে স্বতন্ত্র বাম গণতান্ত্রিক জোটে রয়েছে সিপিবি ও বাসদ।।

    এর আগে বিএনপি যখন শেখ হাসিনা বিরোধী যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তখন সিপিবি-বাসদকে প্রস্তাব দেয়া হলেও তারা এর অংশ হয়নি। এবার বিএনপির সঙ্গে দল দুটোর বৈঠক একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে, এমন আলোচনা শুরু হলেও সিপিবি-বাসদ অবশ্য সেটা নাকচ করে দিয়েছে। তবে বিএনপি এমুহুর্তে কোনো জোট গঠনের কথা না বললেও ছোট দলগুলোকে তাদের পক্ষে রাখতে চাইছে। সেজন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে তারা।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অন্যান্য ইসলামী দলের ঐক্য নিয়েও ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপিও বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। কিন্তু নির্বাচনের সময় এখনো সুনির্দিষ্ট নয়; সংস্কার শেষপর্যন্ত কতটা করা সম্ভব হবে, সেটাও স্পষ্ট হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত দলগুলোর এমন তৎপরতা কী জোট গঠন পর্যন্ত যেতে পারে? আর ঠিক কোন বিষয়কে সামনে রেখে ভিন্ন ভিন্ন ধারায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টায় রাজনৈতিক দলগুলো?

    ছোট দলগুলোকে কেন কাছে টানছে বিএনপি?
    বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ভূমিকা রেখেছিলো, সেই দলগুলোর মধ্যে এখন বিভক্তি স্পষ্ট। নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার লড়াইয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এনসিপিও রাজনীতিতে তৎপর হয়েছে নিজস্ব বক্তব্য নিয়ে।

    বিএনপি ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে চলতি বছরের শুরুতে। প্রথম বৈঠক হয় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে। এরপর আরেকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হলেও পরে আর এ নিয়ে খুব একটা এগোয়নি দলটি। তবে কয়েকমাস পর আবারও তৎপর হয়েছে বিএনপি। মূলত: ডিসেম্বরে নির্বাচন আদায়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ার পরই বিএনপি ছোট দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করেছে।

    বিএনপি একের পর এক বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। যেটাকে অনেকেই বলছেন, একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ। যদিও বিএনপি এখনই সেটা বলছে না।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এটা কোন জোটের রূপ না। আমরা চাচ্ছি জনগনের কাছে যাওয়ার জন্য। নির্বাচন নিয়ে জনগনের যে দাবি, সেটা নিয়েই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। এই দাবিকে অন্য দলগুলোও সমর্থন করছে। আমরা আলাপ করে দেখছি যে, সব পলিটিক্যাল পার্টিই এখন জরুরি ভিত্তিতে একটা নির্বাচন চায়। আমরা আলোচনা করে সবার মতামত নিয়ে তারপর নির্বাচনের জন্য যা করা প্রয়োজন তা-ই করবো।

    ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিএনপির দাবির পক্ষে অন্য দলগুলোও রয়েছে, দলটি এমুহুর্তে সেটাই দেখাতে চাইছে। তারা একটা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখাতে বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে।

    বিএনপির সঙ্গে কারা আছে?
    বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে অতীতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের মতো দলগুলো। এর বাইরেও বিভিন্ন দলকে কাছে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে এসব বৈঠক শেষে ডিসেম্বরে যেন নির্বাচন হয়, সেই দাবিতে প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চিন্তা রয়েছে।

    কিন্তু সেটা কি জোটগতভাবে হবে নাকি আলাদা- এমন প্রশ্নে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জোটগত আন্দোলনের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তাছাড়া দাবি আদায়ে ‘আন্দোলনের দিকেই যেতে হবে’ এমনটাও মনে করছেন না তারা। এখানে পরিস্থিতিই সব বলে দেবে। তবে আমরা আশা করি, আন্দোলনের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।

    বিএনপির সঙ্গে বাম ও অন্যান্য দলের বৃহৎ কোনো জোট আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাব পেতে বা জোটের বিষয়টা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সাইফুল হক বলেন, অতীতে তো আমরা একসঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। তখন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটা ঐক্য তৈরি হয়েছিলো। হয়তো নির্বাচনী বোঝা-পড়া-সমঝোতার মধ্য দিয়ে তার একটা বহি:প্রকাশ ভবিষ্যতে হবে। তবে এটা কি যুক্তফ্রন্ট হবে, নাকি জোট হবে, নাকি নির্বাচনী জোট হবে, সেটা বোঝার জন্য আরও কিছুদিন দেখতে হবে।

    অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সব দল মিলে প্রয়োজনে আন্দোলন হবে। কিন্তু সেটার জন্য আলাদা জোট করার এখনই কোনও প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। এর আগে আমরা বড় আন্দোলন করেছি। তখন তো জোট করিনি। সমমনা দল নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। তো এখানে যুগপৎ আন্দোলন হতেই পারে। তবে আমি মনে করি আন্দোলনে যাওয়ার আগেই এই সরকার একটা নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একজন ‘নন্দিত ব্যক্তি’। উনি নিশ্চয়ই চাইবেন না ‘নিন্দিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে।

    আসন ভাগাভাগির জোট করতে চায় জামায়াত
    জামায়াত বিভিন্ন দলকে নিয়ে ঐক্য করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে মূলত: ৫ই অগাস্টের পর। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ক্বওমী মাদরাসা কেন্দ্রিক বিভিন্ন দল আছে এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায়। তবে এই জোট এখনই আত্মপ্রকাশ করবে না।

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জোট গঠনের প্রাথমিক আলাপ তারা এগিয়ে রেখেছেন। আমাদের প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা আবারও বসবো। এখনও ভেতরে ভেতরে বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। এই জোট চূড়ান্ত রূপ নেবে যখন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষিত হবে। তখন হয়তো পরিস্কার হবে সবকিছু।

    জামায়াত অবশ্য বলছে, ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হলেও সেখানে নির্বাচন কবে হবে, সংস্কার কী হবে -এ ধরণের কোনও বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন না। জোট দুই ধরনের হয়। একটা হয় আন্দোলনের, আরেকটা হয় নির্বাচনের। আমরা নির্বাচনী জোট করতে চাই। ইসলামী দলগুলো সকলেই এটা বলছে যে, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিভিন্ন আসনে ইসলামী দলগুলো থেকে একক প্রার্থী রাখবো। ইসলামী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী যেন না থাকে। এই আলোচনাই চলছে। সুতরাং এই জোট যখন হবে, সেটা নির্বাচন কেন্দ্রীক হবে।

    এনসিপি কি আলাদা জোট করছে?
    জামায়াত-বিএনপি যখন রাজনীতিতে আলাদা বলয় তৈরির চেষ্টা করছে, তখন নতুন দল এনসিপি কোন দিকে ঝুঁকবে? তারা অবশ্য বলছে, তারা কোনো জোটের দিকে ঝুঁকছে না। কিন্তু দলটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমে সন্দেহ বাড়ছে। গত রোববার এনসিপির নেতাদের বৈঠক করতে দেখা গেছে খেলাফত মজলিসের নেতাদের সঙ্গে। এর আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গেই আলোচনায় বসেছিলো জাতীয় নাগরিক পার্টি -এনসিপি।

    এনসিপির এভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের ফলে এই প্রশ্ন উঠছে যে, দলটি কি তাহলে নিজেরাই আলাদা কোনো জোট গঠন করছে? জানতে চাইলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও কোন জোটের কথা অস্বীকার করেন।

    তিনি বলেন, এনসিপি নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো রাজনৈতিক জোটের কথা ভাবছে না। এনসিপির এখনকার অ্যাজেন্ডা হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন। এই বিষয়গুলো আমরা সামনে আনতে চাই, জনগনের কাছে যেতে চাই। আমাদের দল এবং বক্তব্যকে জনগনের কাছে পরিচিতি করানোই এখন মুখ্য।”

    তাহলে অন্য দলের সঙ্গে বৈঠক কী কারণে, এমন প্রশ্নে অনেকটা বিএনপির মতোই কৌশল দেখা যাচ্ছে এনসিপিতেও। অর্থাৎ দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এনসিপি তাদের দাবির সমর্থনে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

    নাহিদ ইসলাম বলছেন, নির্বাচনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলোও যেন সামনে আসে আমরা সেটা চাই। সংস্কার এবং গণপিরষদ নির্বাচন নিয়ে এবং ফ্যাসিবাদি শক্তি আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে আমরা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনিসিপি -তিনটি দলই ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছে। তবে এই কার্যক্রমে দলগুলো আবার সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলছে একে অপরকে। ফলে কে কার পক্ষে তা নিয়ে একধরনের প্রচ্ছন্ন লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দলগুলোর মধ্যে। কিন্তু জোট নিয়ে এটাই শেষ কথা নয়। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দল, ব্যক্তিগত লাভের হিসাব আর এমপি হওয়ার নিশ্চয়তা কোন দলে গেলে বেশি থাকবে, এসবের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে কোন দল কোন জোটে থাকছে।


    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • বাবার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    বাবার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারি তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পিতা বিল্লাল হোসেন।

    বুধবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মেসার্স ইসরাত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি লাইসেন্সের ছবি পোস্ট করেছেন এ সাংবাদিক। তার পোস্টের পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    তবে ইতোমধ্যেই আসিফ মাহমুদের পিতা বিল্লাল হোসেনের লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা নিজেই। এছাড়াও তার বাবার এই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রিয় ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    প্রথমেই আমার বাবার ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

    গতকাল রাত ৯ টার দিকে একজন সাংবাদিক কল দিয়ে আমার বাবার নামে ইস্যুকৃত ঠিকাদারি লাইসেন্সের বিষয়ে জানতে চাইলেন। বাবার সাথে কথা বলে নিশ্চিত হলাম তিনি জেলা পর্যায়ের (জেলা নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার এর কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত) একটি লাইসেন্স করেছেন। বিষয়টি উক্ত সাংবাদিককে নিশ্চিত করলাম। তিনি পোস্ট করলেন, নিউজও হলো গণমাধ্যমে। নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তাই ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজনবোধ করলাম।

    আমার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভুঁইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় একজন ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে বাবার পরিচয় ব্যবহার করার জন্য বাবাকে লাইসেন্স করার পরামর্শ দেন। বাবাও তার কথায় জেলা নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার থেকে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করেন। রাষ্ট্রের যেকোন ব্যক্তি ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে যেকোন লাইসেন্স করতেই পারে। তবে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় বাবার ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়ানো স্পষ্টভাবেই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। বিষয়টি বোঝানোর পর আজ বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে।

    বাবা হয়তো কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের বিষয়টি বুঝতে পারেন নি, সেজন্য বাবার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

    উল্লেখ্, মধ্যবর্তী সময়ে উক্ত লাইসেন্স ব্যবহার করে কোন কাজের জন্য আবেদন করা হয়নি।

  • এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিনকে অব্যাহতি

    এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিনকে অব্যাহতি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দলটি।

    সোমবার জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ১১ মার্চ জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আপনার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক নিয়োগে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর পাঠ্যবই ছাপার কাগজে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে আগামী সাতদিনের মধ্যে লিখিতভাবে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করতে এবং আপনাকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর জন্য আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন নির্দেশ দিয়েছেন।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রদত্ত পূর্ববর্তী মৌখিক সতর্কতা অমান্যের পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত আপনাকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

    চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব এবং শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানকে।

  • নতুন দলের নিবন্ধনে সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি এনসিপির

    নতুন দলের নিবন্ধনে সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি এনসিপির

    নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি ও নির্বাচন কমিশনের গঠনমূলক সংস্কারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে দলটি এ দাবি জানায়।

    চিঠিতে এনসিপির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আইন সরকারের প্রভাবমুক্ত নয় এবং অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার কমিশনকে ব্যবহার করে সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকারের অনুপস্থিতি এবং ভোট ডাকাতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

    এনসিপি আরও বলেছে, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তাবলি এখন অতিমাত্রায় কঠোর ও ব্যয়বহুল। শতভাগ উপজেলা কমিটির ছবি ও ভোটার তথ্য দাখিলের শর্ত নতুন দলগুলোর জন্য বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এ কারণে, দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো এবং সহজিকৃত প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানায়।

    চিঠিতে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আইন ও বিধিমালার পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • ডেসটিনির রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে নতুন দল ‘আ-আম জনতা পার্টি’

    ডেসটিনির রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে নতুন দল ‘আ-আম জনতা পার্টি’

    ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি দলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন। এছাড়া সদস্যসচিব হয়েছেন গণধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা দলটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য ফাতিমা তাসনিম।

    বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত শেরাটন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে দলটি।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রফিকুল আমীন। এ সময় তিনি এই দলের নাম ঘোষণা করেন।

    ডেসটিনি গ্রুপ ছাড়াও মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক। অর্থ পাচার ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা দুটি মামলায় দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি কারামুক্তি পান।

    অন্যদিকে গত রোববার ফাতিমা তাসনিম গণঅধিকার পরিষদ থেকে উচ্চতর পরিষদের সদস্য থেকে পদত্যাগ করেন।

  • শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ শুরু করলে নিতে পারবেন না : হাসনাত আব্দুল্লাহ

    শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ শুরু করলে নিতে পারবেন না : হাসনাত আব্দুল্লাহ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমি শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ শুরু করলে নিতে পারবেন না। সাবধান হয়ে যান।

    মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, যেদিন থেকে আমাদের আওয়ামী বিরোধী অবস্থান এবং কম্প্রোমাইজের রাজনীতির বিরোধিতাকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের মিছিল বড় হতে শুরু করেছে।

    তিনি আরো বলেন, যারা কম্প্রোমাইজের রাজনীতি করছেন, তাদের সতর্ক করছি— অতি শিগগিরই আওয়ামী লীগ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসুন। না হলে আপনারা করবেন কম্প্রোমাইজের রাজনীতি, আর আমি করব শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ। আমি শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ শুরু করলে নিতে পারবেন না। সাবধান হয়ে যান।