Category: রাজকাহন

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক রাব্বীকে অব্যাহতি

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক রাব্বীকে অব্যাহতি

    নৈতিক স্খলনের দায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২০ মে) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য (দপ্তর সেল) মারজিউর রহমানের পাঠানো এক জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    নোটিশে বলা হয়, নৈতিক স্খলনের দায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানা শাখার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    এর আগে সোমবার (১৯ মে) রাতে প্রকাশনা সংস্থা হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিক গোলাম মোস্তফার ধানমন্ডির বাসায় ঢোকার চেষ্টা ও পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ তিনজনকে আটক করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

    এ সময় পুলিশের সঙ্গে রাব্বির অশোভনীয় আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয় রাব্বিসহ অপর দুজনকে।

  • নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার জুলাই গণহত্যার বিচারকে প্রহসনে পরিণত করেছে: এনসিপি

    নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার জুলাই গণহত্যার বিচারকে প্রহসনে পরিণত করেছে: এনসিপি

    হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেফতার জুলাই গণহত্যার বিচারকে প্রহসনে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)।

    সোমবার (১৯ মে) রাতে পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব (দফতর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা হয়।

    এতে বলা হয়েছে, ভাটারা থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করে, এ ধরনের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করছে।

    অথচ জুলাই অভ্যুত্থানে হামলা ও গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ চলতি মাসেই কোনও বাধাবিপত্তি ছাড়াই দেশত্যাগ করেছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রিত ৬২৬ জন ব্যক্তির পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি। উপরন্তু, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত পতিত ফ্যাসিবাদী ও এর সমর্থকরা এখনও জনপরিসরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দেশের নাগরিকবিরোধী অপতৎপরতা জারি রেখেছেন।

    এতে জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িতদের আইনের আওতায় না এনে এ ধরনের লোক দেখানো ও ঢালাওভাবে আসামি করা মামলায় গ্রেফতার ও জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে লঘু করে দেখানোর প্রবণতা সৃষ্টি করছে।

    আমরা মনে করি, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো ও প্রশাসনের মধ্যে থাকা একটি পক্ষ এ ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘জুলাই গণহত্যা’ এবং এর বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। অথচ এখন পর্যন্ত এ গণহত্যার বিচারে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

    বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখন পর্যন্ত এর বাস্তবায়নকল্পে আমরা কোনও প্রজ্ঞাপন দেখতে পাইনি।

    আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সে লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    এছাড়া, ঢালাওভাবে মামলা এবং বাণিজ্যের বিষয়টিকে আমলে নিয়ে মামলা গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানায় এনসিপি।

  • সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে ঢাবি ছাত্রদলের মশাল মিছিল

    সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে ঢাবি ছাত্রদলের মশাল মিছিল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ছাত্রদল। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিও তোলা হয় মিছিলে। 

    সোমবার (১৯ মে) রাত ৮টার দিকে ঢাবি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে এ মশাল মিছিল শুরু হয়। এসময় ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘খুনি কেন বাইরে, প্রশাসন কী করে’, ‘আমার ভাই মরল কেন, শাহবাগ থানা জবাব চাই’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

    এর আগে গতকাল রবিবার সাম্য হত্যার বিচার চেয়ে শাহবাগ অবরোধ করে ছাত্রদল। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা বাধ্য হয়েছি আমাদের কর্মসূচি শাহবাগে স্থানান্তর করার জন্য। ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সরকারের কারও কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাইনি।

    তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো তাদের দায় শিকার করেনি। আর নিরাপত্তার গাফিলতি রয়েছে, তা স্বীকার করছে না। তারা আজকের দিন পর্যন্ত আমাদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। তারা সাম্যের হত্যার বিচার করবে কিনা। তাই আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মসূচির সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।

    গত ১৩ মে রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে আহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় পরদিন বুধবার সকালে নিহতের বড় ভাই শরীফুল আলম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

    সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।

  • ভারতীয় আধিপত্য-ধর্মীয় উগ্রতাসহ ৭ বিষয়ে এনসিপির স্পষ্ট অবস্থান

    ভারতীয় আধিপত্য-ধর্মীয় উগ্রতাসহ ৭ বিষয়ে এনসিপির স্পষ্ট অবস্থান

    বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে মুক্তি পেতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্র কাঠামোর পূর্ণ সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মোড়কে একটি দলীয় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এনসিপির প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য হচ্ছে সেই ফ্যাসিবাদ ভেঙে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।”

    রোববার (১৯ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির পাঠানো এক বিবৃতিতে ৭ বিষয়ে রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “এই রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে হলে শুধু নীতির বদল নয়, প্রয়োজন নতুন সংবিধান। আমরা যে সংবিধান চাই, তা হবে বৈষম্যহীন ইনসাফ, নাগরিক মর্যাদা ও সাম্যভিত্তিক।

    এনসিপির মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। তবে আমরা শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল নয়, বরং তার আদর্শ—সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাকে ধারণ করি। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং বাংলার উপনিবেশবিরোধী ও ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকেও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে মূল্যায়ন করি।”

    • ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির রাজনৈতিক রূপরেখা
      এনসিপির দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ধর্ম রাষ্ট্রের হাতিয়ার নয়, বরং নাগরিকদের আত্মিক অনুভবের বিষয়। নাহিদ বলেন, আমরা ধর্মীয় উগ্রতা ও ইসলামবিদ্বেষ উভয়ের বিরোধিতা করি। এনসিপি ইসলামসহ সব ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও আন্ত সম্প্রীতির নীতিতে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম। এর নৈতিকতা, মানবিকতা এবং বাঙালি মুসলমানের ভাষা-সংস্কৃতি ও জীবনচর্চাকে এনসিপি মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি আমরা সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
    • জাতীয় পরিচয়ের নতুন সংজ্ঞা
      নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জাতি, ধর্ম বা গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে বঙ্গীয় বদ্বীপের সভ্যতাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। এনসিপির জাতীয়তাবাদ হবে বহুস্বর, বহুভাষা ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত।”
    • নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন
      নারীর অধিকারের প্রশ্নে এনসিপি বরাবরই সরব। ঘোষণায় বলা হয়, নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে এনসিপি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে। পারিবারিক আইনের আওতায় সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নেও দলটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
    • আঞ্চলিক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি
      দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ভূরাজনৈতিক আধিপত্য এবং হিন্দুত্ববাদের প্রসঙ্গে এনসিপির অবস্থান অত্যন্ত কড়া। নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশের জন্য সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তাগত হুমকি। এনসিপি এই আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেবে। বাংলাদেশের উচিত ন্যায্যতা, মর্যাদা, সভ্যতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা।
    • অর্থনীতি ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি
      এনসিপি একটি ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পক্ষে। দলটির দৃষ্টিতে শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু, নগর ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান— এসবই রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে থাকা উচিত। ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে ঘিরে একটি নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোন গঠনের ভিশনও রয়েছে এনসিপির। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময় আমাদের কল্পনা করতে হবে একটি নতুন রাষ্ট্র, একটি নতুন সমাজ, যেখানে মানুষ মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবে। সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এনসিপি একটি কাঠামোগত পালাবদলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
  • এনসিপি ধর্মীয় উগ্রতা বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না: নাহিদ

    এনসিপি ধর্মীয় উগ্রতা বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না: নাহিদ

    এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) ইসলামবিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে এবং ধর্মীয় উগ্রতা বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেছেন, “এনসিপি ইসলামবিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে। ধর্মীয় উগ্রতা বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না। এনসিপি সেক্যুলারিস্ট বা ধর্মতান্ত্রিক- কোনো মতবাদকেই আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং ধর্মীয় সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও দায়-দরদ অনুশীলনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়াই এনসিপির লক্ষ্য।”

    সোমবার (১৯ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে “কয়েকটি বিষয়ে এনসিপির দৃষ্টিভঙ্গি” শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে ৭টি পয়েন্টে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

    নাহিদ ইসলামের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    “কয়েকটি বিষয়ে এনসিপির দৃষ্টিভঙ্গি-

    ১. বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদার আদর্শ এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই এনসিপির পথচলা। এছাড়াও আমরা বাংলার হিন্দু-মুসলমান-দলিতের উপনিবেশবিরোধী ও ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করি।

    ২. এনসিপি নাগরিকের ধর্মবিশ্বাস ও আত্মিক অনুভবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম- তার নৈতিকতা ও মানবিকতা এবং বাঙালি মুসলমানের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনচর্চাকে এনসিপি মূল্যায়ন করে। সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এনসিপি। এনসিপি মনে করে রাষ্ট্রের উচিত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অখণ্ডতা রক্ষা করা। এনসিপি ইসলামবিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে এবং ধর্মীয় উগ্রতা বা চরমপন্থাকে সমর্থন করে না। এনসিপি সেকুলারিস্ট বা ধর্মতান্ত্রিক (থিওক্রেটিক)- কোনো মতবাদকেই আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং ধর্মীয় সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও দায়-দরদ অনুশীলনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়াই এনসিপির লক্ষ্য।

    ৩. এনসিপি জাতি, ধর্ম বা গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের পরিবর্তে সভ্যতাগত জাতীয় পরিচয় ধারণ করে। বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র বঙ্গীয় বদ্বীপের সভ্যতাগত পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলবে এনসিপি।

    ৪. নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন এনসিপির অন্যতম মূলনীতি। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নেতৃত্ব ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে এনসিপি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পারিবারিক আইনের আওতায় সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে এনসিপি কাজ করবে।

    ৫. দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও ভূরাজনৈতিক হুমকি। এনসিপি এই আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করবে। এনসিপি মনে করে বাংলাদেশের উচিত ন্যায্যতা, মর্যাদা, সভ্যতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।

    ৬. এনসিপি বৈষম্যহীন ইনসাফভিত্তিক দূর্নীতিমুক্ত একটি আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুরুপ হবে। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু, নগর ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান হবে এনসিপির প্রধান নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্র। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোন তৈরির ভিশনও আছে এনসিপির।

    ৭. এনসিপি বিশ্বাস করে, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা এনসিপির প্রধানতম রাজনৈতিক কর্তব্য। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য প্রথম ধাপটি হচ্ছে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন।”

  • রংপুরে বৈষম্যবিরোধী শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ এনে ১৬ নেতার পদত্যাগ

    রংপুরে বৈষম্যবিরোধী শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ এনে ১৬ নেতার পদত্যাগ

    কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির ১৬ নেতা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

    রোববার (১৮ মে) রাত আটটায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    এসময় তারা বলেন, রংপুর জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এবং তার সপক্ষে পাওয়া প্রমাণ আমাদের আন্দোলনের মূল চেতনা ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এ গুটিকয়েক নেতার অপকর্মের দায় আমরা যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছি তাদের ওপরও বর্তায়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপমানজনক। এর আগে গত ১৫ মে নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করেন জেলা কমিটির আরেক সদস্য মাহমুদুর রহমান লিওন।

  • দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়ল ছাত্রদল

    দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়ল ছাত্রদল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদ এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সেখান থেকে সরে গেছেন দলটির নেতকর্মীরা। ফলে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে ওই এলাকার যান চলাচল।

    রোববার (১৮ মে) বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিলেন তারা। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম আজকের মতো কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল করে শাহবাগ থেকে চলে যান। তখন শাহবাগ মোড় দিয়ে আবার যান চলাচল শুরু হয়।

    এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে শাহরিয়ার হত্যার ‘প্রকৃত’ আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন। এছাড়া সকালে সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাম্যর সহপাঠী ও শিক্ষকরা। আল্টিমেটামের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা।

    সংহতি জানাতে উপস্থিত হন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ন্যায়বিচারের জন্য সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

    উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নিহত হন। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

    এ ঘটনায় গত বুধবার সকালে নিহত শাহরিয়ারের ভাই শরীফুল আলম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদেরকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত।

  • সমকামিতা-এলজিবিটি নিয়ে যা বললেন সারজিস আলম

    সমকামিতা-এলজিবিটি নিয়ে যা বললেন সারজিস আলম

    সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার এবং এলজিবিটি কিউ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম| তিনি বলেছেন, জঘন্য ও ধ্বংসাত্মক কালচারগুলো প্রমোট করা হলে সেই অপচেষ্টায় আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে হবে।

    রোববার (১৮ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম লেখেন, নারীদের অধিকার রক্ষায় যে কোনো যৌক্তিক দাবিতে সর্বাত্মক সমর্থন থাকবে। কিন্তু সেসবের আড়ালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যদি সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার কিংবা এলজিবিটি কিউ এর মত জঘন্য ও ধ্বংসাত্মক কালচারগুলোকে প্রমোট করা হয়, তবে সেই অপচেষ্টায় আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে হবে।

    তিনি লেখেন, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র ধ্বংস করার এই মরণব্যাধিগুলো যে-সব মানসিক বিকারগ্রস্তরা লালন ও প্রমোট করার চেষ্টা করছে তাদের মানসিক চিকিৎসা করানো হোক। কিন্তু তাদের প্রশ্রয়ের প্রশ্নই আসে না। এটা সেই ক্যান্সার যা ধীরে ধীরে আপনার ঘর থেকে শুরু করে জাতি পর্যন্ত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। সেই সুযোগ আমরা করে দিতে পারি না।

    তিনি আরও লেখেন, পতিতাবৃত্তির মত মর্মান্তিক নির্যাতন কখনো পেশা হতে পারে না বরং যারা বাধ্য হয়ে কিংবা ফাঁদে পড়ে এই পেশার সঙ্গে ইতোমধ্যে সম্পৃক্ত হয়েছে, তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন করা হোক।

  • শাহবাগে ছাত্রদলের অবরোধ

    শাহবাগে ছাত্রদলের অবরোধ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদে ও মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ছাত্রদল।

    রোববার (১৮ মে) বিকেল ৪টার দিকে তারা শাহবাগ অবরোধ করেন।

    শাহবাগ অবরোধ করে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।

    এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে শাহরিয়ার হত্যার ‘প্রকৃত’ আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন। এছাড়া সকালে সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাম্যর সহপাঠী ও শিক্ষকরা। আল্টিমেটামের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা।

    সংহতি জানাতে উপস্থিত হন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ন্যায়বিচারের জন্য সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

    এছাড়া অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসময় শিক্ষকরা ডাকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    সাম্য হত্যার ঘটনায় কালো পতাকা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এসময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেন ছাত্রদল নেতারা। আর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

    গত মঙ্গলবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নিহত হন। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

    এ ঘটনায় গত বুধবার সকালে নিহত শাহরিয়ারের ভাই শরীফুল আলম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদেরকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত।

  • পরিবারসহ এনসিপি নেতা আখতারকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

    পরিবারসহ এনসিপি নেতা আখতারকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

    পরিবার-পরিজনসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি ) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ মে) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ডাকযোগে আমার গ্রামের বাড়িতে বুলেট নামে এক ব্যক্তি চিঠি পাঠিয়েছেন। আমার পরিবার-পরিজনকে খুন করার হুমকি দিয়েছে। চিঠির প্রেরকের ছদ্মনাম ‘বুলেট’।

    তবে শুক্রবার (১৬ মে) ডাকযোগে তার গ্রামের বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে এ হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডাকযোগে চিঠিটি পান এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের বড় ভাই আরিফ হোসেন। আখতার হোসেনের গ্রামের বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়।

    পোস্টে আখতার উল্লেখ করেন তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরও লিখেছেন চিঠিটি তার বড় পাই পাওয়ার পর থেকে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। যেখানে পাবে সেখানে খুন ও ঝামেলায় ফেলা হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোনাস লাইফ লিড করতেছি। মৃত্যু কয়েকবার কাছে এসে ফিরে গেছে। মরতে হবে জেনেও প্রতিবাদে পিছপা হইনি, কখনও হবো না। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ভরসা।

    বিষয়টি জানতে কথা হয় আখতার হোসেনের বড় ভাই আরিফ হোসেন জানান, আখতারসহ পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

    চিঠিতে লিখেছে, ‘আমাদের গ্রহণ যোগ্যতা নেই, তাই যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। আরিফ হোসেন জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।