Category: রাজকাহন

  • মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর ‘হামলা’, আহত ৫

    মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর ‘হামলা’, আহত ৫

    জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মাদারীপুরে হতাহতদের বাড়িতে মৌসুমি ফল বিতরণ শেষে ফেরার পথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

    মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোপালগঞ্জ জেলার ছাগলছিড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা হলেন মাদারীপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর ইসলাম (২৩) ও কিরণ আক্তার (২৬)। এছাড়াও আহত হয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক দিয়া ইসলাম, মিথিলা ফারজানা।

    দিয়া ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে রাজৈর উপজেলায় নিহত ও আহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিবারের সঙ্গে আমরা ঈদ উপলক্ষে সাক্ষাৎ ও মৌসুমি ফলমূল বিতরণ করে ফিরছিলাম। ফেরার পথে আমরা একটি রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়ালে মিজান পরিবহনের কয়েকজন আমাদের দেখে কটূক্তি করে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে মিজান পরিবহন গাড়ির স্টাফদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর পরিবহনের স্টাফ ও স্থানীয় রেস্টুরেন্টে কর্মীরা মিলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা নারী সদস্যরাও মারধরের শিকার হয়েছি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

    পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরে ফেরার সময় ছাত্রনেতাদের বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি রাজৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোপালগঞ্জ জেলার ছাগলছিড়া এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে বিরতি জন্য থামে। এসময় মিজান পরিবহনের কর্মীরা ছাত্রদের তাদের দেখে কটূক্তি করে। এর প্রতিবাদ করতে ওই বাসে ওঠেন কয়েকজন ছাত্র। এরপর বাসের কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে বাসের শ্রমিক ও বরিশাল গেট হোটেলের কর্মীরা মিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে সাধারণ জনগণ এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

    হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, ‘দুজন ছাত্রনেতা গুরতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও কয়েকজন মারধরের শিকার হয়েছে।’ তবে সবাই শঙ্কামুক্ত বলেও জানান অখিল সরকার।

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ‘ইউনূস-টিউলিপ সাক্ষাৎ হলে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে’

    ‘ইউনূস-টিউলিপ সাক্ষাৎ হলে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছাত্র-জনতার খুন এবং এ দেশের মানুষের অর্থ পাচারে জড়িত টিউলিপ সিদ্দিকের সাক্ষাৎ হলে সেটি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।

    সোমবার (৯ জুন) বিকলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের পর্যটনকেন্দ্র কমলার দীঘির পাড়ে মেঘনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া কলেজের সাবেক শিক্ষক মফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময় অনেক শাসকের পরিবর্তন হয়েছে। তার মধ্যে কেবল মেজর জিয়া (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) এ দেশের প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছেন। ভারতের আগ্রাসী মনোভাব আমাদের মেজর জিয়াকে বাঁচতে দেয়নি। শেখ হাসিনার পতন এ দেশে শুধু আওয়ামী লীগের পতন নয়, শেখ হাসিনার পতন মানে এ দেশে ভারতীয় আধিপত্যের পতন।’

    ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজার জন জীবন দিয়েছেন শুধু নির্বাচনের জন্য নয়—এমন মন্তব্য করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আপনারা নির্বাচন নির্বাচন করছেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। এ দেশে নির্বাচন হবে, তবে তার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।’

    হাতিয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির নেতা হান্নান মাসউদ বলেন, ‘অনেকে আমার কাছে জানতে চান, আমি জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করেও কেন হাতিয়া নিয়ে ভাবছি। আমি তাঁদের বলি, হাতিয়ার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ভাগাভাগি করতে হাতিয়া যাচ্ছি। দীর্ঘ সময় থেকে হাতিয়া সন্ত্রাসের আখড়ায় রূপ নিয়েছিল। সেই সন্ত্রাসের আখড়া থেকে হাতিয়াকে বসবাসযোগ্য হাতিয়ায় রূপ দেওয়ার জন্য আমি হাতিয়া নিয়ে ভাবছি।’

  • বাংলাদেশে আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই : এনসিপি নেতা

    বাংলাদেশে আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই : এনসিপি নেতা

    ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছি। বিগত ১৬-১৭ বছর কেউ এ নেতৃত্ব দিতে পারেনি। এটি একটি রাজনৈতিক বিপ্লব। কেউ যদি বলে যে শিক্ষার্থীরা তাদের কাজ শেষ করেছে, তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাক। আমরা বলব, ১৬ বছরের একজন মাফিয়াকে হটাতে পারছি। আমাদের বুঝ দিয়ে আবার যদি কেউ মাফিয়া হয়ে উঠতে চায়; আমরা তাদের বলব, এখন বাংলাদেশে যদি বড় মাফিয়া থাকে, আমরাই হচ্ছি বড় মাফিয়া। আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই।’

    সোমবার (৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও বেসরকারি কারা পরিদর্শক জোবাইরুল আলম মানিক। তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করলে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ে।

    বক্তব্যে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘কেউ যদি আবার জাবেদ হতে চায় (সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী), আমাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়, তাহলে আমরা আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের মতো শহীদ হয়ে তাদের রুখে দেব। সংখ্যা চিন্তা করার দরকার নেই। ১৮ জুলাই আমরা ২০-২৫ জন শাহ আমানত সেতু ব্লক করি। এমন কমসংখ্যক ছাত্র–জনতা নিয়ে যদি আমরা আনোয়ারা-কর্ণফুলী থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারি তাহলে এখন কেন পারব না।

    এনসিপি নেতা জোবাইরুল আলম বলেন, ‘কেউ কেউ ভালোবেসে যখন জুলাই–যোদ্ধা বলে, তখন আমরা অনুপ্রাণিত হই। তাই তখন দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। আপনারা হীনম্মন্যতা রাখবেন না। আমরা যারা এখানে আছি, এখান থেকে চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র হবে।’

    এম ইউ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণ-অভ্যুত্থানে আহত মো. জাবেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদুল আলম, এনসিপি নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • জুলাই সনদ ঘোষণা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে : হাসনাত

    জুলাই সনদ ঘোষণা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে : হাসনাত

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা করা নির্বাচনের সময়কে ‘ইতিবাচক’ বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ ঘোষণা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

    শনিবার (৭ জুন) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিজ এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বারে জুলাই শহীদদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এপ্রিলে যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন, তা ইতিবাচক। তবে, তার আগে জুলাই সনদ এবং ঘোষণাপত্র অবশ্যই দিতে হবে। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধের যে কোনো দিন অনুষ্ঠিত হবে।

    জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য তিনটি গরু কোরবানি করেন এনপিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরে বৃষ্টির মধ্যে শহীদ রুবেল ও সাব্বিরের পরিবারের জন্য কোরবানির মাংস নিয়ে যান তিনি। এসময় তিনি শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেন।

    হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা দেশ গড়ার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাই দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের আছে। দেশ করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

  • এনসিপিতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা সাম্যর ভাই সাগর

    এনসিপিতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা সাম্যর ভাই সাগর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নিহত নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যর বড় ভাই সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। সাগর নিজেও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

    ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বহিষ্কার হন সাগর। তবে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে সাগরকে সংগঠনে ফিরিয়ে নেয় ছাত্রদল।

    রোববার গঠিত এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর সমন্বয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে তাকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্য গত ১৩ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি এবং প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে টানা এক সপ্তাহ শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করে। সাম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সর্বাত্মক অংশ নেন। সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল আমিরুল ইসলাম সাগরেরও।

    এনসিপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে সাগর বলেন, ‘২০১৯ সালে ছাত্র রাজনীতি ছাড়ার পর থেকে আর কিছুতে ছিলাম না। জিয়াউর রহমানের আদর্শের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমার বাবাও ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ছিলেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করার প্রচেষ্টা হিসেবেই এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।’

  • ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান দেখতে চাই: সারজিস

    ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান দেখতে চাই: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা এখনো যথেষ্ট সম্মানের জায়গায় রাখি। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তাদেরও স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই।’

    রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সারজিস আলম এ কথা বলেন। জি এম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগরের পায়রা চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ও জেলার আহ্বায়ক ইমরান আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন সেনাসদস্যরা। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে যান সারজিস আলম। সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর রাত দুইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়েন তিনি।

    এরপর আজ সন্ধ্যায় ‘রংপুর ও আওয়ামী লীগের B Team জাতীয় পার্টি ইস্যু!’ শিরোনামে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সারজিস আলম। তিনি পোস্টে বলেন-

    ‘১. তিন দিন আগে রংপুরে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত অবৈধ নির্বাচনের একাধিকবারের অবৈধ মেয়র মোস্তফা আবার মেয়র পদে ফিরে আসার জন্য আওয়ামী লীগের পোষ্য বি টিম জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে রংপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে!

    ২. আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করে সাময়িক বিরোধিতার ভান ধরে বিরোধী দলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে জাতীয় পার্টি। এমনকি বিএনপি-জামায়াত যখন প্রহসনের অবৈধ নির্বাচন থেকে দূরে থেকেছে, হাজারো অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছে, তখন এই জাতীয় পার্টি বিরোধী দল সেজে আওয়ামী লীগকে সরকারি দলের বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে! সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে!

    ৩. দুই দিন আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুরে গিয়ে আবার স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা শুরু করেছে!

    ৪. অতঃপর যখন রংপুরের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য একসঙ্গে জি এম কাদের ও জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অহিংস বিক্ষোভ মিছিল করে, তখন জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা সেই বিক্ষোভ মিছিলে প্রথম হামলা চালায়!

    এরপর জি এম কাদেরের বাড়িতে একটি বাইক পোড়ানোর ঘটনা দেখা যায়। এই বাইক পোড়ানোর মব বা ভ্যান্ডালিজমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রংপুরে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টদের খুঁজতে ৯ মাসের সর্বোচ্চ বড় অপারেশনের জন্য মাঠে নামে! মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগরের বৈষম্যবিরোধীর আহ্বায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হতেই পারে, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যে ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনাগুলোর কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না খুঁজে সর্বশেষ বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো শুরু হয়।

    জি এম কাদেরের বাড়ির পুরোনো বাইক আর সামান্য আগুন নিয়ে যাদের এত চিন্তা, তারা বিগত ৯ মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী–খুনিদের ধরতে কয়টা অভিযান চালিয়েছে? কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে? যে মোস্তফা একাধিক অবৈধ নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে রংপুরে লুটপাট চালিয়েছেন, কোটি টাকা দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে, সিটি করপোরেশনকে ডাকাতির ক্ষেত্র বানিয়েছে, সেই মেয়র মোস্তফাকে ধরতে কযত দিন অপারেশন চালানো হয়েছে? ৯ মাসে রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী দখলদারদের থেকে জনগণের ন্যায্য সম্পদ-অর্থ উদ্ধারের জন্য কয়টি অভিযান চালানো হয়েছে?

    জাতীয় পার্টির যে সন্ত্রাসীরা অবৈধ মেয়র মোস্তফার নেতৃত্বে প্রথম ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালিয়েছে, যে জি এম কাদের এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বৈঠক করে পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছে, তাদের ধরতে কয়টি অভিযান চালানো হয়েছে? বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা এখনো যথেষ্ট সম্মানের জায়গায় রাখি। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তাদেরও স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা তাদেরই বি টিম জাতীয় পার্টিরূপে ফিরে আসার চেষ্টা করলে সেই চেষ্টাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করা হবে।’

  • পদ হারানোর গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি

    পদ হারানোর গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি

    পদ হারানোর গুঞ্জন ছড়ানোর দুদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তবে ঝেড়ে কাশলেন না, অর্থাৎ পরিষ্কার করে কিছু বললেন না। জিউয়ে রাখলেন রহস্য। আর বললেন, যে খবর ছড়ানো হয়েছে তা ‘প্রোপাগাণ্ডা’।

    রোববার (১ জুন) নিজের পদ হারানোর গুঞ্জন নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাকিব।

    ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ছাত্রদলের ভালো একটা নিউজ থাকে কিংবা বিগত সময়ের ভালো কিছু থাকে, সেগুলো কিন্তু আমরা সংবাদ মাধ্যমে খুব একটা দেখতে পাই না। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্রদলের কত ভূমিকা, সেগুলো কখনো সংবাদমাধ্যমে স্থান পায় না। কিন্তু একটা প্রপাগাণ্ডাকে ইস্যু করে নিউজ হয়ে যায়।’

    রাকিবের অভিযোগ, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছর যে ধরনের কালচার ছিল, সেই কালচার থেকে সংবাদমাধ্যম এখনো বের হতে পারেনি। সবাই না, অল্প কিছু সংবাদমাধ্যম রয়েছে। আমি আশা রাখব, অবশ্যই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি সতর্ক হবে এবং প্রপাগাণ্ডা-নির্ভর যে সংবাদ পরিবেশন, তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে।’

    এ সময় তারুণ্যের সমাবেশ অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘বৃষ্টিতে ভিজে আমি ওই রাতেই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে যাই। সে কারণে বেলা ১১টার প্রেস কনফারেন্স আমি মিস করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে যে কর্মসূচি ছিল, সে দুটি কর্মসূচি আমি মিস করি। পরবর্তীতে আমি পার্টিকে জানিয়েছি। আমি নিজে আমার সাধারণ সম্পাদকসহ আমার যে কলিগরা রয়েছে, তাদের কল দিয়ে বলেছি যে- আগামীকালের প্রগ্রামে আমি যাব না। আমি বিষয়টি পার্টিকেও জানিয়েছি। এটিকে ইস্যু করে পরে দেখলাম নিউজ করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একজন মানুষ তো অসুস্থ হতে পারে। আমি কি রোবট? আমি আমার রাজনীতির জীবনে বিগত সাড়ে ১৫ বছর বলেন কিংবা এই সময় আমি অসুস্থ হয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি চার বার প্রায় এক বছরের মতো জেল খেটেছি। কারাগারেও আমি অসুস্থ থাকতাম না। কিন্তু মানুষ তো অসুস্থ হতেই পারে। এটাকে ইস্যু করে নিউজ করা হয়, এতে আমি মর্মাহত হয়েছি এবং খুবই কষ্ট পেয়েছি।’

    রাকিব বলেন, ‘ছাত্রদলে কখনো কোনো বিভেদ ছিল না, আগামীতেও থাকবে না। আমরা আমাদের মতামতের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা করি। সেখানে ভিন্নমত আসতে পারে, একটা সিদ্ধান্তে ভিন্নমত আসতে পারে, একটা কর্মসূচিতে ভিন্ন পন্থা-পরামর্শ আসতে পারে। আমরা সেই আলোকে কর্মসূচিগুলো সাজাই। বিশেষ করে আমরা সুপার ফাইভ রয়েছি, আমরা শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছি, কেন্দ্রীয় সংসদ রয়েছে, আমরা সেই আলোকে কর্মসূচি প্রণয়ন করি। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তারা পরামর্শ দেবে। কিন্তু কখনো আজকের দিন পর্যন্ত আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘যে বা যারা এই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রপাগাণ্ডাকে ইস্যু করে নিউজ করে, ভেবেছে ছাত্রদলের মাঝে কোনো বিভেদ হয়েছে, উল্লসিত হয়েছে, তাদের উদ্দেশে বলছি, ছাত্রদলে কখনো বিভেদ ছিল না, আগামীতেও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।’

    এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাচিল উদ্দীন নাছিরও রোকিবুল ইসলামের পদ হারানোর গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগাণ্ডা’ হিসেবে দাঁগিয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, ‘যে খবর ছড়িয়েছে, তা শতভাগ ভুয়া।’

    মূলত ঘটনার সূত্রপাত তারুণ্যের সমাবেশকে কেন্দ্র করে। গত বুধবার (২৮ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত থেকেও ছাত্রদল সভাপতি রাকিব সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ।

    ওই ঘটনা ছাত্রদল ও বিএনপির ভেতরে রাকিবের প্রতি ক্ষোভকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। তারই জেরে তাকে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এও জানা যায়, রাকিবকে নিষ্ক্রিয় করে সিনিয়র সহসভাপতি আবু আহসান মোহাম্মদ আফসান ইয়াহিয়াকে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • ছাত্রনেত্রীকে লাথি মারা সেই কর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত

    ছাত্রনেত্রীকে লাথি মারা সেই কর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত

    চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে ছাত্রনেত্রীকে লাথি মারায় আকাশ চৌধুরীকে বহিষ্কার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত।

    অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার (৩০ মে) মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সই করা বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৮ মে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত দুটি সংগঠনের কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঘৃণিত দৃশ্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছাড়াই আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

    ‘সেদিন প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত দুটি সংগঠনের কর্মসূচি সম্পর্কে আমরা পূর্ব থেকে অবগত ছিলাম না। সুতরাং আমাদের কোনো স্তরের জনশক্তিকে সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সেদিন সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। অতএব, এই ঘটনার কোনো দায়দায়িত্ব জামায়াত বহন করবে না। সেদিনের অনভিপ্রেত ঘটনার দায় কেবলমাত্র সেখানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তায়।’

    চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আরও জানায়, আকাশ চৌধুরী নামের সংগঠনের একজন কর্মী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে উপস্থিত হয়ে যে কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে, তা চরমভাবে নিন্দনীয়। একটি সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী পরিচিত।

    ‘একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার পক্ষপাতী নই। তাই কেন্দ্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে আকাশ চৌধুরীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হলো।’

    উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আকাশ চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পৌরসভা এলাকার নেছার আহদের ছেলে। তিনি শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা।

  • ভুল স্বীকার করে রক্ষা পেলেন হান্নান মাসউদ

    ভুল স্বীকার করে রক্ষা পেলেন হান্নান মাসউদ

    রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটকে তিনজনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এ ঘটনায় এনসিপি মাসউদকে শোকজ করলে নিজের ভুলের স্বীকার করেছেন তিনি। ভুল স্বীকার করার পর হান্নান মাসউদকে করা কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) প্রত্যাহার করেছে এনসিপি।

    বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছিল। উল্লেখিত তিন কার্যদিবসের মধ্যে তিনি কারণ দর্শানো নোটিশের লিখিত ও মৌখিক জবাব ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ এর নিকট পেশ করেন। নোটিশে উল্লেখিত কর্মকাণ্ডে ভুল ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন এবং আগামীতে এই ধরণের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এতে আরো বলা হয়েছে, থানায় আটককৃত ব্যক্তিদের কর্মকান্ডের সাথে ওনার সম্পৃক্ততা ছিলো না বলে প্রমাণসাপেক্ষে প্রতীয়মান হওয়ায় রাজনৈতিক পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার ওপর আরোপিত কারণ দর্শানো নোটিশ এতদ্বারা প্রত্যাহার করা হলো।

    রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় গত ১৯ মে রাতে এক ব্যবসায়ীর নামে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে ‘মব’ (বিশৃঙ্খলা) তৈরি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামধারী কয়েকজন তরুণ। তবে পুলিশ ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেনি। তারা মব তৈরি করা তিন তরুণকে থানায় নিয়ে যায়। এই তিন তরুণকে থানা থেকে নিজের জিম্মায় ছাড়িয়ে নেন আবদুল হান্নান মাসউদ। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা তৈরি হলে হান্নান মাসউদকে শোকজ করে এনসিপি।

  • এবার প্রকাশ্যে আসল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থা

    এবার প্রকাশ্যে আসল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থা

    এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।

    বুধবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানকে দেওয়া এক স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে শাখা সংগঠনটি।

    স্বারকলিপি জমা দেওয়ার সময় ঢাবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী, সেক্রেটারিসহ মোট সাত জন উপস্থিত ছিলেন। প্রথামিকভাবে সংগঠনটির সভানেত্রী ও সেক্রেটারির পরিচায় জানা গেছে।

    শাখা সংগঠনের সভানেত্রীর নাম সাবিকুন্নাহার তামান্না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ এবং কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক মোছা. আফসানা আক্তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তারা দুইজনেই ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    স্বারকলিপি জমা দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতন নি‌পীড়‌নের কার‌ণে দীর্ঘ‌দিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় নি‌র্দেশনার আ‌লো‌কে ক‌্যাম্পা‌সে আমরা কাজ শুরু করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এই সময়ের মা‌ঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংস্থার প্রাথমিক কাঠামো গঠন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে শাখা সভানেত্রী ও সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু করবো।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রী সংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্রী সংগঠন। ১৯৭৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের সংগঠন ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমের রয়েছে বিরাট ইতিহাস। অতী‌তে ছাত্রী সংস্থা ডাকসুতেও অংশগ্রহণ করে‌ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য কাজ করেছি।

    তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যা‌সিস্ট সরকা‌রের আমলে আমরা সবচেয়ে বড় ভিক্টিম ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নতুন পরিসরে কাজ শুরু করেছি। আমরা আশা করছি, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ঢাবি প্রাশাসন দ্রুততম সময়ের মা‌ঝে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন ইনশাআল্লাহ। নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা অতীতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। সামনের দিনগু‌লো‌তেও নারীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।