Category: স্কলারশিপ

  • ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে ১৫৯ জন বাংলাদেশি

    ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে ১৫৯ জন বাংলাদেশি

    ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছেন ১৫৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১০৯ জন শিক্ষার্থী দুই বছর মেয়াদি জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন। স্কলারশিপপ্রাপ্তদের মধ্যে সারাবিশ্বে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থান তৃতীয়।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেনের উদ্যোগে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপপ্রাপ্তদের নিয়ে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে ইউজিসি’র ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এবং ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট জেসমিন পারভীনসহ ফ্রান্স, জার্মান, সুইডেন, ইতালি, ডেনমার্কসহ ইইউ-এর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং ইরাসমাস মুন্ডাস অ্যালামনাইগণ অংশ নেন।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর এস এম এ ফায়েজ ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট স্কলারশিপ পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের বিষয়।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ১৫৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্মানজনক এই স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে অধ্যয়ন করবেন।

    তিনি আরও বলেন, চলতি বছর ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ প্রোগ্রামে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সারা বিশ্বে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থান তৃতীয়। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, দৃঢ় সংকল্প এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    প্রফেসর ফায়েজ ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইইউ’র বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি এবং বিশ্বদরবারে নিজেদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

    অনুষ্ঠানে মাইকেল মিলার বলেন, ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ একটি সফল প্রোগ্রাম। বাংলাদেশি তরুণ শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করবে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপসহ বিভিন্ন বৃত্তি, যৌথ গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য ইইউ রাষ্ট্রদূত এর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। এছাড়া, ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইউজিসি’র ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন বিভাগ।

    ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপের আওতায় ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স ও জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকে। ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে।

  • দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা: আইইএলটিএসে ৫.৫–এ আবেদন

    দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা: আইইএলটিএসে ৫.৫–এ আবেদন

    দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে কিউএস ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ শতকে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো-সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (৩১), কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (৫৩), ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয় (৫৬), কোরিয়া ইউনিভার্সিটি (৬৭) ও পোহং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (৯৮)। দেশটির অর্থনীতি যথেষ্ট স্থিতিশীল হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের চাকরি নিয়ে তেমন বিড়ম্বনা পোহাতে হয় না। প্রতিটি জব সেক্টর একদম শিক্ষানবিশ পর্যায় থেকে জব স্যাটিসফেকশন নিশ্চিত করায় কাজে পাওয়া যায় নিরাপদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। পাঠ্যক্রমে ইংরেজি ভাষার গুরুত্বের ফলে নিজেদের পছন্দমতো বিষয় নির্বাচন করতে পারেন বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা। তবে খণ্ডকালীন কাজের জন্য কোরিয়ান ভাষায় পারদর্শিতা জরুরি। এটি পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনধারণকেও সহজ করে। স্কলারশিপ অর্জনে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে ভাষা দক্ষতা। চলুন, দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক—

    দক্ষিণ কোরিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনগুলো
    বিশ্বব্যাপী স্বনামধন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সারির ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো—সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়, কোরিয়া ইউনিভার্সিটি, পোহং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, সুংকিউনকওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, হ্যানিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়, উলসান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, দেগু গিয়াংবুক ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও কিউং হি ইউনিভার্সিটি।

    পড়াশোনার জন্য জনপ্রিয় বিষয়
    অর্থনীতি, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফাইন্যান্স, ফ্যাশন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, ডিজাইন মিডিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বায়োটেকনোলজি।

    আবেদনের উপায়
    প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে। তা ছাড়া ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সময়কাল এবং পূর্বশর্তগুলোও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই চূড়ান্ত আবেদনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট চেক করা উচিত। ভর্তির আবেদনগুলো সাধারণত সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার অন্তত তিন থেকে চার মাস আগে জমা নেওয়া হয়। গড়পড়তায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির মৌসুম প্রধানত দুটি। প্রথমটি হলো স্প্রিং সেমিস্টার, যার আবেদন গ্রহণ মার্চ থেকে জুন মাসে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয়টি হলো ফল সেমিস্টার, যে মৌসুমের আবেদন গ্রহণ সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর অবধি শুরু করা হয়। আর ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম মে থেকে জুন মাসের মধ্যে শেষ হয়।

    ভর্তি আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    • সম্পূর্ণ পূরণকৃত আবেদনপত্র
    • পাসপোর্ট
    • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
    • উচ্চমাধ্যমিক সনদ বা সমমানের ডিপ্লোমা
    • ইংরেজি ভাষা দক্ষতা সনদ: টোয়েফল (ন্যূনতম ৭১) বা আইইএলটিএস (কমপক্ষে ৫ দশমিক ৫)
    • পার্সোনাল স্টেটমেন্ট

    ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সহায়তার হলফনামা

    • লেটার অব রিকমেন্ডেশন
    • সিভি
    • পিতামাতার পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র (এনআইডি)
    • মাস্টার্সে আবেদনের জন্য অতিরিক্ত নথি
    • ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের ডিপ্লোমা সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
    • কাজের অভিজ্ঞতা (প্রোগ্রাম বিশেষে প্রযোজ্য)
    • পিএইচডি আবেদনের নথি
    • স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা সমমানের ডিপ্লোমা সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
    • মাস্টার্স থিসিস বা গবেষণার প্রস্তাবনা

    স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন
    আবেদন অনুযায়ী ভর্তির অফার লেটার প্রাপ্তির পরপরই প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ভিসার কাজ শুরু করা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ডি-২ ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এই ভিসায় প্রাথমিকভাবে ২ বছর পর্যন্ত মেয়াদ মঞ্জুর করা হয়। আর একক এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ ৩ মাস। আবেদনের জন্য সরাসরি চলে যেতে হবে কোরিয়ান ভিসা পোর্টালে । এই লিংকের ফরম পূরণের সময় ভিসার জন্য দরকারি সব নথিপত্র আপলোড করতে হবে। তারপর ই-ফরমটি বারকোডসহ প্রিন্ট করে আপলোডকৃত নথির হার্ড কপিসহ একত্রে কোরিয়ান দূতাবাস বা কনস্যুলেটে জমা দিতে হবে।

    ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    • প্রিন্ট করা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনপত্র বা ই-ফরম
    • গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি রঙিন ছবি
    • দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছার দিন থেকে পরবর্তী ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট
    • কভার বা ফরোয়ার্ডিং লেটার
    • দক্ষিণ কোরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভর্তির অফার লেটার
    • জন্মসনদ
    • সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত পারিবারিক সম্পর্কের সার্টিফিকেট
    • আবেদনকারীর নিজের বা গ্যারান্টরের আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ করার জন্য তাঁর ব্যাংক স্টেটমেন্ট
    • আবেদন সংক্রান্ত ও অধ্যয়নের জন্য বিদেশে বসবাসের নিমিত্তে পিতামাতার অনাপত্তিপত্র (এনওসি)
    • পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্র
    • বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক প্রদত্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
    • শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে যাবতীয় সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট।
    • এই নথিগুলো অবশ্যই বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ৩ মাসের মধ্যে নোটারিকৃত হতে হবে। আবেদনের সঙ্গে এগুলোর আসল ও ফটোকপি উভয়ই জমা দিতে হবে।
    • জাতীয়ভাবে স্বীকৃত যক্ষ্মা পরীক্ষা কেন্দ্র দ্বারা গত ৩ মাসের মধ্যে জারিকৃত যক্ষ্মা পরীক্ষার ফলাফল
    • ২ বছরের মধ্যে জারিকৃত ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সার্টিফিকেট (টোয়েফল বা আইইএলটিএস)
    • কোরিয়ান ভাষা দক্ষতার শংসাপত্র (দক্ষিণ কোরিয়া স্বীকৃত): কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা বা এই ভাষার প্রোগ্রামগুলোতে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

    ভিসা আবেদন জমা প্রদান
    আবেদনপত্রসহ যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এর জন্য লিংকে গিয়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অতঃপর এ অ্যাকাউন্টের অধীনে নথিপত্র জমাদানের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের জন্য আবেদন করা যাবে। এই আবেদনের সময় প্রদানকৃত নাম, ফোন নম্বর, ই–মেইল ঠিকানা, পাসপোর্ট বা এনআইডি ভিসার আবেদনের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে।

    মনোনীত নির্দিষ্ট দিনক্ষণের ব্যাপারে ফোন নম্বর ও ই–মেইল ঠিকানায় জানানো হবে। কনস্যুলেটের ঠিকানা: ৪, মাদানি অ্যাভিনিউ, বারিধারা, ঢাকা-১২১২ বাংলাদেশ। ভিসার কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য কনস্যুলেটরে যাওয়ার সময় প্রতি কার্যদিবসে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা।

    ভিসা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের আনুষঙ্গিক খরচ
    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আবেদন জমা করার পর থেকে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। অবশ্য নথিপত্রে জটিলতা থাকলে এ সময় আরও প্রলম্বিত হতে পারে। এ সময় অনলাইনে ভিসার সর্বশেষ অবস্থা জানা যেতে পারে। তার জন্য যেতে হবে – লিংকে। ভিসা প্রস্তুত হয়ে গেলে তা ভিসা পোর্টাল, এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে প্রার্থীকে জানানো হবে। আর ভিসা সরবরাহের সময় প্রতি কার্যদিবসে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা। ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের একক প্রবেশাধিকার বিশিষ্ট ডি-২ ভিসার ফি ৬০ মার্কিন ডলার বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ান দূতাবাস অনুসারে এখানে ডলারের নির্ধারিত বিনিময় হার মার্কিন ডলার প্রতি ১১০ বাংলাদেশি টাকা। কনস্যুলেট অফিসে ভিসার কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় এই ফি পরিশোধ করতে হবে।

    পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার সম্ভাব্য খরচ
    বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যয়নের বিষয় ও ডিগ্রির পর্যায়ের ওপর ভিত্তি করে পড়াশোনার খরচ ভিন্ন হয়ে থাকে। তার মধ্যে ব্যাচেলর কোর্সগুলোতে প্রয়োজন হয় সাধারণত ৪৩ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩৯ লাখ কোরিয়ান ওন। এই বাজেট ৩ লাখ ৭০ হাজার ১৯ থেকে ২৯ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকার (১ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন = শূন্য দশমিক শূন্য ৮৬ বাংলাদেশি টাকা) সমান। আর স্নাতকোত্তরের জন্য বাজেট রাখতে হবে ৫০ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৫ কোটি ৮ লাখ ওন। পরিমাণটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৮ থেকে ৪৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৫ টাকার সমতুল্য। জীবনযাত্রার খরচের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হচ্ছে রাজধানী সিউল। অপর দিকে বুসান ও ইঞ্ছনের মতো শহরগুলোর নিত্যনৈমিত্তিক খরচ যথেষ্ট কম।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কলারশিপের সুবিধা
    অধ্যয়ন ও জীবনযাত্রার বাজেটের অর্থ সংকুলানের জন্য দেশটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত স্কলারশিপের সুবিধা। ইয়নসেই ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক প্রোগ্রামের জন্য পূর্ণ, অর্ধেক বা প্রতি সেমিস্টারের এক-তৃতীয়াংশ অর্থসহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে কোরিয়া ইউনিভার্সিটিও আংশিক বা সম্পূর্ণ অধ্যয়ন খরচ বহন করে থাকে। হ্যানিয়াং ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ারর্ডস অধ্যয়ন ফি ৭০, ৫০ বা ৩০ শতাংশ মওকুফ করে। বেশ কিছু বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পর্যায়ে অধ্যয়নের জন্য পূর্ণ তহবিল প্রদান করে। তার মধ্যে স্যামসাং গ্লোবাল হোপ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়াও আন্ডারগ্র্যাজুয়েটদের প্রতি সেমিস্টারে দেয় ৩৯ লাখ ওন (৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৮ টাকা)। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রতি সেমিস্টারে ৩৫ থেকে ৫০ লাখ ওন দেওয়া হয়। তহবিলটি প্রায় ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৮ থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫৪ টাকার সমতুল্য। গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট উভয় পর্যায়ে পূর্ণ অর্থসহায়তা দেয়।

    খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ
    খণ্ডকালীন চাকরির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ন্যূনতম এক সেমিস্টার শেষ করতে হবে। এই শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রীরা প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা ও গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। প্রচলিত ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার পর, যাঁরা থিসিসে কাজ করছেন, তাঁরাও সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজের অনুমতি পান। লিপস্কলার অনুসারে, খণ্ডকালীন কিছু চাকরি ঘণ্টাপ্রতি মজুরি হলো—

    • ক্যাশিয়ার: ৯ থেকে ১০ হাজার ওন
    • সেলস অ্যাসোসিয়েট: ১১ থেকে ১২ হাজার ওন
    • প্যাকেজ হ্যান্ডলার: ১৩ থেকে ১৪ হাজার ওন
    • লেকচারার: ৫১ থেকে ৫৫ হাজার ওন
    • প্রাইভেট টিউশন: ২৬ থেকে ২৮ হাজার ওন
    • গবেষণা সহকারী: ১২ থেকে ১৩ হাজার ওন
    • প্রশাসনিক সহকারী: ৬ থেকে ৭ হাজার ওন।

    তথ্যসূত্র : ইউএনবি নিউজ

  • চীনে জিয়াংসি প্রদেশের সরকারি বৃত্তি

    চীনে জিয়াংসি প্রদেশের সরকারি বৃত্তি

    বিশ্বায়নের এই যুগে উচ্চশিক্ষা কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের পথ নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা, একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির যাত্রা। এই যাত্রায় চীন হয়ে উঠেছে এক নতুন শক্তি। যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান আর বৈশ্বিক উদ্দীপনার এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটেছে। দেশটিতে উন্নত গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পদ্ধতি ও বৈচিত্র্যময় ছাত্রজীবনের জন্য আজ হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে চীন।

    প্রতিবছর দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি দিয়ে থাকে। জিয়াংসি প্রদেশের অর্থায়িত সরকারি বৃত্তি তার মধ্যে অন্যতম। এ বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির জিংগাংশান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    ১৯৫৮ সালে চীনের জিয়ান শহরের কিউংইউয়ান জেলায় জিংগাংশান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে ঐতিহাসিক জিংগাংশান পর্বতমালার নামে, যা চীনের প্রারম্ভিক বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টির তিনটি ক্যাম্পাস রয়েছে। যার মধ্যে আধুনিক গবেষণাগার, ২০ লাখের মতো গ্রন্থাগার বই এবং উচ্চ মূল্যের শিক্ষণ ও গবেষণা সরঞ্জাম রয়েছে।

    বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা : জিয়াংসি প্রদেশের বৃত্তিটি অর্থায়িত। বৃত্তিটির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০ হাজার চায়নিজ ইউয়ান দেওয়া হবে। আর্থিক সুবিধা ছাড়াও বৃত্তির নীতিমালা অনুযায়ী আরও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।

    আবেদনের যোগ্যতা : স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য প্রার্থীদের উচ্চমাধ্যমিকের সনদ থাকতে হবে। প্রার্থীদের বয়স ২৫ বছরের কম হতে হবে। চায়নিজ ভাষা কোর্সের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই এইচএসকে সনদ থাকতে হবে। আবেদনকারীদের অবশ্যই চমৎকার একাডেমিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

    প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : আবেদনপত্র, সর্বোচ্চ ডিগ্রির প্রত্যয়নপত্র, একাডেমিক পারফরম্যান্স ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্টের ফটোকপি, চীনা ভাষা পরীক্ষার ফলাফল, শারীরিক পরীক্ষা সনদের ফটোকপি ও চীনা বা ইংরেজিতে একটি অধ্যয়ন পরিকল্পনা।

    অধ্যয়নের ক্ষেত্রসমূহ : বিজ্ঞান, প্রকৌশল, মানবিক বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, আইন, কলা, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ ১১টি বিভাগে ৭৫-৮০টি অনুষদে মোট ৫০-৭৫টি স্নাতক ডিগ্রি জিংগাংশান বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে।

    আবেদন পদ্ধতি : আগ্রহী প্রার্থীরা এ লিংকে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদনের শেষ তারিখ : আগামী ২০ আগস্ট ২০২৫।

  • সরকারি খরচে ১১টি প্রতিষ্ঠানে হোটেল ও পর্যটন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ

    সরকারি খরচে ১১টি প্রতিষ্ঠানে হোটেল ও পর্যটন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ

    দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থানের উপযোগী প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির জন্য ২২ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। প্রশিক্ষণ কোর্সটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল, এসআইসিআইপির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে করানো হবে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা—
    প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পাস। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪৫ বছর।

    প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুবিধা—
    ১. প্রশিক্ষণ শেষে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণদের সনদ প্রদান এবং কর্মসংস্থানের সহায়তা করা হবে।

    ২. প্রশিক্ষণে ন্যূনতম ৮০% উপস্থিতির ভিত্তিতে যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাতা প্রদান করা হবে।

    ভর্তির দরকারি তথ্য—
    ১. প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল চার মাস। মোট ৫০০ ঘণ্টা। ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দুই মাস ও ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মকালীন প্রশিক্ষণ দুই মাস।

    ২. আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৫। প্রশিক্ষণার্থী বাছাই পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ও ফলাফল উল্লিখিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যাবে।

    ৩. প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী ৩ আগস্ট ২০২৫ শুরু হবে।

    ৪. প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস সপ্তাহে ৫ দিন, প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সময় প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী চলতে হবে।

    ৫. নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    ৬. আবেদনপত্রের সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, এসএসসি পাসের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনসহ সব সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। যাদের জন্মতারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫ সালের আগে, তাদের অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।

    ৭. একই ব্যক্তি শুধু একটি কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।

    ৮. কোনো ব্যক্তি সেসিপ প্রোগ্রামের আওতায় আগে কোনো কোর্সে অংশগ্রহণ করে থাকলে তাঁর আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।

    দেশের ১১টি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কোর্সের নাম—
    ১. বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট: ১৪৭/ডি, গ্রিনরোড ,সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিপরীতে, ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. হাউসকিপিং ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ৩. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ৪. বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন।

    ২. ইনস্টিটিউট অব হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হসপিটালিটি: হোসেন প্লাজা (তৃতীয় তলা), বাড়ি ১, রোড ২৮, ধানমন্ডি, ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং)।

    ৩. রিজেন্সি হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট: হাউস ১৫, রোড ৩, নিকুঞ্জ-ও, খিলক্ষেত, ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. হাউসকিপিং ২.ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ৩. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং)

    ৪. ইউসেপ মিরপুর টেকনিক্যাল স্কুল: প্লট-২ ও ৩, মিরপুর-২, ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ৩. বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন।

    ৫. ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট: আশকোনা (হজ ক্যাম্পের বিপরীত পাশে), উত্তরা ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. হাউসকিপিং ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস।

    ৬. সাইক প্রফেশনাল ট্রেনিং সেন্টার: ৯৬৫, পূর্ব শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. হাউসকিপিং।

    ৭. ইম্পেরিয়াল হোটেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট: ৩৪ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, ঢাকা। কোর্সসমূহ: ১. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ।

    ৮. টনি খান হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট সিলেট: জেসি ট্রাস্ট হাউস (তৃতীয় তলা), ফাজিল চিশত, সুবিদবাজার (পূর্ব), সিলেট। কোর্সসমূহ: ১. হাউসকিপিং ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ৩. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ।

    ৯. টনি খান হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট: মৌলভীবাজার মিশন রোড, পিটিআই স্কুল, মৌলভীবাজার। কোর্সসমূহ: ১. হাউসকিপিং ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ।

    ১০. একাডেমি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (এআইটি): সাইমা ওশান সিটি, (তৃতীয় তলা) আলীর জাহাজ, ওয়ার্ড নম্বর-৫, কক্সবাজার সদর,কক্সবাজার। কোর্সসমূহ: ১. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ৩. বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন।

    ১১. প্রিজম হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট: কারবালা রোড, ধর্মতলা, যশোর। কোর্সসমূহ: ১. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন (কুকিং) ২. বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন।

  • বিনা খরচে নারী শিক্ষার্থীদের নার্সিং কোর্স, মাসিক বৃত্তি ৬ হাজার টাকা

    বিনা খরচে নারী শিক্ষার্থীদের নার্সিং কোর্স, মাসিক বৃত্তি ৬ হাজার টাকা

    কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত এক বছর মেয়াদি সম্পূর্ণ বিনা খরচে স্পেশালাইজড নার্সিং কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোর্সটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগ, এডিবি ও এসআইসিআইপির আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি খরচে করানো হবে।

    স্পেশালাইজড নার্সিং কোর্স—
    ১. ডিপ্লোমা ইন রেনাল নার্সিং।
    ২. ডিপ্লোমা ইন পেডিয়াট্রিক নার্সিং।
    ৩. ডিপ্লোমা ইন ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং।
    ৪. ডিপ্লোমা ইন ট্রমা নার্সিং।
    ৫. ডিপ্লোমা ইন অনকোলজি নার্সিং।
    ৬. ডিপ্লোমা ইন কার্ডিয়াক নার্সিং।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা—
    ডিপ্লোমা ইন নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি বা ডিপ্লোমা ইন নার্সিং (বেসিক বা পোস্ট–বেসিক) ও বিএনএমসি থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত নার্স হতে হবে।

    সাধারণ শর্তাবলি—
    ১. শুধু নারী রেজিস্টার্ড নার্সরা আবেদন করতে পারবেন।
    ২. বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
    ৩. দরিদ্র, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
    ৪. সরকারি চাকরি করা প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
    ৫. প্রশিক্ষণার্থী বাছাই পরীক্ষার তারিখ ও ফলাফল উল্লিখিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যাবে।

    আবেদন করতে যা লাগবে—
    প্রার্থীর পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত, দুই কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করতে হবে।

    প্রশিক্ষণার্থীদের সুযোগ—
    ১. প্রশিক্ষণের সময় প্রশিক্ষণার্থীদের বিনা মূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
    ২. প্রশিক্ষণার্থীদের মাসিক বৃত্তি দেওয়া হবে ছয় হাজার টাকা।
    ৩. প্রশিক্ষণ শেষে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণদের বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) সনদ প্রদান করা হবে।
    ৪. প্রশিক্ষণ শেষে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানে সহায়তা করা হবে।

    আবেদনপত্র ডাকযোগে বা ই–মেইলে পাঠানো যাবে। আবেদনের শেষ তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৫।

    ই–মেইল ঠিকানা: sicip.kwtbd@gmail.com, office@kumudininursing.edu.bd

    ডাকযোগে পাঠানোর ঠিকানা: কুমুদিনী নার্সিং কলেজ, মির্জাপুর–১৯৪০, টাঙ্গাইল।

  • আইইএলটিএসে ৭ হলেই বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়

    আইইএলটিএসে ৭ হলেই বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়

    উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি এখন জাপান ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। এর কারণ হলো এসব দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য নানা ধরনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমনই একটি দারুণ সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Tsinghua University)।

    এই বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শোয়ার্জম্যান স্কলারস স্কলারশিপের আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এক বছরমেয়াদি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে (Master’s Program) পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে। বেইজিংয়ে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা পাবেন টিউশন ফি, বিমানে আসা-যাওয়ার খরচ, বই কেনার অর্থসহ আরও বেশ কিছু সুবিধা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    চীনের বেইজিংয়ে ১৯১১ সালে যাত্রা শুরু হয় সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক কারণে সুপরিচিত। ২০টি স্কুল ও ৫৭টি বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টস, লিটারেটার, সোশ্যাল সায়েন্স ও মেডিসিনের জন্য বিশ্বের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন।

    আবেদনের যোগ্যতা— স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে প্রার্থীর বয়স। নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে।

    বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা— শোয়ার্জম্যান স্কলার হওয়ার জন্য নির্বাচিত আবেদনকারীরা নানা সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো- টিউশন ফি দেবে। বিমানে যাতায়াতের খরচ মিলবে। থাকা-খাওয়া ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য মাসিক উপবৃত্তি। বই কিনতে ভাতা দেবে। স্বাস্থ্য বিমা পাবেন প্রার্থী ও ভ্রমণ ভাতা প্রদান করবে।

    ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে (টোয়েফেল আইবিটি স্কোর ১০০; আইইএলটিএসে সর্বনিম্ন স্কোর ৭; কেমব্রিজ ইংলিশ অ্যাডভান্স (সি১) বা কেমব্রিজ ইংলিশ প্রফিশিয়েন্সি (সি২) ন্যূনতম স্কোর ১৮৫ থাকতে হবে);

    আবেদন যেভাবে : অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন আগ্রহীরা। আবেদনের পদ্ধতিসহ যেকোনো বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুনআবেদনের শেষ তারিখ : আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।

  • যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়িত গ্রেট বৃত্তি

    যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়িত গ্রেট বৃত্তি

    যুক্তরাজ্যে ইউকে গ্রেট স্কলারশিপ ২০২৫-২৬-এর আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থায়িত এ বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। বৃত্তিটিতে অর্থায়ন করবে যুক্তরাজ্য সরকার ও ব্রিটিশ কাউন্সিল।

    যুক্তরাজ্যে ৩৯৫টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে, যেখানে ৫০ হাজারের বেশি ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। যুক্তরাজ্যে এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোতে আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

    সুযোগ-সুবিধা : গ্রেট স্কলারশিপে ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুবিধাসহ পড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী দেশটির ৪৯টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ কমপক্ষে ১০ হাজার পাউন্ডের বৃত্তি দেওয়া হবে।

    যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যাবে : ডার্বি বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়, এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়, এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়, এডিনবার্গ নেপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহ্যাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, রবার্ট গর্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, রয়েল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টিসাইড বিশ্ববিদ্যালয়, আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, বাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়।

    বৃত্তির সংখ্যা : বাংলাদেশের জন্য একটি স্নাতকোত্তর বৃত্তি, চীনের জন্য ৪৪টি, মিসরের জন্য ১৩, ঘানার জন্য ১৫, ভারতের জন্য ৬০, মেক্সিকোর জন্য ২০, নেপালের জন্য ৯, পাকিস্তানের জন্য ২৭, শ্রীলঙ্কার জন্য ৯, থাইল্যান্ডের জন্য ২৮, ইন্দোনেশিয়ার জন্য ৩০, কেনিয়ার জন্য ১৪ এবং মালয়েশিয়ার জন্য ৩০টি।

    আবেদনের যোগ্যতা : প্রার্থীকে ওপরে উল্লিখিত তালিকাভুক্ত যোগ্য দেশগুলোর নাগরিক হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই স্নাতক ডিগ্রি এবং ভালো একাডেমিক রেকর্ড থাকতে হবে। এ ছাড়া কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

    আবেদন পদ্ধতি : আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ : ৩০ জুন ২০২৫।

  • আইইএলটিএস ছাড়াই ইতালিতে পড়াশোনার সুযোগ, বৃত্তিসহ আছে নানা সুযোগ

    আইইএলটিএস ছাড়াই ইতালিতে পড়াশোনার সুযোগ, বৃত্তিসহ আছে নানা সুযোগ

    ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নানা ধরনের বৃত্তি দেয়। ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনাও বৃত্তি দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনা স্কলারশিপ ২০২৫-২৬-এর জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে। যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির আওতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স ৩০ বছরের কম হতে হবে।

    সুযোগ-সুবিধা : ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনা স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অর্থায়িত বৃত্তি। দেশটির পক্ষ থেকে এ বৃত্তির আওতায় স্নাতকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। এ ছাড়া স্নাতকোত্তরেও বৃত্তিটি অর্থায়িত।

    অধ্যয়নের বিষয় : ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনার অধীনে ২৬০টি ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি পিএইচডি প্রোগ্রাম, ৫৩টি বিশেষায়িত বিদ্যালয় প্রোগ্রাম ও ৮৬টি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের পেশাদার মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে।

    আবেদনের যোগ্যতা : বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রথম বা একক সাইকেল ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য স্যাট পরীক্ষার সনদ, দ্বিতীয় সাইকেল ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য জিআরই সনদ প্রয়োজন। তবে আইইএলটিএসের দরকার নেই।

    আবেদনের পদ্ধতি : আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের বিস্তারিত ও বৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে। আবেদনের শেষ তারিখ: ৩১ মে ২০২৫।

  • চীনে ১০টি স্কলারশিপ: টিউশন ফি মওকুফ-আবাসন-চিকিৎসার সঙ্গে মিলবে মাসিক ভাতাও

    চীনে ১০টি স্কলারশিপ: টিউশন ফি মওকুফ-আবাসন-চিকিৎসার সঙ্গে মিলবে মাসিক ভাতাও

    চীন সরকার প্রতিবারের ন্যায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা রেখেছে। চীনের এমন স্কলারশিপ ১০টি। এগুলোর আওতায় টিউশন ফি মওকুফসহ আবাসন, চিকিৎসার সুবিধা এবং মাসিক ভাতারও সুবিধা রয়েছে। দেশটিতে অধ্যয়নের এমন সুবর্ণ সুযোগ আছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও। ২০২৫ সালে চীনের উচ্চশিক্ষায় শীর্ষ ১০টি স্কলারশিপের বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

    ১. সিএসসি স্কলারশিপ (CSC Scholarship) : সিএসসি বৃত্তি প্রকল্পটির পূর্ণরূপ Chinese Scholarship Council। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চীনের ২৮০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগ পান। চীনা সরকার এ স্কলারশিপের অধীন শিক্ষার্থীদের আবাসন ও মৌলিক স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করে। প্রদেয় মাসিক ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ চায়নিজ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৮ হাজার ৬৪৫ টাকা (১ চায়নিজ ইউয়ান = ১৬ দশমিক ৭৬ বাংলাদেশি টাকা) সমতুল্য। তবে ইতিমধ্যে যে শিক্ষার্থীরা চীনের অন্য কোনোও বৃত্তি পেয়েছেন, তাঁদের জন্য এ বৃত্তি প্রযোজ্য নয়। আবেদনের জন্য নিবন্ধন করতে হবে সিএসসি পোর্টালে । যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, সেখানে পৃথকভাবে আবেদন জমা দিতে হবে।

    ২. তিয়ানজিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Tianjin Government Scholarship) : এককভাবে নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় তিয়ানজিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ। স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের জন্য উন্মুক্ত এ প্রকল্পে মাসিক সর্বোচ্চ ২ হাজার ইউয়ান (৩৩ হাজার ৫১১ টাকা) পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন শিক্ষার্থীরা। আবেদনের শেষ সময় সাধারণত মে মাসের শেষের দিকে হয়ে থাকে। আবেদনকারীদের এ লিংকে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চূড়ান্ত অনুমোদনই শিক্ষার্থীদের Tianjin Government Scholarship প্রাপ্তির প্রধান মাপকাঠি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে লিংকে।

    ৩. সাংহাই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Shanghai Government Scholarship) : চীনের প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক পরিচালিত অনুদানগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সাংহাই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ। পিএইচডি, মাস্টার্স ও স্নাতকের ক্ষেত্রে প্রদান করা এই অনুদান তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। টাইপ এ (মাস্টার্স বা পিএইচডি), টাইপ বি (স্নাতক) ও টাইপ সি (দীর্ঘমেয়াদি উচ্চতর অধ্যয়ন, যেমন চীনা ভাষা কোর্স)। সাংহাই সরকার এগুলোর মধ্যে দুই ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ প্রদান করে। টাইপ ‘এ’–তে ফুল ফান্ডিং দেয় (ভর্তির ফি, আবাসন, চিকিৎসা বিমা ও মাসিক ভাতা মেলে) এবং টাইপ ‘বি’–তে আংশিক ফান্ডিং (শুধু টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমা)। সাংহাই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপে চীনা ভাষা কোর্সের মতো দীর্ঘমেয়াদি কোনো অধ্যয়নের জন্য প্রযোজ্য নয়। ডিগ্রি বিশেষে স্কলারশিপের মূল্যমান ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ইউয়ান (৪১ হাজার ৮৮৯ থেকে ৫৮ হাজার ৬৪৫ টাকা) পর্যন্ত। আবেদনের সাধারণ সময় জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত। আবেদনের জন্য ঢুঁ মারতে হবে তে।

    ৪. বেইজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Beijing Government Scholarship) : চীনের প্রাদেশিক সরকারে প্রথম স্কলারশিপ কর্মসূচি হচ্ছে বেইজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ। সরাসরি বেইজিং সরকার থেকে হওয়া এ অর্থায়নের একমাত্র সুবিধাভোগী হচ্ছে পিএইচডি, মাস্টার্স ও স্নাতক শিক্ষার্থীরা। স্কলারশিপের আওতায় আর্থিক সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ইউয়ান মিলবে। সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে জুনের মধ্যে আবেদন কার্যক্রম শেষ করা হয়। বেইজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের সুনির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা পাওয়া যাবে এ লিংকে। এখান থেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের পর সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে আবেদনের প্রক্রিয়া।

    ৫. হুবেই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Hubei Government Scholarship) : হুবেই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপও স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। স্নাতক শিক্ষার্থীরা বছরে ১০ হাজার ইউয়ান, মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা ১৫ হাজার ইউয়ান ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা পান ২০ হাজার ইউয়ান। সাধারণ গবেষণা স্কলারশিপ হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের ভিত্তিতে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইউয়ান দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয় প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে। আবেদনের জন্য Hubei Government Scholarship বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে।

    ৬. সিআইএস স্কলারশিপ (CIS Scholarship) : চীনের শিক্ষা খাতে সরকারি এ প্রকল্পের পূর্ণরূপ Confucius Institute Scholarship–CIS। এর আওতাভুক্ত প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য পিএইচডি গবেষণা, গবেষণামূলক সফর, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং চীনা ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক কোর্স। ১৫০টির বেশি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বৃত্তিতে পড়াশোনা করা যায়। সিআইএস স্কলারশিপে টিউশন ফি, আবাসন ব্যয়, চিকিৎসা বিমা ও মাসিক ভাতা পাবেন শিক্ষার্থীরা। স্নাতক বা চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি কোর্স গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার ৫০০ ইউয়ান পেয়ে থাকেন। মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে নির্ধারিত তিন হাজার ইউয়ান। সাধারণত মে ও নভেম্বরের শুরুর দিকে দুটি পৃথক শিডিউলে আবেদন গ্রহণ করা হয়। অনলাইনে আবেদনের সাইট ।

    ৭. ইউনান প্রোভিন্সিয়াল গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Yunnan Provincial Government Scholarship) : বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অধীন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই স্কলারশিপ। এর নেপথ্যের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সিএসসি। এ ব্যবস্থায় স্নাতক, মাস্টার্স, ডক্টরেট, প্রশিক্ষণ ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য আবেদন করা যায়। ফুল ফান্ডিংয়ের এই প্রকল্পে রয়েছে টিউশন ফি মওকুফ, বিনা মূল্যে অন-ক্যাম্পাস আবাসন, মাসিক ভাতা, চিকিৎসা বিমা ও সুরক্ষা সুবিধা। সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে আবেদন গ্রহণ কর্মসূচি। ইউনান প্রোভিন্সিয়াল গভর্নমেন্ট স্কলারশিপে আবেদনের প্ল্যাটফর্ম ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ।

    ৮. জিনজিয়াং উইঘুর অটোনমাস রেজিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Xinjiang Uygur Autonomous Region Government Scholarship) : স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সরকার পরিচালিত এ বৃত্তি প্রকল্পে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডির পাশাপাশি চীনা ভাষা কোর্সও বিনা খরচে অধ্যয়ন করা যায়। পূর্ণ অর্থায়নের এ সুবিধায় জীবনযাত্রার ভাতা, আবাসন, চিকিৎসা বিমা ও টিউশন ফি অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকে। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির অধীন নির্ধারিত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি বিষয়ের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ তথ্যসহ স্কলারশিপের যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র স্কলারশিপ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম। (http://studyinchina.csc.edu.cn/#/register) জিনজিয়াং উইঘুর অটোনমাস রেজিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের আবেদনের প্ল্যাটফর্ম। একইভাবে আবেদন জমা দিতে হয় জিনজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ।

    ৯. নানজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (Nanjing Government Scholarship) : নানজিং সরকারের এই স্কলারশিপ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক ও মাস্টার্স পর্যায়ে আংশিক ফান্ডিং দেয়। এর পাশাপাশি অন্য কোনো সংস্থার বৃত্তি একত্রে গ্রহণ করার নিয়ম নেই। এ বৃত্তি শুধু নানজিং ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে দেওয়া হয়। স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি একাডেমিক বছরে সরকার থেকে আসে ১০ হাজার ইউয়ান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে আসে পাঁচ হাজার ইউয়ান। মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ২০ হাজার ইউয়ান করে পান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের শুধু জীবনযাত্রার ব্যয়টা মওকুফ করে। আবেদন কার্যক্রম সাধারণত চলে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এ সময় প্রোগ্রাম হিসেবে নির্বাচন করতে হয় ‘চায়নিজ লোকাল গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ’।

    ১০. ইয়াংজৌ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ (Yangzhou University Scholarship) : ইয়াংজৌ ইউনিভার্সিটি বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণ অর্থায়ন দেয় এ বৃত্তির আওতায়। একাডেমিক ডিগ্রিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি। এ প্রকল্পের মধ্যে সুবিধা হিসেবে রয়েছে টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন ও মাসিক ভাতা। প্রার্থীদের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মাঝামাঝিতেই আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। ইয়াংজৌ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপে স্নাতক পর্যায়ে শুধু আবাসনের ব্যয় ও টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। মাস্টার্সে টিউশন ও আবাসন ব্যয় ছাড়াও প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান করে জীবিকা ভাতাও মেলে। পিএইচডিতে টিউশন ও আবাসন ব্যয়ের পাশাপাশি গবেষকেরা মাসে ২ হাজার ৫০০ ইউয়ান পর্যন্ত জীবিকা ভাতা পান। আবেদনের জন্য প্রার্থীদের এ ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারতে হবে।

    ১০টি চায়না স্কলারশিপ চীনের শিক্ষা খাতে দেশটির সরকারের অবদানকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। বৃত্তি প্রকল্পগুলোর প্রতিটিই ব্যাচেলর থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত সব পর্যায়ের মেধাবীদের জন্য প্রযোজ্য। এগুলোর মধ্য সরাসরি সরকারি প্রকল্পভুক্ত হচ্ছে সিএসসি ও সিআইএস স্কলারশিপ। তিয়ানজিন, শাংহাই, বেইজিং, হুবেই, ইউনান প্রভিন্সিয়াল, জিনজিয়াং উইঘুর অটোনমাস রেজিন এবং নানজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ পরিচালিত হয় প্রাদেশিক সরকারের অধীনে। তালিকার একমাত্র বেসরকারি উদ্যোগ হচ্ছে ইয়াংজৌ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ। এই চায়নিজ স্কলারশিপগুলোর কোনোটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণে উৎকৃষ্ট বাহক।


    সূত্র: ইউএনবি নিউজ

  • ফিনল্যান্ডে পড়াশোনায় প্রয়োজন আইইএলটিএস-টোয়েফল, সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ

    ফিনল্যান্ডে পড়াশোনায় প্রয়োজন আইইএলটিএস-টোয়েফল, সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ

    ফিনল্যান্ডে শিক্ষা একটি জন্মগত অধিকার ও রাষ্ট্রকর্তৃক প্রদত্ত সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বমানের হওয়ায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে ফিনল্যান্ড পড়াশোনা করার। এর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির বিশ্বসেরা বিদ্যাপিঠ ও বহুজাতি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ। ফিনল্যান্ডের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি কোর্স রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কোর্সই ফিনিশ কিংবা সুইডিশ ভাষায় পড়ানো হয়, বিশেষ করে স্নাতক পর্যায়ে। দেশটিতে ২০১৭ সালের আগপর্যন্ত পড়াশোনার জন্য টিউশন ফি লাগত না। এরপর ইউরোপের বাইরের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি চালু হয়েছে। দেশটিতে উচ্চশিক্ষায় আবেদন, অধ্যয়ন খরচ, স্কলারশিপসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক—

    ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের পূর্বশর্ত কী কী— ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজন স্নাতক ডিগ্রি।প্রাসঙ্গিক একাডেমিক বিষয়ে সম্পন্ন ক্রেডিট পয়েন্ট ইসিটিএসের (ইউরোপিয়ান ক্রেডিট ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাকুমুলেশন সিস্টেম) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জিম্যাট বা জিআরই স্কোর চাইতে পারে। ইউএএস (ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্সের জন্য আলাদাভাবে দরকার হবে দুই বছরের প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা। ডক্টরাল প্রোগ্রামগুলোর জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি গবেষণা প্রস্তাব বা প্রকাশনা থাকতে হবে। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে প্রবেশিকা পরীক্ষা, এসএটি পরীক্ষা বা অনলাইন ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে।

    ফিনল্যান্ডের সাধারণ ভাষা ফিনিশ বা সুইডিশ হলেও এখানে ব্যাপক হারে ইংরেজিতে যোগাযোগের প্রচলন রয়েছে। অধিকাংশ ফিনিশরাই, বিশেষ করে তরুণেরা খুব ভালো ইংরেজি বলতে পারেন। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আলাদা করে স্থানীয় ভাষা জানার দরকার পড়ে না। ইংরেজি ভাষা দক্ষতার জন্য সাধারণত আইইএলটিএস বা টোয়েফলের ফলাফলকে বেশি মূল্যায়ন করা হয়।

    • চাহিদা সম্পন্ন কোর্সের তালিকা—
      আলটো ইউনিভার্সিটি
      ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কি
      ইউনিভার্সিটি অব অউলু
      ইউনিভার্সিটি অব তুর্কু
      ল্যাপেনরান্ত ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি
      লুট ইউনিভার্সিটি
      ট্যাম্পেরে ইউনিভার্সিটি
      ইউনিভার্সিটি অব জিভাস্কিলা
      ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড
      অ্যাবো একাডেমি ইউনিভার্সিটি
      ইউনিভার্সিটি অব ভাসা
    • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সেরা বিষয়গুলো
      কম্পিউটার সায়েন্স ও আইটি
      ব্যবসায় প্রশাসন
      সাসটেইনেবল ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি
      রিনিউয়েবল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং
      আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন অ্যান্ড কেয়ার
      ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট
      ডিজাইন ও মিডিয়া

    ফিনল্যান্ডে আবেদনের উপায়
    সাধারণত দুটি মৌসুমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেয় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অটাম সেমিস্টারের ভর্তি শুরু হয় আগস্ট বা সেপ্টেম্বর থেকে। স্প্রিং সেমিস্টার ভর্তি শুরু হয় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। উভয় ক্ষেত্রে ভর্তির সময়সীমা সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত থাকে। মূলত তিনটি উপায়ে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন, তা হলো— ইউএএসগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। স্টাডিইনফোর ওয়েবসাইটে। ইউনিভার্সিটিগুলো সাধারণত দুটি উপায়ে আবেদন গ্রহণ করে। যৌথ আবেদন। পৃথক আবেদন। যৌথ আবেদনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। আর পৃথক আবেদনটি হচ্ছে চিরাচরিত পদ্ধতি, যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে শুধু একটি প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে।

    • ভর্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
      সম্পূর্ণরূপে পূরণ করা আবেদনপত্র।
      একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও ডিপ্লোমার প্রত্যায়িত কপি।
      ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ (আইইএলটিএস বা টোয়েফল)।
      পাসপোর্টের কপি।
    • ইউএএসে আবেদনের ক্ষেত্রে
      কর্মসংস্থানের প্রমাণপত্র।
      প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার আবেদন।
      মাস্টার্স বা ডক্টরাল প্রোগ্রামের জন্য।
      সিভি।
      মোটিভেশন লেটার বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট।
      রেফারেন্স লেটার (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
      প্রকাশনা (ডক্টরেটের ক্ষেত্রে)।
      ইংরেজি ভাষা দক্ষতা সনদ ও পাসপোর্ট ছাড়া বাকি সব নথি যদি বাংলায় হয়, তাহলে সেগুলোর অফিশিয়াল অনূদিত সংস্করণ সংযুক্ত করতে হবে।

    শিক্ষার্থী ভিসার জন্য আবেদন
    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রথমে ৯০ দিনের অধিক সময় ফিনল্যান্ডে থাকার জন্য প্রদান করা আবাসিক অনুমোদনের আবেদন করতে হয়। এতে অধ্যয়নের পুরোটা সময় দেশটিতে থাকাসহ খণ্ডকালীন চাকরির অনুমতি পাওয়া যায়। স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য ফিনল্যান্ডে আসতে হলে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য আবাসিক অনুমোদন নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

    আবাসিক অনুমোদন পাওয়ার সাপেক্ষে ডি–টাইপ ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। এই ভিসা শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে ফিনল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেয়। আবাসিক অনুমতি মঞ্জুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ভিসার আবেদন শুরু করা উচিত। এতে পারমিট ইস্যু হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ফিনল্যান্ড প্রবেশ করে সেখান থেকে বসবাসের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা যায়। অবশ্য ডি–টাইপ ভিসাসহ বসবাসের অনুমতি নিয়ে ফিনল্যান্ডে প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ দিন মেয়াদ থাকে।

    আবাসিক অনুমোদনের জন্য সরাসরি এন্টার ফিনল্যান্ডের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরির মাধ্যমে অনলাইন আবেদন করা যাবে। অনলাইনে জমা দেওয়ার পর পূরণ করা ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে হাতে স্বাক্ষর করতে হবে। অতঃপর ভিসার অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে একত্র করে দূতাবাসে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।

    ভিসার আবেদনের জন্য যে যে কাগজপত্র প্রয়োজন—
    অনলাইন আবেদন ফরম পূরণসহ দূতাবাসে জমা দিতে যেসব নথি প্রস্তুত করা প্রয়োজন, সেগুলো হলো-
    ফিনিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির অফার লেটার। বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে দুটি খালি পৃষ্ঠা এবং ফিনল্যান্ডে পৌঁছার দিন থেকে অতিরিক্ত ছয় মাস পর্যন্ত মেয়াদ সম্পন্ন)। আয়ের প্রমাণপত্র (চাকরির সনদ)। আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ। শিক্ষাবর্ষের প্রথম বছরের আর্থিক সংকুলানের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫৬০ ইউরো। বছরে ৬ হাজার ৭২০ ইউরোর ব্যাংক লেনদেনের বিবরণী বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রদর্শন করতে হবে। স্কলারশিপ বা স্পনসর পেয়ে থাকলে তার প্রমাণপত্র। স্বাস্থ্যবিমার প্রশংসাপত্র: অধ্যয়নের সময়সীমা ২ বছরের বেশি হলে ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো। আর ২ বছরের কম হলে ৪০ হাজার ইউরো। এছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দূতাবাস থেকে অতিরিক্ত সংযুক্তি চাওয়া হতে পারে।

    দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং
    এন্টার ফিনল্যান্ডে আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রথম কাজ হচ্ছে ভারতে অবস্থিত ফিনল্যান্ড দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া। এর জন্য লিংকে নিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইন বুকিং দিতে হবে। বুকিং দেওয়ার পর নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়। অতঃপর দিনক্ষণ অনুযায়ী ভিসার আবেদনের যাবতীয় কাগজপত্র মূল কপিসহ দূতাবাসে উপস্থিত হতে হয়। দূতাবাসের ঠিকানা: ই-৩, ন্যায়া মার্গ, চাণক্যপুরী, নয়াদিল্লি, দিল্লি-১১০০২১, ভারত। দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি তোলাসহ প্রার্থীর বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হয়। সাক্ষাৎকার শেষে আবেদন ফিনিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিসে পাঠানো হয়।

    ফিনিশ অভিবাসন সার্ভিসে আবেদন যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খামে (ডিসিশন এনভেলপ) করে দূতাবাসে পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রার্থী ই-মেইল ও এন্টার ফিনল্যান্ডে তার অ্যাকাউন্ট থেকেও দেখতে পারেন। আর খামটি সংগ্রহের জন্য সশরীর দূতাবাসে উপস্থিত হতে হয়। সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক হওয়া মানেই এবার শিগগিরই ডি–ভিসার জন্য আবেদন করার পালা। সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে ভিসা প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

    ভিসা প্রাপ্তির পর ফিনল্যান্ডে প্রবেশ করে আবাসিক অনুমোদন কার্ড সংগ্রহ করা যেতে পারে। মূলত এই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হওয়াটা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ৬ মাস থেকে শুরু করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৯ মাসও লেগে যেতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত খাম প্রাপ্তির পর কার্ড তৈরি হতে সময় লাগে দুই সপ্তাহ। এই কার্ড সংগ্রহের সময় বৈধ পাসপোর্টটি অবশ্যই সঙ্গে থাকতে হবে।

    ভিসা প্রক্রিয়াকরণের আনুষঙ্গিক খরচ
    অনলাইনে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন ফি বা পারমিটের প্রক্রিয়াকরণ ফি ৩৫০ ইউরো। ডি-টাইপ ভিসার ফি ৯৫ ইউরো। দূতাবাসের তথা ভিএফএস সার্ভিস চার্জ ৭০ ইউরো। সব ফি অনলাইনে ভিসা বা মাস্টার কার্ড দিয়ে অথবা দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের সময় পরিশোধ করা যেতে পারে। অফলাইনে বা কাগুজে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি ও প্রক্রিয়াকরণ সময় উভয়ই তুলনামূলকভাবে বেশি।

    ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার সম্ভাব্য খরচ
    স্নাতক অধ্যয়নে প্রতি শিক্ষাবর্ষের জন্য বাজেট রাখতে হবে ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ২৮১ থেকে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪১ টাকার সমান। আর মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য খরচ হতে পারে ৮ হাজার থেকে ১৮ হাজার ইউরো (প্রায় ১০ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ থেকে ২৩ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ টাকা)। পিএইচডির ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পনসর করা হয়, তাই দেশি-বিদেশি সব শিক্ষার্থীর জন্য টিউশন ফ্রি থাকে। এখানে গবেষণার পাশাপাশি আবাসনের ব্যয়ভারও বহন করা হয়।

    ফিনল্যান্ডে বাড়িভাড়া বাবদ খরচ হতে পারে মাসে ৩০০ থেকে ৭০০ ইউরো (প্রায় ৩৮ হাজার ৪৯৬ থেকে ৮৯ হাজার ৮২৪ টাকা)। প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নকালে বিভিন্ন শহরের ছাত্রাবাসগুলোতে বসবাস করেন। ডর্ম নামের এই আবাসনগুলোর মাসিক ভাড়া ২৪০ থেকে ৪২০ ইউরো (প্রায় ৩০ হাজার ৭৯৭ থেকে ৫৩ হাজার ৮৯৫ টাকা) পর্যন্ত।

    নিত্যদিনের খাবারের জন্য সাধারণত প্রতি মাসে ১৮০ থেকে ২৪০ ইউরো (প্রায় ২৩ হাজার ৯৮ থেকে ৩০ হাজার ৭৯৭ টাকা) খরচ করে থাকে। প্রতি মাসে যাতায়াত বাবদ খরচ হয় ৬০ থেকে ৭৮ ইউরো (প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে ১০ হাজার ৯ টাকা)। বিদ্যুৎ, পানিসহ নানা ইউটিলিটির জন্য মাসিক চার্জ ৮৪ থেকে ১২০ ইউরো (প্রায় ১০ হাজার ৭৭৯ থেকে ১৫ হাজার ৩৯৯ টাকা)।

    ফিনল্যান্ডে স্কলারশিপের সুবিধা
    হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি দেয়। তার মধ্যে ফিনল্যান্ড স্কলারশিপগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ এবং ৫ হাজার ইউরোর (প্রায় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৬০০ টাকা) বার্ষিক উপবৃত্তি। উপরন্তু শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ থেকে শতভাগ অধ্যয়ন ফি মওকুফ করা হয়।

    ট্যাম্পেরে ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি স্কলারশিপ মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য আংশিক থেকে সম্পূর্ণ টিউশন মওকুফ করে থাকে। গ্লোবাল স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্পূর্ণ অধ্যয়ন ফ্রিসহ ৭ হাজার ইউরো (প্রায় ৮ লাখ ৯৮ হাজার ২৪১ টাকা) বার্ষিক উপবৃত্তি পাওয়া যায়।

    ডক্টরাল অধ্যয়নের সম্পূর্ণ খরচ বহনসহ মাসিক উপবৃত্তি দেয় ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড ডক্টরাল স্কলারশিপ। আলটো ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপের আওতায় একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ। ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ডিগ্রি স্কলারশিপ যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রামে টিউশন, জীবনযাত্রার খরচ ও ভ্রমণের খরচ বহন করে।

    খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ
    ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি পান। এ ছাড়া গ্রীষ্মে ছুটির সময় কর্মঘণ্টার ওপর কোনো সীমারেখা থাকে না। কাজের প্রকৃতি ও খাত অনুসারে এই খণ্ডকালীন চাকরি থেকে আয় হয়ে থাকে ঘণ্টা প্রতি ৯ থেকে ১৩ ইউরো।

    চাকরি লাভ ও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
    স্নাতক শেষের পর চাকরি খোঁজা বা ব্যবসা শুরুর জন্য অতিরিক্ত দুই বছরের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যায়। মূলত ফিনল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অধ্যয়নের সময়কালসহ দেশটিতে কমপক্ষে একটানা চার বছর থাকতে হয়। এর মাঝে কখনো সর্বোচ্চ তিন মাসের বেশি দেশের বাইরে থাকা যাবে না। দেশটির উচ্চমানের জীবনযাত্রার জন্য সেখানে কাজের সুযোগটি কেবল আকর্ষণীয়ই নয়, বরং পর্যাপ্ত ভ্যাকেন্সি থাকায় মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য তা বেশ সহজসাধ্যও বটে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়েই কাজের সুযোগ করে নিতে পারেন। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব ও সাবলীল থাকায় আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য চাকরি পাওয়ার বিষয়টি আরও সহজ করে তোলে।


    সূত্র: ইউএনবি