স্বাধীনতার পর থেকে ছাত্রদল ছাড়া আর কোনো আর ছাত্র সংগঠন ছাত্রদের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি দাবি করে সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, সাম্য হত্যার বিচার নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে তারা।
এছাড়া দায়িত্ব নেবার পর গেল ৯ মাসে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে তিনি পদত্যাগ দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রক্টরের। ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অবস্থানেরও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয় শোক জানিয়ে অর্ধ দিবস ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখলেও সাম্য হত্যার প্রতিবাদে ভিসির বাসভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল।
এসময় যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের দ্বিচারিতা নিয়ে সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারা।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলা কর্মসূচিতে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, সাম্য হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আমাদের ছোট ভাই সাম্যকে কীভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়, তা আমাদের প্রশ্ন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিসিকে কয়েকবার ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার জন্য স্বারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। ক্যাম্পাসে ৫ আগস্টের আগের কয়েক বছরে একটিও খুনের ঘটনা ঘটে নি। কিন্তু ৯ মাসে কীভাবে দুটি হত্যা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া প্রক্টরকে আজকের মধ্যে আর তাঁর পদে দেখতে চাই না। সেই সঙ্গে ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে খুন হন ছাত্রদল নেতা সাম্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়তেন তিনি। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়।
পুলিশের ভাষ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় আরেক মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার জেরে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সকালে নিহতের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগার পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- মো. তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক এবং মো. পলাশ সরদার।
এর মধ্যে তামিম হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মন্দীতে। ওই এলাকার এরশাদ হাওলাদারের ছেলে তিনি।

Leave a Reply