প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বি সম্পর্কে ভোক্তাকে সহজে বোঝার মতো তথ্য প্রদান, ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবিধান দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী “ইয়ুথ ভয়েস ফর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ শিরোনামে আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়।
এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিতর্কে শিক্ষার্থীরা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং কার্যকর খাদ্যনীতিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, এফওপিএল নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও এখন দ্রুত কার্যকর প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। একটি কার্যকর এফওপিএল ব্যবস্থা শুধু ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করবে না, একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদকদের স্বাস্থ্যকর পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করবে এবং দেশে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যপরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
তরুণদের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য অ্যাডভোকেসিতে অর্থবহ অংশগ্রহণ, গণমাধ্যমের মনোযোগ তৈরি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তরুণদের মতামত তুলে ধরার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিতর্কের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির নয়, বৃহত্তর সমাজে তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিতর্কের মতো উদ্যোগ তরুণদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং সামাজিক বিষয়ে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, “খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবন, চিনি, চর্বি জাতীয় খাবারের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভোক্তাকে জানার সুযোগ প্রদান করার উপরে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”
বক্তারা আরও বলেন, ‘তরুণরা জনস্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত প্রণয়নের পক্ষে মানুষের মধ্যে জনমত ও জনচাহিদা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত কার্যকর এফওপিএল প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।”
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) জনাব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক জনাব ইকবাল মাসুদ।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. সাজিদ হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।





