শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের বাইরে

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল ‘মাদকসেবন’র দায়ে কারাগারে

Advertisement

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকা বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রুবেল হোসেন নামে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখার পর নিজ বিভাগের সদস্যদের অভিযানে আটক হন তিনি। পরে ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে আদালত তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করা হলে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

এর আগেরদিন রোববার বিকেলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকার হামিদ মৃধার ছেলে। তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তিনি বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত, এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর সূত্র আরও জানা গেছে, রোববার রুবেল হোসেন ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন, এমন তথ্য পেয়ে বেতাগীর চান্দখালী বাজারের কিছুটা সামনে চেকপোস্ট বসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। সেখানে রুবেলকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান।

পরে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তবে আটকের সময় রুবেলের সঙ্গে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যাগে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

পরদিন সোমবার সকালে তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর দুপুরে তাকে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগ দেন রুবেল। চাকরির পর বরিশাল ও বরগুনায় তিনি ও তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, চার বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন রুবেল ও তার পরিবার। তবে এসব সম্পদের উৎস ও মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। যাচাই বাছাই করে আমরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হই। রোববারও তথ্য ছিল, তিনি ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন। এ কারণে আমরা চেকপোস্ট বসাই। রুবেলকে একটি ছোট ব্যাগসহ আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পেছন দিক থেকে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তবে তার কাছে ব্যাগটি পাওয়া যায়নি এবং জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি ব্যাগটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। তিনি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। পরে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, রুবেল হোসেনের মামলার বিষয়ে ইতিমধ্যে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নীতি অনুযায়ী অধিদপ্তর রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ