শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের ভেতরে

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

দুর্নীতির তদন্ত না হওয়ায় আরও বেপরোয়া অধ্যক্ষ রন্জু 

Advertisement

‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই গানটি গেয়ে অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেওয়া রন্জু মিয়া এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগগুলোর তদন্ত না হওয়ায় অধ্যক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৬ মার্চ রঞ্জু মিয়া ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। রঞ্জু মিয়া তার কলেজের অডিটোরিয়াম হলের অনুষ্ঠানে ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ আওয়ামী লীগের এই গান পরিবেশন করে তার পেশি ও দলীয় ক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

এরপর স্থানীয় সাবেক সাংসদের কাছে ২০২০ ও ২০২৪ সালে দুটো অভিযোগ করে অধ্যক্ষ আব্দুর রকিব ও অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম নাহিদকে বদলি করান। ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবরে রঞ্জু মিয়া অধ্যক্ষ পদটি বাগিয়ে নেন। তারপর থেকেই তিনি দুর্নীতি ও অপকর্ম করতে প্রভাষক মাহমুদ হাসান এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পলাশ সরকারকে নিয়ে চক্র গড়ে তোলেন।

অধ্যক্ষ তার আপন বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামানকে গাইবান্ধা থেকে নিয়ে এসে কলেজের কোটি টাকা মূল্যের ৯০টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, ওয়াটারপ্রুফ ৪০টি রাউটারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলেন। এমনকি অ্যাপারেল বিভাগের প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক ‘লেজার’ ল্যাপটপের হদিসও নেই! চলতি বছরের ১২ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে কলেজটির শিক্ষক, কর্মচারীরা অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে ১৪টি বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই ওই অধ্যক্ষ তদন্ত থামাতে দৌড়ঝাঁপ করে ম্যানেজ করেন বলে গুঞ্জন উঠে। দুর্নীতির তদন্ত না হওয়ায় অধ্যক্ষের ওই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং এতে কলেজের স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী বলেন, অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে। এর তদন্ত ও সঠিক বিচার প্রয়োজন। অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে, তারাই অভিযোগ করেছে। কম্পিউটারগুলো না চলার কারণে আমি কিছু যন্ত্রাংশ লাগিয়েছি। রাউটারগুলো শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করেছে। কাজের দক্ষতা, বিশ্বাস ও জবাবদিহিতার কারণে ভাইকে দিয়ে কাজ করিয়েছি। আর জাতির জনককে নিয়ে গানটি সে সময়ের কারণেই গেয়েছিলাম।

এ বিভাগের আরও সংবাদ