প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান ও অনন্য দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেট বিভাগের গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা নিলুফার পাপড়ি। সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় উপ-পরিচালক এ কে এম সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
আগামী ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এই গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সিলেট বিভাগের সকল জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জেলা পর্যায়ের গুণী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করে লতিফা নিলুফার পাপড়িকে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হয়।
দেশের আটটি বিভাগের নির্বাচিত গুণী শিক্ষকরা গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কেন্দ্রীয় সার্চ কমিটির কাছে সাক্ষাৎকার দিয়ে এসেছেন। আগামী ৫ অক্টোবরের আগে জাতীয়ভাবে গুণী শিক্ষকের নাম ঘোষণা করা হবে। লতিফা নিলুফার পাপড়ি দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসার ফলেই তাঁর এই বিভাগীয় স্বীকৃতি মিলেছে, মৌলভীবাজারের তাঁর সহকর্মীরা এমনই মনে করেন।
একজন সফল শিক্ষাবিদ হওয়ার পাশাপাশি লতিফা নিলুফার পাপড়ির রয়েছে বহুমুখী সাহিত্যিক প্রতিভা। তিনি একাধারে একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সৃজনশীল লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্রে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন।এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গঠনমূলক লেখার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তাঁর একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে।
এই সাফল্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় লতিফা নিলুফার পাপড়ি বলেন, এই স্বীকৃতিকে আমি আমার একান্ত অর্জন মনে করি না। আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষা পরিবারের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আস্থাই আমাকে প্রতিদিন আরও ভালোভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বিশেষ করে আমার সহকারী শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতাই আমাকে এই স্বীকৃতির পথে এগিয়ে দিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই শিক্ষা পেশায় নিবেদিত থেকে অবসরে যাওয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ আমার বাবা মোঃ মতিউর রহমান ও মা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদা রহমানের প্রতি। তাদের শিক্ষকতান ধরণ দেখেই আমি আমি অন্য উচ্চপদের সরকারি চাকুরির সুযোগ পেয়েও শিশুদেরে গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকতা পেশাই গ্রহণ করেছিলাম। আমার এই অর্জনে আমার পরিবার , বন্ধু্ বান্ধব ও আমার সাথে পথচলা আমার সকল প্রিয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন আমাকে দেশের মনুষের কাছে আজ পরিচিত করেছে। আমি এও বলি, আমি একা গুণী শিক্ষক নই; আপনাদের ভালোবাসাই আমাকে গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে। এই সম্মান আমার অহংকার নয়, আরও বিনয়ী হয়ে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।





