শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের ভেতরে

চুয়েটে অবরুদ্ধ ভিসিকে ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার, শর্ত ক্যাম্পাসে ফেরা যাবে না

Advertisement

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে স্থানীয় প্রশাসন। উপাচার্যকে নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণবকে মাইকে বলতে শোনা যায়, ‘আর কখনো চুয়েটের মাটিতে পা রাখবেন না—এমন শর্তেই আমাদের নবনিযুক্ত ভিসিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের পাশে উপাচার্যকে নীরব দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এর আগে, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তালাবদ্ধ ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘সোমবার সকাল ১১টা থেকে আমরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিই। তাকে দুপুর ১২টায় ভবনে তালা লাগানোর কথা জানিয়েছিলাম। তিনি স্বেচ্ছায় ভেতরে রয়ে গেছেন, আমরা তাকে জোর করে অবরুদ্ধ করিনি। মানবিকতার খাতিরে তার পানির সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল।’

আরেক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই তাকে সম্মানের সঙ্গে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তারা শর্ত দিয়েছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভবনের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওই কক্ষ ও পাশের ঘরে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন।

প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে না চাইলেও পরে কক্ষের দরজার সামনে এসে উপাচার্য সংক্ষেপে বলেন, ‘আমরা এখানে অত্যন্ত অমানবিক অবস্থায় আছি। পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটি তাদের বিষয়।’

উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা

অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য গুরুতর অসুস্থ বোধ করায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাব উদ্দিন তাকে সুস্থ বললেও, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. টিপলু কান্তি দে জানান যে উপাচার্যের রক্তচাপ বেশি এবং বুকে ব্যথা থাকায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। তবে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকের ওপরই ভরসা রাখেন।
অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, ‘পদত্যাগ না করলে তালা ঝুলবে’অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, ‘পদত্যাগ না করলে তালা ঝুলবে’

গত ২১ সেপ্টেম্বর ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে কর্মবিরতিতে যান। তীব্র প্রতিবাদের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করলেও গত ১৮ দিন তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ