শিরোনাম
Advertisement
রাজস্বর

এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে আছেন যারা

Advertisement

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর ১৬ সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি। এই ১৬ সদস্যের তালিকাকে ‘সুপার সিক্সটিন’ নাম দিয়েছে দলটি। শুক্রবার দলটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়।

এনসিপির ‘সুপার সিক্সটিন’ তালিকায় রয়েছেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এছাড়া রয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং নুসরাত তাবাসসুম। তবে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন দলটির সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভা।

এই পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো থেকে সাতটি পদ কার্যত বিলুপ্ত হলো। এগুলো হলো: মুখ্য সমন্বয়ক, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সংগঠক ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক৷ তবে পুনর্গঠিত কমিটিতেও আগের মতো দুজন করে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব থাকছেন। আগের কমিটিতে মুখ্য সমন্বয়ক পদে নাসীরুদ্দীন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে সারজিস, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত, মুখপাত্র পদে আসিফ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে হান্নান দায়িত্ব পালন করেছেন। আর উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক পদে ৪২ জন এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে ২৩ জন দায়িত্বপালন করেন।

কমিটিতে ২৪ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৬ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে। আগের কমিটিতে কোনো সম্পাদকীয় পদ ছিল না, তবে পুনর্গঠিত কমিটিতে ৩২টি সম্পাদকীয় পদে ৩২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে এক-দুজন করে সহসম্পাদক আছেন। এর বাইরেও কমিটিতে ১৯ জন সহসম্পাদক রয়েছেন। ৫৮ জনকে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে ১১ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ২১৭ সদস্যের কমিটি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এনসিপি। পরে কমিটিতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। এখন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন গত এপ্রিলে দলটিতে যোগ দেওয়া অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি এ কে ফ্লোরা এবং বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার (তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণেরও আহ্বায়ক)। দুজনই যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক উপদেষ্টা তারেক এ আদেলকেও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

তবে কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে মূলত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে দলে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিল এনসিপি। দল গঠনের পর, গত জাতীয় নির্বাচনে এবং সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে এই নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরই প্রতিফলন এবার দলীয় পদে ঘটল। কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দক্ষতা (পারফরম্যান্স) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে এনসিপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন।

পুনর্গঠিত কমিটিতে শীর্ষ ছয়ে এনসিপির আট সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। দলের অন্য পাঁচ সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।

এনসিপির এর আগের কমিটির ১১টি শীর্ষ পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত ছিল। পুনর্গঠনের পর তা ‘সুপার সিক্সে’ রূপ নিল। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের ১৬ জন সদস্যকে দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার সিক্সটিন’ বলা হচ্ছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে দলের শীর্ষ ছয় নেতা ছাড়া অন্য ১০ জন হলেন: আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

এ বিভাগের আরও সংবাদ