শিরোনাম
Advertisement
শিক্ষা প্রশাসন

আন্দোলন ঘিরে হয়রানির পাল্টা অভিযোগ

জাল সনদে চাকরি, শিক্ষক নেতা আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

Advertisement
দেলাওয়ার হোসেন আজিজীছবি: সংগৃহীত

জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে অধ্যক্ষ পদে চাকরি নেওয়া এবং নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ময়মনসিংহের কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মো. শামিউল ইসলাম প্রামানিক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলাধীন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য মো. আতাউর রহমান অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর যোগদানের পর থেকে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদে কর্মরত রয়েছেন।

এ ছাড়া যোগদানের সময় তিনি ফাজিল ও কামিলের জাল সনদ ব্যবহার করেছেন। এর আগে আরও চারটি বেসরকারি মাদ্রাসায় চাকরির ক্ষেত্রেও তিনি এসব জাল সনদ ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্তে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. চাঁদ মিয়াকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক (খুলনা) মো. বুলবুল আহম্মেদ। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী পরিচালক (ডাক গ্রহণ ও বিতরণ উপশাখা) বেনজীর আহমেদকে। আদেশে তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

পাল্টা অভিযোগ অধ্যক্ষ আজিজীর
অধ্যক্ষ আজিজী বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা কার্যকরের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি। এরপর থেকেই তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আজিজী।

বুধবার সাংবাদিকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব।

বিবৃতিতে তিনি জানান, শিক্ষকদের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সামিউল ইসলাম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতিবাদী পোস্ট দেন। ওই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাত ১১টা ২২ মিনিটে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর দাবি, গত ১৫ থেকে ২৮ অক্টোবর মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একজন পরিদর্শককে দিয়ে তার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করানো হয়েছে।

ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা ও সময় বিবেচনায় তাকে হয়রানি করা এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে তার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের প্রতি ঘটনাটি অনুসন্ধান করে বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা এবং শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি আদায়ের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ