রাজধানী ঢাকায় পড়াশোনা কিংবা চাকরি করতে আসা নারীদের আবাসন নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নিরাপদ গার্লস হোস্টেলের অভাব, তুলনামূলক বেশি বাড়িভাড়া, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সংকট এবং খাবার ও অপরিচ্ছন্নতা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিবার থেকে দূরে থাকার মানসিক চাপ এবং জরুরি প্রয়োজনে সহযোগিতা পাওয়ার অনিশ্চয়তা।
ঢাকায় নারী শিক্ষার্থীদের উপযোগী হোস্টেল খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। বাড়তি ভাড়া, নিরাপত্তা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন, তাঁদের জন্য আবাসন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় নারী শিক্ষার্থীরা খরচ কমাতে ৪-৫ জন গাদাগাদি করে একটি বড় রুমে থাকেন। যা তাদের গোপনীয়তা, পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ রাখতে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া হোস্টেলে থাকা এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও ঘুমের সময়ের পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন রকম অনাকাক্সিক্ষত সমস্যা তৈরি হয়। যা নারীদের মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। এসব সমস্যা ছাড়াও চাকরিজীবী নারীরা অফিস শেষে হোস্টেলে ফেরার সময় বখাটেদের উত্ত্যক্ততা ও ছিনতাইয়ের মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার শিকার হন।
কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোস্টেলে একজন নারী শিক্ষার্থীর মাসিক সিট ভাড়া দিতে হয় ৬ হাজার টাকা। খাবার খরচ ৩ হাজার, গ্যাস, ইলেকট্রিসিটি, পানি, ইন্টারনেট বিল বাবদ খরচ হয় আরও তিন হাজার টাকা। ফলে অন্যান্য ব্যক্তিগত ও যাতায়াত খরচের আগেই আবাসন ও খাবারের পেছনে ব্যয় করতে হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। যা নারীদের আর্থিক ভোগান্তিতে ফেলে। পড়াশোনা বা চাকরির জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকায় অনেক সময় একাকিত্ব অনুভব করেন এসব নারী। দীর্ঘদিন বাড়িতে যেতে না পারলে ও অসুস্থতার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশে না পাওয়ার অভাব তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলে। আবার একই বাসায় বসবাসকারী অন্য রুমমেটদের সঙ্গে সব সময় ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয় না। পছন্দ-অপছন্দের পার্থক্য কিংবা ভুল বোঝাবুঝি থেকে কখনো বিরোধ তৈরি হয়। এসব ঘটনা তাদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ছয় মাস ধরে একটি তিন রুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পল্লবী দাস। তাঁর সঙ্গে এই ফ্ল্যাটে আরও থাকেন ছয়জন নারী শিক্ষার্থী। পল্লবী বলেন, হোস্টেল খুঁজতে গেলে অনেক সময় সিট পাওয়া যায় না। আবার পাওয়া গেলেও ভাড়া বেশি থাকে। ভাড়া কম হলে নিরাপত্তা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার সাবলেট থাকতে গেলে শুধু সিট ভাড়াই দিতে হয় ১২ হাজার টাকা। যারা বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে বাসা ভাড়া দেয়, তাদের শুধু বাসা ভাড়ার টাকা দিতেই চাপে পড়ে। তার ওপর সাবলেট থাকলে অন্য আরেকটা পরিবারের অনেক বিধিনিষেধ যা আমার মতো শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে পারে না। রুমমেটের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে একাকিত্ব অনুভব হয় না। তবে বাড়ি থেকে দূরে থাকার কারণে বাড়ির কথা বেশি মনে পড়ে। অসুস্থ হলে বা মানসিকভাবে খারাপ লাগলে পরিবারের কেউ পাশে না থাকলে তখন খারাপ লাগে। এমন পরিস্থিতি অনেক সময় পড়াশোনায়ও প্রভাব ফেলে।









